‘শিক্ষা হিতৈষী এক অাদর্শ শিক্ষিকার কথা’

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, অার তার কর্ণধার হলেন শিক্ষকগণ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁরাই শিক্ষা দিয়ে অাদর্শ মানুষ তথা অাদর্শ নাগরিক করে গড়ে তোলেন। এ জন্যই শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়। তাঁদের সম্মান সর্বাগ্রে। তেমনই একজন আদর্শ শিক্ষিকা মাহবুবা শিউলী। ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করে ইতোমদ্ধে তিনি সুনাম ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

কিন্তু অাজ সে ধারায় অনেকাংশে চির ধরেছে। একাগ্রচিত্তে শিক্ষার মানসিকতার চেয়ে বানিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গির মানসিকতাই বেশী প্রসারিত হচ্ছে। তারপরও কিছু কিছু শিক্ষক অনেক ক্ষেত্রে সত্যিকারের শিক্ষাদানের মানসিকতায় শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। উৎসাহিত করছেন লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে, অাদর্শ নাগরিক হিসাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার জন্য লেখাপড়ার প্রতি অাগ্রহ বাড়াতে উৎসাহ দিতে নিজ খরচে বাড়তি প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

এমনই একজন হচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মাহবুবা শিউলী। ভালো ফলাফলের জন্য ফলের চারা বিতরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেখে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, উনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেলুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে প্রতিযোগিতামূলক ভালো ফলাফলের জন্য পড়ায় মনোনিবেশ করে, সে অাগ্রহ বাড়ার উৎসাহ দিতে ২-৩ মাস পর পর পরীক্ষা নিয়ে ১-৫ পর্যন্ত সিরিয়ালে ক্রমান্বয়ে নম্বর প্রাপ্তদের মাঝে তিনি পুরস্কারস্বরূপ ফলের চারা প্রদান করেন।

নম্বরে প্রদানে শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা এবং আচরনের দিকটাও গুরুত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। ২য় হতে ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি এটি করে থাকেন।

ফেসবুকের বন্ধু সাবেক প্রধান শিক্ষক (প্রাঃ) দীপক স্যারকে সাথে নিয়ে একদিন ঐ বিদ্যালয়ে যাই সরেজমিনে দেখতে ও জানতে। গিয়ে পরিচিত প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে সহকারী শিক্ষিকা মাহবুবা শিউলীর নিজ খরচে এ মহতী উদ্দ্যোগের সত্যতা ও প্রশংসা শোনা যায়।

প্রত্যেক শিক্ষকের মাঝে এই মননশীলতা গড়ে উঠলে দেশে ফলদ বনায়নের পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের পরিবেশবাদী ও শিক্ষায় মনোযোগী হয়ে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী। তাঁর এই মহতী প্রচেষ্টা ও উদ্যোগকে সাধুবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি সাফল্য কামনা করি।

(এম এ রউফ, ঘাটাইল.কম)/-