টাঙ্গাইলে মাকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা ঘাতক ছেলের

টাঙ্গাইলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে ছেলে মো. রাসেল (২৮)। এ সময় তার স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নামদারকুমুল্লি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সেলিনা বেগম (৫০) ওই এলাকার বছির উদ্দিনের স্ত্রী।

টাঙ্গাইল সদর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, দুপুরে রাসেল অতিরিক্ত গরুর মাংস খান। এতে করে তিনি অসুস্থবোধ করলে তার মা সেলিনা বেগম ও স্ত্রী খোদেজা বেগম সুমিকে (২২) সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইল শহরে ডাক্তার দেখাতে আসেন। বিকেলে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়িতে ফিরে যান তারা।

বাড়িতে গিয়ে মা সেলিনা বেগম ছেলে রাসেলকে তার স্ত্রীর সাথে তুলনা করে কটূক্তি করেন।

এ সময় রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে মা সেলিনা বেগমকে দা দিয়ে কোপাতে থাকে। সে সময় তার স্ত্রী খোদেজা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে রাসেল ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সেলিনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বছির উদ্দিন বাদী হয়ে ছেলে রাসেলকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রাসেল বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হলে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র ত্রাণ বিতরণ

করোনা পরিস্থীতি ও অসহায় বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ও হুগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের এ খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সহ সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, মাহমুদুল হক সানু, জিয়াউল হক শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাসেম, আনিসুর রহমান, খন্দকার রাসেদুল আলম রাসেদ, মেহেদী আলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের আহবায়ক আশরাফ পাহেলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, প্রচার ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক একে মনিরুল হক, দপ্তর সম্পাদক মির্জা শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, হুগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলম দুলাল, জেলা কৃষক দলের সভাপতি দিপু হায়দার খান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবাঢক মাহমুদ হাসান টিটন, আবদুল্লাহ্ কাফী শাহেদ, সৈয়দ শাতীল, মনিরুজ্জামান জুয়েল, জাহিদ হোসেন মালা, সজল তানভীর, জেলা ছাএদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ মোঃ শাফী ইথেন, সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম, মহিলা দলের সভানেএী নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক এডঃ মমতাজ করিমসহ ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।

দুই ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

স্বামীর কৃষি জমিতে ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা: হাইকোর্ট

বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিধবা নারীরা স্বামীর কৃষি জমিতে ভাগ পাবেন উল্লেখ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

বিধবারা স্বামীর কৃষি জমির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না দাবি করে ১৯৯৬ সালে খুলনা কোর্টে মামলা করেন এক নারীর দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল।

বিচারিক আদালত ওই মামলার রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার রাখলেও কৃষি জমির অধিকার রাখেন না।

এরপর সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। পরে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়ে হাইকোর্ট তার রায়ে বললেন, হিন্দু বিধবা নারীরা অ-কৃষি জমির মতো স্বামীর কৃষি জমির মালিক হবেন।

১৯৯৬ সালে খুলনার আদালতে এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন এক হিন্দু বিধবার দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল। মামলার বাদী দাবি করেন, বিধবারা স্বামীর কৃষি জমির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না। ওই মামলায় বিচারিক আদালত রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার রাখলেও কৃষি জমির অধিকার রাখেন না।

৮৩ বছর ধরে স্বামীর কৃষি জমিতে কোনো প্রাপ্য ছিল না হিন্দু বিধবাদের। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অসঙ্গতি দূর করে রায় দিলেন হাইকোর্ট। বুধবারের এ রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা সেই উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পেলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৩৭ সালে হিন্দু বিধবা সম্পত্তি আইনে, স্বামীর অকৃষি জমির অধিকার দেয়া হলেও কৃষি জমিতে বঞ্চিত করা হয় বিধবাদের। আইনটি নিয়ে দুপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে অ্যামিকাস কিউরির মত নেন হাইকোর্ট। পরে রায়ে জানান, হিন্দু বিধবা নারীরা অকৃষি জমির মতো স্বামীর কৃষি জমিরও মালিক হবেন।

এক হিন্দু বিধবা নারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ নাফিউল ইসলাম বলেন, ‘এতদিন বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকারিত্বে যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে শাস্ত্রমতে পিণ্ডদান করতে পারেন তারাই মৃত ব্যক্তির একমাত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার। হিন্দুদের মধ্যে সাধারণত বিধবা নারীরা স্বামীর বসতভিটার মালিকানা লাভ করতেন। আজকের এ রায়ের ফলে হিন্দু বিধবারা স্বামীর কৃষিজমিরও ভাগ পাবেন।’

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে ২০১ গম্বুজ মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে মানববন্ধন

২০১ গম্বুজ মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, টাঙ্গাইল জেলার আওতাধীন গোপালপুর উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় আজ বুধবার (০২রা সেপ্টেম্বর) সকালে‌ মসজিদের সম্মুখে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনের প্রধান অতিথি অতিথি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, মসজিদ ইবাদতের যায়গা। মসজিদ আল্লাহর ঘর। ২০১ গম্বুজ মসজিদ আমাদের দেশের ঐত্যিহ্য। তাই বলে মসজিদে দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণ, বেহায়াপনা ও নোংরামি চলবে তা মেনে নেওয়া হবে না। অতএব মসজিদ কমিটির প্রতি আমাদের দাবি মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে এবং অবাধে চলাচল বন্ধ করতে হবে।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন গোপালপুর উপজেলা সভাপতি মুহাম্মাদ মঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইশা ছাত্র আন্দোলন, টাঙ্গাইল জেলা সহ-সভাপতি ফয়সাল আহমেদ, ইশা ছাত্র আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা শাখার আলিয়া মাদ্রাসা সম্পাদক আবু সালেহ আহমেদ, হাফেজ রুহুল আমিন , ইসলামী যুব আন্দোলন গোপালপুর উপজেলা শাখার মুহাম্মদ শিপন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ

একদিকে স্মরণকালের ভয়াবহ দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। এক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতেই হানা দিয়েছে আরেক বিপর্যয়। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। এতে করে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে বানভাসি মানুষের জনজীবন।

এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় উপজেলার বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু বন্যার পানি কমার সাথে সাথে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় বংশাই নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ বসতভিটা। এমনকি ভাঙ্গন কবলিত এলাকার আলহাজ একাব্বর হোসেন সেতু (বংশাই ব্রিজ) ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পৌর এলাকার সওদাগরপাড়া এবং বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের উত্তরপাড়ার বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাছপালা ভাঙ্গন কবলিত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সওদারগরপাড়ায় নিম্ন আয়ের প্রায় ৩০০টি পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র ও ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে। চলতি বছরের বন্যায় এই পাড়ার প্রায় সব ঘরেই বন্যার পানি প্রবেশ করে বাড়ি নিমজ্জিত হয়। ফলে প্রায় শতাধিক পরিবার পার্শ্ববর্তী সেতুর ওপর পলিথিনের তৈরি ছাউনি দিয়ে আশ্রয় নেয়।

সম্প্রতি বন্যার পানি আংশিক বাড়ি থেকে নেমে গেলেও নদী ভাঙ্গনে নতুন করে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে অসহায় এসব পরিবার। এমতাবস্থায় বন্যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া মানবেতর জীবনযাপনকারী মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও হারিয়ে যেতে বসেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, গত বছর ২ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম মির্জাপুর সফরে এসে উপজেলার বংশাই ও ঝিনাই নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেই সময় উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, সরকার মির্জাপুরের নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার জন্য ডিপিটি প্রকল্প ও বংশাই নদীতে ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া বেশি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় দ্রুত ডাম্পিং করার নির্দেশনা দেন। এরপর ভাঙ্গন কবলিত এলাকার কয়েকটি স্থানে জিওজি ব্যাগ ফেলে নাম মাত্র কাজ করা হলেও ভাঙ্গন রোধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একা বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওই সব এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অসাধু ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। প্রতি বছর পানি কমার সাথে সাথে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ২০/২৫টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকে। এ কারণে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এসে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাঘ ছাড়ার চিন্তা সরকারের, চলছে সমীক্ষা

বাংলাদেশের বন বিভাগ বলছে যে দেশটির পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জঙ্গলে নতুন করে বাঘ ছাড়া যায় কি-না এবং সেখানে বাঘের পুনঃপ্রবর্তন করা হলে এগুলো টিকে থাকতে পারবে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে একটি সমীক্ষার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলছেন, সমীক্ষা করে দেখা হবে যে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ওই বনে বাঘের থাকার উপযোগী পরিবেশ ও খাদ্য আছে কি-না এবং একই সঙ্গে সেখানে বাঘের জন্য কোনো হুমকি সেখানে আছে কি-না।

তিনি বলেন, “এই সমীক্ষা চালানো হবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে। তারা ট্র্যাকিং করে দেখবেন পার্বত্য অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বাঘের উপস্থিতি আছে কি-না। না থাকলেও তাদের আবাসস্থল ও খাদ্যের পরিবেশ আছে কি-না। একই সাথে দেখা হবে যে বাঘ সেখানে ছাড়লে তারা টিকবে কি-না, সারভাইভ করবে কি-না”।

বাংলাদেশে এখন কেবলমাত্র ম্যানগ্রোভ জঙ্গল সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল রয়েছে, যদিও এক সময় দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে বাঘের পদচারণা ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

শিকারীদের হাতে ব্যাপক সংখ্যায় বাঘ মারা পড়ার পর সুন্দরবনে মাত্র শ’খানেক বাঘ টিকে আছে বলে সর্বশেষ বাঘ শুমারীতে দেখা গেছে।

আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাঘ নিয়ে যে ফিজিবিলিটি স্টাডিজ চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় মাত্রই অনুমোদন করেছে এবং খুব শিগগিরই বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেয়া হবে যাতে করে আগামী জুনের মধ্যে সমীক্ষাটি শেষ করা যায়।

তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই বাঘ ছিলো কিন্তু এখন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা – এই তিন জেলায় বাঘ টিকে রয়েছে।

“এর বাইরে গবেষকরা পার্বত্য অঞ্চলের কথাও বলছেন। কেউ কেউ ওই অঞ্চলে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার কথা বলেছেন। তাতে মনে হয়েছে যে সেখানে বাঘ ঘোরাফেরা করতে পারে।”

ওই অঞ্চলে বাঘের সম্ভাব্য যে উপস্থিতির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ভারত বা মিয়ানমার থেকেও আসতে পারে বলে মনে করেন প্রধান বন সংরক্ষক। “সে কারণেই ওখানে বাঘের রিইনট্রোডাকশন করা যায় কি-না, এ চিন্তা থেকেই সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা”।

আমীর হোসাইন চৌধুরী আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাঘ ছাড়ার আগে দেখতে হবে ওই এলাকায় বাঘের প্রয়োজনীয় আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্য আছে কি-না, কিংবা কোন ধরণের নিরাপত্তা হুমকি আছে কি-না।

“পাশাপাশি দেখতে হবে বাঘ সুরক্ষার সক্ষমতা সেখানে আমাদের আছে কি-না। কারণ বাঘ ছাড়া হলো আর কয়েক মাস পর সেগুলো মারা গেলো বা কেউ মেরে ফেললো – এটি তো হতে দেয়া যাবে না”।

এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে এ সম্পর্কিত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে আশা করছেন প্রধান বন সংরক্ষক।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার শিক্ষক ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠন ওয়াইল্ডটীমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বাঘ নিয়ে সমীক্ষায় কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব পেতে হবে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “প্রথমত বাঘের জন্য যথার্থ আবাসস্থল ও খাদ্য আছে কি-না। এরপর দেখতে হবে সেখানে বাঘের নিরাপত্তা ও বাঘকে সুরক্ষা দেয়ার সক্ষমতা বন বিভাগের আছে কি-না।”

তিনি আরও বলেন, দেখতে হবে প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি-না। কারণ এটা না করে বাঘ ছাড়া হলেও সেগুলো চলে যেতে পারে।

এছাড়া, যেখান থেকে বাঘ নেয়া হবে সেখানকার ইকো-সিস্টেমের সাথে পার্বত্য অঞ্চলের ইকো-সিস্টেমের সাদৃশ্য আছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে।

বাংলাদেশে আগেও এক জায়গার প্রাণী আরেক জায়গায় ছেড়ে দিয়ে সুফল আসেনি। বাঘের ক্ষেত্রে এটি আরও স্পর্শকাতর বিষয় – জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলছেন যে পুরো সিদ্ধান্তটিই নির্ভর করবে সমীক্ষা রিপোর্টের ওপর।

“বাংলাদেশে এ ধরণের কাজ আগে না হলেও ভারতে হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতাও দরকার হলে আমরা নেব। ইতিবাচক রিপোর্ট আসলে তখনই বোঝা যাবে কোন জায়গা থেকে বাঘ আনা যাবে। আর রিপোর্ট যদি বাঘের যথাযথ পরিবেশ থাকার নিশ্চয়তা না দেয়, তাহলে এটি আমরা করবো না,” বলেন তিনি।

প্রায় এক দশক আগে রাশিয়ায় যে ‘টাইগার সামিট’ হয়েছিলো, সেখানে বাঘ আছে বাংলাদেশসহ এমন ১৩টি দেশ ২০২২ সালের মধ্যেই বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার অঙ্গীকার করেছিলো।

মূলত এর পর থেকেই বাঘ নিয়ে নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ এবং নেয়া হয় নানা ধরণের উদ্যোগ।

এর মধ্যে গত বছর বন ও পরিবেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে বন বিভাগের তরফ থেকে একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়, যেখানে উঠে আসে পার্বত্য অঞ্চলে বাঘের সম্ভাব্য বাসস্থান করার বিষয়টিও।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাঘ গবেষক মনিরুল এইচ খান মনে করেন যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এখনই বাঘের চলাচল রয়েছে।

“পার্বত্য অঞ্চলে বাঘের উপস্থিতি সেখানে আছে এমন প্রমাণ আছে”।

তিনি বলেন, জরিপে বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলেও তাদের প্রটেকশনের জন্য করণীয় পদক্ষেপ নেয়াটা সহজ হবে।

কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে কাসালংয়ে এবং এর তিন বছর পর রেমাক্রিতে বাঘ হত্যার রেকর্ড পাওয়া যায়। আবার স্থানীয়দের দেয়া তথ্যকে উদ্ধৃত করে তারা বলছেন যে ২০০৯ সালে রাইক্ষংয়ে জীবন্ত বাঘের দেখা পেয়েছিলের সেখানকার বাসিন্দারা।

২০১৬ সালের মার্চে যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো যে প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের একটি দল পার্বত্য অঞ্চলের জঙ্গলে অনেক বন্য প্রাণীর ছবি তুলেছেন এবং তারা ১৩ সেন্টিমিটারের একটি থাবার চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন, যেটিকে বাঘের থাবা বলেই মনে করেছেন তারা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, পুরনো রেকর্ডপত্র এই নিশ্চিত করছে যে ওই অঞ্চলে বাঘ ছিলো এবং এখনও সাঙ্গু অভয়ারণ্য কিংবা কাসালং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাঘ থাকতে পারে।

সরকারের উপপ্রধান বন সংরক্ষক গোবিন্দ রায় বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ওই অঞ্চলটিতে অনেকে বাঘ দেখেছেন কিংবা সেখানে বাঘের উপস্থিতির কথা অনেকবার শোনা গেছে।

“কিন্তু বাঘ কি এখানকারই না-কি মিয়ানমার বা ভারত থেকে আসা যাওয়া করে, তার কোনো প্রমাণ নেই। সে কারণেই আমরা সামনে সুন্দরবনের সাথে পার্বত্য অঞ্চলেও ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে জরিপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।

এছাড়া, পার্বত্য এলাকায় একটি ফরেস্ট করিডোর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ যাতে করে বাঘ কিংবা হাতির মতো প্রাণীর জন্য অবাধে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়।

কত বাঘ আছে বাংলাদেশে

২০১৯ সালের মে মাসে বন বিভাগ ও বাঘ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে করা জরিপের ফল অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিলো ১১৪টি।

ওই জরিপের জটিল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঘ গবেষক অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ। তিনি তখন বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন যে ২০১৫ সালের বন বিভাগের জরিপে ১০৬টি বাঘের সংখ্যা পাওয়া গেলেও ২০১৯-এ এসে তারা ১১৪টি বাঘের অস্তিত্ব পেয়েছেন।

ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে সুন্দরবনকে খুলনা,বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অংশে ভাগ করে প্রায় দু’বছর ধরে জরিপটি চালানো হয়। প্রায় ৫০০ ক্যামেরা ২৪৯ দিন চালু রেখে প্রায় আড়াই হাজার ছবি তুলে সেগুলো পরে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা পর্যালোচনা করেন।

বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, প্রকল্প চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এবার পার্বত্য অঞ্চলেও একই কায়দায় জরিপ চালানো হবে।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভাড়া দিতে পারেনি, বন্ধ হচ্ছে বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স

করোনা মহামারির মধ্যে কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারার কারণে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে তাদের ছবিঘর বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

কোনো উপায় না পেয়ে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও তাদের ছবিঘর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টার সিনেপ্লেক্স চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান।

দেশে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে চলচ্চিত্র শিল্পের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আজ খবর এল, একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে স্টার সিনেপ্লেক্সের ৬টি ছবিঘর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বন্ধ ছবিঘর চালুর ব্যাপারে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। ঠিক তার কিছুদিন পর স্টার সিনেপ্লেক্স বন্ধ হওয়ার খবরে ঢাকা শহরের সিনেমাপ্রেমী দর্শক হতাশ হয়েছেন।

বিনোদন অঙ্গনের অনেক পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী স্টার সিনেপ্লেক্সের হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বড় নেতিবাচক ঘটনা মনে করছেন।

করোনা মহামারির শুরুতে সরকার যখন ছবিঘর বন্ধ করার ঘোষণা দেয়, তখন থেকে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। এই লম্বা সময়ে কোনো ধরনের ব্যবসা না হওয়াতে তারা ভবন কর্তৃপক্ষকে ভাড়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। ভবন–সংশ্লিষ্টরাও নোটিশ দিয়ে জানায় ভাড়া পরিশোধের ব্যাপারে। কিন্তু মাসে যে পরিমাণ ভাড়া গুনতে হয়, তা ব্যবসা হওয়া ছাড়া মোটেও সম্ভব না বলে মনে করেন সিনেপ্লেক্সের চেয়ারম্যান।

এরপরও একাধিকবার ভবন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। কিন্তু তারপরও স্টার সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান মাহবুব রহমান।

তিনি জানান, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ৮ তলায় তাদের ৬টি ছবিঘর আছে। সব কটি ছবিঘরে একসঙ্গে ১ হাজার ৬০০ দর্শক ছবি দেখার সুযোগ পেতেন। কিন্তু এখন থেকে তা আর সম্ভব না।

মাহবুব রহমান বললেন, ‘দেশ–বিদেশের বিখ্যাত সব সিনেমার প্রিমিয়ার আমাদের এই শাখায় হতো। ঢাকা শহরের বেশির ভাগ সিনেমাপ্রেমী দর্শক আমাদের এখানে আনন্দ নিয়ে ছবি দেখতেন। এতগুলো সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাওয়াটা ভীষণ লস। আমি মনে করি, এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, শপিং মল কর্তৃপক্ষের জন্যও বড় লস। এই সিদ্ধান্ত তারা কেন নিল, তা আমি এখনো বুঝতে পারছি না।’

মহামারির মধ্যে সিনেপ্লেক্স বন্ধ ছিল, ব্যবসা হয়নি। তাই আমরা ভাড়া দিতে পারিনি। ভাড়া দেওয়াটা সম্ভবও ছিল না, কারণ ভাড়া ছিল প্রচুর। ব্যবসা না হলে তো মোটেও সম্ভব না। আমাদের ব্যবসার অর্ধেকই চলে যেত ভাড়া খাতে। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানটাই বন্ধ হয়ে গেল ভেবে খারাপ লাগছে।

মাহবুব রহমান জানান, বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে তাদের ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশের কারণে এখন ছবিঘরের অবকাঠামো সরিয়ে নেবেন বলে জানান।

তিনি বললেন, ‘মহামারির মধ্যে সিনেপ্লেক্স বন্ধ ছিল, ব্যবসা হয়নি। তাই আমরা ভাড়া দিতে পারিনি। ভাড়া দেওয়াটা সম্ভবও ছিল না, কারণ ভাড়া ছিল প্রচুর। ব্যবসা না হলে তো মোটেও সম্ভব না। আমাদের ব্যবসার অর্ধেকই চলে যেত ভাড়া খাতে। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানটাই বন্ধ হয়ে গেল ভেবে খারাপ লাগছে।’

দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের বিশ্বমানের প্রেক্ষাগৃহ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে যাত্রা শুরু দেশের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল স্টার সিনেপ্লেক্সের। এখন সেখানে কি সিনেমা হল থাকবে?

এমন প্রশ্নে মাহবুব রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের যাবতীয় অবকাঠামো সরিয়ে নেব। শুনেছি সেখানে ফুডকোর্ট করা হবে। এর বেশি আপাতত কিছু জানি না।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ফিন্যান্স) শেখ আবদুল আলীমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্স বন্ধের বিষয়টি আদিষ্ট হয়ে আমি শুধু এক্সিকিউট করছি, এর বেশি আমি কিছু জানি না। এটা আমাদের টপ ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার।’

স্টার সিনেপ্লেক্সের জায়গায় কী হবে? জানতে চাইলে শেখ আবদুল আলীম বলেন, ‘সেটাও আমি জানি না। এটা স্যারদের সিদ্ধান্ত। যেহেতু সিনেমাহল ছিল, এন্টারটেইনমেন্ট রিলেটেড কিছু হয়তো করবেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে আমাদের কিছু জানানোও হয়নি।’

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুরে শিশু ধর্ষণ চেষ্টায় মাদরাসা শিক্ষক আটক

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নূরানি মাদরাসায় পড়ুয়া ৭ বছরের এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. আব্দুর রাজ্জাক (৩২) নামে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।

শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল হাই’র ছেলে। তিনি স্থানীয় আল হেরা নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

শিশু ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগে অভিযুক্ত ওই মাদরাসা শিক্ষককে বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেন পুলিশ।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই শিশু ছাত্রী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের কাছে মাদসায় প্রাইভেট পড়তে একা পেয় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় শিশু ডাক-চিৎকার করলে ছেড়ে দিলে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের কাছে জানায়। পরে এ ঘটনায় ওইদিনই শিশুর মা বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে আরও ৭ জন করোনা পজিটিভ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রাপ্ত ফলাফলে আরও সাতজন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট ১৬৬ জন করোনা আক্রান্ত হলেন। বুধবার ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল ঘাটাইল ডট কমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে গত জুলাই মাসে ঘাটাইলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। আগস্ট মাসে আগের রেকর্ড ভেঙ্গে ৯৪ জন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। চলতি মাস সেপ্টেম্বরে ৭ জন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হলেন।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল জানান, ঘাটাইলে নতুন করে আরও সাতজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট বশির আহমেদ, জামুরিয়া ইউনিয়নের কর্না এলাকার মনিরুজ্জামান (৩৩) ও সাইফুল ইসলাম (৩৮), গলগণ্ডা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ, কুশারিয়া এলাকার সাইদুর রহমান (৮০), ঘাটাইল উপজেলার নুরুল ইসলাম (৫০) এবং সাগরদীঘি এলাকার নাজমুল হক (৪৫) নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

এ নিয়ে ঘাটাইলে আজকে প্রাপ্ত ফলাফলে নতুন করে সাতজন করোনায় আক্রান্ত হলেন।

ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল জানান, গত সোমবার ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন তাদের নমুনা দিয়েছিলেন। আজকে প্রাপ্ত জলাফলে তাদের সাতজন করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন।

এদিকে ঘাটাইলে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে চারজন মারা গেছেন।

ডা. মো মমিনুল হাসান হিমেল বলেন, করোনা হয়তো লম্বা সময় আমাদের মাঝে থাকবে। করোনার সাথে আমাদের বসবাস করতে হবে। এজন্য কিছু অভ্যাস তৈরী করুন। মাস্ক ব্যবহার করুন, নিয়মিত হাত ধৌত করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল উইজডম ভ্যালি স্কুলে কাগজের তৈরি শিল্পকর্ম প্রদর্শনী

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালিতে অরিগ্যামি (কাগজের তৈরি শিল্পকর্ম) প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

ফেসবুক লাইফের মাধ্যমে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিপুল সংখ্যক অরিগ্যামি স্থান পায়।

করোনার কারণে প্রথম বারের মতো শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীদের দেখার সুবিধার্থে পুরো অনুষ্ঠানটি উইজডম ভ্যালির ফেইসবুক পেইজ থেকে লাইভ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নাহার বাবলী, স্কুলের পরিচালক কাজী রেজাউল হক সিজার, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-