প্রণব প্রয়াণে রাষ্ট্রীয় শোক বাংলাদেশে

ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের তরফে এদিন এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সম্মানে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় শোকদিবস পালন করা হবে। এ দিন অর্ধনমিত থাকবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী সংবাদমাধ্যমের কাছে সরকারি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে আপনজন হারাল বাংলাদেশ।’ প্রণববাবুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবার ও তাঁর ব্যক্তিগত বহু স্মৃতির কথা সোমবার স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

শোকবার্তায় হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অনন্য অবদান কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সবসময় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত থাকাকালীন প্রণব মুখোপাধ্যায় আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়ে তিনি আমার পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন। যে কোনও প্রয়োজনে তিনি পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশে ফেরার পরেও প্রণব মুখোপাধ্যায় সহযোগিতা করেছেন। উৎসাহ দিয়েছেন। আবার সংকটে পড়লে তিনি সাহস জুগিয়েছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ও পারিবারিক বন্ধু।

শেখ হাসিনার কথায়, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ভারত একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে হারাল। আর বাংলাদেশ হারাল একজন আপনজনকে।’ প্রণববাবু উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েই বেঁচে থাকবেন বলে অভিমত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।

ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান হাসিনা।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ আবদুল হামিদও ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেন। সোমবার এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ভোলার নয়।

তিনি মনে করেন, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। প্রবীণ নেতার শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

২২ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেলে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণ তাঁর একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। কিন্তু, তার সঙ্গেই কোভিডের ধাক্কা তিনি শেষ পর্যন্ত সামলাতে পারেননি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

জুলাইয়ে ৪৬ ক্রসফায়ার, আগস্টে এক

২০০৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরে তিন হাজার ৮৮০ জন কথিত ক্রসফায়ারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন। সেই হিসাবে এই সময়কালে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ক্রসফায়ারে। চলতি বছরের জুলাই মাসেও ক্রসফায়ারে নিহতের সংখ্যা ৪৬। অথচ এর পরের মাসে অর্থাৎ গতকাল শেষ হওয়া আগস্টে ক্রসফায়ারে মাত্র একজন মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জুলাইয়ের শেষ দিন কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পরই কার্যত সাময়িকভাবে থেমে গেছে ক্রসফায়ার। তারা বলছেন, সিনহার মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হওয়ায় আপাতত ক্রসফায়ার বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি এটি ক্রসফায়ারের ওপর প্রভাব ফেলবে না এবং সিনহার ক্রসফায়ার ইস্যু থিতিয়ে এলে ফের এটি শুরু হবে।

ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালীন গত ২ আগস্ট সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন আবদুল মান্নান ওরফে মুন্না (৩৫)। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মুন্নাকে সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে। নিহত মুন্নার বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের খাদিমান গ্রামে। জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর আবদুন নাসের জানান,

মুন্নার নামে মাদক চোরাচালান, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, বিস্ফোরকসহ ১২ মামলা রয়েছে। পুলিশি ভাষ্যে এ ক্রসফায়ারের ঘটনাও একই বৃত্তে আবর্তিত। জকিগঞ্জ থানার ওসি জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ২ আগস্ট বিকালে পুলিশ মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না জানান, তার বসতঘরে ইয়াবা ও অস্ত্র রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার পথে অজরগ্রামে পৌঁছলে মুন্নার সঙ্গীরা পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখন পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এর পর আহতাবস্থায় মুন্নাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মাদককারবারিদের গুলিতে সাত পুলিশও আহত হন বলে দাবি করেন ওসি। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ৫ রাউন্ড গুলি, ৬টি ধারালো দা ও ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য মিথ্যা, অভিযোগ মুন্নাদের পরিবারের। নিহতের স্বজনরা জানান- চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন মুন্না। পেশায় ছিলেন রিকশাচালক। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে নানাবাড়িতে থাকতেন মুন্না। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুন্নার এক ভাই আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের বাড়িতে তো থাকার জায়গা পর্যন্ত নাই। ঘর নাই। ছোট ভাই অজরগ্রামে নানাবাড়িতে ছিল। আমি থাকি আরেক জায়গায়। ২ আগস্ট দুপুরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে নানাবাড়ির লোকজন জানান। পর দিন ভোরে জানতে পারি তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হয়েছে।

নিহতের ভাই দাবি করেন, ৯ মাস আগে মুন্নাকে পুলিশ ধরে মাদক মামলায় দেয়। তার রিকশায় আরেকজন মাদক নিয়ে ওঠে। কিন্তু সে কিছু জানত না। সে কারাগারে থাকাবস্থায় তাকে আরও তিনটি মামলায় আসামি করে ওসি। পুলিশ অন্য যেসব মামলার কথা বলছে, তাতে নাম এক থাকলেও বাবার নাম আলাদা। তার মানে সেসব মামলার আসামি আমার ভাই না। আরেকজন আসামি হলে তাকে গ্রেপ্তার করুক। এভাবে মেরে ফেলব? তার ছোট সন্তানের বয়স ৭ মাস। সন্তানদের দেখবে কে? প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন আমাদের সময়কে বলেন, ক্রসফায়ার কমে গেছে বলার সুযোগ নেই। একটা ঘটনার পর দৃশ্যত থমকে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেওয়ায় কৌশল হিসেবে ক্রসফায়ার হয়তো বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি সাময়িক। যতদিন এটি বন্ধ করার জন্য রাষ্ট্রের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখব, ততদিন ক্রসফায়ার বন্ধ হবে না। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক বিষয় নয়। রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, তারা এটি কীভাবে দেখেন, সেটিই মুখ্য। সরকারের প্রচ্ছন্ন নির্দেশনা ছাড়া এটি বন্ধ হবে না।

প্রসঙ্গত গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের দাবি জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় দুই কোটি ৭৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৬ টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।

এ সময় ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হালিম অ্যাডভোকেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন, পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ,

ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলিফ নূর মিনি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব

আলী মোল্লা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ভুঞাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বিএনপির ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিএনপির ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি যৌর্থভাবে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ঘাটাইল পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ.খ.ম. রেজাউল করিম, যুগ্ম সম্পাদক হেলালুর রহমান খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, ছাত্রদলের সভাপতি হাসানুজ্জামান তরুন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক খুররম মাসুদ সিদ্দিকী, যুবদলের সাংগাঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ সাগর প্রমূখ।

এ সময় ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

খাস জমি পাইয়ে দেওয়ার কথায় মির্জাপুরে আ’লীগ নেতার অর্থ আত্মসাৎ!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভূমিহীনদের খাসজমি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকারের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, চন্দন সরকার ওই ওয়ার্ডের কান্ঠালিয়া গ্রামের সাধন মনি দাসের ছেলে সুধীর মনি দাসের কাছ থেকে ২০ হাজার, অরুন মন্ডলের ছেলে বিপেন মন্ডলের কাছ থেকে ২০ হাজার, খগেন্দ্র মনি দাসের ছেলে বাসুদেব মনি দাসের কাছ থেকে ১৫ হাজার ও নেপাল মনি দাসের ছেলে খোকন মনি দাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন।

খাসজমি পাওয়ার আশায় দুস্থ ভূমিহীন পরিবারগুলো সুদে টাকা ধার করে এনে এক বছর আগে চন্দন সরকারকে দেন। কিন্তু বছর পার হলেও ওইসব পরিবারগুলোকে জমি পাইয়ে দেননি তিনি।

এদিকে ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো। জমির কথা বলতে গেলেই চন্দন সরকার তাদের ধৈর্য ধরতে বলেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, চন্দন সরকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

সরকারি খাসজমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি নিজেই পৌরসভা থেকে তাদের নামে ভূমিহীন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন। তিনিই আবার উপজেলা ভূমি অফিস থেকে খাসজমি পাওয়ার আবেদন ফরম সংগ্রহের পর তা পূরণ করে উপজেলা ভূমি অফিসে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে তাদের নামে কোনো আবেদনই খুঁজে পাননি।

কান্ঠালিয়া গ্রামের সুধীর মনি দাস জানান, চন্দন সরকার আমাকে জানার সরকার ভূমিহীনদের জন্য জমি দেবে। এজন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে। এ কথা শুনে স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে সুদের ওপর ২০ হাজার টাকা এনে চন্দনকে দিই। এক বছর পার হলেও জমি পাচ্ছি না।

টাকা ফেরতের কথা বললে আমাকে গত দুর্গাপুজায় তিন হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি টাকা চাইলে টালবাহানা করছে। সুদে টাকা এনে দিয়েছি। সুদের টাকা নিয়ে বিপাকে আছি।

একই এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক বাসুদেব মনি দাস বলেন, সরকারি খাদে জমি আছে। তোমরা সবাই জমি পাবা। জমির জন্য টাকা জমা দিতে হবে। এসব কথা চন্দন আমাকে জানান। পরে জমি পাওয়ার আশায় চন্দনকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এক বছর পার হলেও তিনি আমাকে জমিও দেন না, টাকাও ফেরত দেন না।

তবে এসব বিষয়ে মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকার বলেন, এলাকায় রাজনীতি করতে হলে মানুষের কিছু কাজ করতে হয়। সেজন্য আমি ভূমিহীন চারজনকে খাসজমি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে কিছু টাকা নিয়েছি। আবার একজনকে ১০ হাজার টাকা ফেরতও দিয়েছি।

মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। চন্দন সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপির সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ভূমিহীনদের কাছ থেকে তিনমাস অন্তর আবেদন নেয়া হয়। খাসজমি পেতে রেজিস্ট্রি ফিস ছাড়া কারো কোনো খরচ হয় না। ভূমিহীন সকলেই আবেদন করতে পারবেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকারভেদে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়।

(এরশাদ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাড় ও কোমর ব্যথা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আলোচনা

ঘাড় ও কোমরের নিদারুণ যন্ত্রণায় ভোগেন অনেকেই। ঘাড় ও কোমর ব্যথা বিষয়ে আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত করোনাকালে অসুখ-বিসুখ অনুষ্ঠানের চতুর্থ পর্বে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক অ্যান্ড স্পাইন সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদা।

অনুষ্ঠানটি গত ২৮ আগস্ট প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফ-এর ফেসবুক পেজ থেকে একযোগে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জানা গেল ঘাড় ও কোমর ব্যথার নানান কারণ। বয়স ও জীবনপদ্ধতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে এ দু’টি বিষয়। ছোট্ট শিশু ভারী ব্যাগ নিয়ে ক্রমাগত হাঁটছে, উঠতি বয়সীরা টেবিল-চেয়ারে পড়ালেখা না করে বিছানা বা সোফাসেটকে পড়ালেখার স্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

যখন-তখন যেকোনো শারীরিক ভঙ্গিতে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার আবহমান কাল ধরে ঘাড় ও কোমর বাঁকিয়ে এ দেশের নারীরা ঘরের বিভিন্ন কাজ করে আসছেন।

অনেক নারী ও পুরুষ ভুল ভঙ্গিতে চেয়ারে বসে কাজ করেন কিংবা কোনো ভারী জিনিস তোলেন। এমন নানান ভুল দেহভঙ্গির কারণে ঘাড় বা কোমরে ব্যথা হতে পারে।

শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে হাড়ের স্বাভাবিক ঘনত্ব কমে যায়, এর ফলেও ব্যথা হয়ে থাকে। তা ছাড়া বয়সজনিত কারণেও ব্যথা হতে পারে। আঘাত, জীবাণুর সংক্রমণ, টিউমারের (শরীরের কোনো স্থান থেকে ক্যানসার ছড়িয়েও হতে পারে) মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে।

অনুষ্ঠানটির পুরো ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

করোনাকালে ভুল দেহভঙ্গি এবং একই ভঙ্গিতে অনেকক্ষণ বসে থাকার কারণে ব্যথা হচ্ছে, আবার নিয়মিত শরীরচর্চা না করার কারণেও ব্যথা বাড়ছে। এ ছাড়া ঘরের বাইরে পারতপক্ষে না যাবার কারণে অর্থাৎ, রোদের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হচ্ছে।

যেকোনো পরিস্থিতিতেই পরিবারের সবার জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা উচিত। একটি শিশু জন্মের পর মায়ের দুধ থেকে ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পেয়ে যায়। শিশুকে রোদে রাখতেও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। মানবশরীরে ভিটামিন ডি-র জন্য রোদ আবশ্যক।

ব্যথা হলে প্রাথমিকভাবে কী করা যেতে পারে, তা-ও জানা গেল। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে হালকা গরম পানির সেঁক বেশ উপকারী, তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে ঠান্ডা প্রয়োগ করাই হতে পারে প্রাথমিক উপশমের উপায়। মৃদু ব্যথানাশক সেবন করা যেতে পারে। পাতলা বালিশে শোয়া উচিত। সামনে ঝুঁকে কাজ করা যাবে না। কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে, নিজের ওজন বেশি হয়ে থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব কারণে ব্যথা হতে পারে, সেগুলো যতটা সম্ভব প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করতে হবে। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে নানান উপায়ে।

জরুরি সমস্যার সমাধানে মহামারি পরিস্থিতিতেও সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে, প্রয়োজন হলেই সেখানে সেবা নেওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি চিকিৎসাব্যবস্থাও অনেকাংশেই সেবা অব্যাহত রেখেছে। চাইলে সেখানেও যাওয়া যেতে পারে।

এদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ক্রমোন্নতির একটি অংশ শল্যচিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতির সূচনা। মেরুদণ্ডের শল্যচিকিৎসা করাতে যে দেশের বাইরে ছুটতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। মেরুদণ্ডের নানান ধরনের শল্যচিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নানান প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের শল্যচিকিৎসা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানভেদে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার পার্থক্যই কেবল হয়ে থাকে, চিকিৎসা হয় একই মানের। হাড়-সংক্রান্ত বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের পরে ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হয়। আবার অস্ত্রোপচার ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়।

সব ক্ষেত্রেই যেমন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না, তেমনি সব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিরও প্রয়োজন হয় না বলেই জানা গেল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে ঘাড় ও কোমর ব্যথা ছাড়াও অন্যান্য ব্যথাজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে জানানো হয়।

(রাফিয়া আলম, ঘাটাইল ডট কম)/-

গোপালপুর পৌরর মেয়র পদপ্রার্থী আ’লীগ নেতা প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দীন

আসন্ন পৌর নির্বাচনে তফসীল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। সব কিছু গুছিয়ে নেয়া শুরু করেছেন।  বাসাবাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে ভোটারের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। পৌরবাসিকে সেবার ফিরিস্তি তলে ধরছেন।

আজ মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি এবং সরকারি দলের সম্ভাব্য মেয়ার প্রার্থী প্রকৌশলী কেএম গিয়াসউদ্দীন।

স্থানীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেল, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মইন উদ্দীন রাজু,  ছাত্রলীগের আহবায়ক শফিকুর রহমান শফিক, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্মআহবায়ক আলমগীর কবীর রাণাসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী।

সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী কেএম গিয়াসউদ্দীন দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে পাঁচদফা অঙ্গীকারনামা ঘোষণা পাঠ করেন।

এ পাঁচদফা অঙ্গীকারনামা হচ্ছে, পৌর প্রশাসনের স্বচ্ছতার জন্য একটি কার্যকরি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, বাইপাশ রোড় ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, পয়ঃপ্রয়ালী, নিরাপদ পানি, নিরচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এতিমখানা, কবরস্থান, শ্মশানঘাট ও ইদগাঁ মাঠের উন্নয়ন এবং মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত পৌরসমাজ গঠনে মুক্তচিন্তা ও সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করা।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথে টাঙ্গাইলে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বাতিলের দাবি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে টাঙ্গাইলে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো।

তবে নভেল করোনা ভাইরাস মহামারির বিরূপ পরিস্থিতিতে এ বছর অনেকটা সাদামাটাভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল স্থানীয় সিলমী কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার ছাইদুল হক ছাদুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সহ সভাপতি সাদেকুল আলম খোকা, আতাউর রহমান জিন্নাহ, মাহমুদুল হক সানু, জিয়াউল হক শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাসেম, আনিসুর রহমান, খন্দকার রাসেদুল আলম রাসেদ, মেহেদী আলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ তালুকদার, সাংগঠনিক ও জেলা যুবদলের আহবায়ক আশরাফ পাহেলী, সাংগঠনিক শফিকুর রহমান শফিক, কোষাধ্যক্ষ মো. মাইনুল ইসলাম, প্রচার ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মনিরুল হক ভিপি মুনীর, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকন্দ, কৃষক দলের সভাপতি দিপু হায়দার খান, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদ হাসান টিটন, আবদুল্লাহ্ কাফী শাহেদ, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ্ মো. শাফী ইথেন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি নুরুল ইসলাম, মহিলা দলের সভানেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, জাসাস সভাপতি কাজী বজলু, মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, ওলামা দলের আহবায়ক মামুন সিদ্দিকীসহ অনেকে।

সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে নেতারা বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলার রায় বাতিলের দাবি জানান।

পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর নিঃশর্ত মুক্তি চান। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ দলের সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি জানান।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের সদস্য সচিব ক্বারী আ. হাই।

এ সময় জেলা বিএনপিসহ থানা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

তেতাল্লিশে পরিণত বিএনপি

তেতাল্লিশে পা দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, উত্থান-পতন আর ভাঙ্গা-গড়ায় ৪২ বছরের পরিণত বয়স হয়েছে। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জন্ম হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটির।

চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপি এমন একটি সময়ে ৪৩ বছরে পা রাখছে, যখন দলটির জন্য বলতে গেলে সবকিছুই প্রতিকূলে। বিশ মাস আগের মিডনাইট ভোটের একাদশ নির্বাচনের চরম গ্লানিকর ফলাফলের পর নেতাকর্মীরা অনেকটাই হতাশাগ্রস্ত ও হতোদ্যম।

দলের বর্তমান কান্ডারী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বানোয়াট মামলায় ২৫ মাসের অধিক সময় দুঃসহ কারাজীবন থেকে ‘সরকার-পরিবার’ সমঝোতায় গেল মার্চে মুক্তি পেলেও কার্যতঃ এখনো গৃহবন্দী। শারিরীক অসুস্থতা ও সরকারি শর্তের জালে আটকে ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষমতাদর্পিদের রোষে পড়ে একাধিক মামলায় সাজা ও কয়েকটিতে পরোয়ানা মাথায় নিয়ে লন্ডনে নির্বাসিত। সেখান থেকে তার নির্দেশনায় চলছে দল।

টানা চৌদ্দ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এখনও বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রে।

প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী জাতীয়তাবাদী আদর্শ আর উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনগণতান্ত্রিক রাজনীতির থেকে বিএনপি অনেকটাই বিচ্যুত- এমন আক্ষেপ করছেন দলটির কোন কোন শুভাকাঙ্খী।

মহান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থাকে মূলমন্ত্র করে দুর্গম পথে সাহসী অভিযাত্রা থেকে যে অনেকটাই বিচ্যুতি ঘটেছে তার কারন বিচার বিশ্লেষণের তাগিদও জোরদার হচ্ছে। যদিও বিএনপির নীতি-নির্ধারকেরা আদর্শিক বিচ্যুতি ও বিরাজমান হতাশার কথা কবুল করছেন না।

তারা বলছেন, সাময়িক হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছেন তারা। খালেদা জিয়া শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক রাজনীতিতে হাল ধরলেই সব ঠিক হয়ে যাবে-এমন আশা তাদের। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই তাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।

চার দশকের বেশি সময় আগে দেশে চরম অনিশ্চয়তা ও টালমাটাল পরিস্থিতিতে হতাশা, ক্ষোভ, না পাওয়ার বেদনা এবং একদলীয় দুঃশাসনে অতিষ্ঠ জনগণের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে পথচলা শুরু হয় বিএনপির। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় দলটির সাফল্য যেমন ঈর্ষণীয়, তেমনি বহুবার সীমাহীন প্রতিকূল পরিস্থিতিও মোকাবেলা করেছে।

২০০৭ সালে মইন-ফখরুদ্দিনের সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমল থেকে দলটির ওপর যে মামলা, হামলা, জেল, জুলুম, নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী বিচারবহির্ভুত হত্যা এবং গুম খুনের শিকার হয়েছেন। শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত লক্ষাধিক নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত। এরকম নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করে নতুন আশায় পথ চলতে চাইছে বিএনপি।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পটভূমি:

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এক দলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করে রক্ষীবাহিনী, লালবাহিনী গঠনের পর এদেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে তা ছিল ভাবনারও অতীত।

পচাত্তরের ১৫ আগস্টের রক্তাক্ত অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে অভাবনীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। তার পর ৩ নভেম্বর প্রতিবিপ্লব ও তার ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সূচনা।

সেদিন সিপাহী জনতার মিলিত সমর্থনে স্বাধীনতার ঘোষক ও অকূতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমান বীর উত্তম দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। তখন দেশের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। দুর্দান্ত সাহসিকতায় ভর করে দৃঢ় ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুজ্জ্বল রেখে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন তিনি।

আর তখন দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জাগিয়ে তুলতে প্রয়োজন পড়ে একটি প্লাটফর্মের।

এ প্রেক্ষাপটে জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনকে দ্রুত অসামরিকীকরণের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ১৯ দফা কর্মসুচি ঘোষণা করেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে করা হয় এ দলের আহবায়ক। নবগঠিত দলের অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জামাল উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

জাগদলের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দলের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীন, জাতীয়, মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ সুনিশ্চিত করার জন্য জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে এমন একটি জাতীয় সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা প্রবলভাবে অনুভব হচ্ছে যা কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্দিজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও কর্মজীবি মানুষকে একতাবদ্ধ করে স্বাধীন জাতীয় বিকাশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। …… জাগদলের মাধ্যমেই কেবল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জাতীয় বিকাশ সম্ভব।’

জাগদল গঠনের পর একই বছর ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ নামে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। জাগদল ছাড়াও এই জোটে যোগ দেয় মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), কাজী জাফর ও ক্যাপ্টেন আবদুল হালিমের নেতৃত্বে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি), শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুসলিম লীগসহ আরও কয়েকটি দল ও গ্রুপ।

১৯৭৮ সালের ৩ জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন জাতীয় ফ্রন্টের জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী।

নির্বাচনে ওসমানীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জেনারেল জিয়াউর রহমান। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার অব্যবহিত পরই ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিলুপ্তি ঘটে জাগদল ও ঐক্যফ্রন্টের।

নির্বাচনী জোট জাতীয়তাবাদী ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও মুসলিম লীগের অপরাংশ ও ন্যাপ (ভাসানী) বিএনপিতে যোগ দেয়। অবশ্য কাজী জাফরের নেতৃত্বে জাগদলের একটি অংশ বাইরে থেকে যায়।

জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফাকেই নবগঠিত বিএনপি’র মূল আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। জিয়াউর রহমান প্রথমে দলের আহবায়ক ও পরে চেয়ারম্যান হন।

প্রথম মহাসচিব হন অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। মুক্তদ্বার নীতি গ্রহণ করে দলকে ব্যাপকভিত্তিক একটি জাতীয়তাবাদী প্লাটফর্ম হিসেবে রূপ দিতে জিয়াউর রহমান দক্ষিণপন্থী ও বামপন্থী মতাদর্শের রাজনীতিকদের স্বাগত জানান। তখন দলের ৪৫ শতাংশেরও বেশী নেতাকর্মী ও সদস্য ছিলেন রাজনীতিতে নবাগত ও তরুণ।

দলের প্রধান লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য ও জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতার চেতনা সৃষ্টি। পাশাপাশি চারটি মূলনীতি ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালে গোটা জাতি ছিল বিভক্ত। আর এই বিভক্তি ডান, মধ্য ও বাম ইত্যাকার রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতেই শুধু নয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে বা করেনি কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বা বিপক্ষ শক্তি হিসেবেও। ফলে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, সংস্কৃতিসেবীর মত সামাজিক শক্তিগুলোও বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আমলা এমনকি সামরিক বাহিনীও মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রপতি জিয়ার বিএনপি গঠনের প্রধান লক্ষ্য ছিল এ বিভাজন দূরীকরণ এবং গোটা জাতি যাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একক সত্তা হিসেবে কাজ করতে পারে সেজন্য বিবদমান গোষ্ঠী ও উপদলের একত্রিকরণ। জিয়াউর রহমান শুধু তার প্রতিষ্ঠিত দল নয়, বাকশালের কারণে বিলীন হয়ে যাওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও প্রকাশ্যে রাজনীতির সুযোগ করে দেন। বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগকেও নিজ নামে রাজনীতি করার পথ সুগম করে দেন।

দুর্গম পথ চলা:

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয় তার দলকে দ্রুততম সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। অতুলনীয় দেশপ্রেম ও সততা, অসীম কর্মোদ্দীপনা, জনগণের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ার অনন্য গুণে ক্যারিশমেটিক রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান মাত্র তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশকে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে সমাসীন করার পাশাপাশি স্বনির্ভর অর্থনীতির দেশে রূপান্তর করতে সক্ষম হন।

কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে’র কালোরাতে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান শাহাদতবরণ করেন। জাতি আবার হতাশায় নিমজ্জিত হয়।

অস্তিত্বের সংকটে পড়া বিএনপির রাজনীতির হাল ধরতে হয় গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়াকে। তার পর থেকে স্বৈরাচারবিরোধী বিরামহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নন্দিত নেত্রী হিসেবে অভাবনীয় উত্থান ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার। সেই সময় থেকে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনিই।

স্বৈরশাসনবিরোধী দীর্ঘ নয় বছরের লড়াকু সংগ্রামে আপসহীন নেত্রীর খেতাব পান বেগম খালেদা জিয়া।

গণঅভ্যূত্থানে ১৯৯০-এর গণতন্ত্রায়নের পর ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশে মোট চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তিনটিতেই জয়লাভ করে। ১৯৯১-এর নির্বাচনে বিএনপি ১৪২টি আসন লাভ করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে করা একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে স্বল্পস্থায়ী সরকার গঠন করে বিএনপি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে আন্দোলনমুখী হওয়ায় ৪৫ দিনের মাথায় সেই সরকার একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে পুনরায় নির্বাচন করার জন্য ক্ষমতা তুলে দেয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ চারদল প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে। তবে এক-এগারোর সরকারের দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটির ইতিহাসে প্রথম বারের মত ভরাডুবির মুখোমুখি হয়। সেনানিয়ন্ত্রিত ওই নির্বাচন ও তার ফলাফল যে পাতানো ছিল এবং বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন ছিল তা পরে প্রকাশ পায়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি।

আবার ভঙ্গুর সাংগঠনিক অবস্থা এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না করেই চরম বৈরী পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি।

জনবিচ্ছিন্ন হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ড. কামাল হোসনকে শীর্ষ নেতা মেনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ঘরে বাইরে বিতর্কের জন্ম দেয় ড. কামালকে প্রধান করে ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে খালেদা জিয়া।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ‘মহাভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাঠ দখলে ব্যর্থ হলে নিশিভোটের নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসন দেয়া হয় বিএনপি জোটকে। সংসদে যাওয়ার ‘বিনিময়ে’ দলের চেয়ারপারসনের কারামুক্তির আশাও দূরাশায় পরিণত হয়। এরই মধ্যে আবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটে চলছে ব্যাপক টানাপড়েন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তার পরও একদিকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ভয়ানক নিপীড়ন, প্রতিবেশী আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের নগ্ন হস্তক্ষেপ, অন্যদিকে ভুলের চক্করে পড়ে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে চরমভাবে ব্যর্থ হয় বিএনপি জোট। ফলশ্রুতিতে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই দু’টি সংসদ গঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সদর্পে জারি রেখেছে ফ্যাসিবাদী শাসন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর অজানা কারণে আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিতকরণ, একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আবার শপথ নিয়ে সংসদীয় তামাশার অংশ হওয়া, বিভিন্ন উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নাজেহাল ও নাস্তানাবুদ হওয়ার পরও বার বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিএনপি’র রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সায় ও সম্পর্ক ছিলনা বলেই চাউর আছে।

নিরাপস ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এখনও জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ঐক্যের প্রতীক। বিএনপি মানেই এখনো খালেদা জিয়া। সাজানো ও বানোয়াট মামলায় একের পর এক সাজা দিয়েও তাঁর মাথা নোয়ানো যায়নি। দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার প্রশ্নে একচুলও ছাড় দেননি তিনি। সেজন্য অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে বটে। অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত নাজুক শারিরীক অবস্থায়ও তিনি থেকেছেন অটল-অবিচল। বন্দী অবস্থায় চিকিৎসাবঞ্চিত করে, নিষ্ঠুর আচরণ করে তাঁর মনোবলে এতটুকু চিড় ধরানো যায়নি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনীতিতে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এ পথে হেরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৌশল পরিবর্তন করেই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। বিএনপিও এখন সেই কৌশল নিয়েছে বলে দাবি তাদের।

নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করাই বিএনপির প্রচেষ্টা। দীর্ঘ ৪২ বছর পরও সে লক্ষ্য অর্জনে দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের দাবি, দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, কৃষি, বিজ্ঞান প্রযুক্তি, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সব সাফল্য বিএনপি সরকারের আমলেই হয়েছে। জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজনসহ ইসলামী মূল্যবোধকে জাগ্রত করেছেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে সব দল ও সংগঠনের কার্যক্রম চলছে অনলাইনে। কিন্তু ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারপার্সন কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী সভা অনলাইননির্ভর। শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসে স্কাইপে বা জুমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

নানামুখী সমস্যায় থাকা দলটি আগামী দিনে কীভাবে পথ চলবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। দল হিসেবে সংগ্রাম করে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করছেন পর্যবেক্ষকরা। দুই বছর আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে কার্যকর তেমন কিছু করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় সরকার এক দিকে খালেদা জিয়াকে হাসাপাতাল বা কারাগারে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন পরিবার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে । এ প্রক্রিয়ায় অনেকটা নাটকীয়ভাবে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিতের মাধ্যমে পিজি হাসাপাতালের কেবিন থেকে গুলশানের ফিরোজায় চার দেয়ালের মধ্যে আনতে সক্ষম হয় পরিবার।

সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হবে। এরই মধ্যে পরিবার থেকে স্থগিতাদেশ বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। এর অর্থ দাঁড়ায় খালেদা জিয়া এখনো মুক্ত নন, বরং সরকার প্রধানের খেয়াল-খুশির কাছে বন্দী।

এদিকে মুখে বিএনপি নেতারা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী দাবি করলেও বারবার উদ্যোগ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দল পুনর্গঠনের কাজও শেষ করতে পারেনি। ব্যক্তিস্বার্থে নেতাদের মধ্যেও রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল। কাউকে কাউকে সরকারের ‘চর’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এতে অবিশ্বাস ও সন্দেহপ্রবণতা বাড়ছে।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। সাংগঠনিকভাবে দু’ভাগ করে কমিটি গঠন করলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কিংবা একাদশ নির্বাচনকালে উল্লেখযোগ্য কোন শক্তি প্রদর্শন করতে পারেনি ঢাকা মহানগর বিএনপি। মহানগর, জেলা, থানা কমিটি নিয়েও অবস্থা লেজেগোবরে। এমন সার্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছে বিএনপি।

(অলিউল্লাহ নোমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে ঘাটাইলে সংরক্ষিত বনের শাল গজারি

সামাজিক বন ধ্বংসের পর এবার আঘাত হানা হচ্ছে সংরক্ষিত বনের শাল গজারির ওপর। রাতে বা গোপনে নয়, দিনের আলোয় প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে শাল গজারি গাছ। কাঠ ব্যবসায়ীদের দাবি, বন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে একটি গাছও কাটা যায় না। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন কর্মকর্তারা। তবে বন কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার সংরক্ষিত বনের শাল গজারি গাছ কাটা হচ্ছে অবাধে। তাই বন রক্ষায় রক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুশীল সমাজ।

সামাজিক বন ধ্বংসের পর এবার আঘাত হানা হচ্ছে সংরক্ষিত বনের শাল গজারির ওপর। উপজেলার সাগরদীঘি বিটের অধীনে আগস্ট মাসের কোনো একদিন বড়চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান থেকে প্রকাশ্যে ২৫টি গজারি গাছ কাটেন স’মিল মালিক স্থানীয় ফজল হক। গাছ কাটা শেষে মাটি দিয়ে গুঁড়ি ঢেকে দেন। ওই স্থান থেকে বিট অফিসের দূরত্ব দুই কিলোমিটারের বেশি নয়।

গত ৩০ আগস্ট ঘাটাইল ডট কমে ‘ঘাটাইলে ৪৫ হেক্টর বনভূমির ৩২ কোটি টাকার গাছ উধাও’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে ফজল হক জানিয়েছেন, তিনি গাছগুলো ৪০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। এরপর বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কিন্তু সাগরদীঘি বিটের প্রহরী আমিনুর জানান, বন বিভাগের কাছ থেকে ফজল হক কোনো ধরনের অনুমতি নেননি। এ ছাড়া গাছ কাটার কোনো চিহ্ন না রাখতে ৩০ আগস্ট গুঁড়ি উপড়ে ফেলা হয় ১০-১২ জন শ্রমিক দিয়ে। এ কাজে ফজল হক নিজেই নেতৃত্ব দেন বলে জানান ওই প্রহরী।

এদিকে কাঠ ব্যবসায়ী ফজল মিয়া বলেন, ওই জমি তিনি ফুলমালিরচালা গ্রামের আব্দুল মজিদের কাছ থেকে কিনেছেন।

মজিদ অবশ্য জানিয়েছেন, ওই জমির মালিক তিনি নন। ওইটা বনের জমি। তিনি জানান, গজারি গাছ মানুষ কিনতে চায় না, তাই ২৫ হাজার টাকায় নামমাত্র মূল্যে বছর খানেক আগে গাছগুলো কিনে নেন সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি গাছ কিনিনি। গাছ কিনেছেন আইনউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিক্রি করেছেন ফজল বেপারীর কাছে।

সাগরদীঘি বিট অফিসের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, কবে এবং কখন এ ঘটনা ঘটেছে তা আমার জানা নেই। আগে ঘটনা জানতে হবে। গাছ কাটার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বক্তব্য দিতে হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে।

উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, শাল গজারি আমাদের ঘাটাইলের ঐতিহ্য। এই বনভূমি ধ্বংসের পেছনে যারা প্রত্যেক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-