কোন পথে মির্জাপুরের করোনা পরিস্থিতি?

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লাগামহীনভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউনসহ নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরেও যেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি।

মির্জাপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ১০০ ছাড়িয়েছে ৭৩ দিনে, সেখানে পরবর্তী ১০০ জন আক্রান্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র ১২ দিন।

বুধবার (১ জুলাই) নতুন করে চার পুলিশ সদস্যসহ আরও ৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২০২ জন।

সব মিলিয়ে মাত্র ৮৫ দিনে মির্জাপুরে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ২০০ জন।

এতে জেলার অন্যান্য উপজেলাকে ছাপিয়ে আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে টাঙ্গাইলে করোনার হটস্পট হয়ে উঠা মির্জাপুর উপজেলা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল এই উপজেলায় তথা টাঙ্গাইল জেলার প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল মির্জাপুরে। শুরুটা যেমন মির্জাপুর থেকে হয়েছিল তেমনি জেলায় আক্রান্তের তালিকার শীর্ষেও রয়েছে এ উপজেলা।

মির্জাপুরে করোনা সংক্রমণের প্রায় তিন মাস পূর্ণ হতে চলেছে।

এতে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের প্রথম মাস এপ্রিলে মির্জাপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ জন, দ্বিতীয় মাসে (মে) আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছিল ৩০ জন আর তৃতীয় মাস জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬১ জন।

সব মিলিয়ে জুন মাসের শেষ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ১৯৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৪৩ জন আর মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে ৫ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হচ্ছে জুলাই মাস। এ সময়ে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বিগত দিনের তুলনায় আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বলা হয়েছে নতুন করে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে আবারো জেঁকে বসতে পারে এই মহামারি ভাইরাস।

সেই দিক বিবেচনা করলে মির্জাপুরেও চলতি জুলাই মাস করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি সময়। কারণ সামনে আর লকডাউন বাড়ানো হচ্ছে না, একই সাথে আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে লোক সমাগম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধুমাত্র জুন মাসেই ৩০ দিনে মির্জাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬১ জন। যেখানে শুরুর দিকে দ্বিতীয় মাস মে’তে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০ জন। কাজেই অতি শীঘ্রই যে মির্জাপুরের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না সেটা বলাই যায়।

এদিকে, প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়নের সর্বত্রই এই প্রাণঘাতি ভাইরাসটি বিস্তার লাভ করেছে। শহর থেকে গ্রামে, শিশু থেকে বৃদ্ধ, পুরুষ থেকে নারী সবার মাঝেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

মির্জাপুরে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে সর্বোচ্চ রোগী নিয়ে মির্জাপুর পৌরসভা। পৌরসভাধীন এলাকার ৯ টি ওয়ার্ড মিলিয়ে সর্বাধিক আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ জন।

উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক আক্রান্তের তালিকায় যথারীতি গোড়াই (৫৩ জন), মহেড়া (১৩ জন), জামুর্কী (১২ জন) উয়ার্শী (১০ জন), বানাইল (১০ জন), ফতেপুর (৮ জন), ভাওড়া (৮ জন), লতিফপুর (৮ জন), আজগানা (৫ জন), ভাতগ্রাম (৫ জন), বহুরিয়া (৪ জন), তরফপুর ( ২জন), আনাইতারা (২ জন) ও বাঁশতৈল (১ জন) শনাক্ত হয়েছে।

যার মধ্যে সুস্থ হওয়ার তালিকায় যথারীতি পৌরসভা (৯ জন), গোড়াই (৮ জন), লতিফপুর (৬ জন), উয়ার্শী (৫ জন), মহেড়া (৪ জন), ভাওড়া (২ জন), আজগানা (২ জন), জামুর্কী (২ জন), তরফপুর ( ১ জন), বানাইল (১ জন), বহুরিয়া (১ জন), আনাইতারা ( ১ জন) এবং ফতেপুর (১ জন) রয়েছে।

এছাড়া মৃত্যুবরণকারী পাঁচজনের মধ্যে রয়েছে পৌরসভার ২ জন, ভাওড়া ১ জন আর বহুরিয়ার ১ জন।

বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে ও নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম জানান, মির্জাপুরে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই প্রশাসনের সহযোগিতায় যখন যেখানে যা প্রয়োজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে তাই করা হচ্ছে। এছাড়া করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলায় সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছি। যার ফলে এ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।

তবে করোনার চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিটি কাজে দক্ষতার সাথে আমার স্বাস্থ কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সন্দেহজনক ব্যক্তি ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ইতিপূর্বে করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে মির্জাপুর পৌরসভার কেন্দ্রবিন্দু ৩ নং ওয়ার্ড (মির্জাপুর বাজার) এলাকা দুই দফায় ১৭ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২ জুলাই শেষ হওয়া এই লকডাউন আর বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণকে চলাফেরা করতে হবে।

তিনি বলেন, যদি কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমন্বয়ে করোনা মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তিনি জনসাধারণকে আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। সেই সাথে দোকান-পাটসহ হাট-বাজারে প্রশাসনের মোবাইল টিম পরিচালনার মধ্য দিয়ে মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাগবি নিয়ে টাঙ্গাইলের এমপি টিটুর কন্যা আলিশার স্বপ্ন

বাবা টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য। মা থাইল্যান্ডের মানুষ। এই দম্পতির কন্যা আলিশা ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে এখন বাংলাদেশ নারী রাগবি দলের অধিনায়ক।

নব্বইয়ের দশকের মাঝপথে থাইল্যান্ডে পড়তে যান বাংলাদেশের এক তরুণ। সেখানে অ্যাজাম্পসন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ার সময় পরিচয় থাই তরুণী আইরা সোয়াইংসআরাসামের সঙ্গে। অতঃপর প্রণয় ও বিয়ে।

বিদেশে পড়তে গিয়ে কাউকে ভালো লাগা, বিয়ে—এমন তো কতই হয়। তা খেলার সঙ্গে এই গল্পের সম্পর্ক কী?

সম্পর্ক হলো, এই আসহানুল ইসলাম-আরিয়া ইসলাম দম্পতির তিন সন্তানের একজন আজ বাংলাদেশের জাতীয় নারী রাগবি দলের অধিনায়ক।

খেলাটা বাংলাদেশে নতুন হতে পারে, তবে একটি খেলার জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়াটা বড় অর্জন তো বটেই। আলিশা ইসলাম তাই নিজেকে গর্বিত ভাবেন।

আলিশার জন্ম ১৯৯৮ সালে, ব্যাংককে। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় বোনের পর আলিশা, এরপর ছোট ভাই।

আলিশা শুধু বাংলাদেশ নারী রাগবি দলেরই অধিনায়ক নন, লেবেল ওয়ান কোচিং কোর্স করে বাংলাদেশ রাগবির ডেভেলপমেন্ট অফিসারও।

বাবা আহসানুল ইসলাম বর্তমানে টাঙ্গাইল-৬ আসনের এমপি। দাদা সাবেক এমপি হাজি মকবুল হোসেন। গত রোজার ঈদের দিন করোনায় দাদাকে হারিয়ে আলিশা এখনো বেদনাহত। তিনি বলেন, ‘দাদা খুব ভালোবাসতেন আমাকে। তিনি এভাবে চলে যাবেন, ভাবিনি।’

বাংলাদেশের প্রথম নারী রাগবি দলের অধিনায়ক হয়ে যাবেন, আলিশার ভাবনার বাইরে ছিল সেটিও।

রাগবির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটি ফিলাডেলফিয়ায় বিবিএ পড়ার সময়। রাগবির দেশে গিয়ে রাগবির প্রেমে পড়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় দলে নিয়মিত খেলেন। ২০১২-১৪ ব্যাংকক পাতানা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ার সময় ফুটবল, বাস্কেটবল ও টেনিস খেলতেন। কারাতে আর কিক বক্সিংও করেন।

জন্ম থাইল্যান্ডে হলেও আলিশার প্রাথমিক পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশেই। বিদেশে অনেক বছর কাটিয়েও তাই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা গভীরই আছে।

তবে একটা সময় পর্যন্ত আলিশা জানতেনই না যে বাংলাদেশেও রাগবি খেলা হয়।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করি ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরেও জানতাম না বাংলাদেশে রাগবি খেলা হয়। একদিন পত্রিকার দেখলাম রাগবির একটি টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এটায় খেলা হয়নি। তবে পয়লা বৈশাখের একটা টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলা হয়েছে।’

দেশে এখন পর্যন্ত দুটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলেছেন আলিশা। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নারী রাগবিতে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। তবে ফাইনালে আলিশার দল টাঙ্গাইল ঠাকুরগাঁয়ের কাছে ৫-১০ পয়েন্টে হেরে যায়।

টুর্নামেন্টে ১৬টি দলের অংশগ্রহণ দেখে উচ্ছ্বসিত আলিশা বলছিলেন, ‘মেয়েরা ওই টুর্নামেন্টে ২০০ ভাগ দিয়েছে মাঠে। আমার উৎসাহ অনেক বেড়েছে। জানতাম না বাংলাদেশে এত বড় রাগবি পরিবার আছে। টাকা নেই, তবে সবাই খেলাটা খুব ভালোবাসে।’

সেই ভালোবাসার কল্যাণেই আলিশা আসার পর গত বছর বাংলাদেশ জাতীয় নারী রাগবি দল গঠিত হয়। রংপুরের ক্যাম্পে অংশ নেন আলিশাও। গত আগস্টে দলটি ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেয় (এশিয়ান কোয়ালিফাইং রাউন্ড, সেভেন ‘এ’ সাইড )। চীনা তাইপের সঙ্গে ম্যাচে ১০-১০ পয়েন্টে ড্র আর বাকি তিনটিতে হার।

তবে ফল নয়, খেলাটাই সেখানে বড় ছিল বাংলাদেশের রাগবি–কন্যাদের জন্য।

রাগবি ১৫-‘এ’ সাইড জাতীয় দল এখনো হয়নি বাংলাদেশে। সেভেন ‘এ’ সাইড অনেকটা ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টির মতো। ৭ মিনিট করে দুই অর্ধ। ১৫-‘এ’ সাইড ৮০ মিনিটের খেলা। আলিশার বেশি ভালো লাগে সেভেন ‘এ’ সাইড।

কিন্তু তিনি তো চাইলে থাইল্যান্ডের হয়েও খেলার চেষ্টা করতে পারতেন! সেটি করেননি কেন?

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে রাগবির প্রসার আছে, ভবিষ্যৎ অনেক ভালো।

২২ বছর বয়সী তরুণী আলিশা কিছুটা অনভ্যস্ত বাংলায় বলছিলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলে বাবা বলেন, ঢাকায় রাগবি ফেডারেশন আছে। চাইলে এখানে খেলতে পারো। এভাবেই যোগাযোগ হলো।’

যুক্তরাষ্ট্রে রাগবি খেলাটা দৈনিক তিন বেলা খাবারের মতো। ওখানে খেলেই রাগবির ভিতটা শক্ত হয়েছে আলিশার। দেশে এসে তাই অন্য খেলোয়াড়দের ভিড়ে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছেন ব্যতিক্রম হিসেবে।

রাগবি বাদে তাঁর প্রিয় খেলা ফুটবল ও টেনিস। এর বাইরে গিটার বাজান, ছবি তোলেন। পড়তে বেশি ভালো লাগে মনোবিজ্ঞানের বই।

বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মৌসুম আলী বলছিলেন, ‘ওকে দেখে অনেক মেয়ে আসছে রাগবিতে। একজন সংসদ সদস্যের মেয়ে রাগবি খেলছে, এটা বিরাট ব্যাপার।’

সব এক পাশে রেখে আলিশার এখন একটাই প্রার্থনা, করোনার দুঃস্বপ্ন দ্রুত শেষ হোক। তাহলেই আবার ফিরতে পারবেন মাঠে। সে কথা ভেবে এখনই রোমাঞ্চিত আলিশার কণ্ঠ, ‘ইনশা আল্লাহ আগামী বছর আবার আমরা বিদেশে রাগবি খেলতে যাব।’

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

পলিটেকনিকে ভর্তিতে বয়সের বাঁধা থাকছে না, শিথিল হচ্ছে যোগ্যতা

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের সীমাবদ্ধতা থাকছে না। ভর্তির যোগ্যতা কমছে, কমছে ভর্তি ফি–ও। আজ বুধবার কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বৃদ্ধি ও বিদেশফেরত দক্ষ কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো রকমের বয়সের সীমাবদ্ধতা রাখা হবে না। অনেক ব্যক্তির হয়তো প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা আছে কিন্তু তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সনদ নেই এবং তা না থাকার কারণে ভালো চাকরি পাচ্ছেন না বা পেলেও ভালো বেতন পাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি যদি চান এবং যদি তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে তাহলে তিনি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

সভায় ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে ছেলেদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ এবং মেয়েদের জিপিএ ৩ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ২৫ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাশাপাশি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি ফি এক হাজার ৮২৫ টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৯০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী চলতি মাসের মধ্যে কারিগরি মাদ্রাসা বিভাগের শিক্ষকদের এমপিও এর অর্থ ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া সভায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের নীতিমালা, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আইন-২০২০ এবং নিয়োগবিধি প্রণয়নসহ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় আরও যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সানোয়ার হোসেন , মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান কায়সার আহমেদ,কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মুরাদ হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

কিটের ৬০০ কোটি টাকা বাকি, মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করোনা পরীক্ষা

দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত কিট সরকার সংগ্রহ করেছে সেসবের বিলই বকেয়া রয়েছে। কেবল কিটই নয়, নতুন স্থাপনকৃত পিসিআর মেশিন, এমনকি চিকিৎসাকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও (পিপিই) কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। টাকা না পেয়ে কিট ও মেশিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন ওই সরবরাহকারীদের একদিকে বোঝানো এবং অন্যদিকে নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করারও চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ কিট আনা হয়েছে দেশে, যার মূল্য প্রতিটি দুই হাজার ৭০০ টাকা দরে প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা। এই বিল পরিশোধ করা হয়নি। পিসিআর মেশিন বাবদ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। পিপিইসহ অন্য উপকরণের বিল বকেয়া রয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য-উপাত্ত থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কেনাকাটায় সঠিক প্রক্রিয়া বা বিধি-বিধান অনুসরণ না করা, কখনো বা তাত্ক্ষণিক মৌখিক নির্দেশে সরবরাহ নেওয়া এবং অতিরিক্ত দামসহ আরো কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শুরু হওয়া। জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন যেকোনো কেনাকাটা বা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করছে। জরুরি পরিস্থিতির কেনাকাটা হলেও এই মুহূতে উপযুক্ত বিধি-বিধান অনুসরণ ছাড়া সাহস করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এ ক্ষেত্রেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

শুধু বিলই নয়, এর সঙ্গে আরেক জটিলতা তৈরি হয়েছে আমদানি করা প্রায় আট লাখ কিট ফেরত দেওয়া নিয়েও। সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতির কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে দেশে করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় একটি কিট দিয়ে দুটি নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুরুতে ১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে কিট সরবরাহ করার আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কখনো বা মৌখিক নির্দেশনা পেয়েও কেউ কেউ নিজেরা বিদেশ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কিট এনে সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তবে এর মধ্যে ভাগে ভাগে প্রায় সাত লাখ কিট এনেছে এককভাবে একটি প্রতিষ্ঠান, যাদের ওই কিট আনা হয়েছে চীন থেকে। বাকি আটটি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক লাখ করে কিট এনেছে কোরিয়া, ইতালিসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে। চীনের কিটগুলোর মতোই অন্য দেশের কিটও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে নিয়ে বিভিন্ন ল্যাবে বিতরণ করেছে। কিন্তু একপর্যায়ে ওই সব কিট ফেরত দেয় বিভিন্ন ল্যাব। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেসব কিট ফেরত নিতে বলে সরবরাহকারীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চীন ছাড়া অন্য যেসব দেশের কিট সরবরাহ করা হয়েছে সেটা পিসিআর মেশিনে সেট হয় না বা সেট করতে দেরি হয়, এমন কারণ দেখিয়ে ফেরত নিতে বলা হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। অন্যদিকে সরবরাহকারীরা তাদের বিল পরিশোধে চাপ দিতে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। তাতে সাড়া না পেয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাত দেখিয়ে কিট সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সরবরাহকারীরা কোটি কোটি টাকা মূলধন খাটিয়ে লাখ লাখ কিট এনে দিয়েছে। এখন যদি তারা ওই বিল না পায় কিংবা আবার কারো কারো কিট নানা অজুহাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফিরিয়ে দেয় সেটা সরবরাহকারীদের পথে বসানোর শামিল হবে। বকেয়া বিল না পেলে তারা আবার কিট আনার টাকা পাবে কোথায়? এ ছাড়া যারা পিসিআর মেশিন সরবরাহ করেছে তারাও বিল পাচ্ছে না। ফলে এখন আবার তাদের কাছে মেশিন চাইলে তারা কিভাবে দেবে?’

ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, যে অজুহাত দেখিয়ে সাত-আট লাখ কিট ফিরিয়ে দেওয়া চেষ্টা চলছে সেটা সঠিক নয়। কিটগুলো দেশে থাকা সব পিসিআর মেশিনেই সেট হয় এবং পরীক্ষাও হয় সঠিকভাবেই। এখানে অন্য কোনো ব্যাপার থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ কিটগুলোর কার্যকারিতার মেয়াদ থাকে ছয় মাস। এর মধ্যেই কারো কারো কিটের মেয়াদ দেড়-দুই মাস চলে গেছে। ফলে ওই সরবরাহকারীদের কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে এখন কম দামে হলেও প্রাইভেট ল্যাবগুলোকে কিছু কিছু করে সরবরাহ করতে শুরু করেছে। প্রাইভেট ল্যাবে যে কিট ব্যবহার করা যায় তা কেন একই মেশিনে সরকারি ল্যাবে ব্যবহার করা যাবে না, সেটা বোধগম্য নয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, করোনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সবচেয়ে বেশি কিট দেওয়া বা এখন এককভাবে চীনের সব কিট সরবরাহকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওভারসিজ মার্কেটিং করপোরেশন (ওএমসি), যারা একই সঙ্গে পিসিআর মেশিনসহ আরো কিছু উপকরণ দিচ্ছে। কিন্তু এই বড় প্রতিষ্ঠানটিও কিছুদিন ধরে বেঁকে বসেছে বিলের জন্য। তাদের বকেয়া ২০০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানায় একাধিক সূত্র। যদিও ওই প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে রাখঢাক করছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরেই এককভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছে বা তাদের কাজ দেওয়ার জন্যই অন্যদের কিট গ্রহণ করা হচ্ছে না।

ওএমসির অন্যতম পরিচালক মারুফ মান্নান বলেন, ‘বিলের জন্য কিট বা মেশিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি—এই কথা সঠিক নয়। শুধু আমাদেরই নয়, কারো বিলই তো দিচ্ছে না। অন্যরা কেন কিট দিচ্ছে না সেটা আমি বলতে পারব না। আমরা কেন দিচ্ছি না সেটাও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই ভালো বলতে পারবে।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছিল না হয়েছিল সেটা আমি বলতে চাই না। আমি দায়িত্ব নিয়েছি ২৭-২৮ দিন। এর আগে কোন প্রক্রিয়ায় কাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, বিধি-বিধান মানা হয়েছিল কি হয়নি, সেটাও আমি দেখতে চাই না। তবু যেহেতু বিষয়টি আমার নজরে এসেছে তাই আমি আগের বিল ও ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সুরাহার জন্য নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। সেখান থেকেই বিষয়টির সমাধান আসবে বলে আশা করি।’

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানকে কিটের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রায় এক লাখ কিট হাতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আগের যে কিটগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে কথা উঠেছে সেই কিটগুলো থেকে কিছু কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ওই কিটগুলোর সমস্যা সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি যতটা জেনেছি সেটা হচ্ছে, ওই কিটগুলো কোনো কোনো ল্যাবের মেশিনে প্রপারলি সেট হয় না, আবার সময় খুব বেশি লাগে। এখন যেহেতু আমাদের কাজ চালিয়ে দেওয়া জরুরি তাই দেরি হলেও ওই ধরনের কিছু কিটের সাপোর্ট নেওয়া যেতে পারে, যা নিয়ে ওই সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, হাতে এখনো যে পরিমাণ কিট আছে তা দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ চলবে। এর মধ্যে অন্য সব জটিলতা কাটিয়ে আরো সরবরাহ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

সিএমএসডির পরিচালক জানান, কিটের সংকটের চেয়ে বরং সরবরাহ সংকটটাই বেশি। কোনো এলাকার ল্যাবে হয়তো কিট বেশি আছে, কোনো এলাকার ল্যাবে কম আছে। যেখানে কম সেখানে এক দিন বেশি চাপ পড়লে ঘাটতির প্রশ্ন ওঠে। আর সেখান থেকে কেন্দ্রে খবর আসার পর কিট পৌঁছাতে হয়তো কয়েক ঘণ্টা বা দু-এক দিন সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, কিট সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে একটি কিট (আরটিপিসিআর কিট) দুই ভাগ করে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে এক কিটে দুজনের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

(কালের কণ্ঠ, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীর নারান্দিয়ায় ১৩ দিনে ৬টি দুর্ধর্ষ চুরি ও ছিনতাই, আতঙ্কে স্থানীয়রা

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৩ টি গ্রামে ১৩ দিনের মধ্যে ৬ টি দুর্ধর্ষ চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এলাকার মানুষ খুবই আতংকের মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ বলছে অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে। উদ্বেগজনক পরিবেশের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

জানা যায় উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নগরবাড়ী গ্রামের জয়দেব মোদকের বাড়িতে গত ১৬ জুন মঙ্গলবার রাতে দুর্ধর্ষ চুরি হয়। টিন কেটে ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও ১০ ভরি সোনার অলংকার নিয়ে যায় চোররা।

জয়দেব মোদক বলেন ওরা আমার সর্বনাশ করে দিয়েছে।

২৩ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নারান্দিয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে চুরি করে ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা ও ৬ ভরি সোনার অলংকার নিয়ে গেছে।

সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী বলেন এতো ধারাবহিক চুরি আর কোন দিন আমাদের এলাকায় হয় নি। আমরা থানায় জানিয়েছি।

একই রাতে পাশের বাড়ির কাজী রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণ চুরি হয়।

এর পরের দিনই ২৪ জুন বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় নারান্দিয়া বাসস্ট্যান্ডের বিকাশ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীল আলম দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির নিকটে আসলে হাতে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় এক ছিনতাইকারী।

জাহাঙ্গীর আলম পেছনে পেছনে ধাওয়া করলেও তাকে ধরতে পারেন নাই। এই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা কোনদিন ঘটে নাই। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে সাহস পাচ্ছেন না।

২৮ জুন রবিবার দিবাগত রাতে নগরবাড়ী গ্রামের গৌরাঙ্গ ভৌমিকের ৩ টি গরু চুরি হয়। গরুগুলোর দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার উপরে।

গৌতম ভৌমিক বলেন সম্প্রতি আমি গার্মেন্টেসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে এসে গরু পালন শুরু করছি। আমার সবগুলো গরু চুরি হওয়ায় আমি পথে বসে গেছি।

এর পর দিন ২৯ জুন সোমবার ভোররাতে বাঁশজানা গ্রামের সাদেক আলী তালুকদারের স্ত্রীর কান থেকে সোনার দুল ছিড়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় এক চোর। ওই মহিলার কানে ৬ টি সেলাাই দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া লুহুরিয়া গ্রামের এক বাড়িতে চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউনিয়নের নগরাবাড়ী গ্রামের সুশীল মোদকের বাড়িতে রাতে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল চোরের দল। বাড়ির লোকজন টের পেলে চোররা পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি অনেকগুলো চুরি ও ছিনতাই হওয়ায় এলাকার মানুষ খুবই আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। চুরি রোধে নারান্দিয়ার নির্জন চন্দ্র ভৌমিকের বাড়িতে এলাকাবাসী ও পুলিশ বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখা হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মামুদ অভিভাবকদের জিম্বায় তাদের ছেড়ে দেন।

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বলেন আমরা রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না।  দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে।

এবিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, পুলিশ প্রশাসন বর্তমানে করোনা প্রতিরোধে ব্যস্ত। এই সুযোগে চুরি ছিনতাই শুরু করেছে একটি চক্র। একই এলাকায় একাধিক ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করছি।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভাঙন ঝুঁকিতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, আতঙ্কে এলাকাবাসী!

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ফলে এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বন্যার আগেই বন্ধ হয়েছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ইতোমধ্যে বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘরের মধ্যে উঁচু বাঁশের মাচা পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। শত শত পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে ও গবাদিপশু নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, অন্যের উঁচু জমি ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। আবার দেখা গেছে, গোবিন্দাসী টি-রোড থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বের সারপলশিয়া সড়কের গাইড বাঁধের পাশে পলিথিন দিয়ে ছাউনি তৈরি করেছে অস্থায়ী থাকার জন্য। তবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৌঁছেনি কোনো ত্রাণ সহায়তা।

এদিকে, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৪০টি লিকেজ রয়েছে। এরমধ্যে তাড়াই ও গাড়াবাড়ি সড়কের ১০ পয়েন্ট অত্যাধিক ঝুকিপূর্ণ। তার মধ্যে ৭টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে বাকি পয়েন্টগুলো যে কোন সময় পানি প্রবেশ করতে পারে। সড়কের লিকেজ বন্ধ করতে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কাজ করছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার তাড়াই, গাড়াবাড়ি, চুকাইনগর, অর্জুনা ও কুঠিবয়ড়া গাইড বাঁধ পয়েন্টে পানি প্রবেশ করেছে। তারমধ্যে গাড়াবাড়ি পয়েন্টেসহ কয়েকটি স্থানে কাজ চলমান রয়েছে। সড়কের নলিন পর্যন্ত সড়কের পাশে ভাঙনরোধে আগাম প্রস্তুতির জন্য রাখা হয়েছে বালু ভর্তি বস্তা। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে তারাকান্দি-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়ক। আর এ সড়ক ভেঙে গেলে উত্তর টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ঘাটাইল, মধুপুর ও কালিহাতী এই ৪টি উপজেলা নতুন করে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড গাড়াবাড়ি ও তাড়াই পয়েন্টে লিকেজ বন্ধ করতে বালু ও বালুভর্তি প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে যমুনার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি ও লিকেজগুলো বড় আকার ধারণ করলে যে কোনো মুহুর্তে সড়কটি ভেঙে যেতে পারে। এতে তারাকান্দির সঙ্গে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গসহ টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।

অপরদিকে, বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধাক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম ভাঙনরোধ কার্যক্রমের কাজ ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সংসদ্য ছোট মনির, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যায় ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট জানান, উপজেলার বিভিন্ন পানিবন্দি এলাকা ও বন্যায় ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার্তদের জন্য ২৫ টন সরকারি চাল বরাদ্দ এসেছে। তা খুব দ্রুত পানিবন্দি পরিবারদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে তারাকান্দি-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে লিকেজ দেখা দিয়েছে। সেগুলো বন্ধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত প্রকাশ, গত বছর ১৮ জুলাই রাতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী গ্রামের (মলাদহ) নামক স্থানে বন্যার পানিতে লিকেজ হয়ে ৫০ মিটার সড়ক ভেঙে যায়। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, কাল সংবাদ সম্মেলন

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের কাছে বর্তমানে অসহায় হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই মহামারিতে ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত প্রায় পাঁচ মাসে ভাইরাসটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের। আক্রান্ত হয়েছে এক কোটির বেশি।

কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু গেল সোমবার (২৯ জুন) চীন দাবি করেছে, তারা একটি সফল ভাইরাস আবিষ্কার করেছে। ভাইরাসটি এক বছরের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এবার বাংলাদেশেও প্রথম করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের দাবি করেছে অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

বুধবার (০১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিনের সফলতা পেয়েছেন। মানবদেহেও এর সফলতা পাওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন তারা।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকের অনলাইনে দেয়া বক্তব্যে দাবি বলেন, ‘আসলে আমরা কাজ শুরু করার পর প্রাথমিকভাবে এটা নিয়ে সফল হয়েছি। এনিমেল মডেলে এটা সফল হয়েছে। এখন আমরা আশা করি মানবদেহেও এটা সফলভাবে কাজ করবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে যাব। এরপর তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করবো৷’

বিষয়টি নিয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড একটি বিবৃতিও দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। উক্ত সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, উক্ত টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছেন যা ইতিমধ্যেই এনসিবিআই কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রকাশিত হয়েছে।

টিকা আবিষ্কারের বিষয়ে আরও বলা হয়, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর ল্যাবরেটরি এনিমেল মডেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে যথাযথ এন্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।’

টিকা আবিষ্কার নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের এই ভ্যাকসিনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম) ডা. আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের এখনো এমন কিছু জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী তারা বিষয়টি অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে আমাদের জানাবে। এরপর আমরা সেটা দেখব।’

এদিকে, বাংলাদেশে নতুন করে আরও ৩ হাজার ৭৭৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেল। এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮৮৮ জন।

বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জানানো হয়েছিল, দেশে ৩ হাজার ৬৮৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়।

ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

টিকা আবিষ্কার নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

(সময় টিভি, ঘাটাইল ডট কম)/-

গত ৬ মাসে সীমান্তে ২৫ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারত

চলতি ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে। এসব তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সীমান্তে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের সৈন্যদের গুলিতে।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বা আসক।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে উন্নতি ঘটলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি দুই দেশের সীমান্তে। সীমান্তহত্যা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তাতে সীমান্ত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেনি, বরং মাঝে কিছুটা কমার পর সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আবার বেড়ে চলেছে।

তবে বিএসএফ কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে জানান যে সীমান্তে অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা ভারতীয় প্রহরীদের ওপরে আক্রমণ করলে তবেই কেবল প্রাণ বাঁচাতে তারা গুলি চালিয়ে থাকেন।

সীমান্তে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড

গত বছরের প্রথম ছয়মাসে সীমান্তে যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এই বছরের প্রথম ছয়মাসে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, আর নির্যাতনে মারা গেছেন দুই জন।

অথচ ২০২০ সালের প্রথম ছয়মাসে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পুরো সময়টায় ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বা বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৮ জন বাংলাদেশি – যাদের মধ্যে ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন গুলিতে, আর বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়।

কিন্তু ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে বিএসএফ-এর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এমন বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১৪ জন। সে হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।

চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোয়।

অন্যদিকে, জুন মাসেই যশোরে বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত আর একজন আহত হয়েছেন।

সেখানকার স্থানীয় সাংবাদিক সাজেদ রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, যশোরের বেনাপোল সীমান্তে যে এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই কিংবা নদী এলাকা, সেখানেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটছে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন যে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে মোট ২৯৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন।

বছরভিত্তিক সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে মারা যান ৬৬ জন বাংলাদেশি, ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ ও ২০১২ সালে ২৪ জন করে, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৩ জন মারা যান সীমান্তে।

তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে সীমান্তে হত্যার সংখ্যা অনেক বেশি।

সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয় না কেন?

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে হত্যা বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালের এপ্রিলে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। সেখানে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করতে একমত হয় দুই দেশ। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি সীমান্তে।

যশোরের সাংবাদিক সাজেদ রহমান বলেন, “আমাদের এখানে যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের ৯০ শতাংশ গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। আর ১০ শতাংশের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সবগুলো গুলির ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলায়।”

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংখ্যাগত দিক থেকে দেখলে এ রকম ঘটনা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে মনে হতে পারে।

“কিন্তু এই অপরাধ তো সীমান্তের একটা নৈমিত্তিক ঘটনা, সে কারণে পদ্ধতি অনুযায়ী ওদের সাথে আমাদের যে যোগাযোগ করার কথা, সেটা সবসময়েই চলমান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত মানেই কিছু অপরাধ ঘটে। সেগুলো বন্ধ করার জন্য আমাদের কার্যক্রম যা যা করার, সেটা আমরা নিয়মিত করে যাচ্ছি।”

গুলি করে হত্যা করা ছাড়া কি আর কোন বিকল্প নেই?

সীমান্তে হত্যা শূন্যতে নামিয়ে আনা আর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার ব্যাপারে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকবার সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার চলছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী বলছেন, “দুই দেশের সরকারের নানা বৈঠকে সীমান্তে হত্যা জিরোতে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি আমরা দেখেছি। কিন্তু সেটার ব্যত্যয় সব সময়েই ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।”

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “সীমান্তে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়, তাদের পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতিগুলোর বার্তা যায় কি-না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। নাকি এটা মিটিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে?”

তিনি বলেন, দারিদ্র বা ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে মানুষ অনেক সময় সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে তাদের গুলি করে হত্যা না করে সহনশীল আচরণের মাধ্যমে তাদের বিরত করা উচিত।

তাঁর মতে, সেটা নির্ভর করে সীমান্তে যারা দায়িত্বরত রয়েছেন, তারা কেমন আচরণ করেন – তার ওপর।

“সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাগজে-কলমে মিটিংয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সেটাকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য যা যা করা দরকার, দুই পক্ষ থেকে যদি সেটা করা হতো, তাহলে সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আর ঘটতো না,” বলছেন নীনা গোস্বামী।

বিজিবির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলছেন, “আমরা তো সার্বক্ষণিকভাবেই সীমান্তে নিয়োজিত আছি। সীমান্তহত্যা বন্ধে সারাবছর ধরেই আমাদের কর্মকাণ্ড চলমান আছে। বিএসএফের সাথে আমাদের যোগাযোগও সবসময় চলমান আছে। বর্ডার কিলিংয়ের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, পতাকা বৈঠক – সেগুলো নিয়মিতভাবে করা হয়।”

বাংলাদেশিরাও যেনো অবৈধভাবে সীমান্তে না যায় সে ব্যাপারেও সীমান্ত এলাকার মানুষকে সতর্ক করার কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, এক সময় ভারত থেকে আসা গরুকে বাংলাদেশের খাটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনি একটা ভিত্তি দেয়া হতো। কিন্তু গত ছয়মাস ধরে সীমান্ত এলাকার খাটালগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে যা বলছে বিএসএফ

সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতায় বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালীকে বিএসএফ কর্মকর্তারা বলছেন যে পাচারকারীরা প্রহরীদের ওপরে আক্রমণ করলে তবেই “প্রাণ বাঁচাতে” তারা গুলি চালিয়ে থাকে।

তাদের দাবি, যখন থেকে নন-লিথাল ওয়েপন, অর্থাৎ প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করেছে বিএসএফ, তখন থেকেই বিএসএফ সদস্যদের ওপরে পাচারকারীদের হামলার সংখ্যাও বেড়ে গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত দা, কাটারির মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যেমন প্রহরারত বিএসএফ সদস্যদের ওপরে আক্রমণ করা হয়, তেমনই আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা হয় কখনও কখনও।

বিএসএফ বলছে, এই বছরের প্রথম ছয়মাসে বিএসএফের ওপর হামলার ঘটনায় ১২ জন আহত হয়েছে, আর ২০১৯ সালে এ রকম হামলায় আহত হয়েছিলের ৩৭ জন।

বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান এবং গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যে অঞ্চলে বেশি হয়ে থাকে, সেই দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এস এস গুলেরিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “সীমান্তে গুলি কেন চলে, সেই প্রশ্নের জবাব আমরা আগেও নানা স্তরে দিয়েছি।”

“আমরা এবার পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, যে রাতের অন্ধকারে কারা আন্তর্জাতিক সীমান্তে আসে? কেনই বা আসে? বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এদের যে গরু-ব্যবসায়ী বলা হয়, আসলেই কি এরা ব্যবসায়ী না পাচারকারী?”

সীমান্তরক্ষীদের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবি-র প্রায় নাকের ডগায় পাচার হয়ে যাওয়া গরু কেনাবেচার হাট বসে। সেগুলো চলতে দিয়ে কী পাচারকারীদেরই উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না?

মি. গুলেরিয়া জানান, “বিজিবির সঙ্গে আমরা নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান করে থাকি ফেন্সিডিল বা সোনা পাচার হওয়ার সময়ে আটক করা হয়। এছাড়া পাচার হওয়ার সময়ে কত গরু আমরা আটক করি, সেই তথ্যও তাদের দিয়ে থাকি। কিন্তু বিজিবি কত গরু আটক করল, সেই তথ্য কিন্তু আমাদের দেওয়া হয় না।”

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বিএসএফ-এর যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিবাদ ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

বিএসএফ সৈন্যদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ‘অবিশ্বাস্য’ বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ রাজনৈতিক ইচ্ছার ঘাটতি।

“এটা বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নাই। কারণ সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে, সেখান থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে এটা আর হবে না। কিন্তু একজন প্রাক্তন সৈনিক হিসাবে আমি বলতে পারি, যদি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিষ্কার আদেশ থাকে, তাহলে অবশ্যই সেটা না মানার অবকাশ নেই।”

তিনি বলেন, “বাইরে আমরা যেটাই শুনতে পাই, সীমান্তরক্ষীদের কাছে সেই ধরণের কড়া আদেশ নিশ্চয়ই পৌঁছে নাই। তারা যদি নির্দেশ দিয়ে থাকতো, সেটা যদি অমান্য হতো, তাহলে সেটার জন্য তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়ই জবাবদিহি করতে হতো। সেরকম কিছুও আমরা শুনি না বা প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই না।”

জেনারেল মুনীরুজ্জামান পরামর্শ দিচ্ছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও জোরালো ভাষায় এ নিয়ে বলতে হবে। কারণ যারা হত্যার শিকার হচ্ছেন, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বারবার জোর দিয়ে আলাপ করা উচিত।

তিনি বলেন, যদি চোরাচালান হয়, বা বিএসএফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে তাকে গুলি করে মেরে না ফেলে পায়ে গুলি করে বা ভিন্ন উপায়েও ঠেকানো যায়। তাকে আটক করে জেল জরিমানা করা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা দেখা যায় না।

“সীমান্তে চোরাচালান হয় না অথবা গরু চালান হয় না, সেটা কেউ বলতে পারবে না। তবে সেটা শুধু বাংলাদেশের লোকই করে না। (চোরাচালান হয় না) যদি ওই পারের সহযোগী না থাকে। চোরাচালান বন্ধ করতে হলে উভয় অংশেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু গুলি করে এভাবে হত্যা করার পক্ষে কোন যুক্তি থাকতে পারে না,” বলেন তিনি।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ৩ নদীর পানি বিপদসীমার উপরে

টাঙ্গাইলে প্রায় সব কয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা, ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৭ সে.মি., ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭৬ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ৪৫ সে মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর ফলে নদী তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর এবং কালিহাতী উপজেলায় বেশ কিছু এলাকায় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে করে এই ৩ উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে নদী ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও ৪ হাজার ৩৪o হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাবে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় এখন পর্যন্ত ভূঞাপুর, সদর এবং কালিহাতী উপজেলা পানি প্রবেশ করেছে। আর এতে করে ২১ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই ৩ উপজেলায় ৭৫ বর্গ কিলোমিটার প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলায় যমুনার নর্দীর তীরবর্তী আরাই কিলোমিটার রাস্তার বাঁধ (নদীর কিনার) ভেঙে গেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪o হেক্টর ফসলী জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ধান, বোনা আমন, আউশ, পাট এবং সবজি রয়েছ।

জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলায় সবচেযে বেশি মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি দিন দিন বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলসহ নতুন নতুন এলাকায় পানি উঠে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার।

এছাড়া বন্যার আগে যমুনা নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শতাধিক পরিবার। উপজেলার পুরো গাবসারা ইউনিয়ন, গোবিন্দাসী, অজুর্না, নিকরাইল ইউনিয়নের আংশিক এলাকাগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়েছে মানুষজন। ঘরে পানি উঠায় অনেকের রান্না বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়াও পায়খানা ও টিউবওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানি, গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গোবিন্দাসী হতে ভালকুটিয়া পর্যন্ত সড়ক ভেঙে ও তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে।

কষ্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়েছে। বাকিটুকুতে নিজ উদ্যোগে প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরে বস্তা ফেলানো হয়েছিল। কিন্তু বন্যার কারণে ফেলানো বস্তা নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেনকে, টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই, ধলেশ্বরীর, ফটিকজানি পানিতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাঙন রোধে আমরা কাজ করছি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে করোনা পজিটিভ বেড়ে ৬৩৭

টাঙ্গাইলে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলায় নতুন করে আরো ২৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৩৭ জনে।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৮ জন, মির্জাপুর ৮ জন, ঘাটাইল ১, সখীপুর ৩ জন, ধনবাড়ি ৩ জন, ভূঞাপুর ১ জন এবং কালিহাতী উপজেলায় ১ জন রয়েছে।

অপরদিকে এ নিয়ে জেলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হলো।

আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ঢাকায় প্রেরিত নমুনার ফলাফল আজ সকালে আসে। এতে নতুন করে ২৫ জনের পজেটিভ আসে। এদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির পজেটিভ আসে। এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়, সুস্থ হয় ২২৫ জন।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ভূঞাপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত ২৭ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। ওইদিনই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরর্বতীতে আজ করোনার নমুনার ফলাফলে তার পজেটিভ আসে।

অপরদিকে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে জনকন্ঠের স্টাফ রির্পোটার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাসা সখীপুর উপজেলা হওয়ায় তিনি এখানে এসে নমুনা দিয়ে যান। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন।

অপরদিকে সখীপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক বনও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে মির্জাপুরে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ৪ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই কনস্টেবল।

এছাড়া কালিহাতী উপজেলায় পৌজান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-