২০০ বছরের কালের সাক্ষী ঘাটাইলের ‘অচিন বৃক্ষ’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রায় ২০০ বছর বয়সী একটি বৃক্ষের নাম জানে না এলাকার মানুষ। নাম না জানার কারণে গাছটি ‘অচিন বৃক্ষ’ নামেই পরিচিত। উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চাপড়ি-মাকড়াই সড়কের আমুয়াবাইদ নামক স্থানে রাস্তার পাশে প্রাচীন অচেনা গাছটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

গাছটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও রয়েছে নানা কৌতূহল, রয়েছে নানা কথা-উপকথা। ঘাটাইলের মানুষও গবেষকদের মাধ্যমে তাদের অচিন বৃক্ষের নাম দিতে চায়। গাছটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। এই অচিন গাছের নিচে একসময় হাট বসত। অচিন নাম অনুসারেই হাটটির নাম ছিল ‘অচিনতলা’ হাট।

জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলের নবগঠিত সংগ্রামপুর ইউনিয়নের আমুয়াবাইদ গ্রামে এ গাছটি কে বা কারা রোপণ করেছিলেন। গাছটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে আজ বিশালাকার ধারণ করেছে।

৮০ বছরের প্রবীণ আমুয়াবাইদ গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, ছোটবেলা থেকে এ গাছটিকে তিনি এমনিভাবেই দেখে আসছেন। এমনকি তার বাবা মৃত তছির উদ্দিনের কাছে এ গাছের বয়স সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছেন।

এ গ্রামের আর এক ৭০ বছরের প্রবীণ মো. হাতেম আলী জানান, এই অচিন গাছে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পাখি বাস করে। বিশেষ করে টিয়া পাখির সংখ্যাই বেশি।

মো. আ. হালিম মিয়া (৬০) জানান, বাপ-দাদারা বলেছেন, কুচার দেশ থেকে কেউ হয়তো গাছটি চালান করে দিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরম্নল ইসলাম খান সামু বলেন, গাছটির পাতা অনেকটা কাঠবাদাম গাছের মতো। এ গাছে ফুল হয় এবং ফুল থেকে ছোট এক ধরনের বীজ হয়। বীজ পড়ে গাছটির চার পাশে আরও কয়েকটি গাছের চারা হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলে এ গাছের মতো কোনো গাছ তাদের নজরে পড়েনি। গাছের অত্যধিক বয়স হওয়ায় উপরিভাগে ডালপালা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তবে গাছের নিচের অংশ এখনো রয়েছে সতেজ ও ডালপালায় ভরপুর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের কাছে গাছটির বেশ কয়েকটি ছবি পাঠালে তিনি জানান, এই উদ্ভিদটি বটের কোনো প্রজাতি হতে পারে। তবে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে নাম নিশ্চিত করা যাবে।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল.কম)/-