ঘাটাইলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্য

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৬ নং দিগলকান্দি ইউনিয়নে পানিতে ডুবে সিফাত (৭) নামে এক শিশুর মৃত্য হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নটির কদমতলী পারশি এলাকার মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু সিফাত সৌদি আরব প্রবাসী মনির হোসেনের ছেলে।

সিফাতের মামা ঘাটাইল ডট কমকে জানান, সিফাত মায়ের কাছে আসরের নামাজ পরবে বলে চলে যায়। নামাজ শেষে সিফাত বাড়ি না আসায় সবাই খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরে তার মৃতদেহ ভেসে উঠা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। পরে পুকুর থেকে সিফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুর পৌরর উপনির্বাচনে বিএনপি, জাপা’র একক হলেও আ’লীগের প্রার্থী ৬

 

আগামী ১০ অক্টোবর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র পদে উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে। উপনির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোয়ন পেতে প্রার্থীরা জোর প্রচারনাসহ দলের হাইকমান্ডের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। মেয়র পদে এক গ্রামেই ৮ জন প্রার্থী হওয়ায় পুরো নির্বাচন জমে উঠেছে। ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের ৬ জন, বিএনপির একজন এবং জাতীয় পার্টির একজন রয়েছেন।

গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেছেন। মির্জাপুর পৌরসভায় মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।

৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পৌরসভার উপনির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা উন্নয়ন মুলক নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। প্রার্থীরা বলেছেন দলীয় মনোয়ন নিশ্চিত এবং নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে অবহেলিত মির্জাপুর পৌরবাসিকে একটি আদর্শ ও মডেল পৌরসভা উপহার দেওয়া হবে। তবে সাধারন ভোটারদের আগ্রহ প্রবীনদের চেয়ে নবীন প্রার্থীদের দিকেই বেশি।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি মির্জাপুর পৌরসভার তরুন নেতা ও অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাহাদত হোসেন সুমন অসুস্থ্য হয়ে মারা যাওয়ায় মেয়র পদ শুন্য হয়।

পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন প্রয়াত মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমনের সহধর্মীনি মিসেস সালমা আক্তার শিমু, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি মো. মাজাহরুল ইসলাম শিপলু, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ্যাডভোকেট মো. মোশারফ হোসেন মনি, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুর রহমান শহিদ, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী মো. আবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা এবং পৌর জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক ও প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মো. আশরাফ আহমেদ।

সাধারন ভোটার ও এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়াত মেয়র ও আওয়ামী লীগের নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত প্রানপ্রিয় একজন নেতা মো. সাহাদত হোসেন সুমনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখিয়ে মেয়র পদে তার সহধর্মীনি মিসেস সালমা আক্তার শিমুকে মনোয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। জনগনের দাবী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সহানুভুতিতে প্রচারনায় মিসেস সালমা আক্তার শিমু প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সুত্র জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌর সভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীদের ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার দলীয় সভা ডাকা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সকল দিক বিবেচনা করেই একজন দলীয় প্রার্থীকে মনোয়ন দেওয়া হবে। দলের সিন্ধান্ত উপেক্ষা করে কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, উপনির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীগন ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মনোয়নপত্র ক্রয় করে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন। ১৪ সেপ্টেম্বর মনোয়নপত্র যাচাই বাচাই শেষে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হবে। ১০ অক্টোবর শনিবার ভোট গ্রহন হবে। নির্বাচনের জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

মির্জাপুর পৌর সভার উপনির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ২১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ১০১ জন এবং মহিলা ভোটার ১২ হাজার ১১৬ জন। ৯ ওয়ার্ডের ১০ ভোট কেন্দ্রে ৬৬টি কক্ষে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গ্রিড উপকেন্দ্রে আগুন, ময়মনসিংহ বিভাগ বিদ্যুৎহীন

ময়মনসিংহ নগরের কেওয়াটখালী এলাকার গ্রিড উপকেন্দ্রে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বেলা দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন লাগার পর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও কেওয়াটখালী গ্রিড উপকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বেলা দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্রিড উপকেন্দ্রে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এই দুর্ঘটনা হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন লাগার সময় অনেক দূর থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বেলা সোয়া তিনটার দিকে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন করে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থিত করছিলেন।

কেওয়াটখালী গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, বেলা তিনটা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে দ্রুতই সরবরাহ চালু করার জন্য সব ধরনের কাজ চলছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ টাঙ্গাইল শাখার আহব্বায়ক কমিটি

হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার জন্য আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বাবু দীপঙ্কর শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক বাবু সাজন কুমার মিশ্র স্বাক্ষরিত এবং অনুমোদিত এই কমিটিতে প্রধান সমন্বয় হিসেবে দ্বায়িত্ব পেয়েছেন শ্রী সুমন দত্ত।

এই কমিটির সমন্বয় এর দ্বায়িত্ব পেয়েছেন শ্রী গৌরাঙ্গ ধর, শ্রী সজীব চন্দ্র দে, শ্রী পৃথিশ চন্দ্র পন্ডিত এবং শ্রী নিতাই চন্দ্র পন্ডিত।

কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে স্থান পেয়েছেন শ্রী ঝন্টু গোস্বামী এবং সদস্য সচিব হিসেবে দ্বায়িত্ব পেয়েছেন শ্রী বিশ্বজিৎ মন্ডল।

এছাড়া উক্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দ্বায়িত্ব পেয়েছেন শ্রী অরুণ সরকার, শ্রী আজিত কুমার মন্ডল, শ্রী রনঞ্জিত কর্মকার এবং শ্রী বিক্রম ঘোষ।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

দেশের অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে নিজ নিজ স্বাক্ষর শেখানোর পাশাপাশি অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করে লিখতে ও পড়তে পারার উপযুক্ত করার লক্ষে ‘কোভিড-১৯, স্বাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তন শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদের ভূমিকায়’ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এতে উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীকে অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন

সাংবাদিকের উপর হামলাকারী ঘাটাইলের ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীকে গ্রেফতার ও অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেড়টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের উপর উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ উপজেলার বাইচাইল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বাছেদ খান তার নিজ ভূমিতে পাকা ঘর নির্মাণ করার সময় শনিবার ২নং ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী কাজ বন্ধ করে দিয়ে সন্ত্রাসি কায়দায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।

এতে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা নেতারা রোববার মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকারের কাছে অভিযোগ করেন। পরে তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীকে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন ও অপসারনের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসুচি দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক ডেপুটি কমান্ডার অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক খান হুমায়ুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী হিরা মাষ্টার, এসএম আবুল কাশেম, আহসানুল হক সিদ্দিকী, মুক্তিযোদ্দা সন্তান কমান্ডের নেতা সাংবাদিক আতিকুর রহমান, বিআরডি’র চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্দা সন্তান কমান্ডের সভাপতি রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

দুর্নীতির অভিযোগে ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবী সদস্যদের

বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৬ নং দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অপসারণ দাবী করেছেন পরিষদের নয়জন সদস্য।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য (পদত্যাগ, অপসারণ ও পদশূন্য) বিধিমালা ১৯৮৪ এর ১২ (২) ধারা মতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক এর কাছে লিখিতভাবে তারা এ অপসারণ দাবী করেন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর নজরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এলজিএসপি প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যান ৪০ দিনের শ্রমিক দিয়ে করান এবং সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। সরকারি বিজিএফ এবং বন্যাদূর্গতের জন্য আসা চাল কোনো সদস্যদের সাথে সমন্বয় না করে চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেন। সরকারি সকল উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রিম শতকরা ৩০ টাকা না দিলে তিনি কাজের অনুমোদন দেননা।

লিখিত অভিযোগে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, পরিষদে উন্নয়নমূলক সভায় সদস্যদের হাজিরা সাক্ষরের প্রেক্ষিতে নিজের ইচ্ছামতো রেজুলেশন করেন। তার এ ধরনের কাজের প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে লাঞ্চিতসহ পুলিশী নির্যাতনের ভয় দেখান। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ যেকোনো ধরণের ভাতায় পরিষদের সদস্যদের কোনো মতামত বা শুপারিশ না নিয়ে তার ইচ্ছামত নিজস্ব লোকদের প্রদান করেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও চেয়ারম্যানের অনৈতিক কাজের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাতে মৌখিকভাবে জানালেও তিনি কোনো প্রকার সংশোধন হননি। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবী করেছেন ইউপি সদস্যরা।

অনাস্থা প্রদানের বিষয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে সদস্যরা লিখিত দিয়েছে আমি তা শুনেছি, কিন্তু সরকারিভাবে কোনো নোটিশ এখনো পাইনি।

ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত। জেলা প্রশাসক মহোদয় যা নির্দেশনা দিবেন সে মোতাবেক কাজ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো.আতাউল গনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, বলেন, লিখিত পেয়েছি, বিধি মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি মধুপুরের গারো জনপদে

রাত ১২টায় প্রসব বেদনায় কাতরাতে থাকেন জালাবাদা গ্রামের গারো গৃহবধূ ইভা সাংমা। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা সদর থেকে জালাবাদার দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এর আট কিলোমিটার শুধু কাঁচাই নয়, গজারি বনের ফাঁক গলানো পায়ে হাঁটা পথ। এমন দুর্গম রাস্তায় সাইকেলে বসিয়ে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে নির্জন বনে সন্তান প্রসব করেন ইভা।

কাঁধে বহন করা মুমূর্ষু রোগী বিনা চিকিত্সায় প্রায়ই প্রাণ হারায়। মধুপুর গড়ের পাহাড়িদের এমন নিদারুণ ভোগান্তির বিবরণ দিচ্ছিলেন জালাবাদার এনজিও কর্মী লরেন্স নকরেক।

জালাবাদার পশ্চিমে চুনিয়া, জয়নাগাছা, বন্দরিয়া, কেজাই, বেদুরিয়া, কাঁকড়াগুণি, সাধুপাড়া, পোনামারি, হরিণধরা এবং পূর্বে সাতারিয়া, চানপুর ও বিজয়পুর গ্রামে গারোদের বাস।

শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ভিক্সন নকরেক জানান, এসব গ্রাম টাঙ্গাইলের মধুপুর, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং জামালপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ এখানে সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়ায় যোগাযোগসহ শিক্ষাদীক্ষা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিবঞ্চিত মানুষ মধ্যযুগীয় জীবনযাপন করেন।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক জানান, টেলকি-বেদুরিয়া রাস্তা বন বিভাগের বাধায় পাকা হয়নি। বিকল্প হিসাবে চুনিয়া থেকে সাধুপাড়া-জালাবাদা হয়ে মুক্তাগাছার বিজয়পুর ১২ কিলোমিটার পাকা হলেও চলত। কিন্তু বন বিভাগ সেখানেও বাধা দিচ্ছে। বনে যে বনবাসী গারোরাও বসবাস করে বন বিভাগ সেটি ভুলে গেছে।

লেবু ব্যবসায়ী আনিস জানান, মুক্তাগাছা উপজেলা এলজিইডি চানপুরে বানার নদীতে ব্রিজ এবং গাবতলী-চানপুর দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকাও করেছে। এ অংশের সঙ্গে মধুপুর উপজেলার ঐ অংশের কানেক্টিভিটি হলে ময়মনসিংহ ও ঢাকা যাওয়ার বিকল্প যোগাযোগ চালু হতো।

মিশন স্কুলের শিক্ষক নীতিলা চিরান জানান, এখানে লেখাপড়ার ভরসা মিশন স্কুল। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তার দুরবস্থায় টানা তিন মাস শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ থাকে।

বেদুরিয়ার দুলাল খুবি জানান, নাজুক পরিবহন ব্যবস্থার দরুন ৫ হাজার একরে আবাদ হওয়া আনারস, কলা ও লেবু খেতেই বিনষ্ট হয়।

গারো নারী উদ্যোক্তা মুনমুন নকরেক জানান, এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না মেলায় করোনায় বাড়ি ফেরা গারো শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস ফলো করতে পারছে না।

শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার হোসেন জানান, যোগাযোগে দুরবস্থা নিরসনে এলজিইডি ‘টাঙ্গাইল প্রকল্পে’ এর আওতায় ১০ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা মিজানুর রহমান জানান, বন বিভাগ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় না নেওয়ায় রাস্তা নির্মাণে অনাপত্তিপত্র মিলছে না। ফলে বাজেট থাকা সত্ত্বেও সড়ক পাকাকরণ হচ্ছে না।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরুল হক জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া বন বিভাগের জমিতে অন্য কোনো সরকারি সংস্থা রাস্তা নির্মাণ করতে পারে না। সরকার বাজেট দিলে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এসব সড়ক পাকাকরণ হতে পারে।

(জয়নাল আবেদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

চাষাড়া আ’লীগ অফিসে বোমা হামলা: ১৯ বছর পর শামীম বললেন বিএনপি জড়িত না

২০০১ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় ১৯ বছর। এই ১৯ বছর পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান জানালেন, চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলার সাথে বিএনপির নেতারা জড়িত নন।

এনিয়ে তিনি সোমবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এবং বলেছেন, আমি চাই না কোনো নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাক। মামলাটি পুনঃ তদন্ত দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও বিএনপি নেতা কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুসহ অন্যরা এ মামলার আসামি।

সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, নির্দোষ ব্যক্তিরা এই মামলায় শাস্তি পাক আমি তা চাই না। বিএনপি নেতা তৈমূর আলম ও শকু এই ঘটনার সাথে জড়িত না বলে আমি মনে করি।

শামীম ওসমান যখন আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তখন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষ্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, ২০০১ এর ১৬ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বোম ব্লাস্ট হয়েছিল। এরই সূত্র ধরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আজ আমার সাক্ষ্য ছিল। আমি খুব অবাক এবং বিস্মিত। এই ঘটনায় আমি ছিলাম প্রধান ভিকটিম। প্রধান ভিকটিম হিসেবে আমার যে সাক্ষ্য নেয়া হয়েছিল, আমি দেখলাম তার সাথে ঘটনার কোনো মিল নাই। সে কারণে আমরা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, মামলা তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে তলব করতে এবং মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের। কারণ আমরা চাই প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পাক। এ মামলায় এমন মানুষেরও নাম আছে যে এ মামলার সঙ্গে জড়িত না।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, বোমা হামলার দিন আমাদের পাশের মহল্লার ওবায়দুল্লাহ হক চাচা আওয়ামী লীগ অফিসে আসেন। খোকন একটা মিটিং ডেকেছিল আমি সেটার জন্য গিয়েছিলাম। ওয়াদুল্লাহ চাচা গিয়ে বললেন, তার পরিবার বিদেশ যাবে কাগজ সার্টিফাই করতে। আমি দেখলাম, কাগজে অনেক ভুল। তাকে বললাম, এটা আমি পারবো না। সে উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। এক পর্যায়ে তিনি ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিতে বললেন। আমি বললাম, কাল সকালে আপনার বাসায় দিয়ে আসবো। তিনি আবার উত্তেজিত হয়ে বললেন, এখনই দিতে। পরে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন। তার কিছুক্ষণ পরই ঘটলো বিস্ফোরণের ঘটনা।

শামীম বলেন, পুলিশকে বললাম, তদন্ত করে দেখো তাদের চারজনের পাসপোর্ট আছে কিনা। তদন্তে দেখলো পাসপোর্ট নেই। ওবায়দুল্লা সাহেবকে গ্রেফতার করা হলো। রাতে তার পরিবার থানায় গেলো। গিয়ে প্রচণ্ড হইচই শুরু করলো। এই বৃদ্ধ মানুষ এই কাজ কেন করবে? ওই সময় পুলিশও দ্বিধায় ছিল। কাজটা ঠিক হলো কিনা। রাতে ওসি বেরিয়ে গেলেন কিন্তু ওবায়দুল্লাহ সাহেবের পরিবার সারারাত রইলো। সকালে ওসি এসে ড্রয়ার খুলে দেখেন, এক্সপ্লোসিভ। আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেলাম। ফেরার পর তখন নির্বাচন চলে। দল বললো নির্বাচন করতে। এদিকে বোমা হামলার দায় আমাদের উপরই চাপানো হলো। জজ মিয়া নাটক সাজানো হলো। ২০০৪ সালে আপিল হলো, ২০০৮ এ তদন্তের রায় আসলো। আমি সাক্ষ্য দিলাম কিন্তু ওই সাক্ষ্যর সঙ্গে এখন কোনো মিল নাই। আমার সাক্ষ্যই ভুল লিখেছে। চার্জশিট দেয়ার পর সেই ওবায়দুল্লাকে আর দেখলাম না। কী অভিশপ্ত জীবন এটা আমরা বুঝি।

শামীম ওসমান বলেন, আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছি, এই চার্জশিট, এজাহার আমি মানি না। কারণ এখানে আমি কোনো নেগোশিয়েশন করবো না। ওরা আমাকে মারতে গিয়ে কাপুরুষের মতো আরো ২০ জনকে মেরেছে। আমি যদি বেঁচে নাও থাকি এই মামলাটা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। যারা সত্যিকারের দোষী লোক তাদের যেন বিচার হয় এবং যারা নিরাপরাধ সে বিএনপি, জাতীয় পার্টি যাই করুক তাদের যেন কোনো বিচার না হয়। আদালত আমার বক্তব্যে কনভিন্সড হয়েছেন এবং এডিশনাল পিপিকে পিটিশন দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আইনের ফাঁক-ফোকরে একজন অপরাধী হয়তো পার পেয়ে যেতে পারে। তাতে আমাদের কষ্ট পাবার কিছু নাই। একই আইনের ফাঁকে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি সে যদি আমার শত্রুও হয় তাও যেন সাজাপ্রাপ্ত না হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি কাউকে অপরাধী মনে করি না। আর আমি মনে করি না যে, কাউন্সিলর শকু এটার সাথে জড়িত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বলেন, ‘এমপি সাহেব যথার্থই বলেছেন। এটাই তো সত্য। আমি কিংবা তৈমূর ভাই কেউই এই ঘটনায় জড়িত না। আমাদের এতদিনে যত কষ্ট করতে হয়েছে তা সব শেষ হয়ে গেছে এমপি সাহেবের এই কথায়।’

(কামাল উদ্দিন সুমন, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভিআইপি প্রার্থী শুন্য এখন কালিহাতী

বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত একটি সংসদীয় আসনের নাম ছিল টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি। কালিহাতীর মাটিতে জন্ম নিয়ে, কালিহাতীর সন্তান হিসেবে নিজেকে অনেকটাই গর্বিত মনে করতাম।

বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ যে বড় দুইটি দলের হাতে আছে সেই দুইটি দল বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ দু ‘দলেই এখানে ছিল ভিআইপি প্রার্থী।

প্রথমে জাসদের ব্যানারে এমপি নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেন মহান স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠক জনাব শাজাহান সিরাজ। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আওয়ামী ছাত্রলীগ (পাকিস্তান) এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে জাসদ সভাপতি হন।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নির্বাচিত হন। সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠক আমাদের জাতীয় পতাকার সবুজের ভিতরে লাল বৃত্তের ও প্রস্তাবকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) শাজাহান সিরাজের কক্ষে বসেই স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রুপরেখা তৈরি করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বঙ্গবন্ধুর চার খলিফার এক খলিফা হিসেবেও পরিচিত তিনি। আর এই শাজাহান সিরাজই ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির কর্ণধার।

আর এখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে একাধিক বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মন্ত্রী, পরবর্তীতে যিনি আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন সেই নেতা জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। স্ত্রীর দূর্নীতি এবং শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন শাজাহান সিরাজ।

হজ্জ্ব এবং রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনীতিতে অবাঞ্ছিত হয়ে পড়েন লতিফ সিদ্দিকী।

ভিআইপি আসন কালিহাতী হয়ে যায় ভিআইপি শূন্য। শুধু ভিআইপি শূন্যতা নয়, যোগ্য নেতৃত্বের শূন্যতায় পড়ে বড় দুই দলই।

ক্ষমতায় থাকার কারনে ক্ষমতার দাপটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব শূন্যতা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও দিন গড়ানোর সাথে সাথে বিএনপিতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবটা ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেলবাজ দের কদর বেশি হওয়াতে, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা মুখ খুলেনা বললেই চলে। কারন তেলবাজী করে দলের পদ পদবী আর সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নেয়া এখন বেশিরভাগ নেতাকর্মীর স্বভাবে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে দল এবং নেতাদের দূর্বল বিষয় নিয়ে কথা বললে নেতাদের বিরাগভাজন হওয়ার সম্ভাবনাটাই শতভাগ।

তাই দলে কোনঠাসা হওয়া বা দল থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিটা নিতে চায় না কেউই।

তবে সত্যি এটাই যে কালিহাতী বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এখন নেতৃত্ব শূন্য। কালিহাতী দুদলেই যোগ্য নেতৃত্বের বড়ই অভাব।

বিএনপির রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কালিহাতীতে জন্ম নেয়া এমন কাউকেই দেখিনা যিনি বিএনপির মত একটি বড় দলের হয়ে কালিহাতীতে যোগ্যতা এবং দক্ষতার সাথে কালিহাতী বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো।

শেষ করার আগে একটা পুরোনো কথা মনে পরল। কথাটি হল:”গাছের নীচে গাছ হয়না “। কথাটির সারমর্ম হল, কোনো বড় গাছের নীচে গাছের নতুন চারা রোপন করলে সেই গাছটি সহজে বেড়ে উঠতে পারেনা। আলো হাওয়ার অভাবে চারা গাছটির স্বাভাবিক বিকাশ হয়না কখনোই। আমাদের কালিহাতী বিএনপির হয়েছে সেই অবস্থা।

শাজাহান সিরাজ নামক বটবৃক্ষের নীচে এখানে আর কোন গাছ স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি। যে কয়টা বেড়ে উঠেছে, সেই কয়টা অপুষ্টিতে রোগাক্রান্ত হয়ে বেড়ে উঠেছে।

(হামিদুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-