উপসর্গ ছাড়াই ধনবাড়ীতে তিন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উপসর্গ ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা.শাহানাজ সুলতানা তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আক্রান্তদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন নারী ও একজন পুরুষ।

জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা জানান, পরীক্ষার আগে আক্রান্তদের কোন উপসর্গ ছিল না। গত দুই দিনে স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুই দিনের নমুনার ফলাফল একসঙ্গে আসে। এতে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সের তিন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহানাজ সুলতানা আরও জানান, এ উপজেলায় প্রথমবারের মতো তিনজনের করোনা শনাক্ত হলো। এর আগে কারো করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় নি।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকা বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) নমুনা পরিক্ষার ফলাফলে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ায় তাদেরকে ধনবাড়ী ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

জানা যায়, আক্রান্ত তিন স্বাস্থ্যকর্মী ধনবাড়ী পৌর সভার সাবেক মেয়র হাবিবুল্লাহ ফকিরের কলেজ পাড়ার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে থাকেন।

(ধনবাড়ী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

২১ দিনে বসুন্ধরা বাংলাদেশে তৈরি করলো করোনা হাসপাতাল

বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যায় গড়ছে নতুন রেকর্ড। এই মুহূর্তে মৃত্যুর সংখ্যা কমা ছাড়া দেশের মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। বরং বিশ্বে করোনা আক্রান্তের তালিকায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের দিক দিয়ে বিশ্বে ৩৭তম স্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। এমনই তথ্য দিচ্ছে করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী তথ্য দেওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার।

এদিকে করোনার এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় লন্ডনের এক্সেল এক্সিবিশন সেন্টারের “নাইটিঙ্গেল হাসপাতাল” ও মাদ্রিদের আইএফইএমএ কনভেনশন সেন্টারের আদলে কনভেনশন সেন্টারকে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশেও তৈরি হচ্ছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল।

এর আগে উহান শহরে দশ দিনে হাসপাতাল তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো চীনের কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ঢাকার এই হাসপাতালটি হলো একুশ দিনে। অবকাঠামো অবশ্য আগেই বানানো ছিলো। শুধু বসানো হয়েছে শয্যা ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি।

বেসরকারি উদ্যোগ বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করতে দিলেও হাসপাতাল বানানোর মূল কাজটি করছে বাংলাদেশের সরকারই।

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশে আইসিসিবি- ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার চারটি কনভেনশান সেন্টার এবং একটি প্রদর্শনী তাঁবুতে গড়ে উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় এই কোভিড-১৯ হাসপাতাল।

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বিবিসিকে জানান, এই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রায় আড়ই লক্ষ বর্গফুট জায়গা তারা সরকারকে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করতে দিয়েছেন।

কী থাকছে এই হাসপাতালে

অস্থায়ী হাসপাতালটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিবিসিকে জানান, তিনটি কনভেনশন সেন্টার ও একটি প্রদর্শনী তাঁবুতে দুই হাজার তেরটি শয্যা পাতা হয়েছে।

তিনি বলেন- “এখানে আসলে আইসোলেশন করে রাখা হবে আর পোর্টেবল অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। দুই বেডের মাঝখানে আমরা বিদ্যুতের লাইন টেনে দিয়েছি ওখানে সকেট আছে।

কোন রোগীর যদি পোর্টেবল অক্সিজেন লাগে অথবা অন্য কিছু লাগে যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায় এবং ডাক্তাররা যেন তার রুমে বসে প্রত্যেকটা রোগীকে দেখতে পারেন তার জন্য সিসিটিভির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মনিটরটা ডাক্তারের রুমে থাকবে উনি দেখতে পাবেন।”

দুই হাজারের বেশি শয্যা পাতা হলেও কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর জন্য জরুরি আইসিইউ ইউনিট ও ভেন্টিলেশন সুবিধা এখনো সংযোজন করা হয়নি।

তবে এসব সুবিধার জন্য বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের একটি ইউনিটে ৪৫ হাজার বর্গফুট জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় এখনো এটি আটকে আছে, বলছেন কর্মকর্তারা।

চিকিৎসা শুরু হবে কবে?

১৪ই এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করে এরই মধ্যে দুই হাজারের বেশি শয্যা পাতা হলেও কবে থেকে রোগীদের সেবা দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত হয়নি।

এই বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বিবিসিকে জানান, তারা সরকারকে তাদের কনভেনশন সেন্টারগুলো এবং এর সাথে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস পানি ইত্যাদি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। ডাক্তার, নার্স বা যন্ত্রপাতি এসবের ব্যবস্থা সরকার নিজে করবে।

সোবহান আনভীর বলেন- “আমাদের দায়িত্ব হলো, জায়গাটা দেওয়া, এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ’সহ সব ধরনের বন্দোবস্ত আছে। ডাক্তার, নার্স আর মেডিকেল যন্ত্রপাতি ছাড়া সবই আছে।” “ডাক্তার এবং নার্সের দায়িত্ব সরকারের এটা আমাদের দায়িত্ব না।”

ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী কতজন লাগবে?

অস্থায়ী হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে একজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল পরিচালনার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

তবে এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান; দৈনিক আট ঘন্টা করে তিন ধাপে দায়িত্ব পালনের জন্য ৩১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৬৩০ জন মেডিকেল অফিসার, ১২৬০ জন সিনিয়র নার্স ও ২৫২০ জন স্টাফ নার্সের জন্য চাহিদাপত্র প্রস্তুত করেছেন তারা।

চাহিদাপত্র অনুযায়ী ডাক্তার নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মী পেলে তবে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা যাবে।

মহামারি শেষ হলে এই হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কী?

সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, সামাজিক দায়িত্ব থেকেই তারা হাসপাতাল তৈরির জন্য সরকারকে জায়গা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ২৬টি প্রতিষ্ঠান আছে যার প্রতিটি থেকে লাভ করি। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আয় না করলে কিছু হবে না।

তিনি বলেন, “দেখুন দুনিয়াতে এটা একটা সংকট চলছে এখন, একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব এ মূহুর্তে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করা।

এটা খুবই জনবহুল একটা দেশ, যদি এটি (কোভিড-১৯) ভয়াবহ রূপ ধারণ করে তাহলে এটাকে সামলানোর মতো অবকাঠামো বাংলাদেশে নাই এখন পর্যন্ত। তাই আমরা চিন্তা করলাম, আমরা আমাদের কনভেনশান সেন্টারকে অস্থায়ী সেন্টার হিসাবে কেন ব্যবহার করিনা?”

করোনাভাইরাস মহামারী শেষে এই অস্থায়ী হাসপাতালকে তারা স্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সোবহান আনভীর বলেন, “দেখুন আমরা ব্যবসায়ী, কত ধরণের কত কিছু হতে পারে, এই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিই নি। তবে অনেক কিছুই তো হতে পারে, তাই না?”

অন্যান্য দেশের কোভিড হাসপাতাল

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সর্ব প্রথম উহানে মাত্র দশ দিনে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরি করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় চীন। উহান শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত ২৪শে জানুয়ারি এই হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

মূলতঃ ছোট ছোট কাঠামোকে জোড়া লাগিয়ে রাতারাতি এই হাসপাতাল তৈরি করে চীন। তবে মহামারি ধীরে ধীরে কমে আসায় মার্চের শেষের দিকে এসে অস্থায়ী এ হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার।

চীনের মতো রাতারাতি হাসপাতাল না বানালেও বেশ বড় আকারের দুটি কনভেনশান সেন্টারকে হাসপাতালে রূপান্তর করে করে ব্রিটেন এবং স্পেন। স্পেন মাদ্রিদের আইএফইএমএ কনভেনশন সেন্টারকে ২৫০টি আইসিইউ শয্যাসহ সাড়ে পাঁচ হাজার শয্যার অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করে।

এ হাসপাতালটি কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দিনে তিনশ’র নিচে নেমে আসার পর হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এপ্রিল মাসের শুরুতে লন্ডনের এক্সেল এক্সিবিশন সেন্টারকে ‘নাইটিঙ্গেল হাসপাতাল’ নামে চার হাজার শয্যার অস্থায়ী একটি হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ লাখ ২২ হাজার ৯৫১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৩ লাখ ৯ হাজার ২৯৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আর এই ভাইরাসে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মৃত হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪ জনের।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কোভিড-১৯ সংক্রমিত ২২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭২ জনের মধ্যে ২২ লাখ ৬ হাজার ৬৬৭ জন স্থির অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া, ৪৮ হাজার ২০৯ জন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন, যা মোট রোগীর মাত্র দুই শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশে একদিনে নতুন করে এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ ৭৯০ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বুধবার (০৬ মে) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭১৯ জনে। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮৬ জনের।

(দ্য রিপোর্ট, ঘাটাইল ডট কম)/-

সৎ মাকে পিটানোর অভিযোগে কালিহাতীর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সৎ মাকে পিটিয়ে আহত করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শফি কামাল সিদ্দিকী সোহেল ও তার ভাই সুমন সিদ্দিকীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (৬ মে) বিকালে কালিহাতী উপজেলার কদিম হামজানি গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানাগেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে বাড়ির জমি দখল করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বয়োবৃদ্ধ সৎ মা সুলতানা বেগমকে পিটিয়ে আহত করে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফি কামাল সিদ্দিকী সোহেল ও তার ভাই সুমন সিদ্দিকী। এ সময় তারা সৎমায়ের রোপনকৃত গাছ-গাছরা ভেঙে ফেলে। আহত সৎ মাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হাসান আল মামুন জানান, এ ঘটনায় শফি কামাল সিদ্দিকী সোহেল, সুমন সিদ্দিকী, আয়োব আলী, নারগিস সিদ্দিকী, বিথী সিদ্দিকীকে অভিযুক্ত করে আহত সুলতানা বেগম থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শফি কামাল সিদ্দিকী সোহেল ও তার ভাই সুমন সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

থানার ওসি সহ গোপালপুরে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ২

টাঙ্গাইলে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন করে আরও ১২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৪ জন।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১০ টায় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. আলীম আল রাজী জানান, ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ ছিলো না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। তাকে হোম আইসোলোশনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। করোনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও ঢাকা থেকে আগত আলমনগর গ্রামের এক কলেজ ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘গত মঙ্গলবার ও বুধবার ১২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাদের ফলাফল পাওয়া যায়। তারমধ্য দেলদুয়ার-২, মির্জাপুর-২, ধনবাড়ী-৩ , গোপালপুর থানার ওসিসহ-২ ও কালিহাতী-২ ও ভূঞাপুরে ১ জন ফলাফল পজেটিভ আসে।’

গোপালপুর থানার ওসিসহ উপজেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ২ জন। এছাড়াও গোপালপুরে দুই নারী পোশাক শ্রমিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নতুন ১২ জন সহ টাঙ্গাইলে করোনায় মোট আক্রান্ত ৪৪

টাঙ্গাইলে নতুন করে আরো ১২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ধনবাড়ীতে তিনজন, কালিহাতীতে দু’জন, গোপালপুরে দু’জন, ভূঞাপুরে একজন, দেলদুয়ারে দু’জন ও মির্জাপুরে দু’জন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৪ জনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বুধবার টাঙ্গাইল থেকে ১২৩ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। সেখান থেকে এই ১২ জনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। বুধবার পর্যন্ত ঢাকায় পাঠানো দুই হাজার ১০৩টি নমুনার মধ্যে করোনা শনাক্ত হয় ৪৪ জনের। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়েছেন সাতজন।

টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলার মধ্যে নতুন করে ধনবাড়ী ও কালিহাতীসহ ১১ উপজেলাতেই করোনা রোগী শনাক্ত হলো। এখনো আক্রান্তের বাইরে রয়েছে বাসাইল উপজেলা।

টাঙ্গাইলে আক্রান্তদের মধ্যে ভূঞাপুরে সাতজন, সখীপুরে ছয়জন, নাগরপুরে পাঁচজন, মির্জাপুরে সাতজন, দেলদুয়ারে ছয়জন, সদর উপজেলায় দু’জন, ঘাটাইলে একজন, মধুপুরে একজন, গোপালপুরে চারজন, ধনবাড়ীতে তিনজন এবং কালিহাতীতে দু’জন।

সিভিল সার্জন অফিসের দেয়া তথ্যমতে, করোনায় আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে গোপালপুর থানার ওসি সহ দুইজন, ধনবাড়ী উপজেলার তিন স্বাস্থ্যসহকারী (কমিউনিটি ক্লিনিক হেল্থ প্রোভাইডার) ও মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ দুইজন, ভূঞাপুর উপজেলায় এক জন, কালিহাতী উপজেলায় দুই জন এবং দেলদুয়ার উপজেলায় দুই জন রয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সবজি নিয়ে মানুষের পাশে ঘাটাইল ডট কম

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরণের সবজি বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সবজি বিতরণের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ।

করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে উপজেলার সবজি চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে শুরু থেকেই রয়েছেন বেকায়দায়। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সরকারি এবং ব্যক্তি পর্যায় ত্রাণ হিসেবে চাল, ডাল পেলেও সবজির পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারছিলেন না। তাই ব্যাতিক্রমি সবজি বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে ঘাটাইল ডটকম ফাউন্ডেশন।

বিতরণের জন্য চার ধরণের সবজির সমন্বয়ে ৫ কেজি করে প্যাকেট করা হয়। ওইগুলো নিম্ন আয়ের ২০০ জন মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে ২০ মণ সবজি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বেগুন- ৫ মণ, চিচিঙ্গা- ৫ মণ, করোলা- ৫ মণ, শসা- ৫ মণ এবং ৬০০ পিস লেবু।

এর আগে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপজেলার সবজির এলাকা হিসেবে পরিচিত গারোবাজারে গিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন কৃষকের কছে থেকে সবজি কিনে নিয়ে আসেন।

সবজি বিতরণের উদ্বোধন করে পৌর মেয়র বলেন, এই মানবিক খাদ্য সহায়তা করার মাধ্যমে বুঝা গেল ঘাটাইল ডট কম শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশন নিয়েই ব্যাস্ত নয়। আমাদের সকলেরই উচিৎ এই ধরণের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। এছাড়া তাদের প্রান্তিক কৃষকদের থেকে সংগৃহীত কৃষিপণ্য বিতরণের বিষয়টি ভালো লেগেছে।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল ডট কম সংবাদ মাধ্যমটির প্রকাশক এস এম ইমরুল কায়েস রাজীব, সম্পাদক সারোয়ার জাহান কলি, বার্তা প্রধান মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডটকম ফাউন্ডেশনের সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

খাদ্য সহায়তা বিতরণ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হৃদয়ের ঘাটাইল এর সদস্য বৃন্দ।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ল কৃষকের স্বপ্ন

‘ধারদেনা কইরা তিন বিঘা জমিতে ধান বুনছিলাম, ভাটার গ্যাসে ধান পুইড়া আমার সব শেষ অইয়া গেছে।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চানতারা গ্রামের ওয়াহেদ আলী। তার মতো অনেক কৃষকের স্বপ্ন পুড়েছে ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে। পুড়ে গেছে এই এলাকার ১০০ বিঘা জমির বোরো ধান। এ ছাড়া বিষাক্ত এ গ্যাসের প্রভাব পড়েছে এলাকার সব ধরনের গাছের ওপরও। তাই এলাকার শতাধিক কৃষক স্বাক্ষর করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

চানতারা গ্রামে গড়ে উঠেছে ৯টি ইটভাটা। সবগুলোই দুই বা তিন ফসলি জমির ওপর। যে ধানগুলো পুড়ে গেছে, তার পাশেই নূপুর বিকস নামে একটি ইটভাটা। গত শনিবার সকালে ইট পোড়ানোর কাজে সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ভাটায় জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেন। গ্যাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই বাতাসে ধানসহ অন্যান্য গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, তাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। বিষয়টি তারা ভাটামালিকদের জানালে তারা কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

কৃষক জয়নাল আবেদিন জানান, ব্রি-২৯ জাতের ওই ধান কিছুদিন পরই কাটা যেত। ধান তো পুড়েছেই, সঙ্গে অন্যান্য গাছের কাঁচা পাতাও ঝরে পড়ছে। এ নিয়ে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা শ্রমিক জানান, কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে কিলিনে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। সব ইট পোড়ানো যখন শেষ হয়, তখন ওই গ্যাস তিন-চার দিন পর ধীরে ধীরে ছেড়ে দিতে হয়। মনে হচ্ছে ভাটা মালিকরা একসঙ্গে সব গ্যাস ছেড়ে দিয়েছে। তাই ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

নূপুর ব্রিক্সের মালিক জানান, দু-একজন মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি থাকলেও বেশিরভাগই এর পক্ষে নন।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ভাটার গ্যাসে ধান পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলব।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, কৃষকের শেষ সম্বল এই ধান। করোনার কারণে এমনিতেই তারা অসহায়। তাই আমি আশা করি, মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই কৃষককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইল ডট কম)/-

ধনবাড়ীতে নারী কাউন্সিলর লাঞ্ছনার শিকার, থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ

পরিবারের গ্যাস চুলা সারানো নিয়ে বচসায় শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার নির্বাচিত (সংরক্ষিত) এক নারী কাউন্সিলর। থানা নিয়মিত মামলা না নিয়ে গত  দুই দিনে বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে রেখে দেয়ার অভিযোগ করেছেন লাঞ্ছিত ওই কাউন্সিলর। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলে জানিয়েছেন।

গত সোমবার (৪ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল- জামালপুর সড়কের ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ক্যাম্পাসের সামনে ওই ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছনার শিকার ধনবাড়ী পৌরসভার ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান নারী কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, ধনবাড়ী পৌর এলাকার চালাষের জনৈক রেজাউল হকের ছেলে গ্যাস চুলা বিক্রি ও মেরামত ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়ার সাথে তার চুলা মেরামত সংক্রান্ত বিল নিয়ে তর্ক বাধে। এক পর্যায়ে জিয়া তার চুলাটি দোকান থেকে বাহিরে  ঢিল মেরে ফেলে দেন। হঠাৎই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের সাথে কিলঘুষি মেরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। তার এমন কাজে আরও দুইজন এসে যোগ দেন।

ওই নারী কাউন্সিলর অভিযোগে আরও বলেন,  হতবিহ্বল হয়ে তিনি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীদের ভয়ভীতি ও হুমকিতে এগোতে পারেননি।

ঘটনা অনেকে প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানিয়ে কোন সুরাহা না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি থানায় লিখিত দিয়েছেন।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা সিদ্দিকার সাথে কথা বলতে মোবাইলে একাধিকবার রিং দিলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার এক পর্যায়ে ওই নারী কাউন্সিলরকে চুলা ব্যবসায়ীসহ তিনজন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পিয়ারা খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, লাঞ্ছনার শিকার ওই নারী কাউন্সিরকে তিনি ঘটনার পর চিকিৎসা সেবার জন্য মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।

প্যানেল মেয়র আবদুল মজিদ মিন্টু ঘটনা শুনেছেন জানিয়ে মেয়রের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

এ নিয়ে পৌর পরিষদের অবস্থান জানতে মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপনের সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে ফোন করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) চান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, নারী কাউন্সিলর নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। উল্টো ওই নারী কাউন্সিলর দোকানীকে বকাঝকা করেছেন। অন্য দোকানীরা এর প্রতিবাদ করেছেন শুনেছি। ওসি লিখিত দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে তদন্ত চলার কথাও জানান তিনি।

(ধনবাড়ী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-