নারায়ণগঞ্জর মসজিদে এসি নয়, মিথেন গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ: ফায়ার সার্ভিস

এসি বিস্ফোরণ নয়, মিথেন গ্যাস থেকে আগুন ধরে বা স্পার্ক করে নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্স অফিসের পরিচালক অপারেশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এসি বিস্ফোরণ ঘটলে প্রতিটি এসি ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত। এসিটি যেখানে সাঁটানো হয়েছে সেই দেয়ালে পোড়া দাগ থাকতো। কিন্তু মসজিদের দেয়ালে সেটি দেখা যায়নি।

আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং এসি খুলে যেটি দেখেছি আগুনের তাপে মসজিদের ৬টি এসি গলে গিয়েছে। যদি এসি থেকে বিস্ফোরণ হয়ে থাকত তবে সেগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে বা টুকরো টুকরো হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তো।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। আমরা কাজ শুরু করেছি সবে মাত্র ২ দিন পার হয়েছে। আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলবো। মসজিদ কমিটিসহ ঘটনার সময় উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলবো।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান আরও জানান,  প্রাথমিকভাবে মসজিদের ভেতর গ্যাস উদগীরণের বেশ কিছু আলামত চোখে পড়েছে। মসজিদের গেট সংলগ্ন পানিতে গ্যাসের উদগীরণ দেখা গিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গ্যাস ডিটেক্টর  মেশিন দিয়ে আমরা মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পেয়েছি।

এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মিথেন গ্যাস থেকে আগুন ধরে বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে আগুন ধরে বা বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে কিছুই এখনও চূড়ান্ত নয়।

তবে ফায়ার সার্ভিসের অপর একটি সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের পর গ্যাস ডিটেক্টর মেশিন দিয়ে মসজিদের ভেতরে কী পরিমাণ গ্যাস আছে সেটি পরিমাপ করে দেখা গেছে মসজিদের ভেতরে ১৯ শতাংশ মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি থাকলে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। সেই জায়গায় মসজিদের ভেতরে ১৯ শতাংশ মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে যমুনায় ধরা ২৫ কে‌জি ওজ‌নের বাঘাইড়

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশে যমুনা নদীতে জে‌লে‌দের জা‌লে ২৫ কে‌জি ওজ‌নের এক‌টি বাঘাইড় মাছ ধরা প‌ড়ে‌ছে।

রোববার (৬ সে‌প্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় গো‌বিন্দাসী ঘাট বাজা‌রে মাছটি বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে আসা হয়। এর আগে শ‌নিবার মধ্য রাতে মাছটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

২৫ কেজি ওজনের ওই বাঘাইড় মাছটির দাম চাওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকেও মাছটি বিক্রি হয়নি।

এদিকে মাছটিকে এক নজর দেখতে গো‌বিন্দাসী ঘাট বাজা‌রে ভিড় জমাচ্ছে উৎসুখ জনতা।

(ভুঞাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

জন্মস্থান টাঙ্গাইলেই নিরুদ্দেশ প্রসিদ্ধ পোড়াবাড়ির চমচম

চমচম শব্দটি উচ্চারিত হলেই মানসপটে ভেসে উঠে মাওয়ার আস্তরণে রসালো স্বাদযুক্ত মিষ্টির প্রতিচ্ছবি। যুগ যুগ ধরে রসনা বিলাসী বাঙালির তৃপ্তিদায়ক মিষ্টান্ন চমচম। চমচম বলতে বাঙালি একবাক্যে বুঝে নেয় টাঙ্গাইল তথা পোড়াবাড়ীর প্রসিদ্ধ চমচমের কথা।

রাষ্টীয় বা সামাজিক-পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের আড্ডাও পোড়াবাড়ির চমচম ব্যতিত পূর্ণতা পায়না। টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়িতে উৎপাদিত সেই বিখ্যাত চমচম বর্তমানে তার জন্মস্থানেই নিরুদ্দেশ হওয়ার পথে।

টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারের মিষ্টিপট্টীতে টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ চমচম স্বল্প পরিসরে পাওয়া গেলেও খোদ পোড়াবাড়িতে অস্তিত্ব হারিয়েছে অনেক আগেই। পোড়াবাড়ীর প্রসিদ্ধ চমচমের যৌবনকালে গ্রামের ঘরে ঘরে শুধুমাত্র চমচম তৈরি হত।

কিন্তু কালের বিবর্তনে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাত্র ১০-১২টি বাড়িতে চমচম তৈরি করা হয়। এরমধ্যে করোনা মহামারির থাবা সেগুলোকেও পথে বসিয়েছে। ইতোমধ্যে চমচম তৈরির বিখ্যাত কয়েকটি পরিবার ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

 প্রসিদ্ধ চমচমের গোড়াপত্তন

টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে ধলেশ্বরীর শাখা নদী এ্যালনজানীর বামতীর ঘেঁষে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়ন তথা পোড়াবাড়ি গ্রাম। ধলেশ্বরী নদীটি দাইন্যা ইউনিয়নের চারাবাড়ী ঘাট থেকে বাঁক নিয়ে দক্ষিণে চলে যাওয়ার আগে পোড়াবাড়ির দিকে এ্যালনজানী শাখা নদী তৈরি করেছে। প্রাচীণকালে প্রমত্ত্বা ধলেশ্বরীর বামতীরে চারাবাড়ি নামক স্থানে গড়ে উঠে জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র। ব্রিটিশরা সবেমাত্র ঔপনিবেশিক শাসন শুরু করেছে।

ওই সময়ে স্রোতস্বিনী ধলেশ্বরী নদীর ঘাটে স্টিমার, লঞ্চ ও মালবাহী বড় বড় নৌকা নোঙর ফেলতো। সে সময় ঢাকা-কলকাতা গামী লঞ্চ-স্টিমারের ভেঁপুর উচ্চশব্দে চারাবাড়ি-পোড়াবাড়ির কূলবধূ থেকে শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবক, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সহ নারী-পুরুষ ‘জাহাজ’ দেখতে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসতো। নোঙর করা লঞ্চ-স্টিমার থেকে নেমে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের মানুষ চারাবাড়ী ও টাঙ্গাইল শহরে কেনাকাটা করতো।

কেউ সাদা চামড়ার, কেউ কালো, কেউবা লম্বা অথবা বেঁটে। এদের কেউ আবার শৌখিন পর্যটক, ব্যবসায়ী অথবা বেনিয়া- আমলা। ধলেশ্বরী নদীর ঘাট চারাবাড়ীতে থাকলেও পাশের পোড়াবাড়িই ছিল প্রসিদ্ধ চমচমের আতুর ঘর। সে কারণে পোড়াবাড়ি ছিল জনসমাগমে ভরপুর। ধলেশ্বরী নদীর মাতৃস্নেহে গড়ে ওঠে মোহনীয় মিষ্টি চমচম।

তৎকালীন নদী কেন্দ্রীক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা পোড়াবাড়ির চমচম মিষ্টি প্রেমিকদের রসনাতৃপ্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এ চমচম দেশ-বিদেশে শ্রেষ্ঠত্বের আসন দখল করে নেয়। পোড়াবাড়ির এ চমচমই অবিভক্ত ভারতবর্ষসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে টাঙ্গাইলকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

চমচম তৈরির কথা

টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারের মিষ্টিপট্টী ও পোড়াবাড়ির চমচম তৈরির কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায় টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ চমচম তৈরিতে ধলেশ্বরী নদীর পানি, গরুর খাঁটি দুধ, দেশি চিনি(লালচিনি), লাকড়ীর চুলা, তেঁতুল কাঠের লাকড়ী ইত্যাদি উপকরণ লাগে।

প্রথমে দুধ তেঁতুলের লাকড়ী দিয়ে জ্বাল করে ছানা তৈরি করতে হয়। দুধ থেকে তৈরিকৃত ছানা দিয়ে বিভিন্ন আকারের(সাইজ) কাঁচা চমচমের আকার দেওয়া হয়। অন্য চুলায় ধলেশ্বরীর পানির সাথে লালচিনি মিশিয়ে তেঁতুলের লাকড়ী দিয়ে জ্বাল করে ‘সিরা’ তৈরি করা হয়। এই সিরা তৈরির তাপই প্রসিদ্ধ চমচমের মূল কৌশল।

তৈরিকৃত সিরার তাপ বুঝে তার মধ্যে কাঁচা চমচম দিয়ে পুনরায় সামান্য জ্বাল দিতে হয়। পরে চুলা থেকে নামিয়ে চমচম সহ সিরা ধীরে ধীরে ঠান্ডা করতে হয়। পরিশেষে চমচম থেকে বাড়তি সিরা ঝেড়ে চমচমের ওপর দুধের তৈরি মাওয়া ছড়িয়ে দিতে হয়।

এভাবে তৈরি চমচমের বাইরের অংশ কিছুটা শক্ত হলেও ভেতরের অংশ মৌমাছির চাকের মত হয়ে একেবারে নরম হয়। এভাবেই প্রসিদ্ধ টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম তৈরি করা হয়।

চমচম তৈরির ইতিহাস

টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির প্রসিদ্ধ চমচম প্রথম কে তৈরি করেছে তা নিশ্চিত করে কেউ জানাতে পারেন নি। জনান্তিকে জানা যায়, স্থানীয় দশরথ গৌড় নামে এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম পোড়াবাড়িতে চমচম তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে পোড়াবাড়িতে চমচম তৈরি হতো।

দশরথ গৌড়ের পর তার আত্মীয় রাজা রামগৌড়, নারায়ণ গৌড়, কোশাই দেব, দুই সহোদর মদন হালুই ও কোকন হালুই, মোহন লাল, শিব শঙ্কর গৌড়, প্রকাশ চন্দ্র দে সরকার প্রমুখ পোড়াবাড়ির চমচম তৈরি করতেন। এদের মধ্যে পাকিস্তান আমলে নারায়ণ গৌড় পোড়াবাড়ির চমচম তৈরি করে উপমহাদেশে প্রসিদ্ধ হন।

বাঙালিদের মধ্যে চমচম তৈরি করে প্রসিদ্ধ হওয়ায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাকে ‘বাঙালি হালুই কর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর থেকেই তিনি বাঙালি হালুই কর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। ত্রিশ দশকের শেষের দিকে আসামের রামেন্দ্র ঠাকুর, তীর্থবাসী ঠাকুর টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারে মিষ্টি তৈরি ও ব্যবসা শুরু করেন।

এরপর থেকেই টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজার ‘মিষ্টিপট্টী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে তাদের তৈরি মিষ্টি কখনোই পোড়াবাড়ির চমচমকে গুণে-মানে টপকাতে পারেনি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পোড়াবাড়ি গ্রামের গোড়াপত্তনের পেছনে মুঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ নিয়োজিত শাসক পীর শাহজামানের কৃতিত্ব ছিল। ১৬০৮ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যে ইসলাম খাঁ কাগমারী পরগনার শাসনভার শাহ জামানের উপর অর্র্পন করেছিলেন।

তিনি সর্বপ্রথম যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে ধলেশ্বরী নদীর বামতীরে চারাবাড়ীতে লঞ্চ ও স্টিমার ঘাট স্থাপন করেন। পরে ওই ঘাটকে কেন্দ্র করে সেখানে ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সে সময় চারাবাড়ীর গ্রামের দক্ষিণ অংশে ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাজার ও বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে ওই এলাকাকে পোড়াবাড়ী বলা হত।

কালক্রমে ওই পোড়াবাড়ী এলাকাই চমচমের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং পোড়াবাড়ী গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৬০ সালে তৎকালীন টাঙ্গাইল মহকুমার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সহ দেশের অন্যসব জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। ফলে টাঙ্গাইলের চমচমের সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও জানা যায়, এ দেশিয় বহু বিখ্যাত ব্যক্তির প্রিয় খাদ্যের তালিকায় ছিল পোড়াবাড়ির চমচম। এদের মধ্যে রয়েছেন- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যাদু সম্রাট পিসি সরকার, নবাব আলী চৌধুরী, জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ, প্রমথ নাথ চৌধুরী প্রমুখ।

চমচমের বিদেশ সফর

টাঙ্গাইলের চারাবাড়ীতে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ঘাট স্থাপনের পর এ এলাকা ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়। দেশি-বিদেশি বণিক ও বেনিয়ারা টাঙ্গাইল থেকে পাট কেনার জন্য এসে পোড়াবাড়ির চমচম নিয়ে বাড়ি ফিরতো।

মূলত পোড়াবাড়ীর চমচমের পোড়া ইটের মত রঙ ও সুস্বাদু কড়া মিষ্টি এবং আবরণের ভেতর গোলাপী আভাযুক্ত নরম অংশ রসনা বিলাসীদের দৃষ্টি আকর্ষন করতো। এভাবে স্টিমার ও লঞ্চে সমগ্র ভারতবর্ষ সহ ব্রিটিশ কলোনীগুলোতে পোড়াবাড়ির চমচম পৌঁছে যায়। ওই সময়টাই ছিল পোড়াবাড়ির চমচমের যৌবনকাল।

ওই সময় পোড়াবাড়িতে ৩২টি মিষ্টির দোকানে প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে দুইশ’ মণ চমচম তৈরি ও বিক্রি হত। চমচম ও বিভিন্ন রকম মিষ্টি তৈরির জন্য পোড়াবাড়ির প্রায় দুইশ’ পরিবার যুক্ত ছিল।

চমচমের সেকাল একাল

চল্লিশের দশকে পোড়াবাড়ি সহ টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চল ছিল চরাভূমি। ওই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র পেশা ছিল কৃষি। ফলে ওই এলাকায় গরু, মেষ, ঘোড়া, ভেড়া, ছাগল ইত্যাদি গবাদি পশুপালন ছিল নৈমিত্ত্যিক।

প্রাকৃতিক চরায় গবাদিপশুর খাওয়া-গোসল করাতেন প্রায় সব পরিবার। সে সময় গরুর দুধ সহজলভ্য ও সস্তা ছিল। পোড়াবাড়ির চমচম তৈরির বয়োবৃদ্ধ কারিগররা জানান, তাদের পূর্ব-পুরুষের আমল থেকে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ছোটবেলায় তারা এক হাড়ি দুধের দাম দু’পয়সা থেকে ৪’পয়সায় বিকিকিনি হত। চিনি পাওয়া যেত ৩ আনা থেকে ৫ আনা সের দরে। এছাড়া ওইসব চিনি রেশনে দেয়া হত। আর চমচম বিক্রি হতো ৬ আনা থেকে ৮ আনা সের দরে।

এর পর পরই যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে চর জেগে উঠতে থাকে। ফলে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে ভাটা নেমে আসে। দিনে দিনে ধলেশ্বরী নদী তার ভরা যৌবন হারাতে থাকে।

একদা প্রমত্ত্বা ধলেশ্বরী নদী তার বুকের সুধা ঢেলে দিয়েছিল চমচম তৈরির জন্য, সেই ধলেশ্বরী বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যূব্জ। ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিচ্ছে তার ব্যাপ্তি। বন্ধ হয়ে গেছে চারাবাড়ী-পোড়াবাড়ির সাথে নৌকা যোগাযোগ। ফলে পোড়াবাড়ি তার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য হারিয়েছে।

নিস্তব্ধ হয়ে মুখ থুবরে পড়েছে ঐতিহ্যের অতীত। ধলেশ্বরী ও এ্যালনজানী নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে গেছে প্রসিদ্ধ চমচমের প্রধানতম কাঁচামাল ধলেশ্বরীর মিঠা পানি।

অর্ডার পেলে এখনও কারিগররা ধলেশ্বরী নদীর পানি এনে প্রসিদ্ধ চমচম তৈরি করে সরবরাহ করেন। তবে সে চমচমের দাম প্রচলিত চমচমের বাজার দরের কয়েকগুণ খরচ বেশি পড়ে। বর্তমানে পোড়াবাড়িতে ৪টি ও চারাবাড়ীতে ৫টি মিষ্টির দোকান রয়েছে।

এছাড়া পোড়াবাড়ি গ্রামে মাত্র ১০-১২টি পরিবার মিষ্টি তৈরির সাথে যুক্ত রয়েছেন। অন্যরা সুবিধাজনক পেশা বেছে নিয়েছেন।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের কিছু আগে ষাটের দশকে পোড়াবাড়ির প্রসিদ্ধ চমচমের দাম ছিল সের প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা। চমচম ছাড়াও রসগোল্লা, অমৃত, কালোজাম, পানিতোয়া, সন্দেশ, দানাদার, রাজভোগ, রসমালাই, লালমোহন, ক্ষীর মোহন প্রভৃতি নামীয় মিষ্টি দোকানগুলোতে পাওয়া যায়। বর্তমানে চমচমের আগের সেই স্বাদ না থাকলেও মূল্য কেজি প্রতি ২০০-৩২০টাকা বিক্রি হয়ে থাকে।

টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের প্রসিদ্ধির কারণে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘পোড়াবাড়ির চমচম’ নামে মিষ্টির দোকান শোভা পাচ্ছে। এসব মিষ্টির দোকানে ব্যবসায়ীরা টাঙ্গাইলের পাঁচআনী বাজারের মিষ্টিপট্টী, আবার কেউ কেউ পোড়াবাড়িতে চমচম অর্ডার দিয়ে নিয়ে যায়।

পরে তাদের সুসজ্জিত মিষ্টির দোকানগুলোতে সাজিয়ে ‘টাঙ্গাইলের চমচম’ বিক্রি করছে। টাঙ্গাইলের চমচমের প্রতি মানুষের দুর্বলতা থাকায় ওইসব মিষ্টি ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ চমচম তৈরি ও বিক্রির সাথে জড়িতরা এ শিল্পকে ধরে রাখতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু অতি মুনাফালোভী কতিপয় মিষ্টি ব্যবসায়ীর কারণে টাঙ্গাইলের প্রসিদ্ধ চমচম ঐতিহ্য হারিয়ে অস্তিত্ব হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁচেছে।

এছাড়া দক্ষ কারিগরের অভাবেও চমচমের গুণগত মান কমে গেছে। ফলে ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা পেশায় টিকে থাকতে ভেজাল চমচম তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে।

এর উপর ‘মরার উপর খারার ঘা’ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে করোনা মহামারি। করোনা ভাইরাসের কারণে তিন মাস মিষ্টি তৈরি বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা পথে বসেছেন। তারা কী করে জীবিকা নির্বাহ করবেন তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

বাঙালি হালুই করের নাতি(মেয়ের ঘরের) গণেষ চন্দ্র গৌড় জানান, ১০০ বছর ধরে তাদের পরিবার চমচম শিল্পের সাথে জড়িত। বাঙালি দাদুর কাছে তার চমচম তৈরিতে হাতেখড়ি।

দাদুর দেওয়া দোকান ‘আদি পোড়াবাড়ি মিষ্টান্ন ভান্ডার’ তিনি পরিচালনা করছেন। বাজার খারাপ হওয়ায় তিনি দোকানের অর্ধাংশ রেখে বাকি অর্ধাংশে মনোহরি দোকান করেছেন।

তিনি জানান, পোড়াবাড়ির চমচমের মূল রহস্য ধলেশ্বরী নদীর মিঠা পানি, গরুর খাঁটি ঘণ দুধ, লালচিনি ও দুর্লভ তেঁতুলের লাকড়ী এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ। এসব সামগ্রী না পাওয়ায় সেই প্রসিদ্ধ চমচম তৈরি করা সম্ভব হচ্ছেনা।

এছাড়া চারাবাড়ী-পোড়াবাড়ি শহর থেকে দূরে ও অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জনসমাগম কমে গেছে। মহান স্বাধীনতার পরেও তিনি প্রতিদিন ২-৩ মণ চমচম বিক্রি করতেন। বর্তমানে প্রতিদিন ২০-২২ কেজি চমচম বিক্রি করাও দূরূহ।

পোড়াবাড়ি গ্রামে বাড়িতে চমচম তৈরি করেন বাঙালি হালুই করের অপর নাতি(মেয়ের ঘরের) সাধন গৌড়। তিনি জানান, চমচমের আগের বাজার নেই। আগে ঢাকা সহ বিভিন্ন বড় শহর থেকে চমচম তৈরির অর্ডার পেতেন।

বর্তমানে জেলার বাইরের কোন অর্ডার নেই। পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তিনি চমচম তৈরির আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

টাঙ্গাইল জেলা হোটেল রেস্তোরা ও মিষ্টির দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও মিষ্টিপট্টীর জয়কালী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক স্বপন ঘোষ জানান, মিষ্টিপট্টীতে তাদের চারটি মিষ্টির দোকান রয়েছে। শ্রমিক ও কারিগর সহ ১১৭জন ব্যক্তি তাদের কারখানায় কাজ করে।

করোনার প্রভাবের আগে দৈনিক ১০-১২ মণ মিষ্টি বিক্রি হতো। এখন প্রতিদিন দুই মণ বিক্রি করাও কষ্টসাধ্য। করোনা মহামারির কারণে এ শিল্প ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য সমিতির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ফরম পুরণ করে নিলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বিক্রিও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেষ কিন্তু শেষ নয়….

প্রসিদ্ধ পোড়াবাড়ির চমচম শুধুমাত্র রসনা তৃপ্তিতেই নয় ঐতিহ্যেও বিশ্বে অনন্য। এ চমচম তৈরির কারিগররা বংশ পরম্পরায় এর ঐতিহ্য ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

এ যাবৎকালে পোড়াবাড়ির চমচম শিল্প কোন প্রকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। ফলে জন্মস্থানেই নিরুদ্দেশ হচ্ছে প্রসিদ্ধ পোড়াবাড়ির চমচম।

দেশের এ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহযোগিতার যৌক্তিক দাবি করেছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

শিবগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করলো ভারত

শিবগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক যুবকর নিহত হয়েছে। তার লাশ বিএসএফের সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। নিহত যুবক হলো শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে বাদশাহ (২০)।

শাহাবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন জানান,দরিদ্র পরিবারের ছেলে বাদশাহ গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তেলকুপি সীমান্তের ১৮০/৩এসনং পিলা এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করলে ভারতের শ্মশানী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা টের পেয়ে গুলি করলে সে ঘটনা স্থলেই নিহত হয়।

লাশ রাতে সেখানে পড়ে ছিল। রবিবার সকাল ৯টার বিএসএফের সদস্যরা লাশ নিয়ে গেছে।

এব্যাপারে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান বলেন, তেলকুপি সীমান্ত এলাকার ভারতের মধ্যে দুই রাউন্ড গুলি হয়েছে এবং একজন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানতে পারেনি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতিতে বিশ্বে ১৮৪তম বাংলাদেশ

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতির তুলনায় বিশ্বের ২২১টি দেশের মধ্যে ১৮৪তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের ইন্টারনেটের গতি গড়ে প্রতি সেকেন্ডে তিন দশমিক দুই মেগাবাইট বা ৩ দশমিক ২ এমবিপিএস। তবে প্রযুক্তিনির্ভর দেশ চীনের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি গুগল ও বেশ কয়েকটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এম ল্যাবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এম ল্যাব ২২১টি দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতির ওপর এক সমীক্ষা পরিচালনা করে। এই সমীক্ষায় চার লাখ ৬৭ হাজার বার বাংলাদেশের ৫০ হাজারটি স্বতন্ত্র আইপি অ্যাড্রেসের ইন্টারনেটের গতি পর্যালোচনা করা হয়।

এতে গড় গতি পাওয়া যায় ৩ দশমিক ২ এমবিপিএস। এই গতি চীনের গড় গতির চেয়ে বেশি।

টেক জায়ান্ট এ দেশটির ব্রডব্যান্ডের গতিবেগ ২ দশমিক ১ এমবিপিএস।

তালিকায় চীনের অবস্থান ২০০।

সমীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সবচেয়ে ধীরগতির তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয়।

আর বাংলাদেশের গড় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি এশিয়ার গড় ইন্টারনেটের গতির তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ২ গুণ ধীর। একই সঙ্গে পুরো বিশ্বের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ গুণ ধীর।

বিশ্বে সবচেয়ে দ্রম্নতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পাওয়া গেছে ক্ষুদ্র একটি দেশ লিশটেনস্টাইনে। দেশটিতে ইন্টারনেটের গড় গতি ২৩০ এমবিপিএস। এই গতি দিয়ে ৫ গিগাবাইটের একটি ফাইল ডাউনলোড করতে মাত্র ৩ মিনিটেরও কম সময় লাগবে।

শীর্ষ পাঁচ দেশের বাকি দেশগুলো যথাক্রমে হলো- জার্সি, অ্যান্ডোরা, জিব্রাল্টার এবং লুক্সেমবার্গ। এসব দেশে ৫ গিগাবাইটের একটি ফাইল ডাউনলোড করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৬ মিনিট।

অন্যদিকে তালিকার সবশেষ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান। দেশটির গড় ডাউনলোড স্পিড মাত্র ০.৬ এমবিপিএস।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

আইপিএল-২০২০ এর সূচি

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ত্রয়োদশ আসর। শুরুর ম্যাচে মুখোমুখি হবে চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় (ভারত) শুরু হবে এই ম্যাচ। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মুখোমুখি হবে দিল্লি ক্যাপিটালস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

অন্যবারের তুলনায় এবার আইপিএলের সূচি দেয়া হচ্ছে ধাপে ধাপে। আপাতত গ্রুপ পর্বের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সূচি প্রকাশ করলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বাকি সূচি পরে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে আইপিএলের আয়োজক কমিটি।

আইপিএল এর সূচি

সূচি অনুযায়ী ১০টি ডাবল হেডার রয়েছে এবারের আইপিএল। এর মানে ১০ দিন দুটি করে ম্যাচ হবে। সেই ক্ষেত্রে দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে বিকেল চারটায়, দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে সাড়ে ৬ টা এবং ৮টায়। দুবাইয়ে খেলা হবে ২৪টি ম্যাচ।

আবুধাবিতে ২০টি ও শারজাহ স্টেডিয়ামে ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লিগের ভেন্যু চূড়ান্ত হলেও প্লে অফ ও ফাইনাল খেলার ভেন্যু ও সূচি পরে চূড়ান্ত হবে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

মৃত্যুর ২৪ বছর পরও সালমান শাহ বাংলাদেশে সমান জনপ্রিয়

ধূমকেতুর মত আচমকা এসেছিলেন, চলেও গিয়েছিলেন কাউকে কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়ে। ধারণা করা হয়েছিল, চলচ্চিত্র অঙ্গনে আন্তর্জাতিক খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছাতে পারতেন ঢাকাই সিনেমার এই ‘স্টাইল অবতার’, যাকে এক নজর দেখার জন্য পাগল হয়েছিল হাজারও তরুণী।

চার বছরের নাতিদীর্ঘ ক্যারিয়ারে নেই একটিও ফ্লপ ছবি; সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায়বেলায় কাঁদিয়েছিলেন সবাইকে- কথা হচ্ছে কিংবদন্তী নায়ক প্রয়াত সালমান শাহকে নিয়ে।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর দু’যুগ পরও এখনও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তার। এখনও টিভি পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন।

মৃত্যুর ২৪ বছর পরও শুধু দুর্দান্ত অভিনয় এবং ফ্যাশনের ভিন্নমাত্রা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন সালমান শাহ। দিন দিন যেন তার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের দর্শকের মনে আফসোস, সালমানের নতুন সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে না পারার।

সেই সালমান শাহ অল্প দিনের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

রোমান্টিক এই নায়কের ক্যারিয়ারের গল্প কিংবা মৃত্যু রহস্য- সবকিছু নিয়ে এখনও তার ভক্তদের মনে কাজ করে আকর্ষণ।

ঘাটাইল ডট কম পাঠকদের জন্য থাকছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ভিন্ন এবং মজার কিছু ঘটনা।

১# ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে সালমান শাহ’র যাত্রা শুরু, এবং প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত! অবশ্য আমির খান-জুহি চাওলা অভিনীত মূল সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ ছিল সালমান শাহ’র অনেক পছন্দের সিনেমা। এর রিমেকে অভিনয় করার আগেই সালমান হিন্দি সিনেমাটি দেখে ফেলেছিলেন মোট ২৬ বার!

২# ১৯৯৩ এ রূপালি পর্দায় অভিষেক হলেও ক্যামেরার সামনে এরও এক দশক আগে থেকে কাজ করেছেন সালমান শাহ। শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে ‘ইস্পাহানি গোল্ডস্টার টি’ এর বিজ্ঞাপন দিয়ে। পরে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৮৫ সালে অভিনয় করেন বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে।

৩# নায়ক, মডেল, ফ্যাশন আইকন- এত সব পরিচয়ের ভিড়ে আরও একটি পরিচয় আছে সালমানের, তিনি গানও গাইতেন। রীতিমত ছায়ানট থেকে পল্লীগীতি শিখেছেন ১৯৮৬ সালে। প্লে ব্যাক করেছেন ‘প্রেমযুদ্ধ’ এবং ‘ঋণশোধ’ সিনেমা দুটিতে।

৪#  সালমান-শাবনূর নব্বই এর দশকের এখন পর্যন্ত সবচাইতে সফল এবং জনপ্রিয় জুটি হিসেবে স্বীকৃত। সে সময়ের পত্র-পত্রিকা তাদের দুজনের নামে অনেক রসালো খবর ছাপলেও সালমানের কাছে শাবনূর ছিলেন তাঁর ‘পিচ্চি বোন’। নিজেদের জুটি নিয়ে শাবনূর বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার। বলতে পারেন, একে অন্যের চোখের ইশারা বুঝতে পারতাম।’

৫# পর্দার রোমান্টিক নায়ক পর্দার বাইরে ছিলেন অত্যন্ত চঞ্চল। চিত্রনায়ক রিয়াজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, শুটিং এর ফাঁকে নকল বন্দুক দিয়ে সবার দিকে তাক করে বাচ্চাদের মত মজা নিতেন সালমান শাহ। রুমাল পেঁচিয়ে সহকর্মীদের গুলতির মত করে মারতেন, সালমান শাহকে এরকম কিশোর আনন্দে মাততে দেখেছিলেন শাবনূর।

৬#  ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় সালমানের সাথে অভিষেক হয়েছিল চিত্রনায়িকা মৌসুমিরও। আর তাদের পর্দার রসায়ন দর্শক ভালো না বেসে যাবে কোথায়, তারা যে স্কুল জীবন থেকেই ছিলেন বন্ধু! খুলনা বয়রা মডেল হাই স্কুলে সহপাঠী হিসেবে পড়াশোনা করেছেন ইমন আর আরিফা, যারা বছর পনের পর পরিচিতি পান সালমান শাহ-মৌসুমি নামে।

৭# হানিফ সংকেত ১৯৮৫ সালে উপস্থাপনা করতেন ‘কথার কথা’ নামে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। সেখানে হানিফ সংকেতরই গাওয়া ‘নামটি ছিল তার অপূর্ব’ গানে মডেল হয়েছিলেন সালমান শাহ। গানের গল্পে সালমান ছিলেন সম্ভাবনাময় এক তরুণ, যে কিনা মাদকে আসক্ত হয়ে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

 ৮# সালমান-মৌসুমি একসাথে অভিনয় করেছিলেন চারটি সিনেমাতে। কিন্তু ছোটকালের দুই বন্ধুর মধ্যে সামান্য এক ব্যাপারে মনোমালিন্য দেখা দেয়। বরিশালে একটি হোটেলে সিনেমা প্রচারণার কাজের জন্য থেকেছিলেন সিনেমার পুরো টিমের সাথে। সেখানে অ্যাটাচড বাথরুমের রুমে থাকা নিয়ে মৌসুমির সাথে বাকবিতণ্ডার পর একসাথে আর সিনেমা করেননি দুজন। অবশ্য সালমানের মৃত্যুর আগেই সে মনোমালিন্যের অবসান হয়েছিল।

 ৯# একদম প্রথম দেখাতেই সালমানকে মনে ধরেছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের। নতুন মুখের সন্ধানে থাকা সোহান একদিন খোঁজ পান ইমনের, দেখা করেন সে সময়ের ম্যাকডোনাল্ড রেস্তোরাঁয়। সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে সালমানকে এক নজর দেখেই সোহান উল্লাস করে ওঠেন নিজের সিনেমার নায়ক পেয়ে গেছেন বলে।

১০# সিনেমার নায়ক হওয়ার আগেও সালমান শাহ ছিলেন সিনেমা পাগল এক ভক্ত। ছোটবেলায় বাবার ভিসিআরে প্রচুর সিনেমা দেখতেন তিনি। ‘শোলে’ আর ‘নুড়ি’ ছিল তাঁর প্রচণ্ড পছন্দের সিনেমা।

সালমান স্মরণে ববিতা

সালমান শাহকে হারানোর ২৪ বছরে সন্তানতূল্য অভিনেতাকে স্মরণ করেছেন ববিতা। তার স্মৃতির দেয়ালে সাঁটানো ছবিগুলোতে চোখ বুলিয়ে দেখা গেল অন্য এক নায়ক সালমানকে। যেখানে নারী শিল্পীর প্রতি তার সম্মান মুগ্ধ করে যায়।

ববিতা বলেন, ‘সালমানকে আমি ভীষণভাবে মিস করি। যখন টিভিতে ওর অভিনীত গান-সিনেমা চলে তখন খুব কষ্ট লাগে। ও আমার এতো কাছের আর এত আপন ছিলো, বলার মতো নয়। ওর সঙ্গে অল্প কাজ হলেও মনে হয় আমি ওকে অনেকদিন ধরে চিনেছিলাম। কী আন্তরিকতা! কী সম্মান।

সালমান আমাকে খুব সুন্দর করে ডাকতো আর এতো সুন্দর ভাষায় কথা বলতো সেগুলো আমার কানে খুব বাজতো। যখন আমি ওর মায়ের চরিত্র করতাম তখন সালমান বলতো ‘ইউ আর সো সুইট মাদার’।

একটা ঘটনা বলি। আমি একটা সিনেমার শুটিং করছিলাম পাহাড়ে। শুটিংয়ের সময় আমার সহকারী ছাতা এবং চেয়ার সঙ্গে রাখতো। কিন্তু সেদিন ও ভুল করে চেয়ারটি আনেনি। তখন সালমান একটি চেয়ার আমাকে এগিয়ে দেয়। সে বলে, ‘আপু আপনাকে এই চেয়ারটি আমি উপহার দিলাম।’

সেই চেয়ারটি আমি অনেকদিন রেখে দিয়েছি। গিফটি খুব ছোট। কিন্তু এখানে যে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাটা মিশে আছে তা অমূল্য।’

‘সালমান আমাকে ফোন ব্যবহার করা শিখিয়েছে। তখন নতুন সিটিসেল নামে বড় বড় সাইজের কিছু ফোন বাজারে আসে। আমি এতো ফাংশন জানতাম না। ও আমাকে একটি কাগজে সব লিখে দিয়েছিলো কীভাবে ফোনটি ব্যবহার করবো। সেই কাগজ আজও রেখে দিয়েছি’- যোগ করেন আবেগপ্রবণ ববিতা।

স্মৃতির দোলনায় দুলে ববিতা শোনালেন সালমানকে নিয়ে আরও এক গল্প। বলেন, ‘আউটডোরের শুটিংয়ের একটি মজার ঘটনা আছে। আসলে আমাদের কাজ কম হয়েছে কিন্তু অনেক অনেক স্মৃতি জমা হয়ে আছে একসঙ্গে। শুরু করলে সব বলতে ইচ্ছে করে।

একবার আমরা একসঙ্গে শুটিংয়ে যাবো বলে ঠিক হলো। হঠাৎ করেই সালমানের একটি জরুরি একটি কাজ পরে গেলো। ওদিকে সেই সকাল থেকেই শুটিং শুরু হবার কথা। আমি রেডি হচ্ছি বের হবো। এমন সময় সে আমাকে ফোন করলো।

বললো, ‘ম্যাম আপনি একটা কাজ করেন। আমার একটি উপকার করে দেন। আমি যদি ডিরেক্টরকে বলি যে আমার একটা কাজ আছে এবং আমার আসতে দেরি হবে তাহলে তার খারাপ লাগতে পারে। রেগেও যেতে পারে। কারণ অনেক বড় এরেজমেন্ট হয়েছে, অনেক বড় ইউনিট। তাই ম্যাম আপনি যদি একটু কায়দা করে এমন করে বলেন যে আপনারও কাজ আছে আমি একটু কাজটি সেরে আসতে পারতাম। ওর কথা শুনে খুব হাসলাম।

পরে ডিরেক্টরকে আমি ম্যানেজ করলাম। ওর মধ্যে কিন্তু সততা ছিলো। ও চাইলে কাউকে না জানিয়ে দেরি করে আসতেই পারতো। আজকাল অনেক নায়করাই সেটা করে থাকেন। সিনিয়ররা সেটা গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছে। নায়কের খোঁজ নেই। কারণ সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের বা তারকা হয়ে যাওয়া নায়কদের আন্তরিকতা নেই। সালমানের সেটা ছিলো। আমার ধারণা ওর সঙ্গে কাজ করে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে এমন একটি লোক ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়া যাবে না।

ও ঘরের ছেলের মতো ছিলো সবার কাছে। সত্যি কথা বলতো। স্টারডমের বাজে প্রকাশ ছিলো না। সিনিয়রদের অনেক অনেক সম্মান করতো। ও ফোন করে আমার সঙ্গে প্ল্যান করে শুটিং টাইমটা কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে নিয়েছিলো। কিন্তু আমি তার সিনিয়র, সে আমাকে সেটে পাঠিয়ে বসিয়ে রাখেনি।

আসলে আমাদের এমন সম্পর্কই ছিল। এমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও রিলেশন, সুখ দুঃখের সব ব্যাপার শেয়ার করা এটা কিন্তু আমার সব সহশিল্পীদের সঙ্গে হয়নি। সালমানের সঙ্গে হয়েছে। কারণ ও আমাকে মন থেকে সেই আসনটা দিয়েছিলো। আমি টের পেয়েছি বলে তার সেই সম্মানটা নিতে পেরেছিলাম।’

অভিনেতা সালমান অনেক শক্তিশালী ছিলো। ববিতা সেই প্রসঙ্গে বলেন, ‘সালমান শাহ কিন্তু আসলেই দারুণ একজন শিল্পী ছিলো। ওর সঙ্গে কাজ করতে গেলে খুব সতর্কভাবে শট দিতে হতো। যেমন সিকোয়েন্সে ডায়লগ দেয়া আছে ভাবি দেবরের কনভারসেশন। সেখানে ও এমন এক্সট্রা কিছু মজার ডায়লগ দিতো এবং এমন এক্সপ্রেশন দিতো যা আমার কভার করতে হতো।

আমি ভাবতাম ও যখন এই ভঙ্গিটা এভাবে করেছে আমার একটু আলাদা না দিলে জমবে না দৃশ্যটি। তাহলেই বুঝুন কত বড় মাপের একজন শিল্পী সে। সবাই ওকে রোমান্টিক হিরো বলে একটা ক্যাটাগরিতে আটকে রাখতে চায়। এটা ঠিক না। ও দুর্দান্ত অভিনেতা ছিলো। মনেই হতো না ২৪-২৫ বছরের একজন অভিনেতা। কী সাংঘাতিক পরিণত! মানুষ হাতে কলমে শিখেও অনেক কিছু করতে পারে না।’

সালমানকে মনে পড়ে জানিয়ে ববিতা জানান, ‘যখন ছেলেটা হারিয়ে গেলো মানতেই পারছিলাম না। অনেকদিন আমি ওকে ভুলতে পারতাম না। খুব কান্না পেতো। এতো অল্প বয়স, কী দারুণ সম্ভাবনা ছিলো তার। প্রায়ই হুট করে মনে পড়ে যায়। তখন শুটিংয়ের মধ্যে ও যেভাবে কথা বলতো, আমাকে ডাকতো, ওর সেই আওয়াজটা কানে লাগে। এখনো মনে হয় ও বেঁচে আছে, ও কথা বলছে, সব কিছু হচ্ছে।

আমি ওর রোমান্টিক নায়িকা ছিলাম না। কিন্তু ওর রোমান্টিকতা দেখেছি অভিনয়ে। রোমান্টিক সালমানকে ভোলা যায় না। একজন সহশিল্পী সালমান শাহকেও কোনোদিন ভুলবো না। দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার আত্মাকে শান্তি দেন। তাকে বেহেশত নসিব করেন, আমিন।’

ছোট পর্দায় সালমান

১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন সালমান শাহ। পরে দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফিরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে অভিনয় করেন। ‘নয়ন’ নাটকটি শ্রেষ্ঠ একক নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে।

১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত পাথর সময় ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে অভিনয় করেন ইতিকথা ধারাবাহিকেও।

সিনেমায় অভিষেক

১৯৯২ সালে প্রযোজনা সংস্থা আনন্দমেলা ভারত থেকে তিনটি সিনেমার কপিরাইট নিয়ে আসে। সেই তিনটি সিনেমার জন্য তারা নতুন নায়ককে নিতে চান। দায়িত্ব পড়ল পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ওপর। তিনি হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকলেন নতুন নায়ক।

একসময় পেয়ে গেলেন ইমন নামের একটি ছেলেকে। মা নীলা চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে ইমনকে নির্বাচিত করলেন সিনেমার জন্য। নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো সালমান শাহ।

পরিচালক সোহান বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমি সালমানকে পাই। তারপর তাকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিই নাচ-গান, ফাইট এবং অভিনয়ের ওপর।’

তিনি জানান, ১৯৯২ সালের ৩১ আগস্ট কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুভির মহরত হয়। আর প্রথম শ্যুটিং শুরু করি ১৩ সেপ্টেম্বর। সালমান-মৌসুমীকে নিয়ে কাজ করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কারণ বুঝতাম তাদের নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সালমান শাহ।

শাবনূরের সঙ্গে জুটি

১৯৯৪ সালে ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাবনূর। প্রথম মুভিতেই ব্যাপক সফলতা পায় এ জুটি। সালমান-শাবনূর জুটির সফলতার দিকে তাকিয়ে পরিচালক প্রযোজকরা একের পর এক মুভিতে নিতে থাকেন তাদের। সালমান অভিনীত ২৭টি সিনেমার ভেতরে ১৪টিতেই নায়িকা ছিলেন শাবনূর।

এভাবেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সবচেয়ে সফল জুটি হিসেবে পরিচিতি পায় এ দুজন।

শাবনূর বলেন, ‘সালমানের সঙ্গে আমার প্রথম মুভি “তুমি আমার”। তখন তো সে মৌসুমী আপুর সঙ্গে অভিনয় করত। শ্যুটিংয়ের সময় মাঝেমধ্যে দেখতাম। আমি তো তখন ছোট ছিলাম। এতকিছু বুঝতাম না। একের পর এক মুভিতে ওর সঙ্গে অভিনয় করলাম। অনেক সিনেমা করার পর আমি বুঝতে শুরু করলাম, মানে ম্যাচিউরড হলাম। নিজেদের বোঝাপড়াটাও বাড়ল।

ও কোন বিষয়টা কীভাবে ডেলিভারি দিচ্ছে আর আমি কোনটা কীভাবে ডেলিভারি দিচ্ছি সেটা নিয়ে ভাবতাম। নিজেকে ঝালাই করে নিতাম।

সালমানের ব্যাপারে আমি একটা কথাই বলব, ন্যাচারাল অ্যাকটিং যেটা বলে সেটা সালমানের ভেতর ছিল। দুজনই শ্যুটিং করার সময় দুষ্টুমি করতাম। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, সবার সঙ্গেই সে খুব বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, অনেক নম্র ছিল, আর্টিস্ট-ডিরেক্টরদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বুঝত, তাদের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারত। অনেক মজার মানুষ ছিল।

দেখা গেছে, মজা করতে করতে কখন যে শ্যুটিং শেষ হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারতাম না। সে যেমন হাস্যোজ্জ্বল ছিল, তেমনি অনেক চঞ্চলও ছিল। চটপটে ছিল বলে খুব দ্রুত কাজ করতে পারত। আমি ওর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারতাম না। ও আমাকে মাঝেমধ্যেই তাড়া করত।’

মাফিয়া চক্রের নজরে

জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সালমান শাহর দিকে নজর পড়ে মাফিয়া চক্রের। শোনা যায় ওই সময়ের আলোচিত ব্যক্তি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব ছিল সালমানের। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি কেউ।

তবে সালমান শাহর মৃত্যুর পর আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নাম আলোচনায় আসে। পরিবারের পক্ষ থেকেও সালমান শাহ হত্যার নেপথ্যের ইঙ্গিত সেদিকেই ছিল।

এছাড়াও আরও অনেকের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন জয়প্রিয় এ নায়ক। এমনকি শিল্পী সমিতির সঙ্গেও তার বেশ কয়েকবার ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সালমান শাহকে একবার দুই সপ্তাহের জন্য শিল্পী সমিতি নিষিদ্ধও করেছিল।

১৯৯৫ সালের ২৯ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় একটি সংবাদ ছাপা হয় যার শিরোনাম ছিল, ‘নায়ক সালমান শাহর প্রাণনাশের চেষ্টা : অভিনয় থেকে বিদায় নিতে পারেন’।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার তেজতুরী বাজার এলাকায় একটি প্যাকেজ নাটকের শ্যুটিং চলাকালে মাসুম নামে এক যুবক সালমান শাহকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা চালায়।

শ্যুটিং ইউনিটের লোকজন ও আশপাশের লোকজন সেখানে দ্রুত ছুটে আসে এবং ছুরিসহ ছেলেটিকে আটক করে। পরে তাকে ছুরিসহ তেজগাঁও থানায় সোপর্দ করা হয়। থানায় একটি মামলাও হয়।

যুবকটি তখন শাসায়, তাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। রাজনীতি করে। দলের নেতারাই তাকে ছাড়িয়ে আনবে। তারপর সে দেখে নেবে সালমান শাহকে।

এ ঘটনার পর ১ আগস্ট সালমান শাহ প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানান।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে তিনি অভিনয় থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে হুঁশিয়ারিও দেন। এরপর তিনি আরও দুবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক জটিলতায়

একের পর এক সিনেমা করার বদৌলতে শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে সালমান শাহর। সেই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সে সময়ের পত্রপত্রিকায় মুখরোচক নানা খবর প্রকাশ পেত। সেসব খবরের বদৌলতে সামিরার সঙ্গে সালমানের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশের তদন্ত সংস্থা।

শাবনূরের সঙ্গে সালমানের সখ্যের বিষয়টি সালমানের ঘনিষ্ঠজনরাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় তাদের নিয়েও নানা যন্ত্রণা পোহাতে হতো সালমানকে।

মৃত্যু

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল শুক্রবার। এদিনই সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের জাল বিস্তার হয় সে সময়। স্ত্রী সামিরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তাকে ড্রেসিংরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ বছর ধরে চলছে সেই মামলা।

সর্বশেষ চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

২৪ বছর ধরে চলমান মামলা

সালমান শাহর মৃত্যুর পরপরই তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্য তৈরি হয়। একদিকে সম্পর্কের জটিল রসায়ন, অন্যদিকে আবেগী সালমানের আত্মহত্যা প্রবণতা। স্ত্রী সামিরা ও মা নীলা চৌধুরী অবস্থান নেন দুই পক্ষে। সেই দুই পক্ষের বাদানুবাদ চলে আসছে ২৪ বছর ধরে।

১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যুর পর অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি।

অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। এরপর বেশ কয়েকবার একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলেও সালমানের পরিবার তাতে নারাজি আবেদন করে পুনঃতদন্ত চায়।

এরপর ২০১৬ সালের শেষদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নতুন করে সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তভার দেওয়া হয়। এই মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা তা নির্ধারণে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মামলাটি আবারও আদালতে উঠে।

গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পারিবারিক কলহের কারণেই আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ। এ তথ্য জানান পিবিআইপ্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

কী আছে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে

শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক, সন্তান না হওয়া, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতাসহ নানা কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ব্রিফিংয়ে পিবিআই জানায়, সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের প্রেম ছিল। তাদের অন্তরঙ্গতার বিষয়টি সামিরা সহ্য করতে পারত না। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো সালমানের। মৃত্যুর আগের দিন সালমান শাহ এফডিসিতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করছিলেন। সেখানে হঠাৎ সামিরা এসে উপস্থিত হন। তিনি তখন সালমান ও শাবনূরকে অন্তরঙ্গভাবে আবিষ্কার করেন। এরপর সামিরা রাগ করে চলে যান। স্ত্রী চলে গেলে সালমানও বেরিয়ে যান ডাবিং বাদ দিয়ে।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে শাবনূরকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন সালমান। এমনকি সামিরা ও শাবনূরকে নিয়েই সংসার করতে চেয়েছিলেন এ চিত্রনায়ক। কিন্তু তাতে রাজি হননি সামিরা। অন্যদিকে সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল সংসারে। মা নীলা চৌধুরীকে প্রচণ্ড ভালোবাসলেও স্ত্রী-শাশুড়ির সম্পর্ক ভালো ছিল না। সম্পর্কের এ জটিল রসায়নও পোড়াত সালমানকে। সালমান শাহর মামার বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, মৃত্যুর আগের রাতে সালমান বলেছিলেন তিনি সামিরাকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন জীবন শুরু করবেন। এসব নানাবিধ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত জানিয়ে পিবিআই জানায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কী ছিল সালমানের সুইসাইড নোটে

সালমান শাহর আত্মহত্যার পক্ষে বেশকিছু তথ্য-উপাত্তের কথাও জানানো হয় পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে একটি হলো সালমানের সুইসাইডাল নোট! পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে এ বিষয়ে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘সিআইডি তদন্তকালে সামিরার কাছ থেকে এ সুইসাইডাল নোটটি উদ্ধার করে। সেটি সালমানের প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়।’

সালমান শাহ সুইসাইডাল নোটে লেখেন, ‘আমি চৌ. মো. শাহরিয়ার। পিতা কমরুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী। ১৪৬/৫, গ্রীণ রোড ঢাকা #১২১৫ ওরফে সালমান শাহ। এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আজ অথবা আজকের পরে যে কোনো দিন আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’

ত্রিমুখী সম্পর্ক নিয়ে শাবনূরের বক্তব্য

বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে শাবনুর বলেন, ‘সালমান যেমন হেল্পফুল ছিল, তেমনি ওর স্ত্রী সামিরাও অনেক হেল্পফুল ছিল। অনেক ভালো মনের মানুষ ছিল। সামিরাকে নিয়ে যে যাই বলুক না কেন, আমি বলব ও অনেক ভালো একটা মেয়ে ছিল। সামিরাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতাম। ওর সঙ্গে আমার ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক ছিল। সালমানের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পর্কে অনেকে অনেক কিছুই লিখেছে। এখনো লিখছে। আমি জানি না কেন আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আর যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সত্য নয়। সালমান বেঁচে থাকতে তো এমন কোনো অভিযোগ শুনিনি। সামিরাকেও অনেকে অনেক দোষারোপ করেছে। ওর সম্পর্কে মানুষ না জেনেই লিখেছে। আমি বলছি কারণ ওকে আমি দেখেছি। আবার অনেকে সালমান ও আমার সম্পর্কে অনেক উল্টাপাল্টা লিখেছে। এটাও ঠিক নয়।’

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

পিবিআইয়ের এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সালমানের পরিবার। দেশ রূপান্তরকে সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘পিবিআই যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। শিগগিরই আমরা ফের তদন্ত করার জন্য আবেদন জানাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সালমানের মা নীলা চৌধুরী অসুস্থ। লন্ডনে আছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা বলে আইনজীবীর মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব আমরা।’

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, বারবার কেন একটা হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। কার স্বার্থে এসব করা হচ্ছে। আমি এ তদন্ত প্রতিবেদন মানি না। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমরা আবারও আবেদন জানাব।’

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুর ইউএনও’র নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পর সরকার দেশের সকল ইউএনওর নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েন শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বাসভবনে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের পাশে ইউএনওর বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাসভবনের প্রধান ফটকে ৪ জন আনসার সদস্য পাহারায় রয়েছেন।

নাগরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বাসভবনের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের দায়িত্বে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাত থেকেই আমার বাসভবনের সামনে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে সকল আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে তারা সকলেই অঙ্গীভূত আনসার। আমি মনে করি এদের চেয়ে যদি ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্য মোতায়েন করা হত তাহলে নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার হত।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাইদুর রহমান জাহিদ জানান, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা মোতাবেক নাগরপুর উপজেলায় নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বাসভবনে নিরাপত্তার জন্য ৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর অর্ধগলিত লাশ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে অজ্ঞাত এক তরুণীর (২২) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের আগদিঘুলিয়ার ধলেশ্বরী নদীর মোহনা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ।

পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজন নৌকায় নদীতে মাছ ধরতে গেলে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ নদীতে বাশেঁর সাথে আটকা থাকা অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

পুলিশ আরও জানায়, আগদিঘুলিয়ার ঠাকুর দাস মন্ডলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ধলেশ্বরী নদীতে অজ্ঞাত মহিলার লাশটি ভাসছিল। তার দেহ পঁচা ফোলা ও দূর্গন্ধযুক্ত, চামড়া নেই, মাথার চুল উঠে খুলি বেড়িয়ে গেছে, নিচের পাটির দাঁত নেই। নিহতের পরনে ছিল কালো রংয়ের জিন্স প্যান্ট ও গোলগলা হাফহাতা গেঞ্জি।

নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লাশটি অন্য এলাকা থেকে নদীতে ভেসে এসেছে। নিহতের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিতে কাজ চলছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে বিলে মাছ শিকারে গিয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিলে মাছ শিকারে গিয়ে কলার ভেলা থেকে পড়ে ওষুধ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেনের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাকাই বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোজাম্মেল ভুটিয়া গ্রামের আবদুল খালেক মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মোজাম্মেল ভেলায় চড়ে ওই বিলে বড়শিতে মাছ শিকারে যান। ছোট কাল থেকেই তার মৃগীরোগ ছিল। বড়শিতে গাঁথা মাছ তুলতে গিয়ে পাক খেয়ে তিনি পানিতে ডুবে যান।

আশপাশের লোকজন তাকে মধুপুর হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোজাম্মেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-