সখীপুরে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যায় দুইজনের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে তাঁতশ্রমিক আবুল কাশেমকে (৫০) পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা তিনটায় আসামি শামীম আল মামুন (৩০) ও রবিবার (২৩ আগস্ট) আসামি আসাদুল ইসলাম (২৫) টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুপম কুমার দাশের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শামীম ও আসাদুল সম্পর্কে চাচাতো ভাই। দুজনের বাড়িই হত্যার ঘটনাস্থল উপজেলার ঘাটেসশরি গ্রামে।

তাঁরা বলেন, মাতলামি করায় তাঁরা চারজন মিলে দুজনকে লাঠি দিয়ে পেটান এবং তাঁদের কাছ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা ও দুটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেন। পরের দিন সকালে তাঁরা জানতে পারেন, একজন পিটুনিতে মারা গেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ঘাটেশ্বরী এলাকায় সবজি বাগানের পাশ থেকে ওই তাঁতশ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি ছিল কালিহাতী উপজেলার বেহুলাবাড়ী গ্রামে। তিনি কালিহাতীর বল্লার একটি তাঁত কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করতেন।

লাশ উদ্ধারের দিন রাতেই ছেলে আবদুর রহমান তাঁর বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সখীপুর থানায় মামলা করেন। সেখানে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে উপজেলার ঘাটেশ্বরী গ্রাম থেকে আসাদুল ইসলামকে ও গতকাল রোববার তাঁর চাচাতো ভাই শামীম আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা দুজনেই হত্যার দায় স্বীকার করায় আদালত তাঁদের টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেক তাঁত শ্রমিক নিহত ব্যক্তির বন্ধু জামাল হোসেন গত বৃহস্পতিবার থানায় এই বলেন, কাশেমকে নিয়ে তিনি বুধবার রাতে উপজেলার ধোপারচালা নয়াপাড়া এলাকায় মদ পান করতে আসেন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঘাটেশ্বরী এলাকায় স্থানীয় কয়েক যুবক লাঠি দিয়ে তাঁদের পেটাতে থাকেন।

একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর মোবাইল সেট ও ১ হাজার টাকা ও কাশেমের ১ হাজার ২০০ ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেন।

তিনি দৌড়ে পালাতে পারলেও কাশেমের বয়স একটু বেশি থাকায় পালাতে না পেরে সেখানেই পড়ে থাকেন।

মামলার তদন্তকারী সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ আজ সোমবার বিকেলে বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

(মোস্তফা কামাল, ঘাটাইল ডট কম)/-