সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের একযোগে হামলা

সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর দৌমায় রাসায়নিক হামলার জন্য বাশার আল আসাদ সরকারকে দায়ী করে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে আক্রমণ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার প্রথম প্রহরে হোয়াইট হাউজ থেকে এই আক্রমণ শুরুর ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে কিছুক্ষণ আগে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এই আক্রমণ চলছে।’

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিস্কোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র আর তার পশ্চিমা মিত্রদের এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে সিরিয়ায় গত সাত বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে।

হামলার সময় রাশিয়াকে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

হামলার ঘটনায় সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া অবশ্যই পাওয়া যাবে।

রাশিয়ার ভাষ্য, আগে থেকে ঠিক করা রাখা দৃশ্য কেবল মঞ্চায়ন করল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সতর্ক করে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের ঘটনা এমনি এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে না। এর জন্য সব দায় থাকবে ওয়াশিংটন, লন্ডন আর প্যারিসের।

গত ৭ এপ্রিল বিভিন্ন আন্তর্জতিক সংবাদমাধ্যম সিরিয়ায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত কয়েকটি দাতব্য সংস্থার বরাত দিয়ে দৌমায় রাসায়নিক হামলার খবর প্রকাশ করে। এরপর বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেখানে ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানায়, লক্ষণ দেখে বিষয়টি বিষাক্ত রাসায়নিকের হামলা বলেই মনে হয়েছ। দৌমায় আরও পাঁচশতাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

এ বছর জানুয়ারি থেকে সিরিয়া ও তাদের মিত্রবাহিনীগুলো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতায় সেনা অভিযান শুরু করে। তাদের আক্রমণে বেশিরভাগ বিদ্রোহীগোষ্ঠী পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু দৌমার জইশ আল ইসলাম বিদ্রোহীরা এলাকা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় প্রচণ্ড বিমান হামলা শুরু করে আসাদ বাহিনী। তার মধ্যেই রাসায়নিক হামলার খবর প্রকাশ পায়।

এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষের মধ্যেই গত সোমবার সিরিয়ার হোমস নগরীর নিকটবর্তী সামরিক বিমানঘাঁটি তিয়াসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অন্তত চারজন ইরানের নাগরিক বলে জানায় দেশটির আধাসরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি।

সিরিয়া শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেও পরে ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে।

হামলার পর লেবাননে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জাসিপকিন বলেছিলেন, সিরিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে তা গুলি করে ভূপাতিত করা হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থানে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল.কম)/-