নাগরপুরে ৫২ কার্ডে চাল তুলছেন অন্য কেউ!

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউপির ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুনিপাড়া গ্রামে সরকারি চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে দুই ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে। ওই দুই ওয়ার্ডে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডের প্রকৃত মালিকরা চাল পাচ্ছে না। তবে কার্ড দিয়ে চাল তোলা হয়েছে।

কার্ড মালিকদের অভিযোগ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন দাস এবং ডিলার ময়নালের যোগসাজসে চাল তুলে ইউপি সদস্যরা আত্মসাৎ করেছেন। ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে কার্ড দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দুই ইউপি সদস্য। কার্ডের প্রকৃত মালিকদের চাল দেয়া নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করা হচ্ছে।

সলিমাবাদ ইউপির সচিব আবু কায়ছার জানান, ইউপির নয়টি ওয়ার্ডে এক হাজার ১০৩টি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড রয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৫টি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৬টি কার্ড রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৫টি কার্ডের মধ্যে ২৬ জন কার্ডের প্রকৃত মালিকের কাছে কার্ড নেই। আবার চারজন মৃত ব্যক্তির নামেও কার্ড রয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৬ জনের মধ্যে ২১ জনের কাছে কার্ড নেই। এ ওয়ার্ডেও একজন মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড রয়েছে। প্রত্যেক কার্ড থেকেই চাল তোলা হয়েছে।

দুই ওয়ার্ডের ১৭১ টি কার্ডের মধ্যে ৫২ জনের চাল অন্য কেউ তুলেছেন।

একাধিক কার্ডের মালিক বলেন, কার্ড দেয়ার নাম করে ওই দুই ইউপি সদস্য ৫শ’ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছেন। যে টাকা দেয়নি তার নামে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড ইস্যু হয়নি।

নিজের নামে কার্ড আছে কিন্তু চাল পাচ্ছে না, এমন কয়েকজন বলেন, ইউপি সদস্যরা কৌশলে কার্ডগুলো নেয়ার পর আমাদের আর ফেরত দেননি। আমাদের কাছে কার্ড না থাকায় চালও তুলতে পারছি না। করোনার মধ্যে খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের নামে কার্ড ইস্যু করলেও দুই ইউপি সদস্যদের কারণে তা কোনো কাজেই আসছে না।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন দাস এবং ডিলার ময়নালের যোগসাজসে ওই চাল তুলে ইউপি সদস্যরা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তাদের নামের কার্ডগুলো ফেরত চেয়েছেন গ্রাহকরা।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সুষ্ঠভাবে তদন্ত করো হয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৫টি কার্ডের মধ্যে ২৬ জনের কাছে কার্ড নেই। আবার চারজন মৃত্যু ব্যক্তির নামেও কার্ড রয়েছে। প্রত্যেক কার্ড দিয়ে চাল তোলা হয়েছে। কে তুলেছেন সেটা ইউপি সদস্য ও ডিলার বলতে পারবে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের তদন্ত কর্মকর্তা মো. খোরশেদ বলেন, ওই ওয়ার্ডে কার্ড আছে ৯৬টি। কিন্তু ২১ জন প্রকৃত মালিকের কাছে কার্ড নেই। অন্য কেউ কার্ড দিয়ে ডিলারের যোগসাজসে চাল তুলেছেন।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের নামে সব মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আমি কারো কার্ড নিজের নামে রাখি নাই। ডিলার আমাকে যাদের কার্ড দিয়েছে আমি তাদের কাছে কার্ডগুলো হস্তান্তর করেছি।

ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন দাস বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কতগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড রয়েছে আমি সঠিক বলতে পারবো না। ডিলার আমাকে ৬৪টি কার্ড দিয়েছে সেই কার্ড গুলো গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করেছি। বাকি কার্ডগুলো চাল কিভাবে তোলা হয়েছে সেগুলো ডিলার ময়নাল ভালো বলতে পারবে।

ডিলার ময়নাল বলেন, সলিমাবাদ ইউপির নয়টি ওয়ার্ড থেকেই গ্রাহকরা আমার কাছে চাল তুলতে আসেন। কার্ডগুলো ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানরা বিতরণ করে থাকেন। ডিলাররা শুধু চাল দিয়ে থাকেন। ওই দুই ওয়ার্ডের চাল আত্মসাতের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

চেয়ারম্যান দাউদুল দাউদ বলেন, আমার ইউপির ইউপি সদস্যরা কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি সঙ্গে জড়িত নয়। তারা কোনো চাল আত্মসাৎ করেন নাই।

নাগরপুর ইউএনও সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্ডের উপরে কিছু ইউপি এলাকায় তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(মো. আবু কাওছার আহমেদ, ঘাটাইল ডট কম)/-

বোনের সঙ্গে প্রেম করায় টাঙ্গাইলে মামুনকে হত্যা করে মাদ্রাসাছাত্র মাহিম

বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় ভাই মাহিম নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে কলেজছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন আশিককে হত্যা করে। পরে আশিকের মরদেহ বাড়ির পাশে লৌহজং নদীতে কচুরি পানার নিচে ফেলে দেন। টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মাহিম (১৯) এ কথা জানান।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কুমার দাশ মাহিমের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে সন্ধ্যায় তাকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, শহরের কাগমারা এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকায় পুলিশে কর্মরত রাশেদুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৮) গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হন।

তার পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েকমাস তাদের প্রতিবেশি মাহিমের বোনের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামুন তার প্রেমিকাকে একটি মোবাইল কিনে দেন। এটা জানতে পেরে প্রেমিকার ভাই মাহিম ক্ষুদ্ধ হন। নিখোঁজের দিন মোবাইল ফোনটি ফেরত নেওয়ার জন্য মাহিম তাদের বাড়িতে মামুনকে ডেকে পাঠায়। ওইদিন ফোন ফেরত আনতে গিয়েই মামুন নিখোঁজ হন।

পরে গত ৫ মে সন্ধ্যায় লৌহজং নদী থেকে মামুনের মরদেহ ভেসে উঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের পরেই পুলিশ মাহিম, তার মা ও বোনকে আটক করে।

৬ মে মামুনের মরদেহ দাফনের পর তার মা আনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহিম মামুনকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলে তিনি জবানবন্দি দেন। মাহিম ঢাকার একটি মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মাহিম জানিয়েছেন ঘটনার দিন তার বোনকে দেওয়া মোবাইল ফোন ফেরত নেওয়ার জন্য মামুনকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর মামুন ফোন ফেরত নিতে মাহিমদের বাসায় যান। আগে থেকেই ছুরি চেয়ারের পিছনে রেখেছিলেন। মামুনের পাশে বসে কথা বলার এক পর্যায়ে মাহিম ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে গভীর রাতে মরদেহ বাসার পাশে লৌহজং নদীতে কুচুরি পানার নিচে ফেলে রাখেন।

গ্রেফতাররকৃত মাহিমের মা ও বোনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়।

(tটাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

পুলিশ সদস্যদের করোনা চিকিৎসায় হাসপাতাল ভাড়া

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ইমপালস হাসপাতাল ভাড়া নিয়েছে সরকার। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে এখন থেকে শুধু করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে আরও ১৪৪ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত সারাদেশে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা এক হাজার ৪২৯ জন।

২৫০ শয্যার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে ইমপালস্ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড প্রাথমিকভাবে আড়াই মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়েগত ৫ মে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও ইমপালস হাসপাতাল একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি- গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) সোহেল রানা জানান, শিগগিরই ইমপালস্ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও সদিচ্ছা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের প্রচেষ্টায় স্বল্পতম সময়ে এই ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সার্বক্ষণিক সুচিকিৎসার জন্য আইজিপি বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং ইউনিট প্রধানদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

করোনা আক্রান্ত পুলিশের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রাধিকারের নিমিত্তে ইমপালস্ হাসপাতাল সংযোজন সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।

আক্রান্তের অর্ধেকই ডিএমপির:

সারা দেশে আক্রান্ত এক হাজার ৪২৯ জন পুলিশের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশেরই (ডিএমপি) ৭০৮ জন সদস্য। গত বৃহস্পতিবার ডিএমপিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৬৬ জন এবং সারাদেশে এক হাজার ২৮৫ জন। গতকাল পর্যন্ত পুলিশের দুই হাজার ৮১৪ সদস্য কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গ নিরোধ) ছিলেন।

করোনার উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন আছেন আইসোলেশনে (সঙ্গ বিচ্ছিন্ন) আছেন।

এ নিয়ে ৯৬ জন পুুুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন।

এ পর্যন্ত যে ছয়জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন, তারা সবাই ডিএমপিতে কর্মরত।

সরকার সাধারণ ছুটি বাড়ালেও রমজান এবং ঈদুল ফিতরের কথা বিবেচনা করে জনগণের চলাচল এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক নমনীয়তা দেখাচ্ছে। সাধারণ ছুটির ১৬ মে অবধি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা বজায় রাখার শর্তে প্রতিদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

(প্রথম আলো, ঘাটাইল ডট কম)/-

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় ৪৭২ বাংলাদেশির মৃত্যু

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭২ বাংলাদেশি মারা গেছেন। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, প্রবাসী কমিউনিটি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে সর্বশেষ এ তথ্য জানা যায়।

এর মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। শুক্রবার (৮ মে) পর্যন্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই করোনায় অন্তত ২৩৪ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। যদিও শেষ ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন করে আর কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

কেবল মৃত্যু নয়, আক্রান্তের দিক দিয়েও এ দেশে ঝুঁকির মধ্যে আছেন বাংলাদেশিরা। কয়েকশ’ করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। এখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ১২৩ বাংলাদেশি।

বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেই করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এ দুই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যাও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে তুলনামূলক বেশি। ফলে দুইখানেই বাংলাদেশিদের করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটেছে।

এর বাইরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৬৫ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।  এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ জন, ইতালিতে ৮,  কানাডায় ৭, স্পেনে ৫, কাতারে ৪,  কুয়েতে ৩,  সুইডেনে ২,  লিবিয়ায় ১,  ফ্রান্সে ১,  পর্তুগালে ১, গাম্বিয়ায় ১,  দক্ষিণ আফ্রিকায় ১ ও কেনিয়ায় ১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

সিঙ্গাপুরেই সবার আগে প্রবাসী এক বাংলাদেশির করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেলেও সেখানে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যদিও আক্রান্ত ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি।

(বাংলা নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে করোনা উপসর্গে মৃত সহ পরিবারের ৫ জনেরই নেগেটিভ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক গত মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রকৃতপক্ষে আব্দুল মালেক করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। এমনকি তাঁর পরিবারের চার সদস্যও করোনা ‘নেগেটিভ’।

আজ শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাস সন্দেহে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত বুধবার বিকেলে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু খবর শুনে রাতেই মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছিল।

শুক্রবার আসা ফলাফলে মৃত ব্যক্তিসহ পাঁচ সদস্যের কারো দেহে করোনা শনাক্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, মৃত ব্যক্তির ও আশপাশের কয়েকটি বাড়ি, দোকানপাট লকডাউন করা হয়েছিল। এখন তা এমনিতেই প্রত্যাহার হয়েছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে পলাতক করোনা আক্রান্ত যুবক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আরও দুই যুবকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (২৮) ও উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া গ্রামের ভাড়াটিয়া রাজমিস্ত্রি (২৫) বলে জানা গেছে। তবে আক্রান্ত রোগী রাজমিস্ত্রি (২৮) পালিয়ে গেছেন।

আক্রান্তের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সকালে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম।

এদিকে আক্রান্ত রোগী এক যুবক পেশায় রাজমিস্ত্রি (২৮) পালিয়েছেন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের হাতে ঐ ব্যক্তির রিপোর্ট আসে। রিপোর্টে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত। এরপর থেকেই নিরুদ্দেশ রয়েছেন তিনি। তিনি উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্র জানায়, গত ০৪ মে সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে প্রাপ্ত রিপোর্টে ২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে আক্রান্ত রাজমিস্ত্রিকে উদ্ধার ও বাড়ি লকডাউন করতে গেলে তাকে খুঁজে পায়নি স্বাস্থ্যকর্মীরা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আক্রান্ত ঐ রাজমিস্ত্রি কাজ করতে জেলার দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল এলাকায় যান। আক্রান্তের তথ্য প্রকাশের পর থেকেই তার ফোন বন্ধ এবং তিনি কর্মস্থল থেকে পলাতক রয়েছেন।

ইতিমধ্যে পলাতক ব্যক্তির সন্ধানে কাজ করে চলেছেন উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানা প্রশাসন। পলাতক ব্যক্তির ফোন বন্ধ পাওয়ায় ফোন ট্র্যাকিং করে সে কোন স্থানে অবস্থান করছেন এটি নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক।

এদিকে আক্রান্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবন লকডাউন করা হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে প্রেমের বিয়ের চারমাসেই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ফাহিমা (১৯) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

গৃহবধু উপজেলার বল্লা চকপাড়া গ্রামের দুলাল মিঞার ছেলে সিয়ামের স্ত্রী ও উপজেলা সদরের দক্ষিণ বেতডোবা গ্রামের ফরমান মিঞার ছোট মেয়ে।

জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় স্বামীর বাড়িতে নিজ ঘরের আড়ের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে দেখে লাশ মেঝেতে শুয়ানো। বাড়িতে শ্বাশুরি ছাড়া আর কেউ নেই।

নিহতের মামা নুরুল ইসলাম জানান, প্রেমের সম্পর্করে পর ৪ মাস আগে সিয়ামের সাথে ফাহিমার বিয়ে হয়। এরপর কয়েক দফা নির্যাতনের পর ৭০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। হঠাৎ করে এরকম খবর শুনে আসলেও আত্মহত্যার কোনও কারণ ও লক্ষণ আমারা দেখতে পাইনি। বাড়িতে শ্বাশুরি ছাড়া সবাই পলাতক।

কালিহাতি থানার সহকারি পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে রাত ১১ টায় আমরা মেঝেতে শুয়ানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

কালিহাতি থানার ওসি হাসান আল মামুন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে ভাতিজাদের হাতে চাচা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ভাতিজাদের হাতে চাচা খুনের ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে উপজেলার ইন্দারজানী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার পথে গোপন সংবাদ পেয়ে তাদেরকে ইন্দারজানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সবাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- মো. সোহরাব শিকদার (৪৫), সোলায়মান শিকদার (১৯) ও ইব্রাহিম শিকদার (১৯)। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার দারিপাকা গ্রামে।

থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিরোধীয় জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ভাতিজাদের দায়ের কুপ, টেটা ও লাঠির আঘাতে খুন হন চাচা হারেজ শিকদার (৭০)। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দারিপাকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার নিহতের আহত ছেলে আনোয়ার শিকদার বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের মাঈন শিকদারকে প্রধান করে ১০ জনকে আসামি করে সখীপুর থানায় খুনের মামলা দায়ের করেন। নিহতের দুই ছেলেসহ বাদীপক্ষের চারজন গুরুতর আহত হয়ে সখীপুর হাসপাতালে ভর্তি হন।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে নতুন আরও একজন সহ করোনায় মোট আক্রান্ত আট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আরও একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় আটজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (৮ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাকসুদা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় আক্রান্ত হওয়া নতুন ওই রোগীর বাড়ি উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মী, এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সাতজনের করোনা শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের এক নারী (৫৫) মারা গেছেন। এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন দুজন। অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী তাঁর নিজের বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, করোনায় আক্রান্ত আত্মগোপনে থাকা একজন নির্মাণশ্রমিককে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খোঁজে পান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে তাঁরা তাঁকে টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করেন। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলায়। তিনি মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, করোনার উপসর্গ থাকায় ৫ মে নতুন করে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির নমুনা তাঁর বাড়িতে গিয়ে সংগ্রহ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠান স্বাস্থ্যকর্মীরা। আজ শুক্রবার সকালে সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো তাঁর নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাকসুদা খানম জানান, করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলের একমাত্র করোনামুক্ত উপজেলা বাসাইল

টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলা ব্যাতিত অন্য সকল উপজেলাতে ইতোমধ্যেই করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধুমাত্র বাসাইল উপজেলা এখনো করোনা সংক্রমণের বাইরে রয়েছে।

বাসাইলের পার্শ্ববর্তী উপজেলা মির্জাপুর, সখীপুর, কালিহাতি, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার সবকটিতেই একাধিক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৬ জন।

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (০৭ মে) দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাসাইল উপজেলা হতে ৯২ টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৭১টি নমুনার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি যার সবগুলোই নেগেটিভ। বাকী ২১টি নমুনার ফলাফল এখনো হাতে আসেনি।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-