রোববার থেকে সীমিত আকারে খুলছে ঘাটাইলের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

আগামিকাল রোববার (১০ মে) থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ দোকানপাট কিছু শর্ত সাপেক্ষে সীমিত আকারে খোলা রাখার অনুমোদন প্রদান করেছে সরকার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর দোকানপাট খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত আসলো।

এই সংক্রান্ত একটি অনুমতি পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আজ শনিবার শেয়ার করেছন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার।

গত ৪ মে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ সচিব মোঃ ছাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই অনুমতির কথা জানা যায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমিত আকারে খোলা রাখার অনুমতি প্রদান করেছে সরকার।

পত্রের নির্দেশনা মোতাবেক প্রত্যেক ব্যবসাকেন্দ্রের প্রবেশমুখে স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সকলকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচা করতে হবে।

এছাড়া পত্রে জানানো হয়েছে, উপজেলার লকডাউন যথানিয়মে কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ বাইরে থেকে উপজেলায় যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

তবে জরুরি প্রয়োজন না হলে দোকানপাটে না যেতে অনুরোধ করা যাচ্ছে বলে পত্রে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘাটাইল ডট কমকে জানান, সরকার বিশেষ বিবেচনায় দোকানপাট খোলার অনুমতি প্রদান করেছে, কিন্তু দোকানে যেতে কাউকে বাধ্য করছে না। অতএব নিজের এবং পরিবারের সুস্থতার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

তিনি আরও জানান, আপনাদের সচেতনতা, সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের জন্যই প্রিয় ঘাটাইল বাংলাদেশের যেকোন উপজেলার তুলনায় নিরাপদ ও করোনাভাইরাস (কভিড- ১৯) সংক্রমণের মাত্রা নাই বললেই চলে। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

উল্লেখ্য: ঘাটাইল পৌর এলাকার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার রোড হয়ে বাজার পর্যন্ত অনেকগুলো বড় মার্কেট এবং রাস্তার দুইপাশে দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এই রোডে ও এসব মার্কেটগুলোতে প্রায় সাত শতাধিক দোকানপাট এবং ঘাটাইল শহরে প্রায় ২২০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঘাটাইলের পারুল প্লাজা, মরিয়ম শপিং কমপ্লেক্স, আকন্দ টাওয়ার, খলিল প্লাজা, ফালু হোসেন খান মার্কেট, জাহানারা শপিং কমপ্লেক্স, জনতা শপিং কমপ্লেক্সে, কাজী মোবারক মরিয়ম শপিং সেন্টার, নিউ মার্কেটের দোকানগুলো করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে যথারীতি বন্ধ রয়েছে। প্রায় দেড় মাস পর এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দিলো সরকার।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা সংকটে ভার্চুয়াল কোর্টের অধ্যাদেশ জারি

করোনা ভাইরাসের চলমান পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও ভিডিও কানফারেন্সের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনা করা যাবে।

শনিবার (০৯ মে) রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০৭ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে ফিজিক্যালি আদালত চালানোর সুযোগ না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যার যার অবস্থানে থেকে বিচার কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে সরকাকে অনুরোধ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার পক্ষরা বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি থেকে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলাজট বাড়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে আইন মন্ত্রণালয়।

গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ছুটিতে গত ২৬ মার্চ থেকে অফিস-আদালত বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন পার্লামেন্ট চালু না থাকায় আইন করা যাবে না। এজন্য জরুরিভিত্তিতে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীদের এবং সাক্ষীদের উপস্থিতির মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি রোধকল্পে এক মাসের অধিক সময় ধরে কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের সমাগম হয় এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকার মামলাজট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি বিচারপ্রার্থীরা বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্য আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এজন্য ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করতে এই অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপিরষদ সচিব বলেন, এই ব্যবস্থায় আসামিকে জেলখানায় রেখে, আইনজীবীকে বাসায় রেখে ও সাক্ষীকে অন্য জায়গায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিং ও অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করে বিচারকার্য করা সম্ভব হবে। এটাই হল এই অধ্যাদেশের মূল বিষয়।

তিনি আরো বলেন, এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করবে। আর পার্লামেন্ট বসার প্রথম দিনই এটি সেখানে উপস্থাপিত হবে।

(বাংলা নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাসাইলে একজন করোনায় আক্রান্ত

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ১নং ফুলকি ইউনিয়নের জশিহাটী গ্রামের আব্দুছ ছামাদ (৭০) নামের এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালের করোনা ইউনিটের পজিটিভ-১ ওয়ার্ডের ৪৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে শনিবার ( ৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিক্যাল টিম আক্রান্ত ব্যক্তির স্বজনদের মধ্যে ৭জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে।

আক্রান্ত ব্যক্তির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় আব্দুছ ছামাদকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইদিন চিকিৎসার পর কর্তৃপক্ষ ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

গত ২৯ এপ্রিল ওই হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরের দিন ৩০ এপ্রিল তার করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর ১ মে তার রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে।

এমতাবস্থায় আক্রান্ত আব্দুছ ছামাদকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পজিটিভ-১, বেড নম্বর ৫৭ তে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্ত ব্যক্তির ছেলে আনোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমার ভাই-বোন ও আপন জনদের কেউ হাসপাতালে যেতে রাজি হয় না। এখন আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই করার নেই।’

কুর্মিটোলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত রোগী ওঠে দাঁড়াতে পারে না, বিছানাতেই প্রপ্রাব- পায়খানা করে, খাবারও খেতে পারছেন না। রোগীর সাথে কোন আপনজন নেই। তাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দেবার চেষ্টা করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজুর রহমান ওই ব্যক্তির করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ এসেছে। তাই তিনি বাসাইলের বাসিন্দা হলেও শনাক্ত রোগীর তালিকায় বাসাইলের ওই ব্যক্তি কাউন্টে আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির ছেলে, মেয়ে, মেয়ের জামাই ও দুই নাতি-নাতনীসহ ৭জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। আক্রান্ত ব্যক্তির জশিহাটির বাড়ি ও আইসড়ার মেয়ের জামাই গিয়াস সরকারের বাড়ি লকডাউনে রয়েছে।

ওই ব্যক্তি কোথায় আক্রান্ত হয়েছেন এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় ঢাকাতে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি ও তার সংস্পর্শে আসা স্বজনদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।’

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় সপ্তম পুলিশ সদস্যর মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডিএমপির ট্রাফিক কনস্টেবল জালাল উদ্দীন মারা গেছেন। এনিয়ে সাত পুলিশ সদস্য করোনায় প্রাণ হারালেন।

কনস্টেবল জালাল উদ্দীন ট্রাফিক পূর্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

আজ শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা ৭.১০ রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

জালাল উদ্দীনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মাসুদুর রহমান।

(জাগো নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনায় টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে বড় রকম ধ্বস

করোনাভাইরাসের প্রভাবে এতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে বড় রকম ধ্বস নেমেছে। কোটি কোটি টাকার শাড়ি কাপড় বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে হাজার হাজারে তাঁতকল। সাধারণ শ্রমিকরা করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে কর্মস্থল ছেরে তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।

ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রির অন্যতম “করটিয়া হাট” বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও বন্ধ হয়ে গেছে কালিহাতী উপজেলার “জোকেরচট হাট”, সদর উপজেলার “বাজিতপুর হাট”। দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলে শাড়ীর শোরুম গুলোও বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদ মৌসুমে বড় রকম এক ধস নেমেছে তাঁত শিল্পে। এসব স্থান থেকেই সপ্তাহে বিক্রি হতো কোটি কোটি টাকার শাড়ি ।

তাঁত বোর্ড নিয়ন্ত্রিত জেলার দুটি বেসিক সেন্টারের সুত্র মতে, জেলায় ১ লাখ ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক রয়েছেন। ৪ হাজার ১৫১ জন রয়েছেন ক্ষুদ্র তাঁত মালিক।

অন্যদিকে শবে বরাতের পর থেকেই টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে শ্রমিকরা দিন-রাত শাড়ি উৎপাদন কাজে ব্যস্ত থাকত। সারাদেশের শাড়ি ক্রেতারা করটিয়া, বাজিতপুর, ও পাথরাইলের শাড়ীর শোরুম গুলো থেকে শাড়ি ক্রয়ের জন্য ভীড় জমাত। সারা বছর ঋনের বোঝা বয়ে বেড়ানো তাঁত মালিকরা মুলত রমজান মাসেই তাদের উৎপাদিত শাড়ি বিক্রি করে ব্যাংক এনজিওর দেনা পরিশোধ করত।

কিন্ত এবার করোনায় যে সংকট তৈরি হয়েছে তাতে করে তাঁত মালিকরা আর ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। বেকার হয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক। তাঁত মালিকদের ঘরে অবিক্রিত পড়ে আছে কোটি কোটি টাকার শাড়ি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তাঁত মালিক মমিনুর রহমান বলেন, আমার মোট ৬৩টি তাঁত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমিকরা সেখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। করোনার কারনে এখন সব তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকার শাড়ি কাপড় আটকা পরে গেছে। চড়া মৌসুমে তাঁত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হল সে ক্ষতির জের টানতে হবে আগামী বছর গুলোতে। এছাড়াও দেনা শোধাবার কোন ব্যবস্থাও নেই আমাদের। নেই কোন সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা। তাঁত মালিক ও সাধারণ শ্রমিকদের বাঁচাতে সরকারের এগিয়ে আসা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না।

শাড়ি ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন জানান, সারাদেশের শপিংমল ও লোকাল মার্কেটগুলো বন্ধ রয়েছে। শাড়ি ক্রয় ও বিক্রির কোন ব্যবস্থা নেই। আর তাই শাড়ি ক্রয় করছিনা। সরকারের উচিৎ সীমিত সময়ের জন্য হলেও শপিংমল গুলো খুলে দেয়া, যাতে ঈদের কেনা-বেচা স্বাভাবিক থাকে। এতে করে তাঁত মালিকরা বাঁচবে। বিশেষত বেকার হয়ে পরা শ্রমিক গুলো কাজের একটি সুযোগ পাবে। তাঁত শিল্প কিছুটা হলেও আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

এ ব্যাপারে তাঁত বোর্ড টাঙ্গাইল বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনার প্রভাবে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় তিন হাজার দুস্থ তাঁতিদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এমন সময়ে তাঁত মালিকদের জন্য আলাদা কোন সরকারি প্রণোদনা না থাকলেও তাঁত মালিকদের সুবিধার্থে ৫% সার্ভিস চার্জে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নুন্যতম ৩০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ কার্যক্রম চালু আছে তাঁতিদের জন্য।

এদিকে সর্বস্তরের তাঁত মালিক ও তাঁতিরা তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তৃণমুল পর্যায়ের তাঁতিদের সাথে কথা বলে সব সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

 

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান ঘাটাইল উপজেলার একটি মাদরাসা ও দুইটি সেতুর প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ফুলহারা দাখিল মাদরাসার চার তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ,  ত্রাণ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের আওতাধীণ ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৭’শ ৯৪ টাকা ব্যয়ে আনেহলা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গী হোসেনের বাড়ির পাশে ও দিগর ইউনিয়নের ছামনা ভাদাইলা রাস্তার খোরশেদের বাড়ীর পূর্ব পাশ্বের খালের উপর দু’টি সেতুর উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান রানা, উপজেলা নিবার্হী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক, দিগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন খান বাবু, কদমতলী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম লিটন, দিগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হাসান জনি, ইউপি মেম্বার মো.শফিকুল ইসলাম শফি, দিগড় ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইল কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ বন্দীর মুক্তি

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে শনিবার (৯ মে) ৪৯ জন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দণ্ড মওকুফ করায় তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

কারাগার সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দী এক মাস থেকে এক বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ৭৭ জন বন্দীর দণ্ড মওকুফ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে আটজনের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আগেই মুক্তি পেয়েছেন। বাকি ৬৯ জনের মধ্যে ২০ জনের দণ্ড মওকুফ হলেও জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। তাই ওই ২০ জন মুক্তি পাননি।

৪৯ জনকে বিকেলে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তরা সবাই এক মাস থেকে এক বছরের দণ্ড প্রাপ্ত ছিলো।

এর আগেও টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দী দশজনের দুই দফায় দণ্ড মওকুফ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই দশজনের মধ্যে আটজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বাকি দুইজন জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় মুক্তি পাননি।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সরকার লঘুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দীদের মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দী তিন শতাধিক দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে তিন দফায় ৮৭ জনের দণ্ড মওকুফ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দী ধারণ ক্ষমতা ৪৬৭ জন কিন্তু এখানে বন্দী রয়েছেন এক হাজার ১১১ জন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে বোন জামাইয়ের পর শ্যালকের করোনা পজেটিভ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আপন বোন জামাইয়ের করোনা পজেটিভের ৪ দিন পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন শ্যালক। উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত (১৫) বলে জানা গেছে।

শনিবার (০৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (০৭ মে) স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন। শনিবার ৯ মে প্রাপ্ত রিপোর্টে ১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

এ নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৯ জন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৪ দিন আগে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শ্যালক তিনি। বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা ভালো। এ জন্য প্রাথমিক অবস্থায় তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশের মোট ২৫ টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপু‌রে বাল্য‌বিয়ের অপরা‌ধে বর‌ের ১ বছ‌রের কারাদণ্ড, পিতার জরিমানা

টাঙ্গাইলের সখীপু‌রে বাল্য‌বিয়ের অপরা‌ধে বর‌ ফা‌হিম‌কে (২৩) এক বছ‌রের কারাদণ্ড এবং ব‌রের পিতা ফজলু‌ল হককে দশ হাজার টাকা জ‌রিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার ৮ মে বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদাল‌তের নির্বাহী হা‌কিম ও উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার আসমাউল হুসনা লিজা এ আ‌দেশ দেন।

এসময় বাল্য‌বিয়ে পড়া‌নোর অপরা‌ধে মস‌জি‌দের ঈমাম আ‌য়েন উ‌দ্দি‌নের বিরু‌দ্ধে নিয়‌মিত মামলা কর‌তে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা‌কে নি‌র্দেশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

আদালত সূ‌ত্রে জানা যায়, বৃহস্প‌তিবার রা‌তে গড়‌গো‌বিন্দপুর গ্রা‌মের হলু‌দিয়াচালা এলাকার জিয়ার উ‌দ্দি‌নের নবম শ্রে‌ণি‌তে পড়ুয়া মে‌য়ে জ্যো‌তি আক্তার‌কে একই উপ‌জেলার কচুয়া গ্রা‌মের ফজলু মিয়ার ছে‌লে ফা‌হি‌মের স‌ঙ্গে বি‌য়ে দেওয়া হয়। নিকাহ রে‌জি‌স্ট্রি না ক‌রে স্থানীয় মস‌জি‌দের ঈমাম আ‌য়েন উ‌দ্দিন ওই বি‌য়ে পড়ান।

ভ্রাম্যমাণ আদাল‌তের নির্বাহী হা‌কিম আসমাউল হুসনা লিজা ব‌লেন, বাল্য‌বিয়ের অপরা‌ধে বর ও ব‌রের পিতা এবং ঈমাম‌কে সাজা দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ভুর্তুকি মূল্যে তিনটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস ৫০ ভাগ ভুর্তুকিতে দেওয়া তিনটি হারভেস্টার কৃষকের মাঝে বিতরণ করেছে।

আজ শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মোঃ মুজিবুর রহমান, দিঘলকান্দি ইউনয়নের দত্তগ্রামের আব্দুস সামাদ ও সাগরদীঘি ইউনিয়নের সাগরদীঘি গ্রামের হেকমত সিকদারকে এই ধান কাটার মেশিন বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতিতে ইরি-বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের এই কম্বাইন্ড হারবেস্টার (ধান কাটা মেশিন) কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান রানা, উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু, ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সাইফুল আবেদীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সাইফুল আবেদীন জানান, এই হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘন্টায় ১ একর জমির ধান কাটা, সেই সাথে কর্তণ ও মাড়াই করা যাবে। এতে মাত্র ৪-৫ লিটার ডিজেল খরচ হবে। শ্রমিক সংকট নিরসন ও ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের সুবিধার্থে এই মেশিনের মূল্য ২৮ লাখ টাকা হলেও তা সরকারীভাবে ৫০% ভুর্তকি দিয়ে মাত্র ১৪ লাখ টাকায় কৃষকের মাঝে দেয়া হচ্ছে।

(রাজু, ঘাটাইল ডট কম)/