সখীপুরে ঐতিহ্যবাহী ফাইলা মেলায় অর্ধনগ্ন ও অশ্লীল নৃত্য

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ফালুচাঁন শাহ’র (ফাইলা পাগলার) মেলায় চলছে অশ্লীল ও অর্ধনগ্ন নৃত্য পরিবেশনা। বিভিন্ন ছত্রছায়ায় যাদু প্রদর্শনী ও বিচিত্রা অনুষ্ঠানের সাইনবোর্ড টানিয়ে ভ্যারাইটি শোতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নর্তকীদের অর্ধনগ্ন অশ্লীল নৃত্য। অশ্লীল এসব নৃত্য দেখতে শিশু-কিশোর যুবক বৃদ্ধদের হুমড়িপড়া ভিড় দেখা যায়। ৩০ মিনিট নাচ দেখতে ৫০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা গুনতে হচ্ছে প্রতিজনকে। সুযোগ পেলেই মঞ্চে থাকা উঠতি বয়সের ছেলেরা নর্তকীদের জড়িয়ে ধরে করছে নোংরামি ও অসভ্যতা। নৃত্যের সময় নর্তকীদের সাথে আবার অনেকেই বিশেষভাবে অশ্লীলতায় অংশ নিয়ে আরো অনেক বেশি টাকা ব্যয় করছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য চলছে এ অশ্লীলতা। আর এসব প্রদর্শনীতে দর্শক সারিতে ভিড় বাড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, অনেক চিন্তায় রয়েছি। মেলার নামে এমন অসভ্যতা চললেও প্রশাসন কিছুই বলছে না। সন্ধ্যা হলে ছেলেরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে মেলায় চলে যায়। চোখের সামনে এমন অশ্লীলতার মেলা চললে নিজেদের আত্মসম্মান বোধ আর থাকে না। এসব ক্ষোভের কথা বলেন আরও একাধিক অভিভাবক। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলার নাম করে এখানে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। রাত-দিন মাইকের উচ্চ আওয়াজে ঘুম হয় না।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সরজমিনে দেখা যায়, ফাইলা পাগলার মেলাকে কেন্দ্র করে অবস্থিত বিশাল ফসলি মাঠে সাজানো হয়েছে এ পুতুল নাচ ও যাদু প্রদর্শনী নামের ভ্যারাইটি শো। এখানে বসানো হয়েছে দুইটি বিশাল প্যান্ডেল। যাদু প্রদর্শনীর অন্তরালে চলছে রাতভর অশ্লীল নৃত্য আর অসভ্যতা।

দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি ও এস এ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বিএসসি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব অনুষ্ঠানই যুব সমাজের অবক্ষয় সৃষ্টি করছে। বিষয়টি আমি অবশ্যই লোকাল প্রশাসনের প্রধান ইউএনওকে জানাবো।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, এসব বিষয়ে বিধিমোতাবেক দরখাস্ত করে অনুমতি আনা হয়েছে। বিভিন্ন ছত্রছায়ায় ওই পুতুল নাচ ও যাদু প্রদর্শনীর ব্যানারে নাচগান চালানো হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে নিজে জড়িত নন বলেও মুঠোফোনে জানান তিনি।

মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি দাড়িয়াপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এস এম শাইফুল ইসলাম শামীম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিন থেকে সংগ্রহ করা মেলার অশ্লীলতার বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ দেখানোর পর সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার বদিউজ্জামান বলেন, পুতুল নাচ ও যাদু প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এমন অশ্লীলতা থাকলে অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, মেলার নামে অশ্লীলতা চলছে কিনা জানা নেই। মেলায় প্রতিদিনই পুলিশ ডিউটি করছে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-