সখীপুরে দুই কন্যার পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের সখীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে দুই শিশু কন্যার পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে এক অসহায় মা লাকী আক্তার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সখীপুর নিবাসী ইলিয়াস কাশেম পিতা: মো: নুরুল ইসলাম ওরফে বঙ্গনূর মাস্টার, ৮ নং ওয়ার্ড, সখীপুর পৌরসভা, সখীপুর, টাঙ্গাইল- এর সঙ্গে বিগত ১০/০২/২০১০ ইং তারিখে গোপালপুর থানাধীন আলমনগর ইউনিয়ন কাজি শেখ মো: আবুল হোসেন মেয়াজীর মাধ্যমে ১,০০,০০০/= (এক লক্ষ) টাকা দেনমোহর ধার্য করে আমার বিবাহ সম্পাদিত হয়। যা কাবিননামার নকলের ফটোকপি হলফনামায় সংযুক্ত করলাম।

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত ইলিয়াস কাশেমের সঙ্গে বিবাহের পূর্বেও ০৩ (তিন) বৎসর আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিবাহের এক বছর পর সখীপুর উপজেলা জেলখানা মাঠের দক্ষিন পার্শ্বে একটি ভাড়াবাসায় থাকা অবস্থায় ২৪/০৪/১১ইং তারিখে আমার প্রথম মেয়ে সান্তনা ও প্রফেসর কলোনী হামিদ আজাদ স্যারের বাসায় ভাড়া থাকা অবস্থায় ১০/০৯/২০১৫ ইং সালে আমার ছোট মেয়ে সুমাইয়ার জন্ম হয়। যার জন্ম সনদ হিসেবে হাসপাতালের ছাড়পত্র, ডাক্তারের চিকিৎসাপত্র, ইপিআই টিকাকার্ড ও জন্মসনদের ফটোকপি হলফনামায় সংযুক্ত করলাম।

বিবাহের পর ০৫/০৭/২০১১ ইং তারিখে আমাকে বিদেশে পাঠাবার জন্য আমার স্বামী ইলিয়াস কাশেম আমাকে দিয়ে যে পাসপোর্ট করায় তার ফটোকপিও সংযুক্ত করলাম।

এছাড়া ইলিয়াস কাশেম তৎকালীন সৌখিন সিনেমা হলের মালিক থাকা অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমার নিকট টাকা চাইলে আমার মায়ের নামীয় জমি বিক্রির ৬,৫০,০০০/= (ছয় লক্ষ পঞ্চাশ) হাজার টাকা আমার মায়ের নিকট হতে এনে আমি সরল বিশ্বাসে তার হাতে তুলে দেই।

কিছুদিন পর সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যায় এবং আমার জীবনে নেমে আসতে শুরু করে অমানবিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আমার স্বামী ইলিয়াস কাশেম পুনরায় আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে ভালভাবে ভরণপোষণ করবে বলে কিছু টাকা লোন করে দেওয়ার অনুরোধ করলে আমি তৎকালীন অবস্থা বিবেচনা করে সখীপুরে অবস্থিত বুরো বাংলাদেশ নামক এনজিও হতে ২,০০,০০০/= (দুই লক্ষ) টাকা লোন করে তার হাতে তুলে দেই।

টাকাগুলো পাবার পর পরই সে তার পূর্বে চরিত্রে ফিরে যায় এবং আমি ও আমার সন্তানদের সঙ্গে মারাত্মকভাবে দুর্ব্যবহার শুরু করে।

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত ঋনের একটি কিস্তিও সে পরিশোধ না করায় এনজিও অফিস কিস্তির টাকার জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকায় বহু কষ্টে আমি আমার স্বর্ণালঙ্কারসহ আসবাবপত্র বিক্রয় ও আমার ভাইয়ের নিকট হতে ধার পূর্বক যতটুকু পরিশোধ করতে পেরেছি তার প্রমাণপত্রাদি হলফনামায় সংযুক্ত করলাম।

দীর্ঘদিন সে আমাদের কোন খোঁজখবর এবং ভরণপোষন না করায় নিরুপায় হয়ে গত ১৬/০১/২০২০ ইং তারিখে বিজ্ঞ সিনিঃ জুডি: ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর আমলী আদালত, টাঙ্গাইল-এ যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় ইলিয়াস কাশেমের বিরুদ্ধে আমি একটি মামলা দায়ের করি।

পরবর্তীতে, আমার বিবাহ রেজিস্টার কাজি কর্তৃক কাবিনের বিপক্ষে একটি সনদ সংগ্রহ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ পূর্বক আমাকে সে স্ত্রী হিসেবে আদালতে অস্বীকার করে এবং আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলে আসামি ইলিয়াস কাশেম কাজি কর্তৃক প্রাপ্ত সনদের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছে, যা তদন্তনাধীন আছে।

বর্তমানে সে আমাকে এবং আমার মাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হুমকি-ধামকি দিয়ে আসতেছে।

বিগত দিনে আমাকে নিয়ে সে (কাশেম) যে সকল ভাড়া বাসায় দাম্পত্য জীবনযাপন করেছে, সে সকল বাসার মালিকসহ আমার মানিত মামলার সাক্ষীগণ ও শামসুল আলম আমার হলফনামার বিষয়াদি বিস্তারিত জানেন এবং প্রয়োজন মাফিক জিজ্ঞাসা করলে তারা সকলেই উল্লেখিত বিষয়ের সত্যতা অবশ্যই নিশ্চিত করবেন।

বর্তমানে, আমি আমার জীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার এক বিশাল অন্ধকারে ডুবে আছি।

কাশেমের উপস্থাপনকৃত নিকাহ রেজিস্টারের এক টুকরো মিথ্যে কাগজ আমার দুটি অবুঝ সন্তানের পিতৃ পরিচয়কে ধ্বংশ করে আমাকে সামাজিকভাবে এবং তাদেরকে বেচেঁ থাকার অধিকার টুকু কেড়ে নিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, যদি নিকাহ রেজিস্টারের দেয়া আমার বিবাহের কাবিনের নকল ভূয়া হয়ে থাকে তাহলেও সে আমার সঙ্গে মারাত্মকভাবে জালিয়াতি করেছে। যা আমি ও আমার সন্তানদের সামাজিকভাবে মান-সম্মান নিয়ে বেচেঁ থাকার মৌলিক অধিকারকে বিনষ্ট করেছে।

এমতাবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রতারক ইলিয়াছ কাশেমের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে ইলিয়াছ কাশেম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাকী ও দুই কন্যা শিশুকে অস্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সখীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সখীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ভূইয়া, সখীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সদস্য মির্জা সাঈদ, মো. আ. হামিদ মুকুল।

(গোলাম মোস্তফা, ঘাটাইল ডট কম)/-