ধনবাড়ীতে করোনায় সাবেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল করিম ভুইয়া (৬৫) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ছিলেন। তার বাড়ি ধনবাড়ী উপজেলা যদুনাথ ইউনিয়নের কহলপুরা গ্রামে।

এ ঘটনায় গত সোমবার (১৭ মে) বিকেলে আক্রান্তের পর বাড়ি লকডাউন করা হয়।

এ নিয়ে টাঙ্গাইল জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪ জনের মৃত্যু হলো।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ধনবাড়ী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনাজ সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তার করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে তিনি ধনবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে এসে করোনার নমুনা দিয়ে যান। নমুনা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরেই ওইদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া ব্যক্তির জ্বর, সর্দি, কাশি ছিল। পরে তার নমুনার ফলাফলে করোনা পজেটিভ আসে।

টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ১৭৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। পরদিন শুক্রবার (১৪ মে) আরো ১৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে রোববার (১৭ মে) রাতে ওই দুদিনের নমুনার ফলাফল একত্রে আসে। এতে নতুন করে ৯ জন আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের নার্স এবং দেলদুয়ার উপজেলার নানা-নাতিন রয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে করোনায় মৃত ৪ জনের ২ জনই ঘাটাইলের

টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত নতুন করে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। জেলায় মোট ৮৪ জনের দেহে করোনার ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভূঞাপুরে ৬, সখীপুরে ৫, নাগরপুরে ৪, মির্জাপুরে ২, সদরে ১ ও মধুপুরে ১ জনসহ মোট ১৯ জন সুস্থ হয়েছে। আর ঘাটাইলে ২, মির্জাপুরে ১ ও ধনবাড়ীতে ১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গত (৭ এপ্রিল) থেকে টাঙ্গাইল জেলা লকডাউন ঘোষনা করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যন্ত লকডাউনের ৪২তম দিন অতিবাহিত হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪০৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) নতুন করে ১৭১ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদের রেজাল্ট আগামীকাল বুধবার (২০ মে) পাওয়া যাবে।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়নি। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ১৩০ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২৩৭ জনকে। এর মধ্যে সোমবার (১৮ মে) ১০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কারো করোনার রেজাল্ট পজেটিভ আসেনি। এখন পর্যন্ত ৩৫১০ জনের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে ৮৪ জনের ফলাফল পজেটিভ এসেছে। বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

বর্তমানে জেলায় মোট ৮৪ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা ঢাকা, ময়মনসিংহ হাসপাতালে ও বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৮৪ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মির্জাপুরে ১৪, দেলদুয়ারে ১৪, নাগরপুরে ৯, ভূঞাপুরে ৮, সখীপুরে ৭, গোপালপুরে ৬, ধনবাড়ীতে ৬, টাঙ্গাইল সদরে ৫, কালিহাতীতে ৫, মধুপুরে ৫, ঘাটাইলে ৪ ও বাসাইলে ১ জন রয়েছে। এদের মধ্যে ভূঞাপুরে ৬, সখিপুরে ৫, নাগরপুরে ৪, মির্জাপুরে ২, সদরে ১ ও মধুপুরে ১ জনসহ মোট ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এছাড়া জেলার ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, মির্জাপুরে রেনু বেগম ও ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া নামে ৪ জন মারা গিয়েছে।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৯০৩৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৭ হাজার ১০০ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ৯৩৩ জন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে ৮ জন।

উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৬ হাজার ৭৩৮টি ও করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি।

এছাড়া জেলায় রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫০ পরিবারের মধ্যে ১৫৯৯ মে.টন চাল ও ৪১ হাজার ৯৬টি পরিবারের মধ্যে নগদ ৮২ লাখ ১৯ হাজার ২৩৫ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ১১ হাজার ৩১৮ পরিবারকে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৫০৫ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির চেক প্রদান

টাঙ্গাইলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ চেক দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফসার আতিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফরহাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন অফিসার আবুল কালাম আজাদ এবং সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারি আব্দুর রউফ প্রমুখ।

এ সময় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরে ৮৫ জন, মাধ্যমিক স্তরে ৪৩ জন জন, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঁচজন এবং উচ্চতর স্তরের দশজন মাসিক উপবৃত্তির টাকার চেক দেয়া হয়।

(মোল্লা তোফাজ্জল, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের বুথ চালু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের বুথ চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) এই বুথ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক।

স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত করোনা টেস্টে আগ্রহীদের নমুনা এই বুথে সংগ্রহ করা হবে। তবে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে নমুনা নেয়া হবে।

উদ্বোধনকালে ইউএনও আব্দুল মালেক বলেন, করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে যারা সম্পৃক্ত থাকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বুথের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(আরাফাত ইসলাম শুভ, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাস্তায় যান চলাচল বন্ধে কালিহাতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যমুনা পার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি কাটাতে উত্তরবঙ্গগামি শত শত লোককে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যমুনা নদী পারি দিতে দেখা গেছে।

বিগত ১৭ এপ্রিল যমুনা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় পরের দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়ার চর এলাকায় আলিফা (২২) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। করোনার ঝুঁকি এড়াতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উপায়ে যমুনা সেতু পর্যন্ত এসে পুলিশী বাধাঁর সম্মুখীন হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় নদী পার হতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সরেজমিনে কালীহাতী উপজেলার যমুনা নদীর গড়িলাবাড়ি ঘাটে ও নিউ ধলেশ্বরী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্বপরিবারে ছোট ছোট শিশু, নারী-পুরুষ মোটর সাইকেল সহ করোনা, মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও সুপার সাইক্লোন আম্পানের সতর্কতার কোন তোয়াক্কা না করে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া অনুমোদিত ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী পরিবহন করছে স্থানীয় নৌযান চালকরা।

আবার এসকল চালকরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে এ অনুমোদিত যাত্রী পরিবহন করছে বলে জানান।

শিশু বাচ্চা সহ বি.বাড়িয়া থেকে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় যাচ্ছেন রোকসানা আক্তার নামের এক নারী। বাচ্চাসহ জীবনের নানা রকম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় কেন পার হচ্ছেন (?) জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঈদেও ছুটিতে কর্মস্থলে থাকাটা অসহায়ের মতো লাগবে চিন্তা করে অনেক কষ্টে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এ পর্যন্ত আসলে পুলিশ যাত্রীসহ আমাদের গাড়িকে সেতু পার হতে বাধাঁ প্রয়োগ করে। তাই বিকল্প এ ব্যবস্থায় ঝুঁকি নিইে পার হতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌকা চালক জানান, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বেকার থাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার করোনার ঝুঁকি কমাতে বহিরাগত লোকদের দ্রুত নৌকাযোগে পার করে দিতে বলেছেন। এতে আমাদেরও কিছু আয় হলো।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি কাজী আয়ুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না, অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

সিগারেটসহ সব ধরনের তামাক পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা

বাংলাদেশে সব ধরনের তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার (১৮ মে) এই বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এর সমন্বয়কারী যুগ্মসচিব মো. খায়রুল আলম সেখ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করার কথাও জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এছাড়াও গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকিও ১৪ গুণ বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্তস্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ বাস্তবায়ন করছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান করা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাস করতে প্রণীত সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ -এ সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান হতে অনা স্থানে চলাচল নিষিদ্ধকরণ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।

প্রসঙ্গত: তামাক পণ্য বলতে সব ধরনের সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, তামাক পাতা, তামাক ডাঁটা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়ে থাকে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় এগিয়ে নিতে সব তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এ ব্যাপারে চিঠিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

(আর টিভি, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে শিশু ধর্ষণে ৫০ বছর বয়সী ফুফাকে আটক

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বেলাল হোসেন (৫০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে বেলালের বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মঙ্গলবার ভোর রাতে অভিযুক্ত বেলালকে গ্রেপ্তার করেছে।

বেলাল হোসেন উপজেলার প্রতিমা বংকী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে এবং সম্পর্কে ওই শিশুটির ফুফা। শিশুটি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।

ওই শিশুর প্রতিবেশী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে প্রতিবেশী বেলাল হোসেন টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন হয়রানি করে ধর্ষণের চেষ্টা করে আসছিল। গত শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতিও দেখায়। কিন্তু মেয়েটি বাড়িতে এসে তার মাকে বিস্তারিত জানায়।

অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বর ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্ত বেলাল হোসেন টাকার অংক নিয়ে গড়িমসি করায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার এসআই ফয়সাল আহমেদ জানান, অভিযোগের পরপরই বেলালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে প্রাথমিকভাবে ওই শিশুকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় খুলে দেয়া হলো শপিংমল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঈদ উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে আবারও খুলে দেয়া হয়েছে শপিংমল ও দোকানপাট। নতুন সিধান্ত অনুযায়ী মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) মির্জাপুর উপজেলা সদরের মসজিদ মার্কেট, সৈয়দ টাওয়ার, মনসুর টাওয়ার, ইতালি প্লাজা, খন্দকার প্লাজা, শরীফ প্লাজা, বাংলাদেশ শপিং সেন্টার, সিংগাপুর সুপার মার্কেট, তোফাজ্জল মার্কেট, টেক্কা মার্কেট ও ঠান্ডু মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বিপণী-বিতান ও মার্কেট ঘুরে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিন শহরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও সবাই মাস্ক পরিধান করেছিল। তবে শপিংমলগুলোর ভেতরে শারীরিক দূরত্ব খুব একটা পরিলক্ষিত করা যায়নি।

জানা যায়, মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সিধান্ত নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ১৮ মে থেকে পুনরায় চালু হয়েছে সব ধরনের মার্কেট ও দোকানপাট। তবে শর্তসাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চালু থাকবে এসব শপিংমল ও দোকানপাট।

এর আগে গত ১৪ মে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলার সব ধরনের শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসক। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, সরকার প্রদত্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও শর্ত পালনে ক্রেতা-বিক্রেতারা উদাসীন থাকায় টাঙ্গাইলবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মৃত্যু ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে মির্জাপুরেও তখন সেই আদেশ জারি করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের হাতেগোনা আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ক্রেতারা। অপরদিকে বিক্রেতারা জানান, চলমান লকডাউনে এতোদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঈদের কেনাকাটার জন্য কিছুটা হলেও তারা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক বলেন, শর্তসাপেক্ষে ও নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র ঈদ উপলক্ষে এ সিধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কেটগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তদারকি করা হচ্ছে। যদি নিয়ম অমান্য করা হয় তাহলে যেকোনো মূহুর্তে এই সিধান্ত প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(আরাফাত ইসলাম শুভ, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে ৪’শ কোটি টাকার খাস পুকুর ভরাটের চেষ্টা বন্ধ করলো প্রশাসন

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের মমিননগর এলাকায় হাইকোটের্র আপিলের নির্দেশনা থাকা স্বত্ত্বেও রাতভর সরকারি খাস পুকুর ভরাট করছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির (সাবেক) সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান।

তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার (১৬ মে) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মাটি ভরাট করার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন।

জানা গেছে, উপজেলার গোড়াই মমিননগর এলাকার ২৮৬১ দাগের ৮৪ একর জমি নিয়ে হাইকোর্টে বর্তমানে মামলা চলছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ শত কোটি টাকা। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন, কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও জনসাধারণের অনুপ্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরকারের এ আদেশ অমান্য করে রাতারাতি সরকারি খাস পুকুর ভরাট করে আসছিলেন প্রভাবশালী ফিরোজ হায়দার খান।

এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যদিও অভিযান চালিয়ে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের পর উক্ত জায়গায় টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে সরকারি নোটিশ বোর্ড।

ফিরোজ হায়দার খান জানিয়েছেন, ২০০৭ সালে এক ভদ্র মহিলার কাছ থেকে ৮৪ একর জমি ক্রয় করি তার সকল কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে সেই মোতাবেক এই পুকুর সংস্কারের কাজ করতে ছিলাম। এই জায়গা নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছেন।

এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ৮৪ একর খাস জমি, জায়গাটি নিয়ে সরকার বাদি হয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছে। এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার পূর্বেই উক্তস্থানে মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। অভিযান চালিয়ে পুকুরে মাটি ফেলার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ঝুঁকি বিবেচনা করে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে সকল ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। সোমবার বিকালে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এদিকে মার্কেট ও শপিংমল বন্ধের নির্দেশনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আজ মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল-তারাকান্দী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। পুনরায় মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেয়ার দাবী জানান তারা।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গত ১০ মে থেকে মার্কেট ও শপিংমল খোলা হয়। কিন্তু মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না। বিরাজ করছিলো জনস্রোত। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরে সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের। ৯০ ভাগ লোকজন ও ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মানছিলোনা।

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন মার্কেট ও শপিংমল মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ওষুধ ও কাঁচাবাজারের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর বাজার সমিতিরি সভাপতি নুরুজ্জামান চকদার বলেন, প্রশাসনের শর্ত সাপেক্ষেই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা মার্কেট ও শপিংমলগুলো খোলা রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমবার গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে সকল ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

সাধারণ দোকানদাররা দাবী জানিয়েছেন, মার্কেট খুলে দেয়া না হলে তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা.নাসরীন পারভীন বলেন, মার্কেট ও শপিংমলগুলো খোলার পর থেকে কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিলনা। বিরাজ করছিলো জনস্রোত। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরে সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের। ৯০ ভাগ লোকজন ও ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মানছিলোনা। আর এ কারনেই মার্কেট, শপিংমলগুলো ও দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-