৩ দিনের রিমান্ডে মির্জাপুরের শরিয়ত বয়াতি

বয়াতি গানের অনুষ্ঠানে ধর্মের ভূল ব্যাখা দিয়ে গান গেয়ে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শরিয়ত বয়াতীকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) তাকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আসলাম মিয়ার আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শরিয়ত বয়াতি মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে।

গত ৯ জানুয়ারি শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় করে। মামলা নম্বর ১০।

উল্লেখ্য: গত ২৪ ডিসেম্বর’ রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় অবস্থিত পীর হযরত হেলাল শাহ্ পীরের ১০ম বাৎসরিক পালা গানের অনুষ্ঠানে শরিয়ত বয়াতি ইসলাম ধর্ম ও নবী রাসুল নিয়ে শরীয়ত বিরোধী ভুল ব্যাখা দিয়ে গান গান। এ সময় তিনি ইসলাম মর্ধে গান বাজনা হারাম, কোরআনে কোথাও উল্লেখ নাই বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রমাণ দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন।

গানে তিনি বলেন, রাসুল (স:) গান না শুনে ঘুমাইতেন না। নবীজি আবু মুসা আশরায়ী (রা:) কে ২৩ রকমের বাদ্যযন্ত্র হাদিয়া হিসেবে প্রদান করেন। বাদ্যযন্ত্রগুলো দাউদ নবীর ছিল।

শরিয়ত বয়াতী বলেন, মসজিদের হুজুররা ১৩শ টাকা বেতনের চাকুরি করে আযান দেয়। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালায়। বানরের মত চুক্কা টুপি মাথায় দিয়া ঘুরে, আর শালারা বলে হারাম হারাম। যারা নামাজ পড়ে সেজদা দিয়া কপালে কালো দাগ করে, তাদের কপাল থেকে ১১৩ টি কিরা বের হয়। নামাজ পড়ে যে নূর হয় সেই গুলি হুজুরদের পায়ু পথে বের হয়।

নবীই আল্লাহ, আল্লাহই নবী, যেই মুরশেদ সেই রসুল এই কথাতে নেই কোন ভুল, বলেন লালন ফকির।

গুরুর চরণে সেজদা করিতে হবে, আল্লাহকে সেজদা করার প্রয়োজন নাই এবং যে পীর ধরেনা সে মুসলমান না বলে দাবি করেন তিনি।

এভাবেই পালা গানের মধ্যে শরিয়ত বয়াতি আল্লাহ্, রাসুল, ইসলাম, কোরআন, হাদিসের বিরুদ্ধে এমন আরো অনেক ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গান পরিবেশন করেন। সেই গানটি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়। পরে এ বিষয়ে মির্জাপুরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তার বিচার দাবিতে আন্দোলন করেন।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান-১ বলেন শরিয়ত বয়াতীকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-