মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সড়কে শোভাবর্ধণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল-ভূয়াপুর সড়কে কৃঞ্চচূড়া গাছের চারা লাগিয়ে শোভাবর্ধণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ ৩০ জুন মঙ্গলবার বিকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম।

উপজেলার সাধুরগলগন্ডা গ্রামের জাহাজমারা হাবিবুর রহমান বীর বিক্রম স্মৃতি সংসদ এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচির মাধ্যমে ভূয়াপুর- ঘাটাইল সড়কে এক কি.মি. সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই হাজার কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করা হবে।

সাপ্তাহিক জাহাজমারা পত্রিকার সৌজন্যে এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুস্তাকিন কাদেরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার , জাহাজমারা হাবিবুর রহমান বীর বিক্রমের ছেলে সাংবাদিক আতিকুর রহমান এবং ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দ।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি বিউটি, সম্পাদক রিপন 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার ১১৪ সদস্য বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেলা কমিটি আজ ৩০ জুন অনুমোদন করেন।

এই জেলা কমিটিতে নাসরীন জাহান খান বিউটিকে সভাপতি ও কাজী তাজউদ্দিন আহমেদ রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১৪ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ১লা জুলাই ২০২০ থেকে আগামী ৩০শে জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত দুই বছর দায়িত্ব পালন করবে।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে গত রবিবার রাতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের টাঙ্গাইল জেলা গভর্নর সাইফুজ্জামান সোহেল, জেলা শাখার সভাপতি নাসরীন জাহান খান বিউটি, সাধারণ সম্পাদক কাজী তাজউদ্দিন আহমেদ রিপনসহ অন্যান্য নের্তৃবৃন্দ এক মতবিনিময় সভা করেন।

সভায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন,টাঙ্গাইল জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের নির্দেশনা ও কমিশনের গঠনতন্ত্র,আন্তর্জাতিক কর্ম নিদের্শিকা এবং বিগত দুই বছরের কার্যক্রমের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেলা শাখার ১১৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করে কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নবগঠিত কমিটিতে যারা রয়েছেন, তারা হলেন সভাপতি নাসরীন জাহান খান বিউটি, নির্বাহী সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান তালুকদার লিটন, সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু, সহ সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল হক, মোঃ আজগর আলী খান, মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, দুলাল চন্দ্র সাহা, কাওছার আকবর আরিফ, সাধারন সম্পাদক কাজী তাজউদ্দিন আহমেদ রিপন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মামুন-উজ-জামান, সুব্রত চন্দ জয়দেব, নাজমুস সালেহীন, আফরোজা খান রিপা, অর্থ সম্পাদক মোঃ আবু রায়হান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান তাপস, মোঃ আবুল বাসার বাবুল, ডা. সৈয়দ মাহমুদ সালেহ শাহী, মোঃ মোমিনুর রহমান মোমিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা.মোঃ শফিকুল ইসলাম সজীব, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন, শিক্ষা সম্পাদক খন্দকার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিবেশ সম্পাদক মুহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশ, গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ রানা, আইন সম্পাদক এ্যাড.মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন মনি, এ্যাড. রকছি মেহেদী, ফাহমিদা আহমেদ তিথী, এ্যাড.সাদত সাত্তার চাকলাদার সবুজ, শালিসী সম্পাদক মোঃ মুনসুর রহমান, প্রযুক্তি সম্পাদক মোঃ মামুন শেখ, তথ্য সম্পাদক রিবাদ কিরন আকন্দ, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ তানভীরুল ইসলাম হিমেল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মর্জিনা বেগম, সেলিনা আক্তার, তাসলিমা আক্তার বীনা, উল্কা বেগম, শিশু বিষয়ক সম্পাদক পারুল আক্তার, ত্রাণ সম্পাদক মোঃ সেলিম রেজা, মোঃ মোশারফ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোছাঃ ইয়াছমিন আক্তার সাথী, নাজমুল হোসেন খান লাজুক, মনোয়ারা বেগম, শ্রম সম্পাদক মোঃ সালাহউদ্দিন, মোঃ নূর আলম, আইসিটি সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ শাহিনুর ইসলাম, দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম মান্নান, খন্দকার খালিদ সাইফুদ্দিন, সাহিত্য সম্পাদক লিপি খন্দকার রানু, মোঃ সাদেকুল হক সেলিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম, মোছাঃ নাজমুন নাহার এলি, তথ্যানুসন্ধান সম্পাদক মোঃ মোস্তফা কামাল, শামছুর রহমান মিলন, মোঃ তাইজুল ইসলাম টুটুল, পাঠাগার সম্পাদক আবু সাঈদ আজাদ, মিলন হরিজন লিটন, সমবায় সম্পাদক মোঃ মোজাফর হোসেন, মোঃ আঃ মজিদ তালুকদার, প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুল হালিম মিয়া, মোঃ হুমায়ুন কবীর, ধর্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, চন্দন আচার্য্য, প্রকাশনা সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, অনলাইন সম্পাদক মোঃ আল আমিন অর্নব, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম স্বাস্থ্য সম্পাদক ডাঃ মোহাম্মদ রাজু আহমেদ মিঠু, যুগ্ম সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হনুফা বেগম নাজু, যুগ্ম আন্তর্জাতিক সম্পাদক ডাঃ মোঃ আনিছুর রহমান, যুগ্ম শিক্ষা সম্পাদক খন্দকার মনিরুজ্জামান, যুগ্ম পরিবেশ সম্পাদক মোঃ আশরাফউজ্জামান, যুগ্ম গবেষণা সম্পাদক ডাঃ সৈয়দা ফাহমিনা ইরা, যুগ্ম শালিসী সম্পাদক মোঃ গোলাম মওলা মিটলু, যুগ্ম প্রযুক্তি সম্পাদক সুব্রত নাথ তালুকদার, যুগ্ম তথ্য সম্পাদক ছালাম মিয়া, যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ ফারুক খান, কার্যনির্বাহী সদস্য মাতিনুজ্জামান খান সুখন, ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম স্বপন, মোঃ ফরহাদ আলী, হোসনেয়ারা বিউটি, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জাহিন, নুরুল ইসলাম বাদল, মোঃ শাহীন আকন্দ,মোঃ আরাফাত রহমান, মোঃ আহসান হাবীব প্রিন্স, আসাদ-উজ-জামান সুজন, মোঃ আফাজ, শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, মোঃ মোস্তাক আহমেদ খন্দকার, মোঃ নাফিজুল ইসলাম রানা, মোঃ তাজিম উদ্দিন তাজ, সামিউল আলম, সবুজ মাহমুদ,মোঃ মোস্তফা কামাল, মোঃ মোজাম্মেল হক জনি, মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু, নুর মোহাম্মদ নাসিম, মোঃ আসিফ খান, নাজমুল হোসেন, মোসলেমা আক্তার মুন্নি, মোঃ ফেরদৌস জাকারিয়া, মোঃ হুমায়ুন কবীর, সজিব মিয়া, মোঃ জাকির প্রামানিক, মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ ইয়াছিন আলী, মোঃ ইব্রাহিম পারভেজ, মোঃ সামছুজ্জামান, কাশেম মিয়া ও রাজেদা বেগম।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণের ফেন্সিডিল সহ বাবা-ছেলে আটক

টাঙ্গাইলে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভিতর হতে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২ টাঙ্গাইল এর নেতৃত্বে একটি দল জেলার সদর থানাধীন রাবনা বাইপাস এলাকার ফরিদ মার্কেটের মনি ওয়াকর্শপ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় মোঃ বাবলু প্রামাণিকের ছেলে মোঃ সাইদী (২২) এবং মহিরউদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে মোঃ বাবলু প্রামাণিক (৪৮) কে আটক করা হয়। তাদের বাড়ী জয়পুরহাট জেলা সদরের বিষ্ণপুর (বাজার সংলগ্ন) এলাকায়।

সে সময় বিপুল পরিমাণের নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল, ২টি মোবাইল ফোন, ৩টি সিম কার্ড, নগদ ৮০০ টাকা এবং ১টি প্রাইভেটকার জব্দ করা সহ বাবা ও ছেলে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সাক্ষীদের সম্মুখে ধৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অভিনব কায়দায় গ্যাস সিলিন্ডারের ভিতরে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক দ্রব্য ফেন্সিডিল অবৈধভাবে সংগ্রহ পূর্বক টাঙ্গাইল জেলা সহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সরবরাহ করে বলে জানায়।

ধৃত আসামীদ্বয় তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাঙ্গাইল জেলা সহ বিভিন্ন জেলায় মাদকসেবীদের নিকট খুচরা এবং পাইকারী মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী ফেন্সিডিল সরবরাহ এবং যুবকদের মাদক সেবনে উদ্ভুদ্ধ করে আসছে।

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ঘাটাইল ডট কম)/-

মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পোঁছাতে গোপালপুরে বিট পুলিশিং কার্যালয় উদ্বোধন

পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি জনমুখী করতে, মানুষের দোড়গোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে সোমবার পৌরশহরের সূতী কালীবাড়িতে ৩নং বিট ও আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদে ৫নং বিট কার্যালয় উদ্বোধন করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

ওসি জানান, ঢাকা রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি জনাব হাবিবুর রহমান ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার জনাব সঞ্জীব কুমার রায় মহোদয়ের নির্দেশক্রমে গোপালপুর থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।

বিট পুলিশিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং এর ব্যবহার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর বলিষ্ঠ ও প্রকৃষ্ট হাতিয়ার হলো বিট পুলিশিং। বিটে এসে অতি সহজেই সংশ্লিষ্ট বিট সমূহের অধিবাসীগণ মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ যে কোন অপরাধের কথা বলতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সেবা নিতে পারবেন।

তিনি জানান, প্রতিটি বিটের ইনচার্জ হিসেবে একজন এসআই এবং তাকে সহায়তা করার জন্য এএসআই ও কনস্টেবলসহ থাকবে একটি করে স্থায়ী মোবাইল ফোন নম্বর। গোপালপুর থানাধীন ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের জনসংখ্যা, অপরাধ প্রবণতা ইত্যাদি বিবেচনা করে মোট ১০টি বিট প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪টি বিট কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। চলিত সপ্তাহর মধ্যেই বাকী কার্যালয় উদ্বোধন করা হবে।

গোপালপুর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কে এম গিয়াস উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সরকারের একটি প্রশংসনীয় পদপে। এর মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো হচ্ছে এবং পুলিশ ও জনগণের মিথস্ক্রিয়া মধুরতর হচ্ছে। এ পদেেপর ফলে এখন থেকে পুলিশের কাছ থেকে জনগণ তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে বসেই, অতিদ্রুত আইনি সহায়তা ভোগ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস

বক্তব্য রাখেন, থানা তদন্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ূম খান সিদ্দিকী, ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন, এসআই মুকুল মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সোহেল, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রঞ্জু ও মফিজুর রহমান মফিজ প্রমুখ।

(মো. সেলিম হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

উত্তর টাংগাইলের খ্যাতিমান আর্টিস্ট শাহজাহান সাজুর মৃত্যুবরণ

উত্তর টাংগাইলের খ্যাতিমান আর্টিস্ট শাহজাহান সাজু (৭২) মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার গ্রামের বাড়ী ঘাটাইলের দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া এলাকায়।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তিনি মারা যান। খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ১ মেয়ে রেখে গেছেন।

‘সাজু আর্ট’ নামে তিনি সমধিক পরিচিত ও সাইনবোর্ড লেখক হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর ও গোপালপুরে তার অনেক ছাত্র আছে। সৃজল আঁকা আঁকিতে তিনি বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ঘাটাইলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার সৃজনশীল কাজ রয়েছে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’র জন্মকথা

শুরুতেই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহের স্থাপনাকাল সম্পর্কীত একটি ভুল তথ্য নিয়ে আলোকপাত করছি। ঈদগাহের পূর্ব – উত্তর কোনে টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত প্রবেশদ্বারে স্থাপনাকাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯০৫ খৃঃ। তথ্যটি ভুল। ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার সাথে সালটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মূলত ১৯০৫ খ্রীস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের বড়লাট লর্ড কার্জনের আদেশে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়। ১৯১১ সালে প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। এই আনন্দে একই বছর অর্থাৎ ১৯১১ সালে টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানে (বর্তমান শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান) এক করোনেশন- অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই ১৯১১ সালে বর্তমান ঈদগাহ, স্টেডিয়াম, আউটার স্টেডিয়াম, মারকাজ মসজিদ, পার্ক বাজার (চাঁদ বাজার), ভাসানী হল, জিমনেসিয়াম, সরকারি মডেল প্রাইমারি স্কুল সহ এলাকা নিয়ে স্হাপন করা হয় করোনেশন পার্ক এবং করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব।

এর দুই দশক পর অর্থাৎ ১৯৩১ খৃঃ টাঙ্গাইল এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়। এ সময় দুর্ভিক্ষপীড়িত টাঙ্গাইলবাসীর জন্য মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আসাম হতে চাউল বোঝাই নৌকা নিয়ে হাজির হন টাঙ্গাইলে। মাওলানা ভাসানীর প্রথম টাঙ্গাইল আগমন। তিনি টাঙ্গাইল মিউনিসিপ্যাল এলাকার দুর্গত মানুষের খেদমতে প্রথমে এসে কাগমারির হযরত শাহ জামান ( রঃ) মাজারে আশ্রয় গ্রহণ করে রিলিফ বিতরণ শুরু করেন।

পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩২ খৃঃ বর্তমান ঈদগাহের স্থানে মাওলানা ভাসানীর ইমামতিতে প্রথম ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা ভাসানী ইমামতি করবেন এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর ছাড়িয়ে গ্রাম গ্রামান্তর হতে বাঁধভাঙা স্রোতের মতো মুসুল্লি এলেন ময়দানে। যদিও তখনও ঈদগাহ ময়দান ঈদগাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ঈদগাহে নিয়মিত ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এরও অনেক পরে ১৯৫৭ খৃঃ। এ সময় প্রথম ইমামতি করেন হেকিম হবিবর রহমান।

ঈদগাহ হিসেবে ১৯৬২ খৃঃ ময়দান এস এ রেকর্ডভূক্ত হয়। রেকর্ডভূক্ত হওয়ার পর ঈদগাহে নামাজ আদায় সহ সার্বিক উন্নয়ন এর লক্ষ্যে হেকিম হবিবর রহমানকে সভাপতি এবং আব্দুল জলিল খানকে সেক্রেটারি করে এ বছরই অর্থাৎ ১৯৬২ খৃঃ ”ঈদগাহ উন্নয়ন কমিটি” গঠন করা হয়।

১৯৬৪ খৃঃ এডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহেল ওয়াছেক সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়ে ২০১১ সাল অবধি দায়িত্ব পালন করেন। ২০ শতকের আশির দশক থেকে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান ( বর্তমানে মেয়র) সভাপতি হিসেবে পূণর্গঠনের মধ্যে দিয়ে ঈদগাহ কমিটি অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবং প্রতি ঈদের সময় মাঠ প্রস্তুত, সাজসজ্জা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ যাবতীয় দায়িত্ব পৌরসভা পালন করছে।

(ইসমাইল হোসেন সেলিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড

কারোন ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমণ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যার বড় ধরনের বৃদ্ধি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নতুন করে মারা গেছে ৬৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেল ১৮৪৭ জন।

এরআগে সোমবার (২৯ জুন) মৃত্যুর এ সংখ্যা ছিল ৪৫ জন।

এছাড়া এই ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৩৬৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাক্রান্তের সংখ্যা ১,৪৫,৪৮৩জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮,৪২৬টি। শনাক্তের হার ১৯.৯৮ শতাংশ।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে করোনা নিয়ে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৪৪৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৫৪৪ জনকে।

তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৪ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৯ হাজার ৬২৪ জন। সুস্থতার হার ৪০.৯৮% এবং মৃত্যুর হার ১.২৭ শতাংশ।

বয়স বিশ্লেষণে জানা যায়, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৪১-৫০ ছয়জন, ৫১-৬০ ২১ জন, ৬১-৭০ ১৬ জন, ৭১-৮০ ১১ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিনজন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ৫২ জন ও নারী ১২ জন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১ জন ঢাকা বিভাগের। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ (১২ জন)। এদের হাসপাতালে মারা গেছেন ৫১ জন এবং বাড়িতে ১৩ জন।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরের গারো নারী উদ্যোক্তা মুনমুন নকরেকের গল্প

বন থেকে রাস্তার শুরু, বনে গিয়েই শেষ। মাঝখানে গ্রাম ভেদুরিয়া। টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের এ গ্রামে শুধুই গারোদের বসবাস। সবাই বিত্তহীন, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। এ গ্রামের মেয়ে মুনমুন নকরেক। উচ্চশিক্ষা নেয়ার পর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি গারোদের বিলুপ্তপ্রায় কারু ও চারুশিল্প পুনরুজ্জীবনের কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন। তাকে নিয়েই আজকের গল্প।

মুনমুনের মা রোজী নকরেক। বাবা অনন্ত সিমসাং। হত দরিদ্র পরিবারের চার ভাইবোন পেটের তাগিদে বাবামার সাথে কলা ও আনারস বাগানে দিনমজুরি করতেন। স্কুলকলেজের পড়ালেখার খরচ জোগানো ছিল সত্যিই কঠিন। মেধাবী মুনমুন বহু কষ্টে বছর তিনেক আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেন। সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে মুনমুনের কোন মোহ ছিলনা। সব সময় ভাবনা ছিল শেকড়ে। অনটনে মানুষ হওয়ায় বনাঞ্চলের গারো রমণীদের দুর্দশা তাকে ভাবিয়ে তুলতো। সে ভাবনা সব সময় মাথায় ঘুরপাক খেতো। এসব থেকেই নিজ পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা পোক্ত হয়।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসাবে সামনে জোর কদম ফেলার অনুপ্রেরণা দেয়। মুনমুন খেয়াল করেন, সামাজিক বনায়নের নামে মধুপুরের প্রাকৃতিক বন উজাড়ের প্রেক্ষিতে গারোদের চিরায়ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা সংকটাপন্ন। ঐতিহ্যবাহী কারু ও চারু শিল্প, যার মাধ্যমে আয় রোজগার ছাড়াও আদি সংস্কৃতির বিমূর্ত ধারা প্রবহমান ছিল সেটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

গারোদের এ সুপ্রাচীন নন্দনতাত্তিক শিল্পকে নতুন মোড়কে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভঙ্গিমায় পুনরুজ্জীবনের লড়াইয়ে নামেন। পরিবার এ কাজে সাপোর্ট দেয়। এরপর শুরু হয় পথচলা। সে গল্পটা মুনমুনের মুখেই শোনা যাক। বছর তিনেক আগে এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় (গারো সমাজে অনেক অপরাধের বিচার নিজস্ব আচারে সম্পন্ন হয়) সমাজপতিদের দ্বারস্থ হয়ে হতাশ হয়েছিলাম।

তখনই উপলব্ধি করলাম, গারো রমণীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে নির্যাতনের ঘটনা কমবে। আর সেই কাজটি করতে হবে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে। ২০১৮ সালে নকরেক আইটি থেকে অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কোর্স শিখে নেই। এরপর গারো এলাকায় ঘুরে বিলুপ্তপ্রায় কারু ও চারু শিল্পে ব্যাপক ধারনা অর্জন করি।

ছোট বোন নিঝুমকে নকরেককে পাঠানো হয় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আসকি পাড়ায়। যেখানে আদিবাসীদের বিলুপ্তপ্রায় একমাত্র তাত কারখানাটি রয়েছে। সেখানে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ি ফিরেন নিঝুম ।

ঢাকা ক্রেডিট ব্যাংকের ঋণে বাড়িতে টিনের তাত ঘর নির্মাণ ও সরঞ্জাম বসান। চালু হয় খুন্তা টান বা গারো তাত। এরপর মুনমুন আপসান নামে একটি অনলাইন গ্রুপ খোলেন। গারো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী চিত্রকে স্কীনশটে ফুটিয়ে তুলে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের পোশাক গ্রুপে পোস্ট করেন। এতে ব্যাপক সাড়া মেলে। তারপর আপসানের যাত্রা। গারো রমণীরা সুপ্রাচীনকাল থেকেই দকমন্দা, গান্না-মারা, দক-সারি, বাটরেং ও খুটুপ নামক পোশাক পড়েন। এসব ঐতিহ্যবাহী গারো পোশাক দেশে মিলেনা। ভারত থেকে আমদানী করতে হয়। অথচ বিয়ে-সাদী, বড়দিন, নবান্ন উৎসব সহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসব পোশাক পছন্দ গারো রমণীদের। বাংলাদেশে লক্ষাধিক গারোর বাস। সুতরাং মার্কেটটা এক বারে নগণ্য নয়। তাছাড়া এসব ফ্যাসনেবল, আপডেটেড ও ইউনিক পোশাক ইউরোপ ও আমেরিকার সৌখিন মানুষরাও পছন্দ করেন।

ভারতের মেঘালয়ে বিপুল সংখ্যক গারো বসবাস করেন। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হলে সেখানেও রফতানি সম্ভব। আপসানের পাঞ্জাবী, ফতুয়া, গামছা সহ কিছু পণ্য বাঙ্গালীদেরও পছন্দ। কারণ দক্ষ ও নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় আপসান পণ্য যেমন টেকসই তেমনি হাতের কাজের অলঙ্করণে রয়েছে নতুনত্বের ছাপ।

নিঝুম ছাড়াও মামাতো বোন মিলন সিংসাম, মা রোজী নকরেক রাতদিন খেটে হাতেই তৈরি করছেন এসব বাহারি পোশাক। মুনমুন শুধু ডিজাইন ও অনলাইনে বিক্রির কাজ করেন। আর বাড়িতে বুনন কুশলের নিজস্ব স্টাইল, নকসা ও অলঙ্করণে গারো ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি হয় বৈচিত্র্যময় পোশাক।

কারু শিল্পের সাথে চারুর যোগসাজশে যে ঝলমলে পোশাক সেটি ফ্যাশন দুরস্ত গারো তরুণদের ফিউশনে পরিণত হয়েছে। নিজস্ব ডিজাইন ও আইডিয়ায় তৈরি জামা, কুর্তা, পাঞ্জাবী, ফতুয়া, কুটি, মাপলার, উত্তরীয়, ওড়না, কুশন কভার, কটি ব্যাগের চাহিদা বাড়ছে। আপসান নিজস্ব কৃষ্টিকে পেইন্টিং ও স্কীনশটের ছাপে টি-শাট তৈরি করছে। মগের সরা চিত্রে, ব্লাউজ টপসে, কাঠের গয়নায়, পুঁথি মালায়, গারো মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টস, বাঁশ ও বেতের সৌখিন পণ্যে এবং বর্ণিল শোপিস কালেকশনে থাকছে এসব চিত্র ও অলঙ্করণ। বনবাসিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হারিয়ে যাওয়া গারো চিত্র শিল্পের আবহে ডেকোরেশনের কাজও করছে আপসান।

দেশে অনলাইনে আর বিদেশে হাতে হাতে, আত্মীয়স্বজন বা পরিচিত জনের মাধ্যমে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালী, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, লেবানন, হংকং ও তাজিকিস্তানে যাচ্ছে আপসানের ১১ পণ্য। মুনমুনের কনিষ্ঠ বোন নিঝুম নকরেক জানান, মা এক সময় দিন মজুরী ও সেলাইয়ের কাজ করতেন। বাবা ভ্যান চালাতেন। ছোটবেলা থেকেই সব ভাইবোন মায়ের সাথে আনারস ও কলাবাগানে কামলার কাজ করতাম। অভাব দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করেই আমাদের বেড়ে উঠা। আপসান পণ্যের মার্কেট দিন দিন বাড়ছে। আমরাও লাভের মুখ দেখছি।

মুনমুনের মা রোজী নকরেক জানান, অনটনের সংসারে মেয়েরা ছোটকাল থেকেই দিনমজুরী করতো। কঠিন দিন ছিল তখন। কোন কোন দিন সিদ্ধ বন আলু মুখে তুলে স্কুলে যেতো বাচ্চারা। ছোটকাল থেকেই মুনমুন ছিল মেধাবী। নিঝুম এখনো তাতের কাজে উদয়াস্ত শ্রম দেয়। রাতে পড়ালেখা করে। স্থানীয় কলেজ থেকে এবার গ্রাজুয়েশন করবে। বড় ছেলে গারো প্রথানুযায়ী বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি জামাই গেছে। ছোট ছেলে এখনো স্কুলে পড়ছে। বাবাকে মুনমুন কয়েকটি গরু কিনে দিয়েছে। পাহাড়ে সকাল-বিকাল গরু চরিয়ে সুখেই দিন কাটে তার। সংসারে খাওয়াপরার কোন সমস্যা নেই। এখন সচ্ছল তারা।

গারো নারী সংগঠন আচিকমিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা ম্রং জানান, গারোদের হারাতে বসা ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে মুনমুন নতুন ধারায় ফিরিয়ে এনেছে। এতে সুলভ মূল্যে গারো পোশাক ও চারু পণ্য যেমন মিলবে তেমনি দরিদ্র গারো রমণীদের নতুন কর্মসংস্থান হবে। দেশবিদেশে গারো কারু ও চারু পণ্য নতুন করে পরিচিতি পাবে। এক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নকরেক আইটির গ্রাফিক ডিজাইনার ও চীপ এক্সিকিউটিব সুবীর নকরেক জানান, মেধাবী মুনমুন উচ্চশিক্ষার পর সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন। আপসান পণ্য গুণে মানে অনন্য। দেশবিদেশে চাহিদাও বেশ। গারো রমণীদের মধ্যে মুনমুন এখন আইকন। সাবেক কলেজ শিক্ষক এবং গারো নেতা বাবুল ডি নকরেক জানান, আদিবাসী গারোদের বিলুপ্তপ্রায় কারু ও চারু শিল্পকে স্ব মহিমায় প্রতিষ্ঠা করার কঠিন লড়াইয়ে নেমেছে মুনমুন।

(সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

আহমেদ ছফার জন্মদিন এবং কিছু কথা

লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, চিন্তাবিদ আহমদ ছফার জন্মদিন আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন)। ১৯৪৩ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন বাবা-মার দ্বিতীয় সন্তান।

১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন; একই বৎসরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে। পরে বাংলা বিভাগে ক্লাশ করা অব্যাহত রাখেননি। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে এমএ পরীক্ষা দেয়ার আগেই বাংলা একাডেমির পিএইচডি গবেষণা বৃত্তির জন্য আবেদন করেন এবং তিন বছরের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের জন্য মনোনীত হন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে প্রাইভেটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পরীক্ষা দেন। তার পিএইচডি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

১৯৭১ সালে ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’ গঠন ও এর বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নেন। ৭ই মার্চ ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা’ হিসেবে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এপ্রিল মাসে কলকাতা চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সেখান থেকে দাবানল নামের পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশে ফিরে লেখালেখি করতে থাকেন। ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন মোস্তানের সহায়তায় কাঁটাবন বস্তিতে ‘শিল্পী সুলতান কর্ম ও শিক্ষাকেন্দ্র’ চালু করেন।

পরে ১৯৮৬-তে জার্মান ভাষার ওপর গ্যেটে ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রিও লাভ করেন তিনি, যা তাকে পরবর্তী সময়ে গ্যেটের অমর সাহিত্যকর্ম ফাউস্ট অনুবাদে সহায়তা করেছিল।

আহমদ ছফা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন দীপ্তিময়ভাবে। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনি মিলিয়ে তিরিশটির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার জনপ্রিয় লেখা হলো আব্দুর রাজ্জাক স্যারকে নিয়ে লেখা “যদ্যপি আমার গুরু”, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানের মন, গাভী বিত্তান্ত, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ, অলাতচক্র।

প্রতিষ্ঠানবিরোধী আহমদ ছফা ১৯৭৫ সালে লেখক শিবির পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমির সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সাহিত্যে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন।

২০০১ খ্রিষ্টাব্দের আটাশে জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

২।

মনীষী লেখক, দার্শনিক, ও কবি আহমদ ছফাকে নিয়ে লেখার জন্য করোনাকালে কবিগুরুর বয়ানে ‘যাসনে ঘরের বাহিরে’ বিধান উপেক্ষা করে বাংলা একাডেমির ভেতরে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের ছবি তুলতে গিয়েছিলাম। গত ২৫ জুন তোলা ছবিগুলোর একটি আমার ফেসবুকে প্রকাশ করেছি। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ঢাকা শহরে অগ্রণী ব্যাংকের কয়েকডজন শাখা থাকতে বাংলা একাডেমির শাখাটির ছবি কেন? এই কৈফিয়ত দেয়ার আগে দুটো কথা বলে নিতে চাই।

১৯৯৬-৯৭ খ্রিষ্টাব্দের কথা। সরকারি জগন্নাথ কলেজের (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্র হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় সরকারি অফিসে অফিসে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে ও রিপোর্ট লিখতে। একটা রিপোর্ট প্রকাশ হলে তখন যে আনন্দ হতো এখন ৫০ হাজার টাকা পেলেও তার সমান আনন্দ পাই না। একটি লেখা প্রকাশ হলে সহপাঠীদের অনেকে ঈর্ষার চোখে দেখতো। তখন তা খুব মজার বিষয় ছিল।

তবে, এই লেখালেখিতে কত টাকা পেতাম তা সাংবাদিকদের বেতন-কড়ির খবর যারা রাখেন তাদেরকে আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। টাকা বড় বিষয় নয়, ছাপার অক্ষরে লেখা প্রকাশ হয়েছে সেটাই ছিল পরিতৃপ্তির বিষয়।

সেইসব দিনগুলোতে ঢাকার বাংলামোটরে আহমদ ছফার বাসা অথবা শাহবাগের আজিজ মার্কেটের আড্ডাখানায় প্রায় প্রতিদিনই যেতাম। আড্ডা ছাড়াও আমার কাজ ছিল ছফা ভাইয়ের লেখার ডিকটেশন নেয়া। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন ছফা ভাই। বিশেষ করে সাহিত্যপাতায় তার লেখা বেশি ছাপা হতো। তখন ডিজিটাল পদ্ধতি ছিল না। মোবাইলও ফোনও খুব কম ছিল।

ছফা ভাইয়ের একটা ৯৬৬.. টিএন্ডটি নম্বর থাকলেও আমার কোন ফোনই ছিল না। অগত্যা ফোন-ফ্যাক্সের দোকান থেকে মাঝে-মধ্যে ফোন দিয়ে জেনে নিতাম কখন কোন লেখার জন্য বাসায় অথবা আজিজে যেতে হবে। এই যে টাকা নেই তারপরও টাকা খরচ করে ফোন করতাম কেন? আমার লাভের জন্যই। দুইভাবে লাভ। যেসব লেখার ডিকটেশন নিতাম সেগুলোতে  লেখক ছফা ভাইয়ের নাম থাকতো। আর নিচে লেখা থাকতো, অনুলিখন: সিদ্দিকুর রহমান খান।

ছফা ভাইয়ের লেখার সাথে আমার নাম যাচ্ছে তা সে সময় আমার কাছে এটার যে কি মূল্য তা এখন পুরোটা বোঝাতে পারবো না। রীতিমতো গর্ব করতাম। এখানেও সহপাঠী ও সহকর্মী সাংবাদিকদের ঈর্ষাপরায়ণতাটাকে উপভোগ করতাম। ওই সময়ে ছফার মতো মনীষীর নামের সাথে আমার নাম ইত্তেফাক, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছাপা হওয়াকে বিশাল পাওয়া মনে করতাম।

দৈনিক পত্রিকার হার্ড রিপোর্টার হিসেবে নিজের লেখা হাজার হাজার রিপোর্ট প্রকাশ হলেও ছফা ভাইয়ের নামের সাথে আমার নাম প্রকাশ হওয়াটাকেই আমার কাছে ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন মর্যাদার মনে হতো, এখনও হয়। এখনও মনে করি বিশাল সৌভাগ্য আমার, ছফার এ্যাতো এ্যাতো স্নেহ পেয়েছি। এখনও কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘সিদ্দিক, আপনার সাথে তো আহমদ ছফার জানাশোনা ছিল, তাই না। তখন ঘুরিয়ে আমি বলি, শুধু পরিচয় ছিল না। আহমাদ ছফার অনেকগুলো প্রবন্ধ/নিবন্ধ ও বইয়ের মধ্যে যে সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান খানের উল্লেখ দেখেন সেই সিদ্দিকুর রহমানই আমি’।

প্রিয় পাঠক, এবার আসি অগ্রণী ব্যাংকের ছবি তোলা প্রসঙ্গে। ২৫ জুন ছবি তুলতে গিয়েছিলাম। দেখলাম আগের সেই জীর্ণ ভবনটি নেই। কাঁচঘেরা অত্যাধুনিক এক ভবন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে তুলতে মনে পড়ছিল সেই ম্যানেজার সাহেবের কথা। তাঁর নামটি অনেকবছর মনে রেখেছিলাম, এখন মনে পড়ছে না। এই ম্যানেজার সাহেব অন্য দশজন ম্যানেজারের চেয়ে আলাদা। আহমদ ছফার সাথে সখ্য না থাকলেও ছফার লেখালেখি এবং আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানা ছিল তাঁর।

খুব সম্ভবত ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের শেষদিকে। দুদিন ধরে ছফা ভাই আমাকে বলছেন, সিদ্দিক তোমাকে কিছু টাকা দেবো। আমার খুব খুশি হওয়ার কথা থাকলেও জানতাম ছফা ভাইয়ের টাকা নেই। তাই নিম্ন স্বরে বলতাম, না ভাই, দরকার নেই। আমি অফিস থেকে কদিন আগেই কিছু টাকা পেয়েছি। যদিও সংবাদপত্র অফিস থেকে টাকা পাওয়ার কথাগুলো কতটা সত্য বা সত্যের কাছাকাছি তা আমি ছাড়া আর কে জানতো!

যাহোক, এক সকালে ছফা ভাইয়ের বাসায় গেলাম। এক নাগাড়ে তিনটা বড় লেখা লিখতে দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল। তখন কর্ণফুলি পেপার কোম্পানির লম্বা সাইজের সাদা কাগজে লিখতেন ছফা ভাই। এক পাতায় লিখতে হতো। এপিঠ-ওপিঠ লিখতে মানা। লেখা শেষে আমার হাতে একট চেক দিলেন। চেকের দিকে তাকালাম না। ভাজ করে পকেটেও ঢুকালাম না। শুধু বললাম ছফা ভাই লাগবে না। বললেন, তাড়াতাড়ি যাও ব্যাংক আওয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বাংলামোটর থেকে মনে হয় বাংলা একাডেমির অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যেতে আমার পনেরো মিনিটের বেশি লাগেনি। অগ্রণী ব্যাংকে ঢুকে চেকটা দিতে চাইলাম একজনের কাছে, তিনি ইশারা করে বললেন, এখানে না ওখানে। গেলাম সেই ডেস্কে। চেকটা রেখে একটা পিতলের টোকেন ধরিয়ে দিল মনে হয়। পুরোটা মনে পড়ছে না। কিছুক্ষণ পড়ে একজন অফিস সহকারী টাইপের ভদ্রলোক লোক এসে বললেন, সিদ্দিকুর রহমান খান কে? আমি এগিয়ে গেলাম। বললেন, আসেন আমার সাথে। তিনি নিয়ে গেলেন ম্যানেজার সাহেবের রুমে। ম্যানেজারের হাতে থাকা চেকটার দিকে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম লাল কালি দিয়ে কি যেন লিখেছেন ব্যাংকেরই কেউ। আমাকে আর টাকা দেবে না এমনটা সন্দেহ হলো। মন খারাপ হলেও বুঝতে না দেয়ার চেষ্টা করে যেতে থাকলাম।

চশমার ফাঁক দিয়ে ম্যানেজার সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন ছফা সাহেব আপনার কি হন? আমি কি করি? কখন এই চেক লিখে দিয়েছেন ছফা সাহেব? এ্যাতো এ্যাতো প্রশ্ন শুনে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। তবুও জবাব দিলাম। সব  শেষে জিজ্ঞেস করলেন, এই টাকা দিয়ে আমি কি করবো? আমার উত্তর শুনে ম্যানেজার সাহেব খুব খুশি হয়েছেন মনে হলো। লাল কালি দিয়ে আকাঁবুকি করা চেকটার ওপর ফের কি যেন লিখলেন ম্যানেজার সাহেব। ক্যাশিয়ার বা ক্যাশ শাখার কেউ একজনের সাথে ম্যানেজারের আলাপে বুঝলাম ছফা ভাইয়ের ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিনশ টাকা ছিল না। দুশো অথবা দুশো পঞ্চাশ টাকার মতো ছিল। তবু, মনীষী ছফার চেকটি ডিজঅনার করেননি। তিনশ টাকাই দিয়েছিলেন আমাকে।

ম্যানেজার সাহেব আমাকে বললেন, ছফা সাহেবকে বলবেন, খুব তাড়াতাড়ি যেন কিছু টাকা এই শাখায় জমা রাখেন। ম্যানেজারের মুখের দিক তাকিয়ে ধন্যবাদ দিয়ে বের হলাম। ক্যাশ শাখা থেকে একজন ডেকে নিয়ে আমাকে তিনশ টাকা দিলেন। আমি ব্যাংকের ভেতরে থেকেই গোপন পকেটে টাকাগুলো ঢুকিয়ে সোজা হাঁটা শুরু করলাম ছফা ভাইয়ের বাসার দিকে। এবার পকেটে টাকা আছে। এবার মনে হয় দশ মিনিটে  পৌঁছে গেলাম বাংলামোটরে।

টাকাগুলো হাতে দিতে চাইলে ছফা বললেন, ‘আরে বোকা এটাতো তোমাকে দিয়েছি। যাও অফিসে যাও। কাল বিকেলে আজিজে এসো। মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে আজকের কাগজের জন্য একটা লেখা দিতে হবে। সাহিত্য সম্পাদক সালাম সালাহউদ্দিন সাহেব ফোন দিয়েছিল।’

আমার কাছে মনে হলো ম্যানেজার সাহেব যা বলেছেন এবং আমিও ম্যানেজারের প্রশ্নবানে যে ভড়কে গিয়েছিলাম তা ছফা ভাইকে বলা দরকার। সবশেষে বললাম, ম্যানেজার বলেছেন খুব শিগগিরই যেন কিছু টাকা জমা রাখেন। শুনে হেসে দিলেন ছফা। বললেন, বুঝতে পেরেছো, তিনশ টাকা ছিল না আমার এ্যাকাউন্টে। তবুও তোমাকে টাকা দিলেন। ম্যানেজারের নামটা আবার বলো সিদ্দিক।’

পাদটীকা : দুই যুগেরও বেশি সময় আগের ছফাভক্ত সেই অসাধারণ ম্যানেজারের নামটা ভুলে যাওয়া বা তার খোঁজ না রাখা আজও আমার কাছে অপরাধ মনে হয়। আর মাত্র কয়েকবছর আগে সরকারি বেসিক ব্যাংক যে ‘সরল বিশ্বাসে, কোনো কাগজ বা গ্যারান্টার ছাড়াই এক ব্যক্তিকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দিলেন।’ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনগুলো এবং ঋণ গ্রহীতার নাম এবং বেসিক ব্যাংকের সেই শাখার ম্যানেজারের নাম মনে রাখাও অপরাধ!

আহমদ ছফা বেঁচে থাকলে এইসব অপরাধের রকমফের নিয়ে দারুণ লিখতেন। তাঁকে মিস করি, তাঁর লেখা মিস করি।

৩।

আহমদ ছফার একটি কবিতা বা গান নিয়ে এই লেখা।
ঘরে পরে তফাৎ আমার
কখন গেছে মুছে
তবু লোকে সকাল বিকাল
ঘরের খবর পুছে।
আসতে যেতে নানান মানুষ
ঘরের খবর লয়
আমার কখন ঘর ছিল কি
মনেতে সংশয়
হাল সাকিনের লজ্জা আমার
কেমনে জানি মুছে।

যদি বলি ঘরটি হবে
সাগর জলের নিচে
ঘাড় দুলিয়ে বলবে মানুষ
কখখনো নয় মিছে
নিত্যি নতুন ঘরের খবর
শ্রবণে না রুচে।
যদি বলি ঘরটি হবে
নীল আকাশের নীলে
মিটিমিটি চেরাগ জ্বলা
লক্ষ তারার বিলে
বলবে মানুষ সে সব খবর
সত্য হবার নয়
তবু লোকে সকাল বিকাল
ঘরের খবর পুছে।

আহিতাগ্নি/আহমদ ছফা


পরকে আঁকিবার এহেন দৌলতের নাম পরকীয়া। মানে পরকে পরখ করিয়া লওয়া। মনকে আঁকিয়া লওয়া বলা যাইবে।


জার্মান গুরুকবি যোহান ভলফ্‌গ্যাঙ ফন গ্যেটে তাহার জীবনের ‘সত্য আর কল্পনা’ (Dichtung und wahrheit) বহিতে সাংঘাতিক ঘটনা চাউর করিয়াছেন। বহিতে ওয়ের্থার রচনায় গ্যেটের ভাষ্য, ‘আমি এক ইংরেজ ভদ্রলোকের গল্প শুনিয়াছি। যিনি নিত্যদিন পোশাক বদলের বিড়ম্বনার হাত হইতে বাঁচিবার তাগিদে গলায় রশি দিয়া আত্মহত্যা করিয়াছেন। অপর একজন চিত্তবৈভবের প্রভু। একদিন বাগানে বেড়াইতে বেড়াইতে চিৎকার করিয়া বলিলেন, বৃষ্টি ভরা মেঘের পশ্চিম হইতে পূর্বদিকে যাইবার দৃশ্যই কি আমাকে জীবনভর দেখিতে হইবে? তেসরা, আমার দেশের এক বিখ্যাত আদমি—যিনি বসন্তে পত্রপল্লবে সবুজ দেখিয়া যারপরনাই ক্লান্ত হইয়া বলিলেন, এইবার না হয় তো লাল হইতে পারিত! কত না নানা রকমফেরে মানবসন্তান আত্মহত্যা করিতেছে।’ তিন আদমির আত্মহত্যা কি সরল পদার্থ? গ্যেটে আরো জানাইতেছেন, ইংরেজ জাতি কথায় কথায় আত্মহত্যা করিতে উস্তাদ।

গ্যেটে কারণ হিশাবে দেখাইতেন, জীবনের বড় দায় দেহ আর মনের। কেননা মনের দায় মিটাইতে না পারিলে জীবনের দায় মিটাইবে কী করিয়া? মন তো দেহের মহাশয় বটে। মনে জাগিলে দেহ তাহা ঘটাইবে। আর জীবন তাহাতে ভর করিয়া চলে। চলা আর চালাইবার গতিই তো মন। দেহ তার আধার মাত্র। তাহা নহে কি? তাঁহার চারিত ঘটনায় তিন আদমির আত্মহত্যার কারণ কি সামান্য? তাহা অতি কম নহে, বরং বেশি। দুনিয়াবি সাহিত্যের বাজারে শোনা, মহাত্মা গ্যেটে মনের জগতে খুঁড়িয়া বেড়াইতেন। গ্যেটে তরুণ বয়সে রাতালি সময়ে বুকের ’পরে নাঙা ছুরি ঘুরাইতেন। আর মৃত্যুকে কিভাবে সহজ করা যায় তাহাই ভাবিতেন। তো গ্যেটের লাহান আহমদ ছফাও নাকি কোমরে বিষের বোতল রাখিতেন। এহেন রাখার ভিতরে গ্যেটের ভাব কি ছফার ভিতরে ছিল? তবে সত্য, দৈহিকভাবে গ্যেটে আত্মহত্যা করেন নাই। আর বিষ পান করেন নাই আহমদ ছফাও। দুই মনীষীর ভিতর অদ্ভুত মিল এইখানে।

তাহারা হয়তো ভাবিয়াছিলেন, এই জীবন লইয়া কী করিব? কোথায় রাখিব দেহ? শুদ্ধ ‘ঘর’ নামক বোতলে বন্দি করিলে জীবন-নামক পদার্থের পদ খাটো হইতেছে। তাহাতে পরও দরকার। পরকে আঁকিবার এহেন দৌলতের নাম পরকীয়া। মানে পরকে পরখ করিয়া লওয়া। মনকে আঁকিয়া লওয়া বলা যাইবে। আর পর বাসা বাধিলেই ঘর বাক্য হইয়া ওঠে?

বাংলার মনীষী আহমদ ছফার কবিখ্যাতি বিশেষ নাই, এহেন কথা আমরা হলফ করিয়া বলিতে পারিব না। কবিখ্যাতি তাহার গানের লাহান। গান টান মারিলে প্রাণও নড়িয়া ওঠে। টান দেখিব কিসে? কবি হিশেবে তাহার বিশেষ কুখ্যাতিও রহিয়াছে তেমন সাক্ষ্য-প্রমাণ নাই। তাহার কারণ বিস্তর। কারণের আস্তর তুলিতে আমাদের পাড়া কথা খানিক পাড়াতে পাড়াতে রটাইব। আমাদের রটনার নাম ‘সত্য’। আস্তরের নাম ‘মায়া’। জনে জনে জিজ্ঞাসিতে পারেন, সত্যের জমিনে মায়া কী পদার্থ? বাংলা চিন্তার জগতে ‘মায়া’ বা ‘মা’ স্ত্রীলিঙ্গ বিশেষ। আমরা মায়ার অন্য অর্থ দেখিতে পাইতেছি। মায়া মানে মা ভাবের আয়া। আয়া ভাব মা ডাকিলেই মায়া ভাব জাগিয়া যায়। বলা যাইতে পারে, মা ভাব যাহাতে আসিয়া বাসা বাঁধে। এই বাঁধা লিঙ্গের বাঁধা নহে। তাহা লিঙ্গেরও অধিক কিছু বাড়া। এহেন ‘বাড়া’কে কি আমরা কায়া বলিতে পারি? না, তাহাতেও এক বেহায়াপনা মাথাচাড়া দিয়া উঠিতেছে। তাহা ছায়া বা ঘর। ভাবার্থ ধরিলে ‘ঘর’ মালটা তো আস্তর অশেষ। আস্তরের পলেস্তরা খসিলে গোপন রহস্য আর গোপন থাকিতেছে না। তাহাতে ছায়াও ছায়াহীন হইয়া পড়ে। ঘরও পাইতেছে পরের আকার। ঘরকে পরের রূপই তো পরকে অপর করিবার আদি নিয়ম। তাহা কী রকম?


ইংরাজ বুদ্ধিজীবী জন মিল্টনের মতে, সহজ-সরল, ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও আবেগের চেরাগ জ্বালানোই কবিতা।


মহাত্মা ছফা রচিত অনেক কবিতায় ঘরের খবর চাউর করিয়াছেন। আলোচনার স্বার্থে আমরা মহাত্মা আহমদ ছফার আহিতাগ্নির বার নম্বর কবিতাখানি বাছিয়া লইলাম। ছফার কবিতায় তথাকথিত আধুনিকতাবাদীদের মতো ভানভণিতা নাই। নাই কলাকৈবল্যবাদীদের আঙ্গিকের বৈকল্য। আঙ্গিক যাহাতে বিষয়াবলিকে ক্ষুণ্ন করিয়া থাকে ছফা সেই আইলে পা রাখেন নাই। ফলে তাহার কবিতা কাইলও পড়া যাইতে পারে। তাহার কবিতার সরল তর্জমা এই—জগৎসংসারে তিনি ঘর আর পরের তফাৎ ঘুচাইয়া ফেলিয়াছেন। তবুও লোকে তাহাকে পুছ করিতেছে ঘরের খবর। লোকের এহেন জিজ্ঞাসায় ছফার মনে সংশয়—আমার কখনো ঘর ছিল কি?

কবি কহেন, সাগর জলের নিচে কিংবা নীল আকাশের নীলে আমার ঘর। না না, তাহাতে লোকে কয়, সেসব খবর সত্য নয়। তাহার পরও লোকে পুছে ঘরের খবর কী! মানবসংসারে এহেন কলা কাঁদির মতো যেন আঁটি আঁটি ঝুলিয়া থাকে। গোপন বাসরেও সার সার কলা ঝুলিয়া আছে যেন!

ইংরাজ বুদ্ধিজীবী জন মিল্টনের মতে, সহজ-সরল, ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও আবেগের চেরাগ জ্বালানোই কবিতা। ইন্দ্রিয় তো আবেগের বায়ুধার। প্রশ্ন জাগিতেছে, কবিতার আয়ুই-বা কোথায়? যাহা ইন্দ্রিয়ানুভূতি আবেগের আধার তাহা কি সহজ সরল হইবে? না সেই রকম সরল শপথ কবিতায় নাই। এমন ধরাবাঁধা বালাই কবিতা কতখানি কবিতা তাহাও দেখিবার বিষয় বটে। কেননা একক বান্দার চেতনা তাহার অস্তিত্ব নির্ধারণ করিতেছে না। তাহার অস্তিত্ব নির্ধারণ করিতেছে ব্যক্তির অপর। পর-অপরের সম্বন্ধের নামই তো মিলন।

যাহাকে আমরা ছপ্পর মারিতেছি সামাজিক চেতনা বলিয়া। এই চেতনা একা চলিতেছে না। একা চলিতেই পারে না। তাহার অঙ্গে সঙ্গ চায়। এইরূপ সঙ্গ অপরের সহিত সম্বন্ধ করিতেছে। করিতেছে কি?

ধুরন্ধর কবি জন মিল্টনের এহেন তত্ত্বকে খানিক আড়মোড়া মারিয়াছেন স্পেনের যুদ্ধে শহিদ ইংরাজ বুদ্ধিজীবী র‌্যাল্ফ ফক্স (১৯৯০-১৯৩৭)। ফক্স তাহার কাহানি ও মানুষ বহিতে কহিলেন অন্যকথা, ‘সৃজনের মর্ম পরম, যাহা বাস্তবের লড়াই’। আর এই বাস্তবের ভিতর দিয়া সত্যের উৎপাদন করা। বাস্তব নির্ধারিত হইলে অবাস্তবও নির্ধারিত হইবে। কেননা বাস্তবের অচিন রূপ অবাস্তব বটেন। আর বাস্তবই বলিতেছে অবাস্তব কী মাল! মিল্টনের বড় দোষ কবিতার সংজ্ঞায় ভাষা প্রশ্নখানি মীমাংসা করেন নাই। আমরা বলিতেছি না, ভাষা মাত্র চরম। বলিতেছি ভাষার পরমের কথা। কহিতে শরম নাই আজি। তাহা কী?


ছফা বর্ণিত ‘আমার’ শুধু আত্মরতির ‘আমি’ বা নিছক ‘বান্দা’ থাকিতেছে না। ‘আমার’ হইতেছে তফাৎ ঘর আর পরের যৌথ উৎপাদন।


পশ্চিমের ডাহা ডাহা পণ্ডিতেরা বলিয়াছেন, ভাষা পদার্থখানি প্রকৃতি সারিত। মানে বস্তু বিশেষের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ। প্রশ্ন জাগিতেছে, ভাব মালটা আসে কোথা হইতে? খোদ বস্তু হইতে নাকি পরমের কোঠা হইতে? বলা দরকার, বস্তুমাত্র ভাব। ভাব মাত্রই বস্তু নহে, বস্তুর অধিক কিছু। তাহা হইলে অধিক কিছুই পরম নয় কি? যাহাতে বন্তু ও পর ভাবের ওম পায়। জনে জনে জিজ্ঞাসিতে পারেন, ছফার কবিতায় ভাবের ওম বহিতেছে কোথায়? উত্তর উপরে নহে, গভীরে।

জন মিল্টনের পাটাতনে বসিয়া খালি কতক ইংরাজ কবি নহে, কত কত বাঙালি কবি শহিদ হইয়াছেন তাহার খবর রাখিতেছে কে? প্রভু যুদ্ধের ময়দান কতদূর? নদ আর নদীতে কতইবা রক্ত বহিতেছে আর। নিছক ইন্দ্রিয়ানুভূতির আবেগের রসে ছফা সিক্ত হইতে চাহেন নাই। ছফা খানিক রক্তাক্ত হইয়াছেন। তাই ছফার মন সংশয়ী। কবিতায় তাহার জিজ্ঞাসা, আমার কখনো ঘর ছিল কি? সকলেই জানেন, বাংলা তালুকে ছফা জমিনদারির প্রভু হয়েন নাই। ব্যক্তিগত জীবনে ধুরন্ধর বুদ্ধিকে পুঁজি করিয়া রাষ্ট্রের অর্থকড়িও বেহাত করেন নাই। এই না করিবার আদিতে কি সামাজিক চেতনা কাজ করিয়াছে? বাংলা অর্থবিদ্যা মতে, ‘ঘর’ শব্দখানি সংসার আর খানিক বাসস্থান অর্থে চালু। ছফার কবিতায় ঘর শব্দখানি আরো নতুন অর্থে গড়া। তাহা কেমন?

তাহার কবিতার ভাষ্য—

ঘরে পরে তফাৎ আমার
কখন গেছে ঘুচে
তবু লোকে সকাল বিকাল
ঘরের খবর পুছে।

ছফার জগতে ঘর আর পরে ফারাক ঘুচিয়া গিয়াছে। কেননা ‘তফাৎ’ বা ‘বৈষম্য’ বিরুদ্ধে লড়াই তাহার সার। ভাবের লড়াইয়ে জয়ী হইয়াছেন ছফা। কেননা ছফা বর্ণিত ‘আমার’ শুধু আত্মরতির ‘আমি’ বা নিছক ‘বান্দা’ থাকিতেছে না। ‘আমার’ হইতেছে তফাৎ ঘর আর পরের যৌথ উৎপাদন। মানে বান্দার সহিত সম্পর্কিত পরমার বা সামাজিক মালিকানা। কেননা আত্মরতির আমি কানাই কানা। এই কানা না পারে দেখিতে না পারে বিলাইতে। কহিতে পারেন, ‘ইহাই ছফার ইউটোপিয়া’। ভাববেত্তা টমাস মোরের সন্দেশ হইলেও মন্দ শোনাইত না। না দেশ না পরদেশ।

প্রশ্ন খাড়াইতেছে, মায়ের ভগ হইতে ভাগ হইয়া বান্দা বা সন্তান ‘আমার’ বলিতেছে কেন? কারণ আমার ভাগ বা গর্ভে দুই পদ। একপদে আম বা তামাম, অন্য পদের নাম ‘আর’ সকল পদার্থকে লইয়া। আম অপর অপর অর্থ বিলাইলে গণ হইবে। এহেন মহামিলনের সন্ধান যাহারা পাইয়াছেন তাহারাই ‘মানুষ’ সাব্যস্ত হইয়াছেন। আর যাহারা পান নাই তাহারা বুর্জোয়া সমাজের অর্থ-মাংস-খেকো ‘সুশীল সমাজ’ হইতেছেন। দেখা যাইতেছে, ‘তবু’ অব্যয় মারিয়া কাহারা ছফাকে ঘরের খবর পুছ করিতেছে।


সুশীল সমাজ রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও ব্যক্তি স্বার্থের প্রদায়ক। ছফা কথিত ‘লোক’ নামক গণ্ডুষই তো সুশীল সমাজ।


‘সুশীল সমাজ’ নয় কি? ছফাও তাহাদের ‘তবু’ বা ‘অব্যয়’ পদের কুঠুরিতে টুকাইয়াছেন। এই তবু ‘ধুরন্ধর’ ওর্ফে ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ বলিয়া সাব্যস্ত। ‘সুশীল সমাজ’ নামক উপজাতখানি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সরল ক্রীড়নক। রাষ্ট্র তাহাদের লইয়া খেলে এবং খেলায়! রাষ্ট্র ও সুশীল (ওর্ফে বুর্জোয়া) সমাজই তো নিপীড়ন-সমাজের হোতা। কেননা সুশীল সমাজ রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও ব্যক্তি স্বার্থের প্রদায়ক। ছফা কথিত ‘লোক’ নামক গণ্ডুষই তো সুশীল সমাজ।

তো আহমদ ছফার কবিতা কী পদার্থ? ইন্দ্রিয় আবেগের বশে যাহারা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের মর্ষকাম করিতেছেন, হয়তো তাহাদের কাছে ছফার কবিতা কবিতা-পদবাচ্য নহে। কবিতাখানি কবিতার অধিক গান। যাহা টান মারিয়া প্রাণকে জাগায়। এই প্রাণ পরকে জড়াইয়া ধরে। আর প্রাণ তাহাতে যৌথ জীবনের সামাজিক মর্ম ভেদিয়া ওঠে। আমরা বলিতেছি, কবিতাই তো যৌথ চেতনার সামাজিক মালিকানা। কারণ ভাষা ভাষাকে বিলায়। আলয়ে তাহার অর্থ হয়। তাহা নয় কি?

মহাত্মা ফিদারিক এঙ্গেলস ১৮৯০ নাগাদ জে ব্রশের সকাশে চিরকুট লিখিয়াছেন। তাহার ভাষ্য, ‘ইতিহাসের উপাদান শেষ নাগাদ জীবনের সত্য চাষ আর তাহার পুনরুৎপাদন করিয়া যাওয়া।’ তবে ইহাকে নিছক অর্থনৈতিক কোঠায় একমাত্র নির্ধারক উপাদন বলিলে ভুলে পর্যবসিত হইবার শঙ্কা থাকিতেছে। এই শঙ্কা মহামতি এঙ্গেলসের। তো পুড়িয়া পুড়িয়া কতখানি অঙ্গার হইলে ইতিহাস খাঁটি সোনা হয়? ছফার বয়ানে তাহাই তো ‘আহিতাগ্নি’। বাংলা ভাববিদ্যা মতে, আগুনের হিত ইতিহাসের গোড়া আহিতাগ্নি। ইতিহাসের আগুনে যাহা সম্পাদিত হয়। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের বায়ুরোগের বাসনা তাহাতে নাই। কী আছে?

জর্মান বাড়ির দার্শনিক সিগমুন্ড ফ্রয়েড ‘স্বপ্নের বয়ান’ বহিতে এক স্বপ্নদর্শির কথা চাউর করিয়াছেন। ফ্রয়েডের জবানে, এক ব্যক্তির ছাওয়াল গত হইয়াছে। চলরীতি মোতাবেক ছাওয়ালের চারিদিকে চেরাগ জ্বালানো হইল। পাহারা বসাইতে ভাড়া করা হইল লোক। পাশের ঘরে নিদ্রামগ্ন পিতা। দুই ঘরের দরজা খোলা। পিতা স্বপ্নে দেখিলেন অদ্ভুত! ছাওয়াল তাহার সামনে দাঁড়াইয়া বলিতেছে—আব্বাজান, দেখিতেছেন না আমি পুড়িতেছি। পিতার ঘুম ভাঙিয়া গেল। পাশের ঘরে দেখিলেন পাহারাদার ঘুমে অচেতন। একটি জ্বলন্ত কুপি পড়িয়া মরা সন্তানের গায়ে আগুন লাগিয়াছে। ফলে সন্তানের একখানা হাত পুড়িয়া গিয়াছে।

ইহাতে আমরা দেখিলাম সত্যের কেরামতি। ঘর ও পর কিভাবে সত্যের মুখোমুখি হইতেছে। মুখোমুখি হইতেছে পিতা আর ছাওয়াল। মনের ঘর ইহাতে অপর কুঠুরিও ভেদ করিয়াছে। কেননা পিতার বাসনায় ছাওয়ালের মরণ নাই। হয়তো এহেন বাসনাই সত্যের কুঠুরি। যাহা সত্য আকারে স্বপ্ন রূপ লাভ করিয়াছে। তবে সত্যের মুখোমুখি হইবার নাম কি বাসনা? যে বাসনার মৃত্যু নাই। জাগিবার আগে বারবার জাগায়। জাগে বারবার সামাজিক মালিকানায়। আহমদ ছফায়।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে নতুন একজন সহ করোনা পজিটিভ বেড়ে ২৫

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নতুন করে আরও একজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। বিষয়টি ঘাটাইল ডট কমকে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুর রহমান খান।

তিনি বলেন, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি এলাকার একজন নতুন করে করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। তিনি ওয়ালটন কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত ২২ জুন ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে তিনি তার নমুনা দিয়েছিলেন। আজ মঙ্গলবার প্রাপ্ত ফলাফলে জানা যায় তিনি করোনা পজিটিভ।

ডাঃ সাইফুর রহমান খান আরও জানান, আক্রান্ত ওই যুবকের বাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় লকডাউন করা হয়েছে।

জানা যায়, নতুন করে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (২০)। তিনি ওয়ালটনে চাকুরীরত অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে উপসর্গ নিয়ে ঘাটাইলে গ্রামের বাড়ীতে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি তার গ্রামের বাড়ীতে আইসোলেশন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালো আছে বলে তার পরিবার সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে গতকাল প্রাপ্ত ফলাফলে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন দুইজন। আজকে প্রাপ্ত ফলাফলে করোনা পজিটিভ হয়েছেন একজন। এ নিয়ে ঘাটাইলে মোট করোনা পজিটিভ হলেন ২৫ জন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-