শুভ জন্মদিন কমল

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ রবিবার। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে বিএনপি। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে একদিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নিভৃত পল্লী বাগবাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

দূরদর্শী জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৯৮১ সালে কতিপয় বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে তার মাতা-পিতা আদর করে কমল নামে ঢাকতেন। তার ছেলেবেলা কেটেছে কলকাতায়। তার বাবা মনসুর রহমান তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন। কলকাতার হেয়ার স্কুলে শহীদ জিয়া ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে শিশু জিয়া করাচি চলে যান। সেখানে কেটেছে তার স্কুল ও কলেজ জীবন। করাচির স্কুল-কলেজে অধ্যয়নকালে শহীদ জিয়া একজন ভাল হকি খেলোয়াড় ছিলেন। স্কুলে তিনি ইংরেজিতে ভাল বক্তৃতা দিতে পারতেন।

কৈশোরে নির্মেদ দেহের অধিকারী এক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। করাচির ডি জে কলেজে পড়ার সময় ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে একজন অফিসার ক্যাডেট হিসাবে শহীদ জিয়া যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসাবে শহীদ জিয়া কমান্ডো ট্রেনিং লাভ করেন।

১৯৬৭ সালের এপ্রিল মাসে জিয়াউর রহমান ঢাকার অদূরে জয়দেবপুর সাব ক্যান্টনমেন্টে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাচে লিয়নে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসাবে যোগদান করেন। একই বছর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানি যান।

১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। তার ঘাঁটি ছিল ষোলশহর বাজারে। এখান থেকেই শহীদ জিয়া দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

১৯৭১ সালে জাতির সবচেয়ে বড় বিপদের দিনে মুক্তিপাগল দিশেহারা জনগণের কাছে একটি “অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর” তাদের হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে জাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে ভেসে এসেছিল একটি কণ্ঠস্বর ‘আমি মেজর জিয়া বলছি।’ সেই কণ্ঠ সেদিন অযুত প্রাণে নতুন সঞ্জীবনী মন্ত্র এনে দিয়েছিল। মেজর জিয়ার কণ্ঠস্বর শুনে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে দিশেহারা গোটা জাতি। ‘আমি মেজর জিয়া বলছি…বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’- তার এই অবিস্মরণীয় অবিনাশী ঘোষণায় পথহারা মুক্তিকামী জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে।

জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মেজর জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্নেল এমএজি ওসমানীকে এ দায়িত্ব অর্পণ করার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বৃহত্তর এলাকায় বীরত্বের সঙ্গে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তিনি চৌকস জেড ফোর্স গঠন ও পরিচালনা করেন।

২৫ মার্চ পাক সেনারা এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর যখন হামলা করল তখন আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি হন, আত্মসমর্পণ করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পাক সেনারা যখন ২৫ মার্চ ঢাকার বুকে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করল, তৎকালীন ইপিআর হেড কোয়ার্টার দখল করল এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সমস্ত কিছু তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল এবং যখন ঢাকার সঙ্গে সেদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে দেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে টেলিফোন, ওয়্যারলেস বা অন্য সব যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেল তখন নেতারা সবাই নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য আত্মগোপন করলেন। এটা বোধকরি কারো অজানা থাকার কথা নয়। এদেশের জনগণ তখন চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় ভুগছিল, একটা রাজনৈতিক নৈরাজ্য বিরাজ করছিল সর্বত্র। তখন কেউ কোনো দিক-নির্দেশনা দিতে পারে নাই। কেউ জানত না কোথায় কি হচ্ছে? এদেশের ভবিষ্যতই বা কি তাও তাদের জানা ছিল না।

সেদিন মেজর জিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সামরিক অফিসার এবং ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের মাত্র ৩শ বাঙালি সৈন্য নিয়ে ২৫ মার্চ রাত প্রায় আনুমানিক ১১টার দিকে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সে দিন আওয়ামী লীগের নেতারা ছিলেন ভীত, আতঙ্কিত। কি করতে হবে, কোথায় যেতে হবে সেদিন তাদের কেউ সে বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা দিতে পারছিলেন না। জাতির সেই চরম মুহূর্তে এবং বিপদের সময়ে ৩৫ বছর বয়স্ক তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, রেডিও-এর মাধ্যমে এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে হবে, জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের জন্যে আহবান করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, নচেৎ পাক সেনারা হত্যাকান্ড চালিয়ে এদেশকে শাসন ও শোষণ করবে, বাইরের জগতের পক্ষে কিছুই জানা সম্ভব হবে না। আমরাও স্বাধীন হতে পারবো না। তাই সেই দিনের মেজর জিয়া তার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র দখল করে এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানালেন দেশবাসীকে।

মেজর জিয়ার সেদিনের সেই কণ্ঠস্বর শুনে এদেশের জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। দিশেহারা জাতির জীবনে আশার সঞ্চার হলো। সকলে বুঝতে পারলো কি করতে হবে। দলে দলে সবাই মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করলো। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল আমরা স্বাধীনতা লাভ করলাম।

মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয় মাসে কোনো একটি দিনও তিনি তার স্ত্রী বা পুত্রের কথা চিন্তা করেননি, দেশ আর দেশের মানুষই ছিলো তার সার্বক্ষণিক চিন্তায়। যুদ্ধ শেষে জিয়াউর রহমান পুনরায় সেনাবাহিনীতে ফিরে আসেন এবং ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফের পদে বহাল হন। : আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্রান্তিকালে বিদ্রোহী কবির ধূমকেতুর মতোই ত্রাতার ভূমিকায় জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি একজন সৈনিক থেকে ক্রান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ, প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং সর্বোপরি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এদেশের সমৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেম ছিল সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে ও ঈর্ষণীয়। তার দেশপ্রেমের প্রকৃষ্ট উদাহরণই হলো ‘বাংলাদেশ’। তার সততা নিয়ে তার চরম শত্রুও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের পর মতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী খোন্দকার মুশতাক আহমাদ মতা দখল করে প্রেসিডেন্ট হলে সেনাবাহিনীসহ গোটা জাতির ভাগ্যোন্নয়নে তখন বিরাজ করছিল চরম অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে খোন্দকার মুশতাককে পাল্টা আরেক অভ্যুত্থানে মতাচ্যুত করে আধিপত্যবাদের ক্রীড়নকরা মতা দখল করে। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের এদেশীয় চরেরা ষড়যন্ত্র করে জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে। কিন্তু ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সিপাহী-জনতা তাকে মুক্ত করেন। সে সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেতৃত্বশূন্য জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে মতায় বসিয়ে দেয় সৈনিক-জনতা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির চরম অধঃপতনের সময়ে মহান দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তলাবিহীন ঝুড়ির বদনামমুক্ত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি একদলীয় শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেশে বাকব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের প্রবক্তা জিয়া জাতির নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বিদেশে শ্রমবাজার তৈরি করে জনশক্তিতে পরিণত করেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে ইপিজেড-এর শুভ সূচনা করেন এবং তা গণচীনের আগেই। তার কর্মসূচির মধ্যে তার রাজনৈতিক দর্শন নিহিত রয়েছে যা হলো-উৎপাদনমুখী রাজনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, ন্যায়ভিত্তিক শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা। এই বিষয়গুলো ছিল তার রাজীনতির মূল লক্ষ্য।

তার অন্যতম উপহার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তার সুশাসনে উদীয়মান এক অমিত সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় আসন লাভ করে। জিয়াউর রহমান ছিলেন সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও পথপ্রদর্শক। তার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। পার্থিব লোভ-লালসা ও ক্ষমতার মোহ তাকে ন্যায় ও সত্যের আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করতে পারেনি। অন্যায় ও অসত্যের নিকট তিনি কোনদিন মাথানত করেননি।

জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা, পরিশ্রমপ্রিয়তা, কর্তব্যনিষ্ঠা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, নির্লোভ, নির্মোহ ও গভীর দেশপ্রেমসহ বহু সৎ গুণাবলী দিয়ে তিনি জাতির সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি দেশগড়া কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের নয়নের মণি হয়ে ওঠেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার বলিষ্ঠ, গতিশীল ও পরিকল্পিত নেতৃত্বে দেশ সত্যিকার উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিছুদিনের মধ্যেই দেশবাসীর প্রাণপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেন। মুসলিম বিশ্বে, জোটনিরপে বলয়ে ও পাশ্চাত্যে তেজোদীপ্ত ও প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভূমিকা পালনে, সার্কের সফল স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে শহীদ জিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের অগ্রভাগে এনে দিয়েছিলেন। জিয়ার ঈর্ষণীয় এই জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেমই তার জন্য কাল হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রামে তাকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদতে গোটা পৃথিবী শোকাভিভূত হয়ে পড়েছিল। এ শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল শেরেবাংলানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায়। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে সেদিন জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র যা আজ ভূলুণ্ঠিত।

কর্মসূচি : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলে কেন্দ্রীয়ভাবে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। আজ ভোরে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতিহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, পোস্টার, লিফলেট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

আজ ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, শেরেবাংলা নগরে জিয়ার সমাধিতে দলের নেতাকর্মীদের ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হবে। এ ছাড়া বেলা আড়াইটায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও দল সমর্থিত বুদ্ধিজীবীরা বক্তব্য দেবেন।

জন্মদিন উপলক্ষে ইতিমধ্যেই পোস্টার প্রকাশ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রের পাশাপাশি সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিটে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-