সখীপুরে টাকার বিনিময়ে মিলছে বন বিভাগের জমি!

বনবিভাগের জমিতে সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোনো কিছুই করার বিধান নেই। তবুও টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিলছে জমি। আর সেই জমিতে আধা-পাকা ঘর বা দালান কিংবা টয়লেট করতে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাকে দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এ কারণে ওই উপজেলায় দিন দিন বন বিভাগের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বনের গাছ কেটে জমি দখল নিয়ে গড়ে তুলছেন ঘর-বাড়ি।

সরেজমিন সখীপুর উপজেলার হতেয়া ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। চারিদিকে সারি সারি গাছ আর ভেতরে নতুন নতুন ঘর-বাড়ি। শতশত নতুন নতুন টিনের ঘর আর দালানে ভরে গেছে পুরো বন। দেখলেই মনে হয় এ যেন নতুন একটি গ্রাম। না এটি কোন গ্রাম নয়। এটি বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন প্রকল্প।

কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে জমিগুলো সামাজিক বনায়নের নামে দখলে নিয়ে সেখানে নির্মাণ করছেন বড়বড় দালান ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। এতে করে সামাজিক বনায়নের নাম করে দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে শতশত একর ভূমি।

বনের ভেতর চোখ যেতেই দেখা যায় নতুন টিনের তৈরি ঘর। সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে থাকার ঘর ছাড়াও আধা-পাকা করে নির্মাণ করা হয়েছে গরুর খামার। বাড়িতে অপরিচিত লোক এসেছেন দেখে এগিয়ে আসেন এক নারী। বাড়িটি কার জিজ্ঞেস করলেই উত্তরে তিনি জানান, বাড়িটি তার স্বামীর। নাম আব্দুল লতিফ।

বন বিভাগের জায়গায় ঘর তুলেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, থাকার জায়গা নেই। তাই এই জমিটি বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে। আবার টয়লেট, রান্নাঘর, থাকার ঘর ও গরু রাখার ঘরের জন্য আলাদা আলাদা টাকা দিতে হয়েছে। তা না হলেতো ঘর তুলতে দেয় না।

একই অবস্থা আব্দুল কাদের মোল্লা, জুলহাস মিয়া, আব্দুল জয়নাল মিয়ার বাড়ি। তারা বাড়ি করেছেন ৬-৭ মাস আগে। তাদের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় তারা বন বিভাগের জমিতে নতুন টিনের ঘর তৈরি করেছেন।

এছাড়া পাশেই সমির সিকদারের বাড়ি। তার দখলে থাকা জমিতে রয়েছে তিনটি ঘর। কিন্তু তিনি নতুন করে আধা-পাকা ঘর নির্মাণের জন্য বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানান।

১০০ গজ দূরেই চোখে পড়লো টিন সেড ভবন। সেখানে গিয়ে খোঁজ করা হয় ভবনের মালিকের। একটু পরেই এসে হাজির এক নারী। তিনি জানান, এই ভবনের মালিক হান্নান মিয়া। তিনি তার স্বামী।

কিভাবে বন বিভাগের জমিতে ভবন করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারি জমি নেওয়া থেকে ভবন নির্মাণের শুরুতে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বিট কর্মকর্তাকে। আরো টাকা চেয়েছেন কিন্তু তা দেওয়া হয়েছে কি না আমি জানি না। তবে টাকা দেওয়ার পরই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে এভাবেই সরকারি জমি প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন। আবার সেখানে ঘর-বাড়ি নির্মাণও করছেন। এভাবে চলতে থাকলে পুরো বন উজাড় হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলার বাজাইল বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, গত এক মাস আগে এখানে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। টাকার বিনিময়ে ঘর নির্মাণের বিষয়টি জানা নেই।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-