শফীপুত্রকে বহিষ্কারের দাবীতে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা

হেফাজত আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীকে অক্ষম উল্লেখ করে তার ছেলে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ কর্মক্ষম নতুন মুহতামিম নিয়োগসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর থেকে মাদ্রাসার মাঠে ছাত্ররা এ বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

মাদ্রাসার ফটক বন্ধ করে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মাদ্রাসায় একটি লিফলেট আকারে এসব দাবি পেশ করা হয়।

দাবিগুলো হলো, মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।

শিক্ষকদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার কাছে পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে। বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

হাটহাজারী মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মাদরাসা বোর্ড নিয়ে (বেফাক) দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা চলছিল। এ নিয়ে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়।

সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম সফর করে। সেদিন ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর উপস্থিতিতে আহমদ শফীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন মামুনুল হক। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার হাটহাজারী থেকে যেসব ছাত্র বাবুনগর গিয়েছিল, তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছিল।

পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের নূরিয়া মাদ্রাসায় একই বিষয়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

এতে জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাফেজ আতাউল্লাহ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীর অপসারণসহ ৫ দফা দাবিতে মাদ্রসার শিক্ষার্থীরা সকল ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সংবাদ অবহিত হয়ে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু মাদ্রাসার ফটক বন্ধ থাকায় তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন। সংবাদ অবহিত হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা আশংকায় আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সদস্যরা মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেয়। কিন্তু তারা মাদ্রাসার ফটক বন্ধ থাকায় ভিততে প্রবেশ করতে পারেনি।

বিক্ষোভের কারণে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট খাগড়াছড়ি মহাসড়কে গাড়ি চলাচলের কোন সমস্যা হয়নি। তবে চারাদিকে মাদ্রাসায় গোলযোগের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার ভিতরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করেন। কিন্তু মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থানকারী উৎসুক জনতাকে শান্ত থাকার জন্য আহবান জানান।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি প্রচার পত্র বিতরণ করা হলেও সেখানে কারা বা কাদের পক্ষ থেকে এ প্রচার পত্র বিতরণ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ৫ দফা দাবির মধ্যে ১. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করতে করা। ২.ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়েন সকল প্রকার হয়রানি মূলক কার্যক্রম বন্ধ করা। ৩.আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব মাযূর এবং অক্ষম হওয়ার কারণে পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানানো। ৪.ওস্তাদদের মাদ্রাসা থেকে বিয়োগ নিয়োগ পরিপূর্ণভাবে সূরার নিকট হস্তান্তর করা। ৫.বিগত শূরার হক্কানী আলেমদের পুনরায় নিয়োগ এবং সূরার মধ্যে দালালদের বহিষ্কার করা।

তাদের এসব দাবি মানা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসাবে মাদ্রাসার সমস্ত একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার ভিতরে অবস্থান করায় দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

(যুগান্তর, ঘাটাইল ডট কম)/-