৬২ বছর বয়সেও ছাত্র কালিহাতীর ইলিয়াস মিয়া

এসএসসি পাসের পর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইলিয়াস মিয়ার। এখন আবার লেখাপড়া করছেন। তবে বয়স কি আর থেমে থাকে? তার বয়স এখন ৬২ বছর। কিন্তু এমএ পাসের সার্টিফিকেট হাতে নিয়েই মরতে চান তিনি। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের সিঙ্গাইর গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস মিয়া। বাবা মুন্সি আব্দুস সাত্তার ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মায়ের নাম সালেহা বেগম। ছয় ভাই এবং দুই বোন নিয়ে মা-বাবাসহ ১০ জনের সংসার।

অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে সাত ভাই-বোনের লেখাপড়া বন্ধ করে দেন তার বাবা। ইলিয়াস মিয়া ১৯৭২ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করার পর তার লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যায়। শুরু করেন বল্লা বাজারে সুতার ব্যবসা। তার কিছু দিন পরেই বিয়ে করেন। ঘরে আসে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। নিজের কষ্টার্জিত উপার্জনে লেখাপড়া করান ছেলে-মেয়েদের।

মেয়েকে এমএ পাস করানোর পর এক উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে বিয়ে দেন। এক ছেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাস করে ঢাকায় একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন। অপর ছেলে এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে এলজিইডিতে কর্মরত। বিয়ে দেন দুই ছেলেকেও।

দায়িত্ব পালন শেষে ইলিয়াস মিয়ার মধ্যে ইচ্ছে জাগে আবারও পড়ালেখা করার। বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় ২০১৮ সালে কালিহাতী কলেজ থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে কালিহাতী কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র।

ছাত্রজীবনের শুরুতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন ইলিয়াস মিয়া। পরবর্তীতে জাসদ (সিরাজ) এর একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকলেও বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী তিনি। ব্যবসা ও পড়ালেখার পাশাপাশি অবসর সময়ে সাহিত্যচর্চা করেন। রম্য কবিতা বা ছড়া লিখে পাঠ করেন বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানে।

ইলিয়াস মিয়া জানান, ‘অর্থের অভাবে একসময় পড়ালেখা করতে পারিনি। ইচ্ছা ছিল ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবারও পড়ালেখা করার। তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার সন্তান, নাতি-নাতনি এবং পুত্রবধূরা নিয়মিত পড়ালেখার খোঁজ রাখেন। এটা তার জন্য আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার।’

ইলিয়াস মিয়া আরো জানালেন, তার জীবনের ইচ্ছা এমএ পাসের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা।

(কালিহাতী সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-