২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং

৩৪ মাস পর কারামুক্তি পেয়েই ঢাকার ধানমন্ডি অভিমুখে রানা

জুলা ৯, ২০১৯

৩৪ মাস পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল পৌনে নয়টায় তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে বের হন। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক এবং দুই যুবলীগ নেতা শামিম ও মামুন হত্যা মামলায় প্রায় ৩ বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা।

এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল কারাগারের আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের সুপার আবুল বাশার বলেন, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের কাগজপত্র গতকাল সোমবার রাতেই কারাগারে পৌঁছায়। পরে সকালে তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

রানা বের হওয়ার পর জেলগেটে তার অনুসারিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এরপর তিনি অনুসারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রানা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এখন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকায় যাব। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করব।’

রানা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমার নেত্রী। তার নেতৃত্বে আমরা টাঙ্গাইলে রাজনীতি করছি। তার নির্দেশেই এখানে সবকিছু হবে।’

এর আগে গতকাল সোমবার টাঙ্গাইলের দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। সে সময় আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরে কারাগারে থাকাকালেই দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি বের হয়ে আসে। সেই মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া কারাগার থেকে ঘাটাইলের এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার এক মামলায়ও অভিযুক্ত হন তিনি।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় আমানুর জামিন লাভ করেন। সর্বশেষ গত সোমবার তিনি উচ্চ আদালত থেকে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় জামিন পান। ফারুক হত্যা মামলায় আমানুর ছাড়াও তাঁর অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাও আসামি। তাঁরা সবাই আত্মগোপনে আছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এর সাত মাস পরেই ফারুক হত্যা মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশি তদন্তে বের হয়ে আসে। ওই বছর নভেম্বরে তিনি আত্মগোপন করেন।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে দল মনোনয়ন দেয়নি। ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন আমানুরের বাবা আতাউর রহমান খান।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

Recent Posts

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

Doctors Dental

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

বিভাগসমূহ

পঞ্জিকা

July 2020
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031