শিল্পায়নে পরাজিত হয়ে বিলুপ্তির পথে টাঙ্গাইলের তারুটিয়া হাট

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী তারুটিয়া হাটটি সঙ্কুচিত হয়ে বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, পাশের বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারিত করতে গিয়ে দীর্ঘ ৬৫ বছরের পুরনো হাটটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

জানা গেছে, ১৯৫৫সালে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় দেলোয়ার মহুরি, ইব্রাহিম খান, রশিদ খান, ইয়াছিন হাজী, আব্দুল মন্নান, খালেক খান, কালু খানদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৯০ শতাংশ ভূমির উপর তারুটিয়া হাট প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকে প্রতি রোববার হাট এবং প্রতিদিন সকাল ও বিকালে বাজার বসে থাকে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া, ঘারিন্দা ও দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের সাধারণ মানুষ ওই হাটে হরেক রকমের দ্রব্য বেঁচাকেনা করেন।

সঙ্কুচিত হতে হতে হাটটি ৯০ শতাংশ থেকে এখন মাত্র ৪০-৪৫ শতাংশে এসে পৌঁছেছে।

বাজারে বর্তমানে ২৫০টি স্থায়ী দোকান রয়েছে। হাটের দিনে দোকানীরা সড়ক-মহাসড়কেতর পাশে মালামাল নিয়ে বসেন। এতে যানজট সহ চলাফেরায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তারুটিয়ার ব্যবসায়ী আয়নাল হক, শামীম মিয়া, হামিদ মিয়া, নয়ন খান গনি, ঠান্ডু মিয়া, মো. ফরিদ হোসেন সহ অনেকেরই দাবি, পাশের বিসিক শিল্প এলাকা সম্প্রসারিত করায় তারুটিয়া হাট ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিসিকের রুগ্ন দুটি শিল্প কারখানা হাটের জায়গায় বসানো হয়েছে। ফলে হাট সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।

বিসিক এখন তারুটিয়া হাটটি ধ্বংস করে শিল্প কারখানা স্থাপন করতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তারুটিয়া বাজার সমিতির সভাপতি মোবারক হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান খান জানান, তারাও বিসিকের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প কারখানার উন্নয়ন চান। দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার অক্ষুন্ন রেখে আশপাশের জায়গা হুকুম দখল করে বিসিকের সম্প্রসারণ করার দাবি জানান তারা।

করটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান মজনু বলেন, আমরা শিল্পোন্নয়নের বাইরে নই, আমরাও উন্নয়ন চাই- তবে সেটা সার্বিক। হাটটি বিনষ্ট না করে বিসিকের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হলে সব সমস্যার সমাধান হয়।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান আনছারী জানান, হাটটি মূলত অস্থায়ী ভিত্তিতে চালু করা হয়েছিল। এখনো সেই অবস্থায়ই আছে। মানুষের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে সব কিছু করা হবে।

(আরমান কবীর, ঘাটাইলডটকম)