শরিয়ত বয়াতির ফাঁসি দাবি টাঙ্গাইল কওমী ওলামা পরিষদের

মহানবী (সা.) ও পবিত্র কুরআনের অপব্যাখাকারী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে পালা গানের বয়াতি মো. শরিয়ত সরকারের ফাঁসি দাবি করেছে জেলা কওমী ওলামা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরিয়ত বয়াতির ফাঁসি ও জাতীয় সংসদে ব্লাসফেমি আইন পাস করা সহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়।

টাঙ্গাইল জেলা কওমী ওলামা পরিষদ বয়াতি মো. শরিয়ত সরকার কর্তৃক কুরআন হাসিদের অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি, নিজ থেকে কুরআন আয়াত বানানো, ভুল ও মনগড়া তথ্য পরিবেশন, নবীদের সর্ম্পকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং আলেম ওলামাদেরকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাওলানা ফরিদুল ইসলাম বলেন, আল্লাহ এবং রাসুলের শান, মান ও ইজ্জত রক্ষার্থে সংসদে ব্লাসফেমি আইন পাস করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন সব লেখা সংশোধন করা; বয়াতি বাউল সম্প্রদায়, গায়ক-গায়িকা এবং নাটক নির্মাতা সকলের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন নাটক- সিনেমা ও গান না করার আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও ইসলাম বিদ্বেষী মো. শরিয়ত সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড- দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল জেলা কওমী ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলা আব্দুল আজিজ, ধুলেরচর মাদরাসার প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ শামসুজ্জামান, মুফতি শামছুল হক, মাওলানা আব্দুল্লাহ যুবাইরসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক এলাকায় অবস্থিত পীর হযরত হেলাল শাহ্ পীরের ১০ম বাৎসরিক পালা গানের অনুষ্ঠানে মো. শরিয়ত বয়াতি ইসলাম ধর্ম ও নবী রাসুল নিয়ে শরীয়ত বিরোধী ভুল ব্যাখা দিয়ে গান ও বক্তব্য রাখেন।

গত ৯ জানুয়ারি মো. শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ধমীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধে উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গত শনিবার(১১ জানুয়ারি) ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ১০ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক ৩দিনের রিমা- মঞ্জুর করেন। রিমাণ্ড শেষে গত ১৪ জানুয়ারি তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

আগামি ১২ই ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আদালতে দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-