মওলানা ভাসানী ও সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতি

কমরেড মুজফ্ফর আহমদ ‘দ্বৈপায়ন’ ছদ্মনামে কাজী নজরুল ইসলামকে ধুমকেতুর ১ম বর্ষ/১৩শ সংখ্যায় চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, ‘কৃষক শ্রমিকের কথা কখনো ভেবেছ কি? একটা কথা সোজা তোমায় বলে দিচ্ছিল, যদি ওদের কথা ভাবতে না শেখ তাহলে তোমাকে দিয়ে দেশের কোনো সেবাই হবে না, প্রাণ দিলেও না। ওরাই দেশের শক্তি। ওদেরকে না জাগালে, আত্মবোধ না শেখালে তোমাদের তথাকথিত ভেদ্দর লোকেরা কিছুই করতে পারবে না। কোনো ক্ষমতাই তাদের নেই।’

এই চিঠির মর্মবাণী মওলানা ভাসানী তাঁর রাজনীতির প্রয়োজনে প্রয়োগ করেছিলেন সারা জীবন।

মওলানা ভাসানী ছিলেন এক দীর্ঘ কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। অল্প পরিসরে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবুও সংক্ষিপ্ত পরিসরে এই মহান জনদরদী নেতার জীবন ও রাজনীতি সম্বন্ধে কিছু বলার চেষ্টা করবো।

তিনি আনুমানিক ১৮৮৫ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজি মোহাম্মদ শরাফৎ আলী খান এবং মাতার নাম মোসাম্মৎ মজিরন বিবি। তিনি তাঁর পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন। শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল চেকা মিয়া।

প্রচলিত আছে যে, ছোটবেলায় মওলানা ভাসানী ইসলামী শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং ১৯০৭ থেকে ১৯০৯ পর্যন্ত তিনি ভারতের বিখ্যাত দেওবন্দ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন। (যদিও দেওবন্দ মাদরাসায় এই সংক্রান্ত কোনো দলিলপত্র পাওয়া যায়নি)। সেখানে তিনি মওলানা হোসেইন আহমদ মাদানির কাছে কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন।

বাল্যকালে দেওবন্দের প্রভাবেই সারাজীবন তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ও জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্রতী ছিলেন।

মওলানা ভাসানী প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ১৯১৭ সালে। সে বছর চিত্তরঞ্জন দাশ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ময়মনসিংহে আসেন এবং এখানেই মওলানা ভাসানী তার সাহচর্যে আসেন। এরপর ১৯১৯ সাল থেকে তিনি সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন এবং মওলানা মোহাম্মদ আলীর অনুপ্রেরণায় জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন।

রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পর থেকেই জমিদারী শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর মন বিষিয়ে ওঠে। সে কারণেই বাংলার কৃষকদেরকে জমিদারী শোষণ থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেন। এ জন্যে অল্পদিনেই তিনি জমিদারদের রোষাণলে পতিত হন। জমিদারদের ষড়যন্ত্রে টিকতে না পেরে তিনি আসাম চলে যান।

১৯২৪ সালে আসামের ঢুবড়ী জেলার ভাসান চরে তিনি বহিরাগত বাঙালি কৃষকদের এক বিশাল সম্মেলন করেন। এই সম্মেলনের সাফল্য থেকেই লোকেরা তাঁকে ভাসানীর মওলানা নামে ডাকতে শুরু করে।

ঊনবিংশ শতকের বিশের দশক থেকে আসামে তার দুটি পরিচয় ছিল: একজন সাহসী কৃষক নেতা এবং একজন আধ্যাত্মিক পির। তাঁর এই দুটি পরিচয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ ছিল।

মওলানা ভাসানী কর্তৃক আয়োজিত প্রথম ঐতিহাসিক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩২ সালের ডিসেম্বরে সিরাজগঞ্জ জেলার কাওয়াখালী নামক এক স্থানে। এই সম্মেলনের পর সারাদেশে মওলানা ভাসানী পরিচিত হয়ে ওঠেন।

তবে মওলানার সাধারণ মানুষের মাঝে কাজ করার সত্যিকার অভিজ্ঞতা হয় আসামে। সেখানে তিনি ‘লাইনপ্রথার’ বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৭ই মার্চ ‘আসাম দিবস’ উদ্যাপন করতে যেয়ে মওলানা প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার হন। জেলজীবনের সাথে এই অভিজ্ঞতায় তিনি কোনোদিনও মুষড়ে পড়েন নি।

১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই তারিখে অনুষ্ঠিত সিলেট গণভোটে মওলানা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় সিলেট দেশভাগের সময় পূর্ববাংলার সাথে যুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট যখন পাকিস্তান স্বাধীন হয় মওলানা তখন আসামে কারারুদ্ধ ছিলেন। সেপ্টেম্বরে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি টাঙ্গাইলে আসেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আমৃত্যু এই সন্তোষেই ছিল তার আবাস। এই সন্তোষ থেকেই বাকি জীবন নেতৃত্ব দেন। পরিচালনা করেন নানামুখী কর্মকান্ড।

মওলানা জমিদার-জোতদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে আওয়ামী মুসলিম লীগ, পরে আওয়ামী লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেছেন, কৃষক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন।

নেতৃত্ব দিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনে, লড়াই করেছেন সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, ক্ষেপে উঠেছেন ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সংগ্রাম করেছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, চেষ্টা করেছেন বিশ্বে যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়। শিক্ষা বিস্তারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

আল আজহারের আদলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। অনাড়ম্বর, সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। বিলাসিতা সহ্য করতে পারতেন না। কোনো সরকারি পদ কোনোদিন গ্রহণ করেন নি।

অসাধারণ এই অনলবর্ষী নেতা সূচনা করেছিলেন ঐতিহাসিক ঊনসত্তরের গণ আন্দোলন। ৭১-এ হানাদার বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে তিনি ভারতে চলে যান এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটি গঠনে বিশেষ উদ্যোগ নেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তিনিই ছিলেন একমাত্র সাহসী কণ্ঠ যিনি নির্ভয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন।

সাপ্তাহিক হক কথা প্রকাশ করে স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।

১৯৭৬ সাল তাঁর মৃত্যুর বছর। সে বছর মার্চ মাসে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিনি ফারাক্কা লং-মার্চের নেতৃত্ব দেন।

মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক অবদানের মূল্যায়ন করতে হলে যে বিষয়টি মূখ্য হয়ে ওঠে সেটি হচ্ছে আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা। ১৯৫৫ সালের ১৭ই জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন হবার হুমকি দেন।

১৯৫৬ সালের ১৫ই জানুয়ারি, ’৫৭ সনে এবং ’৭০-এর নির্বাচনের আগেও দক্ষিণাঞ্চলে জলোচ্ছ্বাসের ধ্বংসলীলার পর তিনি বিচ্ছিন্ন হবার হুমকি দিয়েছিলেন। প্রকাশ্য জনসভায় এই সকল হুমকি জনগণের মধ্যে স্বাধিকার বোধকে তীক্ষ্ণ করে তুলেছিল। ৭১-এর জানুয়ারি মাস থেকেই তিনি স্বাধীন সার্বভৌম পূর্ব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কথা বিভিন্ন জনসভায় বলে বেড়াতে শুরু করেন। তাঁর বক্তৃতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি তাঁর সমর্থন স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অনেকখানি সাহায্য করেছিল।

আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা মওলানা ভাসানী নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করি না। যেটুকু করি তাও নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচন করে না, অনেকটাই গতানুগতিক। সেদিক থেকে একটি ব্যতিক্রমী স্মারক গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা দরকার। আমাদের প্রগতিশীল কর্মীরা মওলানা চর্চার দিকে এগুচ্ছেন এটা নিঃসন্দেহে একটি সুখবর। এ প্রচেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক জগতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

স্মারক গ্রন্থটির প্রকাশনার কারণ হিসেবে সম্পাদনা কমিটি প্রধানত দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। একটি হচ্ছে বিপ্লবী ও বাম গণতান্ত্রিক শক্তি সমূহের ঐক্যের আকাঙ্ক্ষা; অন্য কারণ, জনগণের শত্রুদের মওলানাকে কুক্ষিগত করার হীন চক্রান্ত থেকে মওলানাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে সচেতন করা। দেরিতে হলেও এ বোধদয় জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

মওলানা এদেশের কমুনিস্ট রাজনীতির ব্যর্থতা ও সফলতার প্রতীক। মওলানা যত বড় হয়েছেন বাম রাজনীতি তত বড় হয়েছে। মওলানা যত ছোট হয়েছেন বাম রাজনীতি তত ছোট হয়েছে। এই বোধ ছড়িয়ে আছে এই বইয়ের পাতায় পাতায় স্মারক গ্রন্থটির প্রতিটি পৃষ্ঠা মওলানার প্রতি লোকদের কৃতজ্ঞতাবোধ, মনস্তাপ এবং সর্বোপরি ব্যর্থতার আহাজারিতে ভরে আছে। কোনো কোনো বাম নেতার আক্ষেপেও ‘আমরা কি কৃষক আন্দোলনে পুনর্গঠন করতে পারি না’? একই ধ্বনি।

গ্রন্থটিতে তথ্যের দিকে থেকে নতুন কোনোকিছু নেই। মওলানার জীবনের বিশেষ ঘটনাগুলো আবু নোমান খানের লেখার মধ্যেই প্রায় সবটুকু আছে। একটি প্রবন্ধ থেকে আর একটি প্রবন্ধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে লেখকের আত্মজীবনীমূলক বিবরণীতে।

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার ‘যদ্যপি আমার গুরু’ সম্বন্ধে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক মন্তব্য করেছিলেন ‘এত ছফার রাজ্জাক’ আসল আবদুর রাজ্জাক না, এ কথার সুর ধরে আমারও বলতে ইচ্ছে করে ‘এত বামদের মওলানা’ আসল মওলানা না, এ তো মওলানার আংশিকরূপ।

সে শ্রমিক কৃষককে নিয়ে সারা জীবন ব্যস্ত থাকলেন, সংগ্রাম করলেন, তাদের পাশে থাকলেন সেই শ্রমিক, কৃষকের জবানীতে মওলানা অনুপস্থিত এই গ্রন্থে। কেউ কী বেঁচে নেই যে, বলতে পারতো তার কাছে মওলানা কিসের প্রেরণা ছিলেন? সঙ্গত কারণেই তারা অনুপস্থিত আর সেই কালব্যাধি যা কিনা বামদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এ সেই ব্যাধিরই উপসর্গ।

অর্থাৎ উচ্চবর্গীয় চোখ দিয়ে জীবন ও জগৎকে দেখা। উচ্চবর্গীয় কণ্ঠে জনগণের সাথে কথা বলা। উচ্চবর্গীয় চৈতন্য দিয়ে জনগণের চৈতন্যকে প্রভাবিত করা। নিম্নবর্গ চৈতন্যে এমন কোনো ধর্মবোধ নেই যা ক্ষমতা রহিত বা রাজনীতি বিবর্জিত। আদর্শ ছাড়া, রাজনীতি ছাড়া নিম্নবর্গের আন্দোলন হয় না, সেই রাজনীতির মূলে থাকে কোনো না কোনো ঈমান বা বিশ্বাস।

এই ঈমান কোত্থেকে আসে? আসে ঐ উচ্চবর্গীয় অবস্থান থেকে। অনেক আলোচনায় মওলানার ধর্মীয় সত্তার বিবরণের অধিক্য দেখি। বাম রাজনীতির সাথে মওলানার দূরত্ব ঐ জায়গাতে। আলোচকরা মনে করেন, সে প্রসঙ্গ যত কম আলোচিত হয় ততই মঙ্গল। অথচ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এই প্রসঙ্গই সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ।

ল্যাটিন আমেরিকায় নিম্নবর্গের আন্দোলনে খ্রিস্টীয় ‘Liberation Theology’র ভূমিকার কথা কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। গৌতম ভদ্র তার ‘ইমান ও নিশান’ গ্রন্থে লোকায়ত সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন।

’৬৯-এর আন্দোলন ছিল মুক্তিযুদ্ধের রিহার্সেল। এই আন্দোলনে জ্বালাও, পোড়াও, ঘেরাও গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন মওলানা ভাসানি। ঊনসত্তরের আন্দোলনেই গণআদালতের বিচার কার্যের সূচনা হয়েছিল। এই আন্দোলনেই ব্যাপক জনগণ তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধেরও প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

যদি এককথায় মওলানার অবদানকে মূল্যায়ন করতে হয়, তাহলে বলা যায়- পূর্ববাংলার জাতীয় মুক্তির প্রশ্নকে মওলানা রাজনৈতিক কর্মসূচির শীর্ষে নিয়ে এসেছিলেন, যে কারণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরিতে খুব বিলম্ব ঘটেনি। মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি পূর্ববাংলা ও বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতিকে সবসময় প্রভাবিত করেছে।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে উল্লেখ করলে যা দাঁড়ায় সেটি হচ্ছে:

১. তিনি শ্রমিক, কৃষকের শোষণ মুক্তি চেয়েছেন

২. তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করেছেন

৩. ভারতবর্ষের ঔপনিবেশিক শাসনামলে তিনি সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলমানদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছেন

৪. ব্রিটিশ শাসনের অবসানে তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন করেছেন।

৫. একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক যোদ্ধা।

৬. ইসলামের সাম্যের বাণী আর কমিউনিস্ট রাজনীতির সাম্যবাদের মধ্যে তিনি কোনো বিরোধ দেখেননি। চেষ্টা করেছেন সেতুবন্ধন তৈরি করতে। এভাবে ইসলাম আর বাম রাজনীতির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তিনি বাংলার শোষিত মানুষের প্রিয় মওলানা হয়ে উঠেছিলেন। সাধারণ কৃষকের কাছে তিনি ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক নেতা, তাদের ‘পীর’। আর মধ্যবিত্ত বামপন্থী কর্মীদের কাছে ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরাচারবিরোধী এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষের প্রধান রাজনীতিবিদ।

মওলানাকে নিয়ে আমরা কেন লিখবো? এ আলোচনা থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে চাই? যে সময়ে মওলানা রাজনীতি করেছেন, যে কৃষক শ্রমিকের সমস্যা নিয়ে তিনি আন্দোলন করেছেন সেই কৃষক, শ্রমিকের চেহারা এখন কি সেই সময়ের মত আছে? বিশ্বের ক্ষমতা কাঠামো সেই সময় যেমন ছিল আজও তেমনটি আছে? সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, ভিয়েতনাম কি আগের জায়গায় আছে? বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন কি আগের মত আছে? সর্বোপরি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চেহারা কি আগের মত? আমাদের প্রতিবেশি ভারত, মিয়ানমার, চীন কি আগের শক্তি নিয়ে বিরাজ করছে? ইসলামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধাচারণের নামে তেল, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করার যে নতুন রাজনীতি সেটা কি মওলানা দেখে গিয়েছেন? কর্পোরেট ক্যাপিটালিজম-এর যে চেহারা আমাদের মত গরীব দেশের উদ্বৃত্ত শ্রম ও উদ্বৃত্ত মূল্য শোষণের যে নতুন ব্যবস্থা তা কি মওলানা দেখে গেছেন? তিনি কি ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ড অর্থাৎ এক কেন্দ্রিক বিশ্বের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন? এগুলোর কিছু তিনি দেখেননি, তবে তার রাজনীতি থেকে কি শিক্ষা আমরা নেব? আমি মনে করি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমরা তাঁর কাছ থেকে পেতে পারি।

সর্বপ্রথম যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন সেটি হলো, যে মানুষের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন তার মাঝেই তিনি সারাজীবন থেকেছেন। সারাজীবন সন্তোষের ঐ কুড়ে ঘরে কৃষক, শ্রমিকের সাথে কথা বলে তিনি তার রাজনীতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাদের ভাষা বুঝতেন তারাও তার ভাষা বুঝতেন। সর্বোপরি তিনি তাঁদের চৈতন্য, তাদের অবদমিত আত্মমর্যাদাবোধ, সর্বোপরি তাদের ঈমান বা বিশ্বাসকে অনুধাবন করতে পারতেন।

আজ এই জীর্ণ সমাজকে যারা পরিবর্তন করতে চায় তাদেরকে তা বুঝতে হবে ঐ সমাজের কে বা কারা পরিবর্তন চায়। আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে সাইক্লিক্যাল মোবিলিটি (ঘূর্ণায়মান ওঠানামা) তীব্রতর হচ্ছে?। কিন্তু ডিফারেন্সসিয়াসন্স/পার্থক্য হচ্ছে না বা সমাজ দুইভাগে ভাগ হয়ে স্থির হচ্ছে না। বিশ্বায়নের ফলে সমাজে শ্রেণি উত্তরণের সুযোগ বেড়ে গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠন, ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা, শ্রমের বাজারের বিস্তৃতি, নতুন প্রযুক্তি সর্বোপরি তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব। আর সেই সাথে জনগণের ওপর শোষকের প্রায় ঐশ্বরিক নজরদারী। আরো আছে দমন পীড়নের নয়া কৌশল।

এই প্রেক্ষিতে সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতি কী হবে? সেটা মওলানার পথ ধরে শোষিত মানুষের পাশে থেকে জানতে হবে। সকল প্রকার রাষ্ট্রযন্ত্র আজ এক দানবীয় চেহারা নিয়েছে। তারা আজ জবাবদিহিতার বাইরে। সম্প্রতি দুদকের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকার আইন পাস হয়েছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন সব জনগণের বিরুদ্ধে একাট্টা।

রাষ্ট্রের অধিপতি কি কোনো শ্রেণি? না সামরিক/বেসামরিক আমলারা? ’৪৭-এর পর এ পর্যন্ত সকল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির মালিকানার কত অংশ আমলাদের দখলে গেছে?

আজ জাতীয় বুর্জোয়া কারা? শ্রমিক শ্রেণির চরিত্র কি? জাতি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কিভাবে নির্ধারিত হচ্ছে? সীমানা দিয়ে না বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ দিয়ে? স্বাধীনতা ও সার্বভোমত্বের সম্পর্ক কি?

মওলানা স্বাধীনতার পরই সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলেছেন। ফারাক্কা মার্চের (১৯৭৬) মধ্য দিয়ে সেটি স্পষ্ট হয়েছে।

ইসলাম বেশিরভাগ মানুষের বিশ্বাস, কিন্তু সেই ধর্মের প্রকৃতি কি? সবাই কি একই ইসলাম অনুসরণ করে? বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে ইসলামের চেহারা কিভাবে পাল্টাচ্ছে? মওলানার ইসলামের সাথে তার পার্থক্য কি? মওলানার ইসলামের সাথে সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতির সম্পর্ক কি হবে? এগুলো সবই আজকের এজেন্ডা। এ আলোচনায় মীমাংসা না করে সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতি এগুবে না।

সর্বোপরি সমাজে যতদিন শোষণ থাকবে যতদিন অন্যায় থাকবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ততদিন চলবে। সেই সংগ্রামকে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া চালু থাকতে হবে। সেই খাপ খাওয়ানোর শিক্ষা মওলানা দিয়েছেন। সেই শিক্ষা নিতে হবে জনগণের কাছ থেকে।

আজ কৃষক আন্দোলন নেই, কৃষক সংগঠন নেই, তবুও সামাজিক ন্যায় বিচারের আকাঙ্খা তীব্রতর হচ্ছে।

মনে রাখলে ভাল হয়, যে ট্রেন ছেড়ে গেছে, সেই ট্রেন ধরার জন্য পেছনের স্টেশনের দিকে না দৌঁড়ে, সামনে স্টেশনের দিকে দৌঁড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ।

(আহমেদ কামাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের শিকার বৃদ্ধা শ্যামল বেগমসহ সকল ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সমস্যার সুষ্ঠ সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল ছাত্র কল্যান পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্র কল্যান পরিষদের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে তারা।

মানববন্ধন চলাকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্র কল্যান পরিষদের সভাপতি সাব্বির হোসেন শুভ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজন সরকার, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মানস বিশ্বাস তাপস, সদস্য নাজিউর রহমান আকাশসহ ছাত্র কল্যান পরিষদের সদস্য বৃন্দ।

উল্লেখ্য, শ্যামলা বেগমের নামে এক লাখ ১৪ হাজার ৬শ’ ২৭ টাকা বিদ্যুৎ বিল দেখিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ (বিউবো) এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইমুম শিবলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বিদ্যুৎ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ফলে নিরীহ শ্যামলা বেগম চড়মভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এ মামলায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বিবাদী বৃদ্ধা শ্যামলা বেগমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মামলা তুলে না নেয়ায় সখীপুরে নৃত্যশিল্পীকে উলঙ্গ করে মারধর

মামলা তুলে না নেয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সুমন আমমেদ নামে এক নৃত্যশিল্পীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার জামতলা এলাকার কাহারতা নিজ বাসার সামনে থেকে সুমনকে তুলে বনের ভেতরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এরপর চোখ-মুখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও তার মাথার চুল কেটে এবং মুখে কালি দিয়ে বিবর্ণ করে দেয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার সুমন আমমেদ জানান, বুধবার রাতে সখীপুরের বাসার সামনে থেকে চোখ-মুখ বাঁধা পাঁচ-ছয়জন লোক তাকে তুলে বনের ভেতের নিয়ে যায়। এ সময় বৃহস্পতিবারের মধ্যে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় তারা। মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় কালা শরীফ, সুপ্তসহ পাঁচ-ছয়জন তাকে মারধর করে। তাদের মধ্যে একজন মাথায় প্রস্রাব করে দেয়।

অন্যজন কাঁচি ও ব্লেড দিয়ে তার মাথার চুল এলোমেলো করে কেটে ও তার মুখে কালি দিয়ে বিবর্ণ করে দেয়। পরে রাতে তাকে বাড়ির সামনে এসে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

তিনি বলেন, আমাকে বারবার উলঙ্গ করে কালা শরীফ, সুপ্তসহ সন্ত্রাসীরা মারধর করেছে। মারধরের পর কালা শরীফ, সুপ্তসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সখীপুর থানার ওসি মো. আমির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৬ আগস্ট বাড়িতে যাওয়ার সময় সখীপুর জামতলা এলাকায় তিন মোটরসাইকেল নিয়ে সুমন আহমেদের গতিরোধ করে আসামিরা। পরে প্রধান আসামি কালা শরীফের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সুমন আহমেদকে মোটরসাইকেলে তুলে জামতলা লিচু বাগানে নিয়ে যায়।

সেখানে আসামিরা সুমন আহমেদকে কিল-ঘুষি, চড়থাপ্পড় ও লাথি মারে। এরপর জোর করে তার শরীরের সব কাপড়-চোপড় খুলে নাচতে বলে। নাচতে রাজি না হওয়ায় সুমনকে মারধর করে।

সুমন আহমেদ আসামিদের কাছে ক্ষমা চাইলে আরো বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এক সময় বাধ্য হয়ে তাদের কথামতো সুমন নাচতে শুরু করলে আসামিরা নাচের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এরপর ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মামলা করেন সুমন।

আসামিরা হলেন- উপজেলার দড়িয়াপুর গ্রামের জলিল তালুকদারের ছেলে কালা শরীফ, সখিপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে প্রিন্স মাহমুদ, কালীদাস গ্রামের মো. হাসিব মিয়া, সফি মিয়ার ছেলে সুপ্ত, মো. মামুন মিয়া। মামলার পর প্রিন্স ও মামুন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ছে

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ফের আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত মতামত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমাদের মতামত আমরা দিয়েছি। উনার (খালেদা জিয়া) সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে পারবেন না। বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি লাগবে। শর্ত হচ্ছে, তিনি আগে যে শর্তে ছিলেন অর্থাৎ বাসায় থাকবেন এবং দেশে চিকিৎসা নেবেন।

এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সুপারিশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার আগের শর্তে আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনটি পাঠানো হবে। তিনি যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবে তা কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির আবেদনটি পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ তিনি এখনও কিছু জানেন না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে পরে জানাবেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সমকালকে বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে পরিবারের করা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। আশাকরি তার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারেও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আমি যতদুর শুনেছি, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তার মানে, আগের শর্ত বহাল থাকলো।

জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের মধ্যে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কোনো মতামত দেওয়া হয়নি। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় স্থায়ী মুক্তির আবেদন বিবেচনা করেনি।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। তার দণ্ডের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলে তিনি কারামুক্ত হন। ওই মুক্তির মেয়াদ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

তার আগেই বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই শামীম এস্কেন্দার গত ২৫ আগষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। তাতে তার অসুস্থ বোনের কারামুক্তির পদক্ষেপ নিতে সরকারকে অনুরোধ জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ শে মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। এর পরদিন ২৫শে মার্চ খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর মুক্তি পেয়েছিলেন। তিনি এখন যে মুক্ত আছেন সেই মুক্তির মেয়াদ আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২৫ শে অগাস্ট শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এখন সেই আবেদনের ওপর আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত পাঠালো।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি প্যারোল বা জামিন মুক্তি নয়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সরকারের যে ক্ষমতা রয়েছে সেই ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত করে এই মুক্তির বিষয় এসেছে।

২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বিএনপির নেতারা আশা করছেন, আগামীতে সেই সুযোগটাও পাওয়া যাবে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাজীবন শুরু করেন খালেদা জিয়া। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। তার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। গত বছর ১ এপ্রিল থেকে কারা বিভাগের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া ঢাকার গুলশানের বাসায় ওঠেন। খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর সেই দিনই মুক্তি পেয়েছিলেন। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিসের ব্যথা, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘোড়াঘাটের ইউএনও ও তার বাবাকে বাসায় ঢুকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

রাতের আঁধারে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা। মেয়েকে বাঁচাতে এলে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে। তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

পুলিশ, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে কমিউনিটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ নেওয়ার পর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তাকে।

নিজের কন্যাকে রক্ষা করতে বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ (৭০) এগিয়ে গেলে তাকেও আহত করে সন্ত্রাসীরা। তাকে আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়, পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজকুমারসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইউএনওকে পরীক্ষা করে সাংবাদিকদের জানান, তার মাথার আঘাত গুরুতর। হাড় দেবে গেছে। তার একটি হাত ও শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে।

 ডা. রাজকুমার বলেন, ‘দ্রুত অস্ত্রোপচার করা জরুরি। সেজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি অপারেশন করা যাবে ততই তার জন্য মঙ্গল।’

এদিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রাফে খন্দকার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রাত আড়াইটা বা ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসায় হামলা হয়। তখন উনারা সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছেন কিনা তা স্থানীয়রা বলতে পারছেন না। ভোরে উনার বাবা হাঁটতে বের না হওয়ায় তার সঙ্গীরা বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। বাড়িতে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ এসে ইউএনও ও তার বাবাকে আহতাবস্থায় দেখে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।.

পুলিশ জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত। তিনি মাঝে মাঝে আসেন।

তার বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ সম্প্রতি মেয়ের কাছে এসেছেন। ঘটনার দিনে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

আহত ইউএনও’র মা রমিসা খাতুন নওগাঁ থেকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ফোনে তার মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে কারা, কেন তার মেয়ের বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করার জন্য কুপিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক হামিদুল আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তদন্ত করার পর পুরো ঘটনা জানা যাবে।’

এদিকে ইউএনও আহত হওয়ার খবর পেয়ে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া, জেলা প্রশাসক হামিদুল আলম, র‌্যাব-১৩ রংপুর প্রধান কমান্ডার রেজা আহাম্মেদ ফেরদৌস, মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নুরন্নবী লাইজু, হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের অবস্থা পরিদর্শনে আসেন।

এদিকে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, ‘কারা কীভাবে এ হামলা চালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বর সিসি ক্যামেরায় আওতায়। সেটাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

এদিকে রংপুর র‌্যাব-১৩ প্রধান কমান্ডার রেজা আহাম্মেদ ফেরদৌস জানান, ‘আমরা ঘটনা জানার পরপরই পুরো এলাকা কর্ডন করেছি। আশেপাশের এলাকা থেকেও আমাদের একাধিক টিম যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেছে। আশা করি আমরা দায়ীদের ধরতে পারবো।’

এদিকে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, ‘এটা একটা জঘন্য ঘটনা। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাক তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই টাঙ্গাইল শহরে জলাবদ্ধতা

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল না থাকায় আধা ঘন্টার বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলা সদর সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।

গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চার পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয় টাঙ্গাইল শহরে। বৃষ্টিতে জেলা সদর সড়ক তলিয়ে যায়।

পথচারী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরকর্তৃপক্ষ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না করায় একটু বৃষ্টিতেই রাস্তাটি তলিয়ে যায়।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা সদর সড়কের টাঙ্গাইল ক্লাব, পৌরউদ্যান, প্রেসক্লাব, জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা সদর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই জমে যায় হাটু পানি। খুব কষ্ট করে চলাচল করছে পথচারীরা।

এ সড়কে বাস চলাচল না করলেও রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। হাঁটু পরিমাণ ময়লা পানিতে কাপড় নষ্টসহ ভাঙ্গা ড্রেনে যানবাহনসহ লোকজন পড়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই এ রাস্তায় নিত্য যাতায়াত এলাকাবাসীর। কারণ এছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।

পথচারিরা আরও জানান, রাস্তা পাকা হলেও একটু বৃষ্টি এসড়ক চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়ে। বৃষ্টি পানি ড্রেন ভর্তি হয়ে ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনাসহ পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি রাস্তায় উপঠে পরায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো করার দাবি জানান তিনি।

জলাবদ্ধাতার বিষয়ে জানতে চাইলে রিক্সা চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আর সকালের দিকে বৃষ্টি হলে এ জলবদ্ধতা থেকে যায় সারাদিন। এ সড়কের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো নয়।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন জানান, টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ড্রেন ও রাস্তা নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ সমাপ্ত হলে শহরের কোন সড়কে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত এক

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ি এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আয়বুর রহমান জানান, সকালে উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী অপর একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাৎক্ষনিকভাবে হতাহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ট্রাক দুটি আটক করা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে পানিতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মাছ ধরার জাল নিয়ে সাঁতরে খাল পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে খায়রুল ইসলাম (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত খায়রুল ইসলাম উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের ময়নাল হকের ছেলে। সে গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

গোড়াই ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে খায়রুল মাছ ধরার একটি জাল নিয়ে সাঁতরে সোহাগপুর খাল পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখঁজির পরও তাকে না পেয়ে ডুবুরিদের খবর দেয়া হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

শর্ত সাপেক্ষে সৌদিতে প্রবেশের অনুমতি বাংলাদেশসহ ২৫ দেশের প্রবাসীদের

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে সৌদি আরবে অন্য দেশের নাগরিকদের প্রবেশ বন্ধ আছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে বাংলাদেশসহ ২৫ দেশের প্রবাসীরা অনুমতি পাচ্ছেন সৌদি প্রবেশের। সৌদি সিভিল এভিয়েশন জেনারেল অথরিটি কিছু শর্তসাপেক্ষে এসব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে কবে থেকে সৌদিতে প্রবেশ করা যাবে তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও জানানো হয়নি। এই ২৫ দেশের তালিকায় নেই পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

অনুমতির তালিকায় থাকা দেশগুলো হল- সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, কুয়েত, মিশর, তিউনিসিয়া, মরক্কো, চীন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, গ্রিস, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, ইথিউপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

কিছু শর্ত পূরণ করে এই ২৫ দেশের নাগরিক সৌদি আরবে ফিরে যেতে পারবেন।

শর্তগুলো হল-

১. সৌদি আরব ভ্রমণ করতে হলে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে একটি ফরম পূরণ করে তার মধ্যে বিস্তারিত তথ্য লিখে নিচে স্বাক্ষর করতে হবে এবং আসার সময় এয়ারপোর্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ডেস্কে জমা দিতে হবে।

২. ভ্রমণ করার সাতদিন আগে থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। মূলত পিসিআর দেওয়ার চারদিন আগে থেকে এবং পিসিআর রিপোর্ট পাওয়ার তিনদিন পর পর্যন্ত।

৩. সৌদি আরবের টাটামন এবং তাওয়াক্বালনা অ্যাপস ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।

৪. অবশ্যই আসার আট ঘণ্টার মধ্যে টাটামন অ্যাপের মাধ্যমে বাসার অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।

৫. কোভিড-১৯ এর লক্ষণ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। যদি কোনও লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে সরাসরি ৯৩৭ নম্বরে ফোন করতে হবে অথবা সাধারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

৬. টাটামন অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের স্বাস্থ্যের অবস্থা জানাতে হবে এবং কোয়ারেন্টাইন থাকাকালীন সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত ফরম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রয়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল, ১১ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং ৫৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিক সহ প্রায় ৩০/৩৫ টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এত সব স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থাকার পরও প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। চলছে চিকিৎসার নামে নিষ্ঠুর প্রতারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাকুটিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র (সাব- সেন্টার) কার্যত চারটি পোস্টের বিধান থাকলেও মূলত সেখানে মেডিকেল অফিসারের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখানে মো. শামীম মিয়া নামে একজন কমপাউন্ডার (সেকমো) দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি সাব-সেন্টারে বসে রোগী না দেখে বাইরে হাওয়া খেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ফার্মাসিস্ট অফিসে আসে না গত চারদিন ধরে।

অফিসের পিয়ন ফজলুল হককে দিয়ে অনেক কষ্টে তাকে খুঁজে বের করে নিয়ে এসে রোগীর সংখ্যা এতো কম কেন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, এখানে বেশ কয়টি ক্লিনিক ও ডাক্তারের  চেম্বার থাকায় রোগীরা এখানে আসতে চায় না।

চিকিৎসা নিতে আসা পশ্চিম পাকুটিয়া গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব হালিমা বেগম জানান, ডাক্তার কিছু জানে না, বুঝে না। এখানে ওষুধ থাকলেও আয়রন আর প্যারাসিটামল ছাড়া কিছুই দেয় না। শুধু কাগজ লিখে  দেয়। আমরা গরিব মানুষ। টাকা দিয়ে ওষুধ কীভাবে কিনে খাবো। আমাদের সামর্থ্য নেই।

আনেহলা ইউনিয়ন সাবসেন্টার। এখানে আবু সাঈদ নামে একজন সেকমো কর্মরত আছেন। তিনি অফিসে আসেন কালেভদ্রে। সকাল ৮ টা থেকে অফিসের দরজা খোলা থাকলেও অফিস স্টাফ ফার্মাসিষ্টের দেখা মিলে বেলা প্রায় সাড়ে দশটায়।

মেডিকেল অফিসার ও সেকমো অফিসে আসবেন কখন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- মেডিকেল অফিসার এখানে শুরু থেকেই আসে না। সেকমো স্যার হয়তো ছুটিতে আছেন। ফোনে কথা বলার জন্য নাম্বার চাইতেই তিনি বলেন আজ মূলত আমার ডিউটি। স্যার ডিউটি ভাগ করে নিয়েছেন। আমি ৩/৪ দিন অফিস করি আর বাকি সময়টা স্যার করেন।

ব্রাহ্মণশাসন সাবসেন্টারে সেকমো হিসেবে কর্মরত আছেন মো. হারুন-অর-রশিদ। এক সপ্তাহে চারবার গিয়েও তার দেখা মেলেনি।

মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। পরে কথা হবে বলে জানিয়ে ফোন বন্ধ করে ফেলেন।

তার হাজিরা খাতা অনুসন্ধান করে দেখা যায়, কোনোদিন তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর বাদ নেই। পুরো সপ্তাহের হাজিরা খাতায় তিনি একদিনেই সারা মাসের স্বাক্ষর করে রাখেন। অফিস সামলাচ্ছেন একজন মহিলা ফার্মাসিস্ট।

হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এখানকার ফার্মাসিস্ট কয়েকজন বয়স্ক মহিলাকে খাতায় কোনো ওষুধ এন্ট্রি না করে, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই চার পিস করে ওমিপ্রাজল ও ছয় পিছ করে প্যারাসিটামল হাতে ধরিয়ে দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাকি কোনো অফিস স্টাফের দেখা পাওয়া যায়নি। এখানেও চলে ভাগ-বাটোয়ারার ডিউটি।

একই দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে।

অপরদিকে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়েও রয়েছে সাধারণ মানুষের বিস্তর অভিযোগ।

উপজেলায় ৫৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার পরেও মানুষ সেবা ও ওষুধ না পেয়ে অনেক স্থানেই হট্টগোল করার চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। মাসের পর মাস অনেক কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকার কারণে বাচ্চাদের টিকাগুলোও সময়মতো দিতে পারছে না। এগুলো দেখার মতো কেউ নেই।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুর রহমান খান ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, সাবসেন্টারগুলোতে করোনাকালীন সময়ে ডিউটি ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সবাই একত্রে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাহলে তো তালা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

করোনার আগেও তো ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যায়নি- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কিছু অনিয়ম সব জায়গাতেই থাকে। আমরা নিয়মিত সব দিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আর মেডিকেল অফিসারদের উপজেলা সদরে ডিউটি দেয়া হয়েছে। আর কমিউনিটি ক্লিনিকে কিছু ফাঁকিবাজ লোক রয়েছে। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে আশা করি।

(আতিকুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-