সখীপুর চত্বরে অটোরিকশায় কন্যাসন্তানের জন্ম

সকালে প্রসবব্যথা উঠলে স্ত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে রওনা হন সুমন মিয়া। সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন নারী। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অটোরিকশাতে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই নারী।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মোখতার ফোয়ারা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

সুমন উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালক। এই দম্পতির তিন বছর বয়সী আরেকটি মেয়ে রয়েছে।

সুমন মিয়ার এলাকার বড় ভাই রুবেল মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকে সুমনের স্ত্রীর প্রসবব্যথা হলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সঙ্গে দুজন নারীকে নিয়ে সুমন নিজেই সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা ১১টার দিকে মোখতার ফোয়ারা এলাকায় পৌঁছালে প্রসবব্যথা তীব্র হতে থাকে।

একপর্যায়ে ফোয়ারা চত্বরের একপাশে অটোরিকশাটি থামানো হয়। আরও ৩০০ গজ সামনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আর ৪০ গজ পেছনে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। ওই হাসপাতাল থেকে একজন নার্সকে নিয়ে আসার আগেই অটোরিকশাতেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই মা।

পরে বেসরকারি ওই হাসপাতালের নিচ থেকেই নবজাতককে তুলা দিয়ে মুছেই বাড়িতে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন।

দুপুরের দিকে হারুন মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির মুঠোফোন থেকে মোখতার ফোয়ারা চত্বরে কন্যাসন্তান প্রসব লিখে একটি ভিডিও প্রচার হয়। অনেকেই ওই ভিডিওটি দেখে নবজাতকের নাম রাখেন ফোয়ারা।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, ‘শুনেছি হাসপাতালে আনার আগেই ফোয়ারা চত্বরেই এক মা সিএনজিচালিত অটোরিকশাতেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তবে ওই প্রসূতি সুস্থ থাকায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি না করে রাস্তা থেকেই বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।’

হারুন মাহমুদ বলেন, ওই সময় পাশের দোকানদারেরাও অনেক সহযোগিতা করেছেন। অটোরিকশাটিকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। কেউ কেউ ক্লিনিক থেকে নার্স ডেকে নিয়ে এসেছেন।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-