সাইনবোর্ড লেখা নিয়ে সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র বিরোধ চরমে

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদের মূল ভবনে ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এতে করে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় পরিষদের মূল ভবনের সাইনবোর্ড নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমানের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওই সমন্বয় কমিটির সভার সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সমাপনী বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ওই সভা থেকে তাঁর কক্ষে চলে যান। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে বিরোধ আরও প্রকট আকার ধারন করেছে।

এর চারদিন পর উপজেলা পরিষদের মূল ভবনে ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড সাঁটানো আইনের পরিপন্থী দাবি করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গত ১৯ নভেম্বর সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেন। ওই সাইনবোর্ড সাঁটানোর পক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো অনুমোদিত চিঠি আছে কিনা, থাকলে তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যনা ও নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্ধের কারণেই গত অক্টোবর মাসের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা হয়নি।

এদিকে অভিযোগ আছে, উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদের নির্ধারিত বেতনভোগী চালককে দিয়ে গাড়ি না চালানোর অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ির জ্বালানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে ওই দুইজনের মধ্যে তিক্ততা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই সভা-অনুষ্ঠান ছাড়া দুজনের মুখ দেখাদেখি, কথাবার্তা ও ফোনালাপ বন্ধ রয়েছে। এতে করে সখীপুর উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সখীপুর উপজেলার সরকারি দপ্তরের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান বেজার হন, আবার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বেজার হন। সব মিলে আমরা মহা বিপদে আছি। আমরা অতি দ্রুত তাঁদের মধ্যে এ বিরোধ নিরসন চাই।

উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আপনার দূরত্ব বাড়ছে- এ প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এ দূরত্বের জন্য চেয়ারম্যানই দায়ী। আমার সঙ্গে তার কোন দ্বন্ধ বা বিরোধ নেই। আমি অনিয়ম কিছু করতে চাই না বলেই আমার সঙ্গে অনেকের বনিবনা হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, ইউএনও সাহেব উপজেলা পরিষদের বিধিমালা ২০১০ এর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করে উপজেরা পরিষদের মূল ভবনে ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়’ লিখে সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন। ওনি মনে করেন আমি ওনার অধীনস্থ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন- সাত দিন পার হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় আমার চিঠির কোনো জবাব দেননি। কৈফিয়ত চেয়ে শিগগিরই তাকে আরেকটি চিঠি দেওয়া হবে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-