ঘাটাইলে সকল এনজিও’র ঋণ আদায় স্থগিতের ঘোষনা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মানুষের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব পড়ার কারণে টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল এনজিওর ঋণ আদায় পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষনা দিয়েছেন ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন।

ঘাটাইলে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কমকে নিশ্চিত করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার। পরবর্তী ঘোষনা না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার আজ সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে ঘাটাইল ডট কমকে জানান, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘাটাইল উপজেলার সকল এনজিওদের গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো’।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে বিদেশফেরত ৪৫৩ প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকা, স্টিকার

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ও স্থানীয়দের সচেতন করতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিদেশফেরত ৪৫৩ জন প্রবাসীর বাড়ির সামনে লাল পতাকা টানিয়ে ও স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বল্লা এলাকায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী আমিনুল ইসলাম ও মফিজুলের বাড়িতে লাল পতাকা ও স্টিকার লাগিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা নীপা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান, কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন ও বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চাঁন মাহমুদ পাকির আলী প্রমুখ।

ইউএনও শামীম আরা নিপা বলেন, উপজেলায় গত ১৫ দিনে বিদেশ থেকে ৪৫৩ জন প্রবাসী এসেছেন। বিদেশফেরতদের চিহ্নিত করতে প্রত্যেকের বাড়িতে একটি লাল পতাকা এবং একটি স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সেখানে সেই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা এবং কবে বাংলাদেশে এসেছেন ও হোম কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ কবে শেষ হবে সে তথ্য দেওয়া আছে। সেইসঙ্গে আমাদের প্রশাসনের নম্বর দেওয়া আছে।

প্রবাসী যারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের পরিবারকে আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, ওই পরিবারের অন্য সদস্যরাও যেন খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যায়, ওই বাড়িতে যে বয়স্ক সদস্য আছেন তিনিও যেন মসজিদে জামাতে না যান, এবং ওই বাড়ির কেউ অসুস্থ হয়েছেন কিনা সেটা জানার জন্য ওই বিদেশফেরত প্রবাসীর প্রত্যেক প্রতিবেশীকে আমরা সচেতন করেছি। প্রতিবেশীরা জানাবে তারা বাইরে বের হয় কিনা, জনসমাগম হচ্ছে কিনা।

ইতোমধ্যে আমাদের এখানে হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্কুল-কলেজ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে। সব ধরনের জনসমাবেশ, জনসভা, ধর্মীয় সভা এগুলো নিষেধ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি আমাদের সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংক্রমণরোধে সফল হবো।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা মোকাবেলায় সরকারের ১০ নির্দেশনা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২৯ তারিখ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে এই দুর্যোগের সময় জনসাধারণের প্রতি দশ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ১০টি সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব জানান, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে তাদের পৃথকভাবে বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ দফার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১০ সিদ্ধান্তের মধ্য রয়েছে গণপরিবহন চলাচল সীমিত রাখা, সব রকম সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো হলো:

১. আগামী ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি। এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি। ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পরবর্তী পাঁচ দিন সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিলের সাপ্তাহিক ছুটি সাধারণ ছুটির সঙ্গে যোগ হবে। অর্থাৎ ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান ছুটির আওতায় থাকবে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতালসহ জরুরি যেসব সেবা রয়েছে তার জন্য এসব প্রযোজ্য হবে না। জনসাধারণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ক্রয় ও চিকিৎসা গ্রহণ ইত্যাদি) কোনোভাবেই ঘরের বাইরে না আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইতিপূর্বে স্কুল ছুটি ঘোষণার পর দেখা গেছে অনেকেই দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গেছেন। সাধারণ ছুটি মানে সরাসরি আইসোলেশন না হলেও নিজেকে পৃথক রেখে অন্যকে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা।

২. এ সময়ে যদি কোনো অফিস-আদালতে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে হয় তাহলে তাদের অনলাইনে সম্পাদন করতে হবে। সরকারি অফিস সময়ের মধ্যে যারা প্রয়োজন মনে করবে তারাই শুধু অফিস খোলা রাখবে।

৩. গণপরিবহন চলাচল সীমিত থাকবে। জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করবে তাদের অবশ্যই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেই গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। গাড়ি চালক ও সহকারীদের অবশ্যই গ্লাভস এবং মাস্ক পরাসহ পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

৫. ২৪ মার্চ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সশস্ত্র বাহিনী জেলা প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত থাকবে। দেশের ৬৪ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাদের স্ব স্ব জেলার প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর জেলা কমান্ডারকে রিকুইজিশন দেবে।

৬. করোনাভাইরাসের কারণে কোনো ব্যক্তি যদি স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয় তাহলে সরকারের যে ঘরে ফেরার কর্মসূচি রয়েছে , সে কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে গিয়ে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

৭. ভাসানচরে এক লাখ লোকের আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। এ সময় যদি দরিদ্র কোনো ব্যক্তি ভাসানচরে যেতে চান তাহলে তারা যেতে পারবেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

৮. করোনাভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় অন্নসংস্থানের অসুবিধা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।

৯. প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫০০ জন চিকিৎসকের তালিকা তৈরি ও তাদের প্রস্তুত রাখবে।

১০. সব ধরনের সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাগম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যাওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও সম্প্রতি মিরপুরে একজন বৃদ্ধ অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে যান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পরে মৃত্যুবরণ করেন। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের প্রতি অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে নামাজ আদায় করতে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

রাণীনগরে স্কুল ছাত্রী অপহরণে মামলা

নওগাঁর রাণীনগরে ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী অপহরণের অভিযোগে থানা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৫জনকে আসামী করে রাণীনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ওই ছাত্রীকে উদ্ধার কিম্বা কোনো আসামীকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার ৫দিন অতিবাহিত হলেও ওই ছাত্রীকে এখনও উদ্ধার করতে না পারায় অজানা আতংকে রয়েছে স্বজনরা।

জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাউল দক্ষিন পাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে একই গ্রামের জান্টুর ছেলে সজীব (২১) তার পিতা-মাতাসহ ৫/৬ জন মিলে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই মেয়ের বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে মেয়ের বাবা মোজাম্মেল সরদার বাদি হয়ে অপহরণের মূল হোতা সজীব তার মা রাণীনগর থানা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা বেগম, বাবা জান্টুসহ ৫জনকে আসামী করে রাণীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল হক জানান, স্কুল ছাত্রী অপহরণের ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আসামী এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

(রাজেকুল ইসলাম, রাণীনগর, নওগাঁ/ ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে ক্রিকেট জুয়াড়ির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ক্রিকেট ও মোবাইলে গেমস্ জুয়া বন্ধে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভূয়াইদ এলাকাবাসী ওই গ্রামের ছামাদ সিকদারের ছেলে ক্রিকেট ও গেমস্ জুয়াড়ি লালমিয়া ওরফে প্রিন্স’র বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্স তার নিজ গ্রাম ভূইয়াদসহ আশপাশের যুব সমাজকে নিয়ে টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফোনে ক্রিকেট ও গেমস্ জুয়া খেলে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা বাঁধা দিতে গেলে নানা হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

প্রিন্সের দুই ভাই আমিনুল ও মনির সিকদার তার সহযোগি হিসেবে কাজ করে আসছেন বলেও লিখিত অভিযোগে জানা যায়।

প্রিন্স ও তার সহযোগিদের হাত থেকে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের পথ হতে পরিত্রান পেতে নিরুপায় এলাকাবাসী টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার, ডিবি অফিস, সিআইডি অফিস টাঙ্গাইল এবং সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে সখীপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আমির হোসেন বলেন- বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনয় ব্যবস্থা নিতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মিরপুরে লকডাউন ৪০ বাড়ির ৬৭২ পরিবার

ঢাকার মিরপুর-১ এর উত্তর টোলারবাগে করোনাভাইরাস শঙ্কায় আনুমানিক ৪০টি বাড়িসহ পুরো এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। স্থানীয় আবাসিক কল্যাণ সমিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাতে আইইডিসিআরের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুলিশের মিরপুর বিভাগের এসি (দারুস সালাম) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (২১ মার্চ ) ভোরে টোলারবাগের একটি ভবন লকডাউন করা হয়। কারণ ওই ভবনে ও পাশের দুই বাসিন্দা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

৪০টি বাড়ি লকডাউনের ব্যাপারে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের এসি (দারুস সালাম) মিজানুর রহমান বলেন, ঠিক লকডাউন নয়। যেহেতু ওই এলাকায় একটি ঘটনা ছিল। সেহেতু তিনি ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে চলাফেরা, মেলামেশা করেছেন। তাই আমরা প্রত্যেক বাসায় বাসায় গিয়ে ওই এলাকার মানুষকে সচেতন করে দিয়ে এসেছি। তারা যেন বাসা থেকে বের না হন। তা ছাড়া ওই এলাকায় চলাচল সীমিত রাখেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, সেখানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০টির মতো বাসাতে আমরা গিয়েছিলাম। বলতে পারেন টোলারবাগ পুরো এলাকা।

অন্যদিকে হাউজ ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সুভাশীষ বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যায় বৈঠক হয়েছে। টোলারবাগের ৪০টি বাড়ির ৬৭২ পরিবারকে ‘লকডাউনের’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি কার কাছ থেকে ভাইরাস বহন করেছিলেন, সেটি চিহ্নিত করা যায়নি।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, সেখানে আরো আক্রান্ত থাকতে পারেন।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একটি সার্কুলার জারি করা হচ্ছে। যেন সেখানকার চাকরিজীবীরা ঘরে থাকতে পারেন।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, মিরপুরের টোলারবাগের একটি ভবনের একজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ ব্যক্তি ছিলেন। সতর্কতার জন্য আক্রান্ত ওই রোগীর সঙ্গে সম্ভাব্য চলাফেরা ও মেলামেশা করা ভবনের অন্যদের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে। ভবনটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে, ওই ভবন থেকে যেন কেউ বের হতে না পারেন। ওই ভবনে প্রবেশ সংরক্ষিত ও এলাকায় চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আইইডিসিআরের পরামর্শে পরিবারটি যে ভবনে থাকে সেটি ‘লকডাউন’ করে রাখা হয়েছে। ওই পরিবারের একজন মারা গেছেন। ওই পরিবারের কেউ যাতে বাসা থেকে বাইরে বের হতে না পারে সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে ওই ভবনটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলতে সতর্ক করা হয়েছে।

(দেশ টিভি, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে শ্বশুরবাড়ি যাত্রাপথে জাপান ফেরত প্রবাসীর জরিমানা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে শ্বশুরবাড়ি যাত্রা পথে জাপান ফেরত এক প্রবাসীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে পৌরসভার জেলখানা মোড় এলাকায় ওই প্রবাসীকে এ জরিমানা করা হয়। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা লিজা এ জরিমানা করেন।

জানা যায়, ১৫ মার্চ জাপান থেকে এসে এক ব্যক্তি টাঙ্গাইল শহরের ভাড়া বাসায় উঠতে যান, কিন্তু বাসার মালিক ও অন্য ভাড়াটেরা রাজি না হওয়ায় তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাসাইল উপজেলায় চলে আসেন। সেখানেও গ্রামবাসী তাঁদের তাড়িয়ে দেন। পরে আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সখীপুর পৌর শহরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। শ্বশুরবাড়ির আশপাশের বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখে, ওই জামাই শ্বশুরবাড়ির বাইরের একটি বাজারে ঘোরাঘুরি করছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুপুরে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

পরে আদালত শ্বশুরবাড়িতে সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার প্রস্তাব দিলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা রাজি হননি। উপায় না দেখে ওই জামাইসহ চারজনকে টাঙ্গাইল শহরের বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার শর্তে পুলিশের সহযোগিতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা।

ইউএনও জানান, নিজ বাড়ি বাসাইলে তাঁর স্থান না হওয়ায়, এমনকি শ্বশুরবাড়ির লোকজনও রাজি না হওয়ায় তাঁদের টাঙ্গাইলের ভাড়া বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই বাসায় হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা: নির্দেশ অমান্য করে ভুঞাপুরে চা-স্টল ও হাট বাজারে জনসমাগম

আলোচিত প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে সচেনতনতার কার্যক্রম মানছে না গ্রাম অঞ্চলের মানুষজন। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন গত শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চা-স্টলের দোকানে টিভি চালানো ও সব ধরণের আড্ডা দেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু জনস্বার্থে সচেতনমূলক নির্দেশ অমান্য করে করোনা ভাইরাস আতঙ্ককে তোয়াক্কা না করেই উপজেলার গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন চা-স্টল ও হাট বাজারে জনসমাগম ঘটছে।

গ্রামের সাধারণ মানুষরা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বা গ্রাম পুলিশরাও জনসচেতনতার লক্ষে কোন ধরণের সতর্ক করেনি। এদিকে, শনিবার একইদিনে বিকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক হাট বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই তা সীমাবদ্ধ থাকে বিজ্ঞপ্তি। উপজেলার চরাঞ্চলসহ হাট-বাজার ও চা স্টল জনসমাগম বন্ধের বিষয়ে মাইকিংও করা হয়নি।

অলোয়া ইউনিয়নের ভারই গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, হাট বাজার বন্ধ ও জনসমাবেশ বিষয়ে আমাদের কোন প্রকার অবহিত করেনি ইউনিয়ন পরিষদ।

গোবিন্দাসীর শাহআলম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সচেতনতা মূলক কোন প্রকার মাইকিং বা প্রচার প্রচারনা করা হয়নি। তবে বাজার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে পৌর কাঁচা বাজার, গোবিন্দাসী হাটে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও বাজার মনিটরিং নিয়মিত রয়েছে।

রবিবার (২২ মার্চ) উপজেলার গোবিন্দাসী হাটে সরেজমিনে দেখা গেছে- গত শনিবার বিকালে সাপ্তাহিক রবিবার দেশের বৃহৎ গোবিন্দাসী হাট বন্ধ ঘোষণা করা হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী নিয়ে অনেকেই হাটে আসছে। সকাল থেকেই শুরু হয় জনসমাগম। একই চিত্র স্থানীয় বাজারগুলোতেও। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে জনসমাগম ঘটছে প্রতিনিয়ত। আড্ডা চলছে চা-দোকানগুলোতেও।

হাট বন্ধে নির্দেশ থাকা সত্বেও করোনা আতঙ্কে গোবিন্দাসী হাটে আসা গাবসারা চরাঞ্চলের চর বিহারীর মো. আলম মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে হাট বন্ধের কোন বিজ্ঞপ্তি শুনিনি। যমুনার দুর্গম চর এলাকায় থাকি আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বেশী। কিন্তু রোববার গোবিন্দাসীতে সাপ্তাহিক হাট বার। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা করতে আসছি। তবে হাট বন্ধের ঘোষণা জানলে হাটে আসতাম না।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসন থেকে সচেতনতামূলক যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা প্রশংসনীয়। কিন্তু এসব জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তিগুলো গ্রাম অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। যার কারণে তারা নিয়ম-শৃঙ্খলা ও হোম কোয়ারেন্টাইন কি সেটাও বুঝছে না। যদি বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ ও আদেশ-নির্দেশ মাইকিং করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচারণা করা হয় তাহলে জনসমাগম হবে না বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন বলেন, শনিবার বিকালে সরকারি নির্দেশনা মতে, জনস্বার্থে উপজেলার সাপ্তাহিকে বসা বিভিন্ন হাটগুলো বন্ধের নোটিশ দেয়া হয়েছে। মাইকিং করে প্রচারনা চালনা হয়েছে। দুপুরে চা-দোকানে টিভি চালানো ও সকল আড্ডা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জনসচেনতায় জনপ্রতিনিধিদের তাদের এলাকাগুলোতে জানিয়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্য রাখারও নির্দেশও দেয়া হয়েছে। যারা নির্দেশ অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

সখীপুরে ৫১৪ প্রবাসীকে খুঁজছে প্রশাসন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদেশফেরত ৫১৪ প্রবাসীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষে উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে মোট ৮১টি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা এসব প্রবাসীদের খুঁজতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে।

গোয়েন্দা তালিকা অনুযায়ী চলতি মাসে পাঁচ হাজার ২৪৭ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় ফিরেছেন। এর মধ্যে শুধু সখীপুর উপজেলায় ফিরেছেন ৬৪৭ জন প্রবাসী। উপজেলা প্রশাসন গত শনিবার পর্যন্ত ১৩৩ জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে। অবশিষ্ট ৫১৪ জনের কোনো হদিস স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ছিল না।

বিদেশফেরত এসব ব্যক্তির তথ্য গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন, থানা ও স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে এসেছে। ওই ৫১৪ জনকে খুঁজতে গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় পৃথক কমিটি করে দিয়েছেন। গত শনিবার থেকে ওই কমিটি ৫১৪ জন প্রবাসীকে ঠিকানা ধরে খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও থানা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান বলেন, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া একটি তালিকা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সখীপুর থানা-পুলিশের হাতে এসেছে। গত শুক্রবার থেকে ওই তালিকা ইউনিয়ন ভিত্তিক সাজিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য-সচিব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, চলতি মাসের ২ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত এ উপজেলায় ৬৪৭ জন বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ১৩৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বাকিদের নজরদারিতে আনার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে নয় সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তা ওই কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করবেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁর কাজের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যকে আহ্বায়ক করে কমিটি করে দেবেন। ৫১৪ জনকে খুঁজতে উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে মোট ৮১টি কমিটি মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। আমার বিশ্বাস দুই-একদিনের মধ্যেই ৫১৪ জন প্রবাসীকে নজরদারিতে আনা যাবে।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আসমাউল হুসনা বলেন, ইতিমধ্যে সখীপুরে ১৩৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে চাননি তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাও দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে হয়তো নিজ থেকেও কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, থানা পুলিশের কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য, কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মী, রোভার স্কাউটের সদস্য, মসজিদের ইমাম ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি ইতিমধ্যে মাঠে ওইসব প্রবাসীদের খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিভাগের বিধি মেনে চলতে হবে। তবেই এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

(মোস্তফা কামাল, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে সেনা মোতায়েন

করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। সোমবার (২৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এর আগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সকল সরকারি অফিস ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাঁচাবাজার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাসপাতালসহ জরুরি সেবা বিভাগগুলো এই ঘোষণার আওতায় থাকবে না।

২৯ মার্চ থেকে দোসরা এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তার সামনে পেছনে ২৬ মার্চের ছুটি ও নিয়মিত ছুটি মিলে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি হচ্ছে।

এর আগে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হয়। পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। বাংলাদেশে সকল দোকান, বিপণি বিতান ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-