করোনায় দশম পুলিশ সদস্যর মৃত্যু

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। মোখলেছুর রহমান নামের ওই কনস্টেবল আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) মারা যান। তিনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধীন সদর কোর্টে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সদর দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ রোধে দায়িত্ব পালনকালে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোখলেছুর রহমান মারা গেছেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার টামটা গ্রামে। তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মোখলেছুর রহমানের মৃত্যুতে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার মরদেহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ১০ জন সদস্য করোনা যুদ্ধে মারা গেলেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের আটজন এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দুইজন সদস্য রয়েছেন।

(ইত্তেফাক, ঘাটাইল ডট কম)/-

নতুন ৩ জন সহ টাঙ্গাইলে করোনা পজিটিভ ৮৮

টাঙ্গাইলের নতুন করে তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলায়। আরেকজনের বাড়ি গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল গ্রামে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ও করোনা সংক্রান্ত ফোকাল পারসন ডা. আজিজুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ১৭ মে পাঠানো ২৪৮ নমুনা থেকে সর্বশেষ পাওয়া ফলাফলে এই তিনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১৭ মে পাঠানো নমুনা থেকে সর্বশেষ গতকালের একজনসহ আজকের তিনজন নিয়ে মোট চারজনের করোনা শনাক্ত হলো।

ডা. আজিজুল হক বলেন, টাঙ্গাইল থেকে এ পর্যন্ত ৪২৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬৭০ জনের ফলাফল এসেছে নেগেটিভ। এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৮ জনের। মৃতুবরণ করছেন চারজন। সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন। আইসোলেশনে কোনো রোগী না থাকলেও হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৮৪৩ জন।

বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ পাঠানো ১২৩টি নমুনাসহ মোট ৫০৫টি নমুনা ফলাফল এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে রেশন কার্ড দেয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

রেশন কার্ড দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদারের বিরুদ্ধে। আর এ নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগে জানা যায়, ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যসামগ্রী দেয়ার জন্য রেশন কার্ড করতে খরচের কথা বলে সাগরদীঘি ইউনিয়নের কমপক্ষে সাড়ে ৪ হাজার লোকের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে।

এ দিকে এলাকাবাসীর চাপের মুখে ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করতে কতিপয় ব্যক্তিকে কার্ড দেন ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার। পরে অন লাইনে সার্চ দিলে এটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রুবি জানান, আমি চেয়ারম্যানের কথা মতো রেশন কার্ডের নামে ৮০ জনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা তুলে চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু এক বছরের বেশি দিন হলেও কার্ড দিতে পারিনি। এতে আমি এলাকার মানুষের চাপের মুখে রয়েছি। চেয়ারম্যানের কাছে বললে তিনি এই দিব-দিচ্ছি বলে ঘোরাচ্ছেন।

৮নং ওয়ার্ড মেম্বার ফরহাদ বলেন, আমি ২৮০ জন লোকের কাছ থেকে রেশন কার্ডের কথা বলে ২৮ হাজার টাকা তুলে চেয়ারম্যানের সহকারী সচিবের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছি।

২নং ওয়ার্ড মেম্বার ওয়াজেদ আলী বলেন, প্রতি ওয়ার্ডে রেশন কার্ডের তালিকা করার সময় চেয়ারম্যান টাকা নিয়েছে এটা সবাই জানে।

অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার যুগান্তরকে বলেন, লোকজন টাকা দিয়েছে ঠিকই। তবে টাকাগুলো ছবি তোলা ও অন্যান্য খরচের জন্য এনজিও কর্মকর্তারা নিয়েছে।

জানতে চাইলে ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের কপি পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে সাবেক ২ স্বামীর কাছে মেয়েকে তুলে দিলেন মা, রাতভর গণধর্ষণ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক গৃহবধূকে (৩২) গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণে সহযোগিতা করায় ওই গৃহবধূর মা ও ধর্ষক সাবেক দুই স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে তার মাসহ ছয়জনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ রাতেই তিন জনকে গ্রেফতার করে।

বুধবার (২০ মে) সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গৃহবধূকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার আবদুল কাদেরের (৫৫) বাড়ি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে এবং আবদুর রহমানের (৩৯) বাড়ি উপজেলার কচুয়া গ্রামে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা তার মেয়েকে কবিরাজ বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে উপজেলার কীর্ত্তনখোলা ধুমখালি বেইলি ব্রিজের কাছে নিয়ে যান।

সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলযোগে হেলমেট পরা দুই যুবক আসলে মা কৌশলে মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দেন।

পরে তাকে পৌর শহরের একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘরে আটকে রেখে তার সাবেক দুই স্বামী আবদুল কাদের (৫৫) ও আবদুর রহমানসহ (৩৯) পাঁচ জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষকরা তাকে রেখে পালিয়ে যায়।

রাত ১টার দিকে বিবস্ত্র অবস্থায় তিনি পাশের একটি বাড়িতে গেলে ওই বাড়ির লোকজন তাকে কাপড় পড়িয়ে দেয়। পরে তার বর্তমান স্বামীকে খরব দিলে তিনি স্ত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির উদয় বলেন, গৃহবধূর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধর্ষণে সহযোগিতা করায় মা ও সাবেক দুই স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে বাবার পর ২ মেয়ে করোনা পজিটিভ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এবার বাবার পর মেয়ের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় নতুন করে আরও ২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হলো।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের বরদাম গ্রামের করোনাক্রান্ত ব্যক্তি (উপজেলা কৃষি অফিসের নৈশ প্রহরীর) মেয়ে (০৯) ও গোড়াই ইউনিয়নের দক্ষিণ নাজিরপাড়া (মীর শরীফ মাহমুদ হাউস) এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী (৪৫)। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ওলিপুর উপজেলায় বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মাধ্যমে, উপজেলার পৌর সদরের বাসিন্দা এক সাংবাদিক আক্রান্তের পর গত ১৬‘মে ইউএনও, এসিল্যান্ড, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ মোট ৭২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার সাভার এলআরআরসি ল্যাবে পাঠায় মির্জাপুরের স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

এতে বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত রিপোর্টে ৭০ জনের দেহে করোনা নেগেটিভ আসে ও ২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে এক কিশোরী করোনাক্রান্ত ব্যক্তির (তার বাবার) সংস্পর্শে ছিলেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া আক্রান্ত আর এক ব্যক্তির বড় ভাইয়ের ডায়রিয়া জনিত রোগের কারণে সে ও তার বড় ভাইয়ের নমুনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দিয়ে আসেন। এতে তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

এনিয়ে মির্জাপুর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১৬ জনে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-