স্বামীর কৃষি জমিতে ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা: হাইকোর্ট

বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিধবা নারীরা স্বামীর কৃষি জমিতে ভাগ পাবেন উল্লেখ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

বিধবারা স্বামীর কৃষি জমির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না দাবি করে ১৯৯৬ সালে খুলনা কোর্টে মামলা করেন এক নারীর দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল।

বিচারিক আদালত ওই মামলার রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার রাখলেও কৃষি জমির অধিকার রাখেন না।

এরপর সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। পরে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়ে হাইকোর্ট তার রায়ে বললেন, হিন্দু বিধবা নারীরা অ-কৃষি জমির মতো স্বামীর কৃষি জমির মালিক হবেন।

১৯৯৬ সালে খুলনার আদালতে এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন এক হিন্দু বিধবার দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল। মামলার বাদী দাবি করেন, বিধবারা স্বামীর কৃষি জমির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না। ওই মামলায় বিচারিক আদালত রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার রাখলেও কৃষি জমির অধিকার রাখেন না।

৮৩ বছর ধরে স্বামীর কৃষি জমিতে কোনো প্রাপ্য ছিল না হিন্দু বিধবাদের। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অসঙ্গতি দূর করে রায় দিলেন হাইকোর্ট। বুধবারের এ রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা সেই উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পেলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৩৭ সালে হিন্দু বিধবা সম্পত্তি আইনে, স্বামীর অকৃষি জমির অধিকার দেয়া হলেও কৃষি জমিতে বঞ্চিত করা হয় বিধবাদের। আইনটি নিয়ে দুপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে অ্যামিকাস কিউরির মত নেন হাইকোর্ট। পরে রায়ে জানান, হিন্দু বিধবা নারীরা অকৃষি জমির মতো স্বামীর কৃষি জমিরও মালিক হবেন।

এক হিন্দু বিধবা নারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ নাফিউল ইসলাম বলেন, ‘এতদিন বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকারিত্বে যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে শাস্ত্রমতে পিণ্ডদান করতে পারেন তারাই মৃত ব্যক্তির একমাত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার। হিন্দুদের মধ্যে সাধারণত বিধবা নারীরা স্বামীর বসতভিটার মালিকানা লাভ করতেন। আজকের এ রায়ের ফলে হিন্দু বিধবারা স্বামীর কৃষিজমিরও ভাগ পাবেন।’

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-