ঢাকায় সেই বাড়ির পাশে ‘করোনার উপসর্গ’ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু

ঢাকার মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মাহমুদা আফরোজ জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তি করোনা সাসপেক্টেড ছিলেন। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিল। তবে ফল পাওয়া যায়নি।

শনিবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি যে বাসায় থাকতেন ওই বাসার পাশেই এ ব্যক্তির বাসা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর পর একটি ভবনের ৩০টি পরিবারকে নজরদারিতে আনা হয়। তবে নিহত ব্যক্তি কিভাবে করোনা আক্রান্ত হন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার পরিবার জানিয়েছে, বিদেশ ফেরত কেউ তাদের বাসায় নেই।

রোববার (২২ মার্চ) রাত ৯টার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তিনি কখন মারা গেছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাযনি। এ ছাড়া তিনি কোনো হাসপাাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কি-না সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দেশে আক্রান্ত বেড়ে ২৭

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভাইরাসটিতে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দুজন, ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। এছাড়া আগে আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। এবার নতুন করে আরও দুজন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন।

(মানব জমিন, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভূঞাপুরে চা-দোকানে আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে করোনা ভাইরাস রোধে উপজেলার সকল চা স্টলে টিভি চালানো বন্ধ ও সর্ব সাধারণের আড্ডা না দেয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধকল্পে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা এবং দ্রব্যমূল্যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্য রাখতে বিশেষ পরামর্শ সভা শেষে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত উপজেলায় প্রত্যেক এলাকায় সকল চা স্টলে টিভি চালানো বন্ধ ও আড্ডা দেয়া যাবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বা সেই চা স্টলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও আরেক এক বিজ্ঞপ্তিতে বিকালে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ মোকাবেলায় উপজেলার গোবিন্দাসী হাট, নিকরাইল হাট, গোবিন্দপুর হাট ও শিয়ালকোল গো-হাটসহ বড় বড় সাপ্তাহিক হাট আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায়, যারা আইন অমান্য করবেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(ফরমান শেখ, ঘাটাইল ডট কম)/-

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

আজ পবিত্র শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মে বছরে যে কয়টি রাত ফজিলতপূর্ণ এর একটি শবে মেরাজ। ২৬ রজব এই রাতটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। মুসলিমরা রাতটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পালন করবে।

লায়লাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ প্রিয়নবী সা.-এর মেরাজের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। মহানবী নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। সেখানে আল্লাহর সঙ্গে তার কথোপকথন হয় এবং ওই রাতেই মুসলমানদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। এজন্য মুসলিম জাহানের কাছে এই রাতের তাৎপর্য অপরিসীম।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দিনভর নফল রোজা রাখা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবে মিরাজ পালন করেন। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বছর শবে মেরাজ পালিত হচ্ছে এমন এক মুহূর্তে যখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব ভয়াবহ করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত। ফজিলতপূর্ণ এই রাতে মুসলিম উম্মাহ করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (COVID-19) সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্তকতা অবলম্বনে টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার(২২ মার্চ) সকালে ভাইস-চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় ভাইস-চ্যান্সেলরের অর্পিত ক্ষমতা বলে ২৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভাগসহ সকল অফিস বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নির্দেশনা মোতাবেক অফিসে উপস্থিত থাকা এবং বন্ধ কালীন সময়ে মোবাইল ফোন খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, পূর্ব ঘোষিত ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের সময় ১ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি জরুরি বিভাগসমূহ যেমন- ডেসপাচ/ডকেটিং, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, টেলিফোন, উন্নয়নমূলক কাজ ইত্যাদি যথারীতি চালু থাকবে।

এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গ্যাস বিদ্যুৎ বিল দেরিতে দিলেও জরিমানা লাগবে না

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী মে মাস পর্যন্ত গ্যাসের বিল এবং এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল দেরিতে পরিশোধ করা হলেও বিলম্ব জরিমানা দিতে হবে না গ্রাহকদের। রবিবার (২২ মার্চ) সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

জ্বালানি বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবাসিক গ্যাস বিল নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধের জন্য বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে একইসঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকে যেতে হয়। এটি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আবাসিক গ্যাস বিল পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা শিথিল করা হয়েছে।

আবাসিক গ্রাহকরা কোন ধরণের সারচার্জ বা বিলম্ব মাশুল ছাড়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী মে মাসের গ্যাস বিল জুন মাসের সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করতে পারবেন।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী এপ্রিল মাসের বিল পরিশোধে বিলম্ব মাশুল দিতে হবে না। অর্থাৎ মে মাসের সুবিধাজনক সময়ে এ তিন মাসের বিল দেয়া যাবে।

উল্লেখ্য, দেশে ৪০ লাখ গ্রাহক আবাসিকে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করছেন। আর দেশের ৯৬ ভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎসেবার আওতায় এসেছে।

(ইত্তেফাক, ঘাটাইল ডট কম)/-

মিরপুরে করোনায় মৃত ব্যক্তির সন্তান ফেসবুকে যা জানালেন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মিরপুরের এক বাসিন্দা গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) মারা গেছেন। এরপর তিনি যে বাসাটিতে থাকতেন, সেটি লকডাউন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে বাবার মৃত্যু নিয়ে তাঁর ছেলে নিজের ফেসবুকে ‘পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা’ শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে, কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দেয় নাই।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এই ছেলে বলেন, তাঁর বাবার মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। এটি পরিষ্কার করতে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। তাঁর পরিবার এখন বাসায় কোয়ারেন্টিনে আছেন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রতিদিনের নিয়মিত ব্রিফিংয়েও মিরপুরের ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলেনি আইইডিসিআর। এমনকি ওই ভবনটি যে লকডাউন করা হয়েছে, তা নিয়েও কিছু বলেনি।

পোস্টটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো:

পিতার মৃত্যু এবং সন্তানের ব্যর্থতা

আমি কখনো ভাবিনি যে আমার পিতার মৃত্যুর ঘটনা আমাকে এইভাবে লিখতে হবে। কিন্তু কিছু মিডিয়ার মিথ্যা রিপোর্ট দেখে আমি বাধ্য হলাম ফেসবুকে কিছু সত্য প্রকাশ করতে।

গত ১৬ তারিখে আব্বা অসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ওই দিন বিকেলে তাঁকে কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই সময় আমরা ভাইয়েরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার ধারণা করছে উনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কোভিড ১৯ টেস্ট এর জন্য প্রস্তাব করেছে।

অতঃপর ওই রাত্রেই আমরা টেস্ট এর জন্য IEDCR (আইইডিসিআর) এর হান্টিং নম্বরে ফোন দেওয়া শুরু করি।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের সঙ্গে আমরা কমিউনিকেশন করতে সমর্থ হই। তারা আমাদের জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে উনি আসেন নাই সেহেতু এই টেস্ট ওনার জন্য প্রযোজ্য নয়। আমি তাদের বলেছিলাম উনি মসজিদে যায় এবং ওখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কিনা, তারা আমাদের বলেছেন যে এই ভাইরাস বাংলাদেশে কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি সুতরাং আপনারা চিন্তা করেন না, এটা সাধারণ শ্বাস কষ্টের প্রবলেম।

ওই রাত্রেই আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় আমি তাঁকে শ্যামলীর একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং আমাদের পরিচিত একজন স্পেশালিস্ট ডক্টরকে দেখাই উনি আমাকে বলেন রোগীর নিউমোনিয়া হয়েছে তাঁকে নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। তবে বাংলাদেশের কোনো হসপিটাল এই রোগীর ভর্তি নেবে না, আপনারা বাসায় ট্রিটমেন্ট করেন।

আমি ওই রাত্রে বাসায় চলে আসি এবং আব্বাকে নেবুলাইজার দেওয়া এবং মুখে খাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিতে থাকি।

পরের দিন ১৭ তারিখে দুপুরে আমি আব্বাকে নিয়ে যাই শ্যামলীর ওই হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে। তারা রোগী দেখে বলে যে রোগীর অবস্থা ভালো না তাঁকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হবে। এবং তাদের আইসিইউ তারা দিতে পারবে না। এর পর আমি অন্য একটি হাসপাতালে কথা বলি। ওরা বলে ওদের আইসিইউ খালি আছে।

আমরা দ্রুত আব্বাকে নিয়ে কেয়ার হাসপাতালে যায় এবং আইসিইউতে ভর্তি করি। ১৫ মিনিট পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বললেন এই রোগী তারা রাখতে পারবে না।

অতঃপর আমরা রোগী নিয়ে কল্যাণপুর একটি হসপিটালে যাই তারা আমাকে কেবিন দিয়ে সাহায্য করে কিন্তু তাদের আইসিইউ খালি নাই। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২ টায় হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে বলেন এই রোগীর আইসিইউ লাগবে আপনারা দ্রুত আইসিইউ এর ব্যবস্থা করেন। আমি বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলতে থাকি কোথাও আইসিইউ খালি নাই।

অতঃপর মিরপুরের ওই হাসপাতাল তাদের আইসিইউ দিতে রাজি হয়। আমি এবং আমার ছোট ভাই রাত্রে ৪টার সময় আব্বাকে নিয়ে সেখানে আসি এবং দুপুর ১২টার পর থেকে আব্বা লাইফ সাপোর্টে চলে যান।

১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ IEDCR এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু ব্যর্থ হই।

অতঃপর ১৯ তারিখ বিকেলে IEDCR রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে IEDCR আমাদের জানায় যে রিপোর্ট পজিটিভ। আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন।

রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে ওই হাসপাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদের বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট দিয়ে যাওয়ার জন্য।

কিন্তু তারা আর রোগীর কাছেও যায়নি এবং আমাদের আইসিইউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয়নি।

যা হোক আমার আব্বু অবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিনটার সময় ইন্তেকাল করে।

আমরা সন্তানরা ব্যর্থ, পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজাতে আমরা উপস্থিত থাকতে পারি নাই।

সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না।

আমার বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিন।

কিন্তু কিছু পেজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।

আমার দুই ভগ্নিপতি, বড় বোন এবং তার স্বামী চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। সে গত এক বছরের মধ্যে আসে নাই। আমার বাবা যেদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যায় সে দিন মানে ১৯ তারিখে আমার বড় বোন এবং বড় দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসেন এবং তারাও হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছেন।

আমাদের এই বিপদের সময় দয়া করে আমার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট করবেন না। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ আছে, কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দেয় নাই। আমার ছোট ভাই এবং আমার ড্রাইভারের কোভিড ১৯ টেস্ট করা হয়েছে, যেটা নেগেটিভ এসেছে।

আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন, বাংলাদেশের সবাইকে যেন আল্লাহ হেফাজত করেন। আমিন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৬ ঘণ্টা, মার্চ ২২, ২০২০

ঘাটাইলে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভা এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে সচেতনতামূলক জরুরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে একদল তরুণ যুবক।

জানা যায়, মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে সারা বাংলাদেশে করুণ পরিনতির দিকে ধাবিত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঘাটাইল উপজেলাতেও এর প্রাদুর্ভাব বা সংক্রামিত হওয়ার সংবাদ না পাওয়া গেলেও অনেক বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি উপজেলায় একাধিক বিদেশ ফেরত প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানাও করেছে এবং অনেককে সতর্ক করেছে।

এর প্রেক্ষিতে ঘাটাইলের একদল সচেতন যুবক আপদকালিন ব্যবস্থা হিসেবে করোনার সংক্রামন ঠেকাতে এবং বিদেশ ফেরতদের অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরী ওষুধ, খাবার, মাস্ক, লিফলেট বিতরণ সহ এ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক সংকল্পবদ্ধ হয়েছে।

‘মানুষ মানুষের জন্য’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই যুবকরা সকল মানুষ, সমাজের নেতৃবৃন্দ, গণ প্রতিনিধি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক সমাজ, ছাত্র, যুবক, স্বেচ্ছাসেবী সহ সকল পেশার নাগরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছে। এমনকি যে কেউ এই টীমের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।

এই সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ- জাহিদুল ইসলাম পাপন- ০১৩১১ ৯৪৬৬৪২।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে ধীরগতিতে সড়ক উন্নয়ন কাজে দুর্ভোগে জনগণ

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-জামালপুর মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতির কারণে ঘাটাইল হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের চার জেলায় সড়কপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে জন দুর্ভোগ। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে ঘাটাইল মধুপুর হয়ে জামালপুর পর্যন্ত ৭৭ কিমি. সড়ক উন্নয়নে কাজ চলছে। এজন্য বরাদ্দ প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা। ৫টি প্যাকেজে আগামী ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। সড়কের ১ থেকে ৩নং প্যাকেজে কাজ করছেন ঢাকার ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। আর ৪ ও ৫নং প্যাকেজে কাজ পেয়েছেন জামিল এ্যান্ড কোম্পানি। কাজের গতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে ঘাটাইল পৌর শহরে ১ কিলোমিটার এবং মধুপুর পৌরশহরের মালাউড়ি থেকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কে দেড় ফিট উঁচু রিজিট পেভমেন্ট ঢালাই হবার কথা। এক বছরে ঠিকাদার এসব স্থানে সড়কের দুইপাশ খোঁড়াখুঁড়ির পর মাত্র ১৫০ গজ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছে। পেভমেন্টে নিয়মিত পানি না দেয়ার কারণে তা ফেটে চৌচির হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশ যানবাহন চালু রেখে অপরপাশে পেভমেন্ট ঢালাইয়ের কাজ করায় ভাঙ্গাচোরা সরু অংশ দিয়ে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। ব্যাপক যানবাহনের চাপে সড়কের অনেক অংশ দেবে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কখনো কখনো যানবাহন কাদায় আটকে ফেঁসে যায়। তখন দুইদিকে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।

প্রশস্তকরণের জন্য আবার সড়কের কোথাও-কোথাও দুই পাশের মাটি খুঁড়ে ৫/৬ ফুট গর্ত করে রাখা হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়িতে সরু সড়কে দুটি বড় যানবাহন ক্রস করতে পারে না। এ কারণে ঘাটাইল পৌরবাসী রোদে ধুলা, বৃষ্টিতে কাদা ও প্রাত্যহিক যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

সড়কের উন্নয়নকাজের মধ্যে ঘাটাইল উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় থেকে বীরঘাটাইল পর্যন্ত অংশের এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলছে ঢালাইয়ের মাধ্যমে। এ কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। পাশাপাশি রোদে ও ধুলার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কটি। সড়কের এক পাশ যান চলাচলের উপযোগী না করে অপরিকল্পিতভাবে অন্য অংশের কাজ শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পৌর এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিস্কাশনের প্রায় সব ড্রেনের মুখ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এ ছাড়া পানি জমে থাকায় সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন আটকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। হাঁটু পানি ভেঙে সড়ক পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যানবাহনের চাকার মাধ্যমে পথচারীদের গায়ে লাগছে ময়লা পানি।

ঘাটাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের কাজের ধীরগতির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় রয়েছে। ধুলা-কাদার মধ্যে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছে না তারা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কাজের গতি বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বৃষ্টির ও সড়কের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে কাজে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। আমরা কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ‘

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষাটির পরবর্তী তারিখ জানানো হবে।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১ এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ৪ মে পর্যন্ত এইচএসসির তত্ত্বীয় এবং ৫ থেকে ১৩ মের মধ্যে সব ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার সূচি নির্ধারিত ছিল।

এরআগে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ কার্যক্রম ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে অবস্থান করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, সবগুলো শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সভা করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। ওই সভায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পরিপ্রক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল।

(যুগান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা ভাইরাস যেভাবে কেড়ে নিলো শিক্ষাবিদের প্রাণ

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগের জনের মতোই তার পরিচয়ও গোপন রেখেছে সরকার। তবে বণিক বার্তার পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারা যাওয়া ব্যক্তি ঢাকার একটি সরকারি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ।  সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই মৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হলো না।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যাওয়া এ ব্যক্তির মরদেহ গতকাল সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা এ শিক্ষাবিদের চিকিৎসা, মৃত্যু ও দাফন-সংক্রান্ত সব তথ্য বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন তার নিকটাত্মীয়রা।

অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় ১০ দিনের রোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে ওই শিক্ষাবিদের পরিবার থেকে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে করোনা নিয়ে সরকারি অব্যবস্থাপনার চিত্রও।

তার পরিবারের অভিযোগ, বহু চেষ্টা করেও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে করোনা পরীক্ষার সুযোগ পাননি আক্রান্ত ব্যক্তি। পরে উচ্চপর্যায়ের তদবিরেই করোনা পরীক্ষার সুযোগ মিলেছিল আক্রান্তের। করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পরের দিনই বরেণ্য ওই শিক্ষাবিদের মৃত্যু হলো।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। এজন্য নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছিলেন তিনি। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কী রোগ হয়েছে, তা পরীক্ষার জন্য রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই পরীক্ষার সুযোগ পাননি। গত সোমবার থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। এ শিক্ষাবিদের উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত সন্তানরা পিতাকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডাক্তারের কাছে ছুটে যান।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন এ শঙ্কা থেকে ১৭ মার্চ সকাল থেকে রোগীর স্বজনরা যোগাযোগ করেন আইইডিসিআরে। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া হটলাইনে বহু চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়। রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর আইইডিসিআর থেকে বলা হয়, কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি জানিয়ে রোগীকে বাসায় বিশ্রামে থাকতে বলা হয়।

কিন্তু ওইদিন (১৭ মার্চ) দুপুর থেকে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে ওই শিক্ষাবিদের। বাধ্য হয়ে রোগীকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রয়োজন হয় রোগীকে। কিন্তু ওই হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকায় ওইদিন সন্ধ্যায় মিরপুর-১ এলাকার অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

বুুধবার ওই শিক্ষাবিদের আত্মীয়রা আইইডিসিআরে গিয়ে রোগীর করোনা পরীক্ষার জন্য তদবির করেন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে ফোন করিয়ে অবশেষে করোনা পরীক্ষায় রাজি করাতে সফল হন তারা। আইইডিসিআরের এক কর্মী মিরপুরের ওই হাসপাতালে গিয়ে রোগীর রক্ত নিয়ে আসেন। সে রক্ত পরীক্ষা করে বৃহস্পতিবার বিকালে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয় ওই শিক্ষাবিদ করোনায় আক্রান্ত।

বিষয়টি জানতে পেরে বেসরকারি হাসপাতালটি থেকে ওই সময়ই রোগীকে সরিয়ে নিতে চাপ দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সরকার থেকে হাসপাতালটিতে রোগীকে আইসিইউতে রাখতে বাধ্য করা হয়। এ অবস্থার মধ্যেই শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টায় এ শিক্ষাবিদ মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল সকালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় তার পরিবারের কয়েক সদস্য জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে করোনায় আক্রান্ত এ শিক্ষাবিদকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন তার সন্তানরা। পিতার মৃত্যুর পর এখন তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, নিকটাত্মীয়সহ অন্তত ১০ জন করোনার ঝুঁকিতে আছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মৃত ওই শিক্ষাবিদ বসবাস করতেন রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে নিজ বাড়িতে। তার পরিবার কিংবা ওই বাড়িতে বসবাসকারী কোনো সদস্য সম্প্রতি বিদেশ সফর করেননি বলে নিশ্চিত হয়েছে বণিক বার্তা।

ঠিক কোত্থেকে বা কার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস প্রবেশ করেছে, সে বিষয়েও অজ্ঞাত পরিবারের বাকি সদস্যরা। এ বিষয়ে মৃত শিক্ষাবিদের পরিবারের সদস্যদের গণমাধ্যমে কথা বলতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে কল্যাণপুর ও মিরপুরের ওই দুটি হাসপাতালের দায়িত্বশীল কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। করোনা আক্রান্ত ওই রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত দেশে সরকারের পক্ষ থেকে একমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করছে আইইডিসিআর। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষাধিক প্রবাসী দেশে এসেছেন। এদের অনেকেই এসেছেন সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে। এখন পর্যন্ত ২৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তের কথা জানিয়েছে সরকার। আইইডিসিআর ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরকার করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেয়নি। আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনা পরীক্ষার সমন্বয় করার জন্যই এ পরীক্ষার অনুমতি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে এখনই দিতে চায় না তারা। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য উন্নত মানের বায়োসেফটি ল্যাবের প্রয়োজন পড়ায় এ সিদ্ধান্তে এখনো অটল রয়েছে সরকার। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনার লক্ষণ আছে, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যত বেশি সম্ভব পরীক্ষার উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দিয়েছে, যাতে দ্রুত রোগী শনাক্ত করে তাদের আইসোলেশনে নেয়া যায়। নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নেয়া সম্ভব হলে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম শক্তিশালী করা যাবে বলে মনে করে ডব্লিউএইচও।

(বণিকবার্তা, ঘাটাইল ডট কম)/-