সখীপুরে পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বংশাই নদীতে সাঁতার কাটার সময় কলেজ ছাত্র তামিরুল ইসলাম (১৭) নিখোঁজের ৫ ঘন্টা পর ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ডুবুরী দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের জিনের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত তামিরুল ইসলাম ওই এলাকার আবু হানিফের ছেলে ।

নিহতের পরিবার এ প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে দাড়িয়াপুর এইচএ উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে যাওয়া বংশাই নদীতে আবু হানিফ মিয়া তাঁর দুই ছেলে তামিরুল ইসলাম ও তাহেরুল ইসলামকে নিয়ে চরগজাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরা শেষে আবু হানিফ তার দুই ছেলেকে নিয়ে সাতরিয়ে ওই নদীর এক পাশ থেকে অপরপাশে যাওয়ার সময় আবু হানিফ মিয়া ও তাহেরুল ইসলাম কিনারায় আসতে পারলেও তামেরুল ইসলাম কিনারার কাছাকাছি এসে বাঁচাও বলে তলিয়ে যান। তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা খোঁজাখুজির চেষ্টা চালায়।

পরে খবর পেয়ে সখীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে তামিরুলকে উদ্ধারের চেস্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। তারপরে ময়মনসিংহের ডুবুরীদল এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিখোঁজ কলেজ ছাত্র তামিরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে।

উদ্ধার কাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম শাইফুল ইসলাম শামীম, নিউজ টাঙ্গাইলের সম্পাদক এম সাইফুল ইসলাম শাফলুসহ সখীপুর ফায়ার সার্ভিস ও ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. তাহেরুল ইসলাম বলেন-একত্রে সাতার দিয়ে ভাইকে হারালাম। ৮ হাত ব্যবধানে বাঁচাও বলে ভাইটি পানির নীচে তলিয়ে গেল অনেক চেষ্টায়ও বাঁচাতে পারলাম না।

তামেরুল ইসলামের শিক্ষক মো. ছানোয়ার হোসেন বিএসসি বলেন- তামেরুল ভাল সাতাঁর জানতো। সে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকবার সাতাঁরে প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছিল। নদীতে প্রবল স্রোত থাকাই তার মৃ’ত্যু’র কারণ বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমির হোসেন বলেন- এ ব্যাপারে থানায় অপমৃ’ত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

(সাইফুল ইসলাম শাফলু, ঘাটাইলডটকম)/-