সপ্তম দফায় ছুটি বাড়ছে ৩০ মে পর্যন্ত

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে তিনি জানান, ছুটি ১৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়বে।  ঈদের ছুটিও এই সাধারণ ছটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঈদের ছুটির সময় মানুষের গ্রামের বাড়ি যাওয়া ঠেকাতে এর আগের চারদিন এবং পরের দুই দিনসহ মোট সাতদিন জরুরি সেবা ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না।

গত ২৬ মার্চ থেকে দফায় দফায় বাড়ানো সাধারণ ছুটি আপাতত শেষ হচ্ছে ১৬ মে।

ষষ্ঠ দফা ছুটি শেষে ১৭ থেকে ২০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা হতে পারে। এবং ঈদের আগের চারদিন মিলে ২১ থেকে ২৬ মে ছয়দিন ঈদের ছুটি ঘোষণা হতে পারে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হতে পারে ২৪ বা ২৫ মে। ঈদের পরের ২৭ ও ২৮ মে এবং দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি মিলে ৩০ মে শনিবার পর্যন্ত ছুটি বাড়তে পারে।

প্রাইভেটকারসহ সাধারণ যানবাহন রাস্তায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই ঈদ করতে হবে।

এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানিয়েছন প্রতিমন্ত্রী।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত ২৬ মার্চ থেকে চলমান সাধারণ ছুটিতে গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রেখেছে সরকার।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ৩০শে মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে ঈদের আগে সারাদেশে যাত্রীবাহী সব পরিবহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ঈদে মানুষ যেন ঢাকা থেকে অন্যান্য জেলায় বা এক জেলা থেকে আরেক জেলায় না যায়, সেজন্যই পরিবহনের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

একইসাথে ঈদের আগে এবং পরে সাত দিন সারাদেশে সড়ক এবং নৌপথে যাত্রীবাহী সব ধরণের যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। এমনকি ঈদের সময় ব্যক্তিগত যানবাহনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে। যারা যে শহরে বা জেলায় আছেন, তারা ঈদের সময় অন্য জেলায় বা গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবেন না। সেটাই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, ৩০শে মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত হবে। এবং ঈদ চলাকালীন সময়ে বিশেষ করে ঈদের আগের চারদিন এবং ঈদের পর দুই নিয়ে মোট সাত দিন কাভার্ডভ্যান বা পণ্যবাহী যান এবং জরুরি সেবা ছাড়া মানুষ চলাচলের সব যাবাহন ওপর কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।যে যেখানে আছে, সেখানে থেকেই ঈদ উদযাপন করবে।”

“আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রাইভেট কার বা অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বের হচ্ছে, শহরগুলোতে এগুলোও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”

গত ৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ার পর সর্বশেষ বুধবার দেশের ৪১টি পরীক্ষাগারে সর্বোচ্চ রোগী ও মৃত্যুর সংবাদ এসেছে। এ দিন এক হাজার ১৬২ জন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আর এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮২২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৩৬১ জন। মোট ২৬৯ জন মারা গেছেন।

(বাংলা নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-