শিক্ষার্থীদের মদদ দিয়ে বিএনপি-জামাত দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল : আব্দুর রাজ্জাক

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘কোটা সংস্কারের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিএনপি-জামাত মদদ দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার নীল নকশা কায়েম করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে পদক্ষেপ নিয়ে এ আন্দোলন বন্ধ করেন।’ আজ বোরবার বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তৃতা কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরাজিত শক্তিরা যেন আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগকে প্রস্তুত খাকতে হবে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা পরাজিত শক্তিরা দেশ শাসন করেছে। বিএনপি জামাত মিলে ১৩ সালে হরতাল অবরোধের নামে দেশকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার কারণে স্বাধীনতা পরাজিত শক্তিরা তা আর করতে পারে নাই। তবে তারা বসে নেই সব সময় তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেই সুযোগ আর তাদেরকে দেয়া হবে না। তাই ছাত্রলীগকে তাদের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। যারা আগে বাংলাদেশকে বলতো তলা বিহীন ঝুড়ি, আজ তারাই দেশের প্রশংসা করছে। দেশ স্বাধীনতার পর দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৬০ থেকে ৭০ ডলার, আর আজ তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৬০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আজ বিদেশিরা বাংলাদেশের প্রশংসা করে। বর্তমান সরকার যদি আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে ২০২৪ সালের মধ্য দেশ পুরোপুরি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

‘বিএনপি নেত্রী নিজের কুয়া নিজেই খনন করেছেন। বিগত দিনে তার সরকারের সময় দুর্নীতির কারণে আজ তাকে জেল খাটতে হচ্ছে। তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সৌদি আরব থেকে এতিমদের জন্য টাকা আসে, আর সে টাকা তিনি নিজের আত্মীয় স্বজনদেরকে দিয়ে দেন। এজন্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সময় মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন। আর বিএনপি দোষ দেয় আমরা নাকি খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছি। বিচার বিভাগ স্বাধীন তাই তিনি দশ বছর সময় নিয়েছেন তার পর আদালত রায় দিয়েছেন। তাই বিএনপি যেন সাধারণ জনগণকে ভুল বোঝাতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগকে সব সময় প্রস্তুত খাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়।

অন্যান্যের মধ্য বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ছানোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সামছুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। সঞ্চালনা করেন সরকারি এম এম আলী কলেজের ভিপি শাফিউল ইসলাম মুকুল।

(তারেক আহমেদ, ঘাটাইল কম)/-