শুভ জন্মদিন সালমান

মৃত্যুতেও হারিয়ে যাননি। চলে যাওয়ার ২৪ বছর পরও ভক্ত, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে একইরকম প্রাসঙ্গিক প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহ।

৪৯তম জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উচ্চারিত স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

সালমান শাহ, ঢাকাই সিনেমার অপ্রতিরোধ্য অভিনেতা। কেবল ৩ বছর ৫ মাস ১২ দিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে ছিলো যার পদচারণা। অল্প এ সময়েই রুপালী পর্দায় ২৭টি সিনেমায় জ্বলে উঠেছেন ধুমকেতুর মতো, আর ঝরে পড়েছেন উল্কাপিণ্ডের মতো।

শূন্যস্থান ২৪ বছরের। তবু আজো গলির চায়ের কাপের আড্ডায়, বটতলার জটলা বা তরুণী ভক্তের গুনগুন করা গানে সুখস্মৃতি হয়ে বাজেন সালমান।

ফ্যাশন, স্টাইল আর নিজস্ব অভিনয়শৈলীতে সালমান পরবর্তী হালের নায়কদের কাছেও আবেগের প্রতিশব্দ কেবলই সালমান।

যতদিন রূপালী পর্দা গানে প্রেমে মনে লাইট ক্যামেরার গল্প বুনবে ততদিন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বপ্নের নায়ককে ভালোবেসে আকাশের ঠিকানায় জানাবে ভালো থাকার আকুতি।

বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর দু’যুগ পরও এখনও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তার। এখনও টিভি পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন।

রোমান্টিক এই নায়কের ক্যারিয়ারের গল্প কিংবা মৃত্যু রহস্য- সবকিছু নিয়ে এখনও তার ভক্তদের মনে কাজ করে আকর্ষণ।

ছোট পর্দায় সালমান

১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন সালমান শাহ। পরে দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফিরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে অভিনয় করেন। ‘নয়ন’ নাটকটি শ্রেষ্ঠ একক নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে।

১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত পাথর সময় ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে অভিনয় করেন ইতিকথা ধারাবাহিকেও।

সিনেমায় অভিষেক

১৯৯২ সালে প্রযোজনা সংস্থা আনন্দমেলা ভারত থেকে তিনটি সিনেমার কপিরাইট নিয়ে আসে। সেই তিনটি সিনেমার জন্য তারা নতুন নায়ককে নিতে চান। দায়িত্ব পড়ল পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ওপর। তিনি হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকলেন নতুন নায়ক।

একসময় পেয়ে গেলেন ইমন নামের একটি ছেলেকে। মা নীলা চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে ইমনকে নির্বাচিত করলেন সিনেমার জন্য। নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো সালমান শাহ।

পরিচালক সোহান বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমি সালমানকে পাই। তারপর তাকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিই নাচ-গান, ফাইট এবং অভিনয়ের ওপর।’

তিনি জানান, ১৯৯২ সালের ৩১ আগস্ট কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুভির মহরত হয়। আর প্রথম শ্যুটিং শুরু করি ১৩ সেপ্টেম্বর। সালমান-মৌসুমীকে নিয়ে কাজ করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কারণ বুঝতাম তাদের নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সালমান শাহ।

মৃত্যু

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল শুক্রবার। এদিনই সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের জাল বিস্তার হয় সে সময়। স্ত্রী সামিরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তাকে ড্রেসিংরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ বছর ধরে চলছে সেই মামলা।

সর্বশেষ চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-