শিথিল লকডাউন, ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ- বাংলাদেশে ঝুঁকি বাড়ছে কতটা?

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা নির্দেশকারী গ্রাফটি যখন কেবলই ঊর্ধ্বমুখী, তখন বন্ধ থাকা কলকারখানা, দোকানপাট, অফিস-আদালত খুলে দেওয়ার তোড়জোড় ভাবিয়ে তুলেছে মহামারি বিশেষজ্ঞদের।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আজ সোমবার (৪ মে) পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ১৪৩ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে আজ সোমবারের ঘশনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮৮ জন, যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত।

গত কয়েক দিনের আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় খানিকটা ওঠানামা থাকলেও প্রতিদিনই অন্তত কয়েকশো’ মানুষ এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আর এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশে অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা খুলেছে, দোকানপাটে মানুষ আরও বেশী সময় ধরে কেনাকাটা করতে পারছেন, সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে কিছু সরকারি দপ্তর।

জনগণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিং মল আগামী ১০ মে থেকে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৪ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আদেশ জারি করা হয়। নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ চূড়ায় পৌঁছাতে বরং আরো খানিকটা সময় নেবে।

আক্রান্তের সংখ্যা

ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মনে করেন, আক্রান্তের সংখ্যা কেবল এই ধারণাই দিচ্ছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। তিনি বলেন, “২৫ তারিখ থেকে বেড়েই চলেছে। কালকে আবার কমবে নাকি বাড়বে বলা যাচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণের কাউন্ট উঠেই চলেছে। আর পুরো বাংলাদেশে একদিনে যদি সংক্রমণের সংখ্যা ৬০০ হয়, তাহলে দেখা যায় যে শুধু ঢাকা শহরেই হয় চারশো’। এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।”

এর আগে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন যে বাংলাদেশে মার্চ এবং এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যে ব্যবস্থাগুলো নেয়া হয়েছিল, সেগুলোর একটি প্রভাব দেখা যাবে মে মাসে।

তারা এ-ও বলেছিলেন, মে মাসের প্রথম দিকে সংক্রমণের পিক (সর্বোচ্চ সংক্রমণের সংখ্যা) পাওয়া যাবে না, বরং এটি আরও প্রলম্বিত হবে। তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে, মে মাসটি বাংলাদেশের জন্য ‘ক্রিটিক্যাল’ হতে পারে।

আর এমন আশঙ্কার মধ্যেই যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় যে গত এক মাস ধরে যে ‘লকডাউন’ সারা দেশে ছিলো, তা কিছুটা শিথিল হয়ে আসছে।

তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো খুলে দেয়া যেমন এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, তেমনি রয়েছে ঢাকার রেস্তোরাগুলোকে ইফতারি বিক্রির অনুমোদন দেয়া।

প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের যে সংখ্যা জানানো হচ্ছে, তা সম্ভবত বাংলাদেশে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র নয়।

এ বিষয়ে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)-এর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান তাহমিনা শিরীন বলেন, অনেক মানুষ রয়েছে যাদের শরীরে ভাইরাস থাকলেও উপসর্গ নেই। কিন্তু পরীক্ষা করার পর তিনি চিহ্নিত হচ্ছেন ভাইরাসবহসকারী হিসেবে, বলছিলেন তাহমিনা শিরীন।

তিনি জানান, অনেক অসুস্থ মানুষ রয়েছেন যাদের পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু তারা পরীক্ষা করাতে পারছেন না, কারণ পরীক্ষা করানোর মতো সুযোগ নেই।

একমাত্র আইইডিসিআর-এর পক্ষে পুরো বাংলাদেশ তো দূরের কথা শুধু ঢাকা শহরের সব মানুষের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করাও সম্ভব না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সাথে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা কিছুটা জটিল মলিকিউল টেস্ট হওয়ার কারণে দক্ষ জনবল না বাড়াটাও একটা বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি।

“এই যে ছয়শো’ আক্রান্তের কথা বলা হচ্ছে, প্রকৃত চিত্র এর চেয়ে আরো অনেক বড় হতে পারে। কারণ আমরা কি টেস্ট বাড়াতে পেরেছি? কিংবা যাদের আসলেও দরকার তারা পাচ্ছে না।”

শুরুতে কেবলমাত্র আইইডিসিআর করোনাভাইরাসের টেস্ট করলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি পরীক্ষার সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সারা দেশে এখন ২৯টি ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজীর আহমেদও বলেন যে সংক্রমণের যে হিসাবটি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তার মনে হচ্ছে না যে সংক্রমণের সঠিক চিত্রটা প্রতিফলিত হচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “হিসাবটা প্রতিনিয়ত দ্বিগুণ করে বা দ্বিগুণের কাছাকাছি করে একটা পর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার কথা। সেটা যেহেতু হচ্ছে না, তার মানে হচ্ছে কিছু একটা মিস হয়ে যাচ্ছে।”

লকডাউন কি ঠিক সময়ে দেয়া হয়েছিল?

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রায় পুরো বিশ্ব যে পদ্ধতিটির বিষয়ে একমত ছিলো, তাহলো লকডাউন আরোপ করা। শুরু করেছিল চীন, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল করোনাভাইরাসের।

এরপর বিশ্বের বেশীরভাগ দেশই এক্ষেত্রে চীনকে অনুসরণ করে। বাংলাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে লকডাউন না বলে দেয়া হয়েছিল ‘সাধারণ ছুটি’। কিন্তু গণপরিবহন, কলকারাখানা এবং অফিস-আদালত বন্ধ আর স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার কারণে কার্যত তা ছিল লকডাউনই।

আর স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশের অনেক জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবেই লকডাউন আরোপ করা হয়েছিল করোনাভাইরাসের রোগী চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা লকডাউনের বিষয়ে যে প্রশ্নটি তুলেছেন সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশে কার্যকর কোন লকডাউন আদৌ কখনো ছিল কি-না?

তাদের অনেকেই বলছেন, একেবারে নামে মাত্র ‘লকডাউন’ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু মানুষ আসলে তা মানেনি। তবে আবার এমন মতও রয়েছে যে ঠিক সময় লকডাউন দেয়া হয়েছিল বলেই সংক্রমণের হার এখনো মারাত্মক পর্যায়ে যায়নি।

এ বিষয়ে ভাইরোলজিস্ট নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা লকডাউন দিয়েছি কাগজে কলমে, কিন্তু লকডাউন মানছি না। তার মানে হচ্ছে, আমরা লকডাউন করি নাই। এর কারণেই আধা-খেঁচড়া ধরণের কাজ হচ্ছে।”

তার মতে, উল্টো এর কারণে কাজও বন্ধ থেকেছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার মানুষ পুরোপুরি ঘরেও থাকেনি। তবে পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

লকডাউন কার্যকর হয়নি বলে মত দিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)-এর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান তাহমিনা শিরীনও।

তিনি বলেন, যখন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল তখন সবাই গ্রামে চলে গেলো। তখন সংক্রমণের একটা ঝুঁকি ছিল। বলতে গেলে তখনই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।একই ভাবে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার কারণেও মানুষ যখন আবার ঢাকামুখী হয়, তখন একই ধরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তাহমিনা শিরীন মনে করেন, কোন সময়েই আসলে লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, লকডাউন আরোপ করার কারণেই সংক্রমণ কিছুটা কম হয়েছে।

তিনি বলেন, “সরকার যে লকডাউন করেছিল তার একটা বড় প্রভাব পড়েছে সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে। কারণ অন্য মিডিয়াগুলো কিন্তু আমাদের খুব একটা কার্যকরী ছিল না।”

তবে লকডাউন আরো ভালভাবে কার্যকর করা যেতো বলেও মনে করেন তিনি।

শিথিলতায় কতটা ঝুঁকি বাড়বে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ বাড়ার এই সময়টাতে হঠাৎ করে যদি লকডাউনের শর্ত শিথিল করা হয়, তাহলে ঝুঁকি বাড়বে বৈ কমবে না।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী রয়েছে. ফলে এই শহরে এ ধরণের ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন কার্যকর রাখা হলে অনেক বেশি ঝুঁকি বাড়বে।

তিনি বলেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। দরকার হলে এর জন্য একটা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে, যারা কেবলমাত্র এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।

“কারণ মানুষ লকডাউন করলেই ঘরে থাকছে না, সেখানে শিথিল করা হলে মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে আগাবে। যেভাবে চলছে, তাতে খারাপ একটা অবস্থা হতে পারে”।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, যেসব এলাকায় গার্মেন্টস রয়েছে – যেমন ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ – সেসব এলাকায় কারখানা মালিকেরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনাগুলো মানছে কি-না, তা তদারক করার কোন উপায় নেই।

তিনি বলেন, কারখানা মালিকেরা যদি শর্ত না মানেন, তাহলে সংক্রমণের হার অনেক বেড়ে যেতে পারে।

আইইডিসিআর-এর ভাইরোলজিস্ট তাহমিনা শিরীন বলেন, “লকডাউন কার্যকর না হওয়ার কারণে আমরা অর্থনৈতিকভাবেও লুজার (ক্ষতিগ্রস্ত) হলাম। আবার সংক্রমণও কমাতে পারলাম না।”

তিনি বলেন, রেস্তোরায় ইফতারি বিক্রির অনুমোদন দেয়াটা ছিল অবাক করার মতো।

“আমি জানি না কেন ইফতারির দোকান কেন খুলে দেয়া হচ্ছে? এগুলো তো অবশ্যই সংক্রমণ বাড়াবে। এমনিতে উপসর্গ নেই, কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে এমন রোগীতে ভরে গেছে,” তিনি বলেন।

ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, “লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যদি এ বিষয়ে সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয়া যেতো, তাহলে গত এক মাস যে কষ্ট করা হলো, তার সুবিধাটা ঘরে তোলা যেতো”।

আর এই সময়ে লকডাউন শিথিল করার পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে ‘ব্যাপক হারে ঝুঁকি তৈরি হলো’ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা ঠিক যে সব সময় লকডাউন রাখা যাবে না। কিন্তু সেটি শিথিল করতে হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শের পর শর্ত মেনে করা উচিত ছিল।

কারাখানা বা রেস্টুরেন্ট খুলে দেয়া হলেও যারা সেখানে কাজ করবে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে ছয়টি শর্ত রয়েছে লকডাউন শিথিল করার জন্য তার প্রথমটি হচ্ছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে এরকম নজীর থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টোটা হচ্ছে। কারণ সংক্রমণের সংখ্যা এখন প্রতিদিনই বাড়ছে।

“বাংলাদেশ এখন এক্সপোনেনশিয়াল পর্যায়ে আছে। এখানে এখন (সংক্রমণ) প্রতিনিয়তই বাড়বে।”

ড. আহমেদ বলেন, এক্ষেত্রে আরও যে ৫টি শর্ত রয়েছে, তার কোনটিই বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না। তাই বলা যায়, লকডাউন আগে আগে প্রত্যাহার করা হলে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়বে।

“এখন আমাদের তাঁকিয়ে থাকতে হচ্ছে যে সামনের দিনগুলোতে কী হতে যাচ্ছে, মে মাসে কী হতে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

সারাদেশে দোকানপাট-শপিং মল খুলবে ১০ মে

জনগণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিং মল আগামী ১০ মে থেকে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আদেশ জারি করা হয়।

নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৭ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটিসহ) সাধারণ ছুটি/জনগণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা/সীমিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাগুলো অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট-শপিং মলসহ অন্যান্য কার্যাবলি আগামী ১০ মে থেকে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো। তবে এক্ষেত্রে আন্ত-উপজেলা যোগাযোগ ও চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘হাট-বাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট, শপিং মলগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল চারটার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি শপিং মলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। আসন্ন ঈদের ছুটিতে জনগণকে নিজ নিজ স্থানে থাকতে হবে এবং আন্ত-জেলা ও উপজেলা/বাড়িতে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করতে হবে। এমতাবস্থায় শর্তসহ বিষয়গুলো বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীনস্থ অফিস, অধিদফতর, বাহিনী, সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য অনুরোধ জানানো হলো।’

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে সাধারণ ছুটি চলাকালে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য সাধারণ জনসাধারণকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই সময় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সীমিত পরিসরে দোকানপাট, শপিং মল চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে কবে থেকে দোকানপাট খোলা রাখা হবে তা বলা ছিল না।

(বাংলানিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বিএনপির খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে টাঙ্গাইলের কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সামগ্রী সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের উদ্যোগে টাঙ্গাইল পৌর শহরে ১০নং ওয়ার্ড কাজিপুর এলাকায় ১৫০ পরিবার পেলেন খাদ্য সামগ্রী।

সোমবাার (৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরে ১০নং ওয়ার্ড কাজিপুর এলাকায় সামাজিক দূরত্ব মেনে ১৫০ নারী-পুরুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রত্যেককে খাদ্য সামগ্রীর একটি করে প্যাকেট দেওয়া হয়। প্রতি প্যাকেটে ছিল ৪ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন।

এ বিষয়ে ফরহাদ ইকবাল বলেন, জাতীয়তাবাদী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমাননের নির্দেশে হত-দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আমি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি।

তিনি বলেন, জনগনকে ভালো রাখতে এবং এই অবস্থা থেকে যতদিন মুক্তি না মেলে, ততদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেব এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবিদ হাসান ইমন, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার রফিকুল ইসলাম রফিক, বিএনপি নেতা শাহজাহান, শহীদুল ও ফিরোজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্য সহকারি, জেলায় মোট আক্রান্ত ২৭

টাঙ্গাইলে নতুন করে আরও একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ জনে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান এতথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ডিস্ট্রিক্ট কোয়াটারের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় একটি বিল্ডিং লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আক্রান্ত ওই নারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী। তিনি যেখানে বসবাস করতেন ওই বিল্ডিংটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। সেখানে ১২টি পরিবার রয়েছেন। আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে তার নিজ বাসাতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’

সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, রবিবার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৮৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে একজনের করোনা শনাক্তের বিষয়টি জানানো হয়। এ নিয়ে জেলায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭জনে।

এদের মধ্যে ঢাকায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যেই সাতজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

শর্ত দিয়ে দোকানপাট-শপিংমল খোলার অনুমতি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটির মধ্যে শর্ত দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। রমজান ও ঈদ সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকান-পাট খোলা রাখা যাবে।

সোমবার (৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলমান ছুটি আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনায় বলা হয়, রমজান এবং ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকান-পাট খোলা রাখা যাবে।

তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড় বড় শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

শপিংমলে আগত যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আর দোকানপাট ও শপিংমল আবশ্যিকভাবে বিকেল ৫টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে, জানানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায়।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী পাওয়ার পরে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ওই সময় থেকেই গণপরিবহনের সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে গত ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসাপেক্ষে যাতে রোজা ও ঈদ সামনে রেখে দোকানপাট খোলা রাখা যায় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

(বাংলা নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ৪৫০ আদিবাসীকে খাদ্য সহায়তা ও শিশু খাদ্য বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নে করোনার কারণে কর্মহীন ৪ শত ৫০টি আদিবাসী পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের বেতুয়াপাড়া মসজিদ সংলগ্ন খোলা মাঠ থেকে এসব খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক , সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার, আদিবাসী টাইব্রাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ঘাটাইল শাখার সভাপতি অনিল চন্দ্র বর্মণ প্রমূখ।

সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অসহায় আদিবাসিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চাল, করলা, আলু।

একই সাথে উপজেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে শিশুদের মাঝে শিশু খাদ্য বিতরণ করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু আদিবাসীদের খাদ্য বিতরণ বিষয়ে জানায় আমরা উপজেলা পরিষদ আর উপজেলা প্রশাসন মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যে পর্যন্ত মহামারী করোনা ভাইরাস পুরো নির্মুল না হবে আমারা অসহায় কৃষক শ্রমিক দিনমুজুরের পাশে আছি ।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

এবারের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা

এ বছরের ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) বেলা সাড়ে ১২টার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজার মূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

ফিতরা আরবী শব্দ যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর (ফিতরের যাকাত) বা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরের সদকা) নামে পরিচিত। ফিতর বা ফাতুর বলতে সকালের খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয় যা দ্বারা রোজাদারগণ রোজা ভঙ্গ করেন। যাকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে।

রোজা বা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় ইফতার বা সকালের খাদ্য গ্রহণ করা হয়। সেজন্য রমজান মাস শেষে এই দানকে যাকাতুল ফিতর বা সকাল‌ের আহারের যাকাত বলা হয়।

নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সকল মুসলিমের জন্য ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

বাংলাদেশে করোনায় দ্বিতীয় চিকিৎসকের মৃত্যু

দেশের অন্যতম হেমাটোলজিস্ট এবং ল্যাবরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট অধ্যাপক কর্নেল (অব.) মো. মনিরুজ্জামান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রবিবার (৩ মে) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটস (এফডিএসআর)।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো দেশের দ্বিতীয় চিকিৎসক তিনি।

ড. মো. মনিরুজ্জামান আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিফ হেমোটোলজিস্ট ছিলেন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, কর্নেল (অব.) প্রফেসর ডা. মনিরুজ্জামান রবিবার বিকালে কাজ শেষে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ফেরেন। ইফতারের আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাৎক্ষনিক কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হলে তার পজিটিভ ফলাফল আসে।

ডা. এহতেশাম আরও জানান, করোনা পজিটিভের বিষয়টি সিএমএইচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, কোনও কাগজপত্র এখনও হাতে আসেনি।

তিনি আরও জানান, এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগে কর্তব্যরত চার জনকে তাৎক্ষণিক হোম কোয়ারেন্টিনে এবং বিভাগটি ডিসইনফেক্টেড করার কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে জ্বর ও বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন ড. মনিরুজ্জামান। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তিনি সেখানেই মারা যান। মারা যাওয়ার পর তার নমুনা সংগ্রহ করলে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।

প্রসঙ্গত, করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো দ্বিতীয় চিকিৎসক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান। এর আগে, ১৫ এপ্রিল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেতের পাকা ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ১০নং রসুলপুর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা এছাক আলীর ক্ষেতের পাকা ধান কেটে দিয়েছে রসুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

গতকাল রোববার (৩ মে) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পবিত্র রমজান মাসের রোজা রেখে দিনব্যাপী কর্মসূচী হাতে নিয়ে ঘাটাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেতের পাকা ধান কেটে বাড়ীতে পৌঁছে দেয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে শ্রমিক সঙ্কটের জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই মানবিক কর্মসূচী পালন করছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপসম্পাদক সোহাগ হোসেন, কালিহাতি কলেজ ছাত্রলীগের আহব্বায়ক জাহিদ, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রানা, আশিকুর রহমান, রাইছুল ইসলাম রাহাত সহ রসুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ হোসেন বলেন, রসুলপুর ইউনিয়নের  ছাত্রলীগের সকল কর্মীদের ধন্যবাদ যে তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ধান কেটে বাড়ীতে পৌঁছে দিয়েছে। আমি আশা করি তারা যেন সবসময় এইভাবে মুক্তিযোদ্ধা এবং কৃষকের পাশে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পালন করতে বাধ্য। মানুষের প্রয়োজনে পাশে আছে ছাত্রলীগ তারা সবসময় তাদের পাশেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠী পেল ঘাটাইল পৌরমেয়রের খাদ্য সহায়তা

চলমান করানাভাইরাস (কোভিড-১৯) উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর্থিক সঙ্কটে থাকা তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ও লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ। সোমবার (৪ মে) সকালে ঘাটাইল পৌরসভা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন পৌরমেয়র।

তাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল- ৫০ কেজি চাল, ২০ কেজি আলু, পাঁচ কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি ডাল, চার লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি লবণ, ডিম সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী।

ঘাটাইল পৌরমেয়রের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ও লিঙ্গ বৈচিত্রময় জনগোষ্ঠীকে এই ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়।

এসময় ঘাটাইল উপজেলা হিজড়া জনগোষ্ঠির প্রধান নুপুর ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, আমাদের কথা কেউ তেমন একটা আসলে ভাবে না। পৌরসভার মেয়র আমাদের খাদ্য সহায়তা করলেন, সেই জন্য ধন্যবাদ।

পৌরমেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ এ সময় ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, দেশের এ সঙ্কটকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের স্বীকার এ জনগোষ্ঠী। পরিবার ও সমাজ বিচ্ছিন্ন এ জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকেই নিত্য রোজগারে জীবিকা নির্বাহ করেন, যাদের সবাই এখন উপার্জনহীন। তাই তাদের এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করে তাদের বুভুক্ষু অবস্থা থেকে সাময়িক পরিত্রাণ দেওয়ার একটু চেষ্টা করলাম।

ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান ওয়ার্ড কাউন্সিলর গণ, স্বেচ্ছাসেবক এবং নাগরিকদের সমন্বয়ে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই গণ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত পৌর এলাকায় কেউ করোনা আক্রান্ত হন নাই। এদিকে তার খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণের কার্যক্রমও প্রশংসনীয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সাহায্যের তালিকায় যুক্ত হল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-