সখীপুরে মৃত্যুকুপে পরিণত ব্রিজ, ১৫ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা টু ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ির রাস্তার দেবরাজ এলাকার ব্রিজটির মাঝখানের ফুটো দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুকূপ হয়ে রয়েছে। এখানে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

ব্রিজটি ভালুকা এবং সখীপুর উপজেলার সংযোগ সড়কের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ। এ ব্রিজের কয়েকটি স্থান ইট, বালি খসে গিয়ে ফুটো হয়ে গেছে। রডগুলো ভেঙে বের হয়ে আছে। ফলে যানবাহনতো দূরে থাক পায়ে হেঁটেও লোকজন চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, অজানা কোনো লোক এ রাস্তায় এলে নিশ্চিত বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হবে।

এ ব্রিজের কারণেই প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। ব্রিজটি মেরামত হলে দাড়িপাকা, দেবরাজ, খালিয়ারবাইদ, আউলিয়াচালা, বড়চালা, ছিটাইল, ঢালুয়া, মহিষগাড়া, মুজিবনগর, কাকেরমোড়, বানিয়ারছিট, দামিয়া, মাচিয়া, বড়চওনার মানুষ অতি সহজেই ভালুকা, গফুরগাঁও এবং সখীপুরে যাতায়াত করতে পারবে।

এছাড়া এ অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল যেমন পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল আনা নেওয়া এবং বাঁশ, আখ, ধান, কলা, আদা, হলুদ পর্যাপ্ত পরিমাণে রপ্তানিও করা যায়। শুধু একটি ব্রিজের কারণেই এ অঞ্চলের কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, গত তিন বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটি অকেজো হয়ে আছে। মাননীয় এমপি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের প্রাণের দাবি ব্রিজটি যেন অতিসত্বর মেরামত করে দেওয়া হয়।

কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য ছাত্তার মিয়া বলেন, শত শত মানুষের দুর্ভোগের নাম এ রাস্তাটির ব্রিজ। এখানে যেকোনো মুহূর্তে মানুষ দুর্ঘটনায় পড়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফায় বিষয়টি জানিয়েছি।

কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম কামরুল হাসান বলেন, ব্রিজটি মেরামত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি, আগামী বাজেটে ব্রিজটি হয়ে যাবে।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এসএম হাসান ইবনে মিজান বলেন, এ ব্রিজটির প্রাক্কলন ব্যয় ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে দরপত্র আহ্বান হয়ে যাবে।

(সাজ্জাত লতিফ, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email