সাত কভিড হাসপাতালের ছয়টিরই লাইসেন্স নেই

শুধু রিজেন্ট হাসপাতালই নয়, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার যেসব বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছে, সেগুলোর কোনোটিরই নিবন্ধন নবায়ন করা নেই। সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে তারচেয়েও বেশি সময় ধরে এসব হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই।

নানা অজুহাতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়ন না করেই নির্বিঘ্নে ব্যবসা করে যাচ্ছে। সব জেনেও চুপ করে আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এমনকি করোনার মহামারীর সুযোগ নিয়ে এসব হাসপাতাল চিকিৎসা বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। তারা একদিকে যেমন সরকারের থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে; তেমনি রোগীদের থেকেও আদায় করছে অতিরিক্ত অর্থ।

এসব জানা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব হাসপাতালকে কভিড হাসপাতালে রূপ দিয়েছে।

এসব হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কেউ কেউ অকপটে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। কেউ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে এড়িয়ে গেছে বিষয়টি। অনেকে এ ব্যাপারে কথা বলতে চায়নি।

এমনকি মৌখিক অনুমোদন নিয়ে করোনার জন্য শুরু হওয়া নতুন হাসপাতাল ভবিষ্যতে চিকিৎসা কাযক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছেও পোষন করেছে। এ জন্য তারা ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে লাইসেন্স করবে বলে জানিয়েছে।

এসব হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসকরা লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবায়ন পদ্ধতির ত্রুটি ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলাতির কথা বলেছেন।

অনেকে এমনও অভিযোগ করেছেন, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে নানা ত্রুটির কথা বলে নবায়নের জন্য অবৈধ অর্থ দাবি করেছেন। সে অর্থ না দেওয়ায় ‘দেখছি বলে’ নবায়ন আটকে রেখেছেন।

অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, যেসব শর্তে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়, চিকিৎসাসেবার সব শর্ত পূরণ করতে পারে না বলেই হাসপাতাল মালিকরা নবায়ন এড়িয়ে যান।

পরিবেশগত ছাড়পত্র, সিটি করপোরেশনের নিষ্পত্তিপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও কাগজপত্র দিতে পারেন না। বিশেষ করে যে পরিমাণ চিকিৎসক ও নার্স এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি থাকার কথা, সেগুলোর অভাব থাকে। ফলে তারা লাইসেন্স নবায়নে গড়িমসি করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি কভিড-১৯ হাসপাতাল রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে কভিড হাসপাতালের সংখ্যা ১৬টি। বাকি ১২টি চার জেলায়। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় একটি, নারায়ণগঞ্জে দুটি, গাজীপুরে একটি ও চট্টগ্রাম জেলায় আটটি কভিড হাসপাতাল রয়েছে।

এসব কভিড হাসপাতালের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ১৯টি। বাকি ৯টি হাসপাতাল বেসরকারি। এর মধ্যে ঢাকা শহরে রয়েছে চারটি, নারায়ণগঞ্জে একটি ও চট্টগ্রামে চারটি।

ঢাকা শহরের চারটি বেসরকারি কভিড হাসপাতাল হলোরিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বসুন্ধরা হাসপাতাল। এর মধ্যে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় গত ১৭ মে বসুন্ধরা হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়। বাকিগুলো পুরনো।

নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি কভিড হাসপাতাল। সেটি হলো ৪৪ শয্যার সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল।

চট্টগ্রামের বেসরকারি কভিড হাসপাতালগুলো হলোহলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ভাটিয়ারির ফিল্ড হাসপাতাল। এর মধ্যে করোনা চিকিৎসার জন্য গত ২১ এপ্রিল চালু হয় ফিল্ড হাসপাতাল। বাকিগুলো পুরনো।

ঢাকার তিনটি কভিড হাসপাতালের একটিরও লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষা না করেই করোনার ফল দিয়ে এবং পরীক্ষার জন্য বেশি টাকা নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার কারণে গত ৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকেই রিজেন্টের নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি। অথচ করোনা চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবৈধ হয়ে যাওয়া এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ছয় বছর আগেই এই হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এমনকি সব জানা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে চুক্তি করে। পরে গত ৭ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখায় অভিযান চালায় এবং করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ উদ্ধার করে। তখনই জানা যায় হাসপাতালটির নানা অনিয়মের তথ্য।

দেশের একটি বড় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালেরও লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখনো লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানায়।

এ তথ্য জানার পরও গত ১০ মে সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে গ্রহণপূর্বক কভিড-১৯ হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা ও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মোর্শেদ বলেন, এটা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কারণ হচ্ছে নবায়ন করতে গেলে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, এরকম অনেক ছাড়পত্র লাগে। তবে আমরা ইন্টারনেটে নবায়নের জন্য আবেদন করেছি।

কোনো একটি তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় ওরা (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) দিচ্ছে না। সম্ভবত ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আমরা নবায়নের জন্য আবেদন করেছি।

একই অবস্থা আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর। সম্প্রতি তারা নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। তবে এখনো নবায়ন হয়নি।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক জানান, লাইসেন্স নবায়ন হয়ে গেছে এবং তারা কাগজপত্র হাতেও পেয়েছেন।

তবে কবে পেয়েছেন এবং কবে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এই পরিচালক বলেন, আমি আজ (গতকাল) ছুটিতে আছি। আপনি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে কালকে একটু কাউকে অফিসে পাঠান। পরে তিনি আর কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের তিনটি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে দুটি হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। ২০১৮ সালে অনলাইনে নবায়ন চালু হওয়ার পর থেকে এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়ন করেনি।

এসব তথ্য জানা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের সঙ্গে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে চুক্তি করেছে। এর মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল গত তিন বছর ধরেই পরিত্যক্ত এবং লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। এবার সেখানে করোনা চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। এখন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি জনবল ও সরকারি ব্যবস্থাপনার হাসপাতালটি পরিচালনা করছে।

একইভাবে ২০১৮ সাল থেকেই লাইসেন্স নবায়ন নেই চট্টগ্রাম শহরের জাকির হোসেন সড়কের ফয়’স লেক এলাকার ইউএসটিসির বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের। গত ৯ জুন এটি কভিড হাসপাতাল করা হয়।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, আমাদের হাসপাতালের গত বছর পর্যন্ত নবায়ন করা আছে। এবার আমরা আবেদন করেছি। অনলাইনে করতে হয়। আমাদেরটা দেরি হচ্ছে। আমরা ফিও দিয়েছি। অনলাইন জটিলতার কারণে দেরি হচ্ছে। কিছু কিছু জিনিসের কারণে দেরি হচ্ছে। সিস্টারদের রেজিস্ট্রেশন নাম্বারসহ নাম দিতে হয়। ডাক্তারদের নাম-ঠিকানা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিতে হয়। এসব লম্বা বিষয়।

তবে এই পরিচালক আমাদের চট্টগ্রাম প্রতিনিধিকে বলেন,  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারী নার্স রাখতে হবে হাসপাতালে। ৫৫ জন নার্স নিতে হবে। আমাদের ডিপ্লোমাধারী নার্স আছে ২৮ জন। আরও নিতে হবে। তবে আমরা নবায়ন ফি জমা দিয়েছি। নার্সসহ কিছু জনবলের নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় জটিলতায় পড়ে নবায়ন নিতে পারছি না।

তবে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের লাাইসেন্স নবায়ন করা আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল হক বলেন, আমাদের হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে। নবায়ন করতে সমস্যা হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা লাইন্সেস নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিশেষ করে নার্স নিয়ে যে প্রসিডিউর তা আমরা যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছি।

করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রামের ফিল্ড হাসপাতাল ২১ এপ্রিল চালু হয়। সেখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। তবে করোনা শেষেও এ হাসপাতাল থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ও উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ূয়া।

তিনি বলেন, করোনা চলে যাওয়ার পর হাসপাতালটি থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের এখানে তিনজন সরকারি চিকিৎসক কাজ করছেন। আমরা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিলাম। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। আমরা সেবা দিচ্ছি। এখন চ্যারিটেবল হাসপাতাল। যখন ব্যবসার কথা ভাবব, তখন সব নিয়মকানুন মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন করোনা চিকিৎসায় সরকারকে সহযোগিতা করছি।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালের বয়স ১১ বছরের মতো। এ বছরের জুনে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে জুনে নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। কবে পাওয়া যাবে, সেটা জানে না হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ওবায়েদ বলেন, আমরা অনলাইনে একবার লাইসেন্স করেছি। সেটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গত জুনে আবার আবেদন করেছি। এখনো পাইনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত মোট বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ১৪ হাজার ৫০০। এর মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করা আছে মাত্র ৪ হাজার ১৫৯টির। লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে তিন হাজারের কিছু বেশি হাসপাতাল। সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাকি সাড়ে সাত হাজার হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা নবায়নের জন্য আবেদন করেনি। সে হিসেবে বর্তমানে মোট বেসরকারি হাসপাতালের অর্ধেকেরও বেশির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে চিকিৎসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে।

এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.  আবুল কালাম আজাদকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে তিনি খুদে বার্তায় মিডিয়া সেলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং দুজন কর্মকর্তার নাম বলেন। এদের একজন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, নবায়ন নেই এমন হাসপাতালের তালিকা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তাদের তালিকা দিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সবাই দেখতে পারে। সে তালিকা ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিবন্ধন নবায়নের ক্ষেত্রে ফি বৃদ্ধিসহ কয়েকটি কারণের কথা বলেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের যে সংখ্যা, সেগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ছোট। অনেক হাসপাতালই আছে তারা সব খরচ মিটিয়ে আয় করতে পারে না। অনেক ছোট হাসপাতাল বা ক্লিনিকের পক্ষেই নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া এখন নিবন্ধন ও নবায়ন করতে হয় অনলাইনে। এ ক্ষেত্রে শয্যা অনুসারে চিকিৎসক  ও নার্সের পর্যাপ্ত সংখ্যা এবং তাদের বিস্তারিত নির্দিষ্ট ফরমেটে পূরণ করে দিতে হয়। ওই ফরমেট পূরণ না করলে সফটওয়্যার তা নেয় না। অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা অনুসারে পর্যাপ্ত নার্স না থাকায় কিংবা এমন আরও কিছু কারিগরি ঘাটতির কারণে অনেকেই ওই ফরমেট পূরণ করতে পারে না। সে জন্য নিবন্ধনও নবায়ন করতে পারছে না।

ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া আরও বলেন, আবাসিক এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক না রাখার নির্দেশনাও নবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাসিক এলাকায় থেকে যাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। নবায়ন করতে গেলেই ঠিকানার জায়গায় গিয়ে অনেকে আটকে যাচ্ছে। ফলে তারাও নবায়ন এড়িয়ে যাচ্ছে।

(দেশ রুপান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email