৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত

পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ২৭ মার্চ শুক্রবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসলমান সম্প্রদায় দিবসটি পালন করেন। শবে বরাত মুসলমানদের কাছে লাইলাতুল বরাত নামেও পরিচিত। আরবি শব্দ ‘লাইলা’ অর্থ রাত। অন্যদিকে ফার্সি শব্দ ‘শব’ অর্থও রাত। আর ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি।

শাবান মাসের ১৪ তারিখের এ রাতকে মুক্তির রাত বা নাজাতের রাত হিসেবে অবহিত করা হয়। এ রাতে সৃষ্টিকর্তার আছে পাপ থেকে মুক্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

হিজরি বছর হিসেবে ১৪ শাবান দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালন করা হয়।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশে ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আর তাই ২৭ মার্চ থেকে থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ফিরোজায় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন খালেদা জিয়া

ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপাতত তার নিজ বাসায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ম্যাডামকে জানাতে এসেছি, আমরা ওনার মুক্তিতে অনেক খুশি হয়েছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, উনি যেন এখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেন। আবার রাজনীতিতে আসতে পারেন, সেই কথাগুলো বলেছি।

তিনি বলেন, ওনার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা ইতিমধ্যে ওনার বাসায় গিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আপাতত কিছুদিনের জন্য ম্যাডামকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া বুধবার বিকেলে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে গুলশানের বাসায় যান বিকেল সোয়া ৫ টায়। এর কিছুক্ষণ পর খালেদা জিয়ার কয়েকজন চিকিৎসক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তার বাসায় যান। সেখানে বসে তারা সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া আগামী ১৪ দিন গুলশানের বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

মুক্তির সিদ্ধান্তের খবর জানার পরই খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শুরু করে। বাড়ানো হয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সদস্য সংখ্যাও।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে প্রবেশ পথের ২৩ স্থানে পাহারা, অবরুদ্ধ ৫ লাখ মানুষ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সকল বাজারের ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান ও জরুরি সেবা বাদে সব ধরনের দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। অন্য উপজেলার কোনো পরিবহণ ও লোকজন সখীপুর উপজেলার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। অন্য উপজেলা থেকে সখীপুর ঢোকার সীমান্তের ২৩টি স্থানে সড়কে বাঁশের বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে।

সখীপুর থেকে কেউ যেন না যেতে পারে আর না ঢুকতে পারে এজন্য প্রবেশ ধারের ওই ২৩ স্থানে সার্বক্ষণিক পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পুরো সখীপুরকে অবরুদ্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ আজ বুধবার থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা। মঙ্গলবার রাতেই সভার সিদ্ধান্ত উপজেলার সব মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মাসে ৬৪৭জন প্রবাসী ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৩২৭জনকে হোমকোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অনেককেই পাসপোর্টের ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে না। প্রবাসীরা কোয়ারেন্টিন মানছেন না। ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে জরিমানাও করা হয়েছে। অধিকাংশ প্রবাসী নিয়ম না মেনে অবাধে বাজারে ও ঘরের বাইরে ঘোরাঘুরি করায় এ অঞ্চলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে পুরো সখীপুর উপজেলাকেই কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১টায় সখীপুর পৌরশহরের প্রাণ কেন্দ্র মোখতার ফোয়ারা চত্বরে দেখা যায়, জনসমাগম নেই বললেই চলে। কোনো প্রয়োজন ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। ওষুধের ও মুদি দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনি সন্দেহভাজন লোকজনকে দেখা মাত্র জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সখীপুর থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান জানান, উপজেলার সব বাজারের দোকানপাট, চলাফেরা বন্ধ থাকবে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বেরোবে না। অন্যদিকে অন্য উপজেলা থেকে কেউ যাতে সখীপুরে না ঢুকতে পারে সেজন্য ২৩টি সীমান্ত পয়েন্টে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পয়েন্টের রাস্তায় বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, লক ডাউন নয় তবে পুরো সখীপুর উপজেলাই কোয়ারেন্টিনে থাকবে।

উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, আজ থেকে লোকজনের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সখীপুর হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হয়েছে। লোকজন হাসপাতালে না এসে টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করবে।

ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা বলেন, করোনাভাইরাস যাতে সংক্রমিত না হয় এজন্য সভায় সর্বসম্মত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক কথায় পুরো সখীপুরকে নিয়ন্ত্রণের চাদরে ঢাকা হচ্ছে।

(মোস্তফা কামাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তার ভাষণটি সম্প্রচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় দেশবাসী।

আসসালামু আলাইকুম।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি ভাইবোনদেরও জানাই শুভেচ্ছা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশি রাষ্ট্র এবং জনগণ আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন, আমি তাঁদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।

আজকের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি আমাদের একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন।

শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের জানাচ্ছি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা।
১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি উপর গণহত্যা শুরু করে। আমি ২৫-এ মার্চের গণহত্যার শিকার সকল শহিদকে স্মরণ করছি।

আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই – মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেল – কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদকে।

প্রিয় দেশবাসী,

এবারের স্বাধীনতা দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড় – সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জনসমাগম হয় এমন ধরনের সব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সকল জেলায় শিশু সমাবেশ ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই কারণে আমরা মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জনসমাগম না করে টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচার করেছি।

প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের স্বাধীনতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার ফসল।
১৯৪৮-৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয়-দফা-১১-দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র নির্বাচনের পথ পেরিয়ে আমরা উপনীত হই ৭১’র ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা দেন: “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা”।

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে। বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম স্তব্ধ করে দিতে ২৫-এ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির উপর অতর্কিত হত্যা শুরু করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬-এ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পাকিস্তানি সামরিক শাসক তাঁকে বন্দি করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ৯-মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে।

পাকিস্তানের জেলে ১০-মাস বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। শুরু করেন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন তিনি।

প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা, শহিদ পরিবার, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোনদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত করা সমস্ত কাজই তিনি করেছিলেন এই সাড়ে তিন বছরে।

জাতির পিতা বলতেন: ‘‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।”

তিনি যখন দেশ পুনর্গঠনের কাজে নিমগ্ন, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকেরা তাঁকে পরিবারের ১৮জন সদস্যসহ হত্যা করে। আমরা দুবোন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই।

প্রিয় দেশবাসী,

আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা তাঁর ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে।
বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বাংলাদেশ আজ খাদ্যশস্য, শাক-সবজি-মাছ-মাংস-ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।
ঢাকায় মেট্রোরেল এবং চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দোরগোড়ায় এখন আমরা। মহাকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপিত হয়েছে।
গত বছর ৮.১৫ শতাংশ হারে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম।

কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা আভাস দিচ্ছেন। আমাদের উপরও এই আঘাত আসতে পারে।

প্রিয় দেশবাসী,

এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

গত জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল। এটি এখন বিশ্বের ১৯৫টির মধ্যে ১৬৯ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল পর্যন্ত ৪ লাখ ২২ হাজার ৮শোরও বেশি মানুষ এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এবং ১৮ হাজার ৯০৭ জন মানুষ মারা গেছেন। ১ লাখ ৯ হাজার ১০২ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে প্যানডামিক বা মহামারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

প্রিয় দেশবাসী,

আমি জানি আপনারা এক ধরনের আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যাঁদের আত্মীয়স্বজন বিদেশে রয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের নিকটজনদের জন্য উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

আমি সকলের মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি। কিন্তু এই সঙ্কটময় সময়ে আমাদের ধৈর্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের যতদূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।

যাঁরা করোনাভাইরাস-আক্রান্ত দেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন, সেসব প্রবাসী ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ – আপনাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা বাড়িতে সঙ্গ-নিরোধসহ যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন।

মাত্র ১৪দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়া প্রতিবেশি, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।

কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সহজ হবে। ঘনঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাঁচি-কাশি দিতে হলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিবেন। যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলবেন না।

করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না।

বাইরে জরুরি কাজ সেরে বাড়িতে থাকুন। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন এবং অন্যান্য ধর্মের ভাইবোনদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

আই.ই.ডি.সি.আর-এর হটলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। এছাড়া সোসাইটি অব ডক্টরস তাদের ৫০০টি নম্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ঐসব নম্বরে যোগাযোগ করুন। সরকার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেন।
তবে, আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে।

সে জন্য আপনার পরিবারের সবচেয়ে সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিন। তাঁকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। তাঁকে ভাইরাসমুক্ত রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করুন।

আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায়। সব সময় খেয়াল রাখুন আপনি, আপনার পরিবারের সদস্যগণ এবং আপনার প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হন।

আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।

প্রিয় দেশবাসী,

চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ দেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ২টি সমুদ্র বন্দর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনসহ সকল স্থলবন্দরের মাধ্যমে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮১ জন যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

জানুয়ারি মাস থেকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঢাকায় ৬টি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩টি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য পৃথক শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঢাকায় ১০ হাজার ৫০ টিসহ সারা দেশে ১৪ হাজার ৫৬৫টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ২৯০টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে মোট ১৬ হাজার ৭৪১ জনকে সেবা দেওয়া যাবে।

বাংলাদেশে ৮ই মার্চ সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসবাহী রোগীর অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়। এরপর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৯ জন করোনাভাইরাসবাহী রোগী সনাক্ত হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে ৪ জন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন। তাঁরা আগে থেকেই নানা অসুখে ভুগছিলেন। ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭ হাজার ৩৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরমধ্যে ৯ হাজার ৮৮৫ জনকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া ২৬৭ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়। তাদের মধ্যে ২৭৭ জনকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

গত ১৯-এ মার্চ থেকে বিদেশ হতে আগত সকল যাত্রীর সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিমান বন্দর হতে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকায় আশকোনা হাজী ক্যাম্প এবং টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

আমরা ইতোমধেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছি। বিদেশে অবস্থিত আমাদের মিশনগুলোকে কোন বিদেশি নাগরিককে ভিসা না দিতে বলা হয়েছে।

বিদেশ থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদের তালিকা ঠিকানাসহ জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আগত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করছেন।

প্রিয় দেশবাসী,

আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তাঁদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং যথেষ্ট পরিমাণ সরঞ্জাম মজুদ আছে।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীরও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত হবেন না। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত ১৩ হাজার পরীক্ষা কিট মজুদ ছিল। আরও ৩০ হাজার কিট শিগগিরই দেশে পৌঁছবে।

ঢাকায় ৮টি পরীক্ষার যন্ত্র রয়েছে। দেশের অন্য ৭টি বিভাগে করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ চলছে।

আমি স্বাস্থ্যকর্মীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রশাসনের সদস্যবৃন্দকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে একযোগে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বেতার-টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিয় দেশবাসী,

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে আপনারা ইতোমধ্যেই জেনেছেন। তবুও আমি কয়েকটি বিষয়ের কথা আবারও উল্লেখ করছি।

দেশের সকল স্কুল কলেজ ও কোচিং সেন্টার গত ১৭ই মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।

সকল পর্যটন এবং বিনোদন কেন্দ্রও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আগামীকাল ২৬-এ মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি-বেসরবারি অফিস বন্ধ থাকবে।

কাঁচাবাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান এবং হাসপাতালসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে।

গতরাত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন, নৌযান এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখবে।
২৪-এ মার্চ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বলবৎ হয়েছে।

এটি কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ সহায়তা করছেন। আপনারা যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ৫০০ চিকিৎসকের তালিকা তৈরি করেছে যাঁরা জনগণকে সেবা প্রদান করবেন।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ১৫ই মার্চ সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের সঙ্গে আমি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হই।

এ রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে আঞ্চলিকভাবে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণের জন্য আমি সার্কভুক্ত দেশসমূহের নেতাদের উদাত্ত আহ্বান জানাই।

সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তাবিত সুপারিশমালা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করছে। আমরা একটি যৌথ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত  নিয়েছি যাতে বাংলাদেশ ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,

যুগে যুগে জাতীয় জীবনে নানা সঙ্কটময় মুহূর্ত আসে। জনগণের সম্মিলিত শক্তির বলেই সেসব দুর্যোগ থেকে মানুষ পরিত্রাণ পেয়েছে। ইতঃপূর্বে প্লেগ, গুটি বসন্ত, কলেরার মত মহামারী মানুষ প্রতিরোধ করেছে।

তবে ঐসব মহামারীর সময় বিশ্ব এখনকার ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত ছিল না। এত বিপুল সংখ্যক মানুষ তখন একদেশ থেকে অন্য দেশে বা একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করতো না।

এ কারণে করোনাভাইরাস দ্রুততম সময়ে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চয়ই বিশ্ববাসী এ দুর্যোগ থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পাবে।

এ সঙ্কটময় সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি নেই।

দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না। জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না। সর্বত্র বাজার মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,

করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আমাদের তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাষাণচরে ১ লাখ মানুষের থাকার ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামুল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা ও দেওয়া হচ্ছে।

আমি নিম্ন-আয়ের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আমাদের শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এই আঘাত মোকাবিলায় আমরা কিছু আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসায়-বান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোন গ্রাহককে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে।

রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। মোবাইলে ব্যাংকিং-এ আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী,

আজ সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। তবে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

আমরা জনগণের সরকার। সব সময়ই আমরা জনগণের পাশে আছি। আমি নিজে সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।

আমাদের এখন কৃচ্ছতা সাধানের সময়। যতটুকু না হলে নয়, তার অতিরিক্ত কোন ভোগ্যপণ্য কিনবেন না। মজুদ করবেন না। সীমিত আয়ের মানুষকে কেনার সুযোগ দিন।

আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে ১৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি মিল মালিকদের কাছে এবং কৃষকদের ঘরে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে। চলতি মওসুমে আলু-পিয়াজ-মরিচ-গমের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কৃষক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, কোন জমি ফেলে রাখবেন না। আরও বেশি বেশি ফসল ফলান।

দুর্যোগের সময়ই মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার; মানবতা প্রদর্শনের।

বাঙালি বীরের জাতি। নানা দুর্যোগে-সঙ্কটে বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে সেগুলো মোকাবিলা করেছে।

১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।

আবারও বলছি: স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সকলে যাঁর যাঁর ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

(সময় টিভি, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতির পরলোকগমন

বুধবার (২৫ মার্চ) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের ডৌজানী গ্রামের ঘাটাইল উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সংস্কার সমিতির সভাপতি, হিন্দু বৈদ্য খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি, ব্রাহ্মন শাসন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যায়ের সাবেক শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সোম সকাল ৯টা৩০মিনিটে ভারতে কোলকাতার একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরলোক গমন করেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯৪ বৎসর।  দির্ঘদিন যাবৎ তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।  তার সৎকার কোলকাতার একটি শ্মশানে হবে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা যায় ।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন, অবশেষে বন বিভাগ জব্ধ করলো সেই কাঠ

অবশেষে জব্ধ করা হলো অবৈধভাবে কাটা টাঙ্গাইলের ২ নং ঘাটাইল ইউনিয়নের নিয়ামতপুর- খিলপাড়া রাস্তার দু‘পাশের সেই সরকারি গাছ। গাছ কাটার এক মাস পর আইনি প্রক্রিয়ায় এ কাঠ জব্ধ করা হল। ঘাটাইলের ইএনও অঞ্জন কুমার সরকার এক স্মারক পত্রের (নং-২৪৫,তারিখ-২৪/০৩/২০) মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্তন করা সরকারি রাস্তার সেই কাঠ গুলো জব্ধ করে বন বিভাগের জিম্বায় রাখার নির্দেশ দেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের বটতলি ও ঝড়কা বিটের ফরেষ্টার যৌথভাবে এ কাঠ জব্ধ করে। বটতলি বিট কর্মকর্তা মামুন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ দিকে কাঠ জব্ধ করে বন কর্মকর্তাদের জিম্বায় রাখার কথা থাকলেও রাখা হয়েছে রফিক নামে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ির স‘মিলে তার হেফাজতে।

ওই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি রাস্তার এ গাছ গুলো বিক্রি করা ও কাটার অনুমতি দেয়া সবই করেছে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী। আর যার হেফাজতে এ কাঠ রাখা হয়েছে সে ওই চেয়ারম্যানের সহযোগি। ফলে তারা অবিলম্বে কাঠগুলো ফরেষ্টারের জিম্বায় রেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

এ বাপারে বনবিভাগের ধলা পাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, কাঠগুলো যার কাছে রাখা হয়েছে তিনি একজন কাঠ ব্যবসায়ি। তা ছাড়া তার কাছে বনের প্লট বিক্রির বিডির টাকা আমার কাছে আছে। ফলে কোন সমস্যা হবে না।

উল্লেখ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২ নং ঘাটাইল ইউনিয়নের নিয়ামতপুর- খিলপাড়া সরকারি রাস্তার দু পাশে থাকা ২১৮টি গাছ ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে অবৈধভাবে কেটে নিচ্ছে এলাকাবাসির এমন অভিযোগে ইউএনও স্থানীয় তহশিলদারকে দিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। আর কর্তনকৃত কিছু কাঠ জব্ধ করে সেখানেই রেখে দেয়।

এ সংক্রান্তে ইউএনও কার্যালয়ে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের কাছে পেশাগত দায়িত্বের কারনে তার সঙ্গে কথা বলার সময় যুগান্তর সাংবাদিক খান ফজলুর রহমানের ওপর হামলা চালায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী। পরে ইউপি চেয়ারম্যানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন যুগান্তর ঘাটাইল প্রতিনিধি।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা আতঙ্কে সখীপুরে ফ্রিজ ভাঙ্গার গুজব

করোনা আতঙ্কের মধ্যে বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম গুজব ছড়াচ্ছেন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে তেমনি একটি গুজব  ছড়িয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফ্রিজ ভাঙা। সেখানে বলা হচ্ছে করোনার কারণে ফ্রিজে কাঁচা মাছ, মাংস রাখলে বাড়ি গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্রিজ ভেঙ্গে দিচ্ছে। সোমবার থেকে এ গুজব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ গুজব রটে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্রিজ ভেঙ্গে ফেলছে। তারপর ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। কে বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব রটিয়ে দিয়েছে। গুজব রটানোর পর থেকে অনেকে নিজেদের আত্মীয়, পরিচিতজনদেরও মোবাইল ফোনে এ খবর জানিয়ে দেন। ফলে বাড়ির গৃহিণীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে ফ্রিজের মাছ-মাংস বের করে রান্নাও করে ফেলেন। অনেক পরিবার স্থানীয় সাংবাদিকদের ফোন করে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে সখীপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ মো. আমির হোসেন জানান, ফ্রিজ ভাঙ্গা নিছক একটি গুজব। এটাতে কেউ কান দিবেন না। ফ্রিজসহ যে কোনো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সখীপুরবাসীকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।

(সাইফুল ইসলাম শাফলু, ঘাটাইল ডট কম)/-

মুক্ত খালেদা জিয়া ফিরলেন ফিরোজায়

সাড়ে ২৫ মাস আগে ঢাকার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে সবশেষ বেরিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড পাওয়ায় আর সেই বাসায় ফেরা হয়নি। তারপর থেকে ছিলেন পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সবশেষ কারান্তরীণ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। বিশেষ বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ায় সাড়ে ২৫ মাস পর সেই ‘ফিরোজায়’ ফিরেছেন খালেদা জিয়া।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তাকে বহনকারী গাড়ি গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাসভবন ‘ফিরোজা’য় পৌঁছায়। এসময় খালেদার বাসভবনের সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে বিকেল ৪টার পর কারান্তরীণ খালেদাকে জিয়াকে মুক্তি দেয়া হলে তিনি বিএসএমএইউ প্রাঙ্গণে রাখা গাড়িতে ওঠেন। সেখান থেকে খালেদাকে বহনকারী গাড়ি ‘ফিরোজা’র উদ্দেশ্যে রওনা হয়। খালেদার সঙ্গে তার গৃহকর্মী ফাতেমাও বের হন। তবে ফাতেমা অন্য গাড়িতে করে বাসায় ফেরেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরকারের পক্ষ থেকে খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্ত জানানো হলে তার বাসভবন ‘ফিরোজা’ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে (করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট) সরকার তার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে এই সাজা স্থগিত থাকবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে সেখানে বিএনপি প্রধানের কারামুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। সর্বশেষ তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়। ফাইলে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে তা যায় কারা অধিদফতরে। সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুক্তি পান বিএনপি প্রধান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

পরে কারান্তরীণ অবস্থায়ই চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়। সবশেষ গত বছরের ১ এপ্রিল তাকে তৃতীয় দফায় হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়। তিনি হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

মামলা দু’টি ষড়যন্ত্রমূলক বলার পাশাপাশি বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এক্ষেত্রে তারা আদালতেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বরাবরই বিফল হতে হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বকে।

এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিএনপি নেতারা খালেদার মুক্তির জোর দাবি তোলেন। বিশ্বজুড়ে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাসে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সেজন্য ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে দ্রুতই মুক্তি দেয়া প্রয়োজন বলে মতামত দেন তারা।

মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্ত জানানোর পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে প্রধানমন্ত্রী তার প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে উদারনৈতিক এবং মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বিনামূল্যে দুই হাজার মাস্ক বিতরণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার এবং সংক্রামণ রোধ ও মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিনামূল্যে দুই হাজার মাস্ক বিতরণ করছে ঘাটাইল অটো মাহিন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়ন বাসস্ট্যান্ড শাখা।

আজ বুধবার (২৫ মার্চ) ঘাটাইল পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, বাজার রোড, কলেজ মোড়, বানিয়া পাড়া, শাহপুর মোড় এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ চলাচলকারী সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন, রিকশাচালক, অটো, সিএনজি ,মাহিন্দ্র চালকদের মধ্যে এই মাস্ক বিতরণ করা হয়।

মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু।

মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন ঘাটাইল অটো মাহিন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়ন বাসস্ট্যান্ড শাখার সহ সভাপতি মোঃ দুলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হোসেন তুহিন। এছারাও সে সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফ শেখ, তুহিন, সরকারি জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা পরান বাবু, চান মিয়া, প্রমুখ।

এ সময় তারা বলেন, সরকারের একার পক্ষে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রুখতে কাজ করা সম্ভব না। সবার আগে আমাদের সচেতন হতে হবে। সচেতন না হলে কখনোই এই রোগ ঠেকানো যাবে না। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তাদের সবার উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসা।

তারা আরও বলেন, সামর্থ্যের দিক দিয়ে হয় তো কম, কিন্তু মানবতার দিক থেকে আমরা শীর্ষে। দেশের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে গরিব, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।

বিনামূল্যে মাস্ক পেয়ে অটো চালক রমিজ উদ্দিন বলেন, আমরা এই মাস্ক পেয়ে আনন্দিত। বর্তমানে করোনাভাইরাস আমাদের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে। এই মাস্ক আমাদের করোনা ভাইরাস রোধে সহযোগিতা করবে বলে মনে করি। এর আগে এভাবে মাস্ক বিতরণ করতে দেখেননি বলে তিনি জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২৭ বাড়িতে লাল পতাকা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২৭ জনের বাড়িতে ঝুলছে লাল পতাকা। উপজেলা প্রশাসন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাড়িতে লাল পতাকা দিয়ে চিহিৃত করে দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইতিমধ্যে মির্জাপুর পৌরসভা, জামুর্কি, মহেড়া, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নের গনজমায়েত না হওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য জরুরী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জোবায়ের হোসেন এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমানসহ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, বলেন সকলের সহযোগিতায় দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য নিরলস বাবে কাজ করা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২৭ জনের বাড়িতে ইতিমধ্যে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু করেনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-