শপথ নিলে জনগণ টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে: কাদের সিদ্দিকী

ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে জনগণ তাদেরকে রাস্তায় ধরে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবদুল কাদের সিদ্দিকী। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মতিঝিলে দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আজকে যারা শপথ নিতে চাচ্ছেন, পাবলিক তাদের রাস্তায় ধরে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে।’

‘কয়েক দিন যাবত খুবই আলোচনা হচ্ছে গণফোরামের দুই প্রার্থী- সত্যিকার অর্থে গণফোরামের দুই প্রার্থী নয়, এক প্রার্থী। তার নাম মোকাব্বির। আরেকজন সুলতান মুহাম্মদ মনসুর। মুক্তিযুদ্ধে কোথায় ছিল জানি না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদের সময় সে আমার সহকর্মী ছিল, আমি তাকে অত্যন্ত স্নেহ করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিল। তাকে নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে, শপথ নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে।’

‘এখানে তার শপথ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। তিনি ভাবতে পারেন যে, তিনি শপথ নিতে পারেন। কিন্তু জনগণ ভাবতে পারে না যে, তারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং শপথ নিতে পারেন। কারণ, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি, ভোট হয়নি। সেই জন্য সেই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হয় নাই। তাই তাদের শপথ নেওয়ার কোনো কথা আসে না।’

দুই নেতা শপথ নিলে কী হতে পারে, সেই সতর্কতা দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এতে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচিত দুই চারজনকে ধরে ইট দিয়ে মাথায় আঘাতের পর আঘাত করে মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। এটা হলো গণবিক্ষোভ। আজকে যারা শপথ নিতে চাচ্ছেন, পাবলিক তাদের রাস্তায় রাস্তায় ধরে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে।’

অবিলম্বে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবিও করেন জনতা লীগ নেতা। বলেন, তারা এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সায় দেননি কাদের সিদ্দিকী।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পক্ষে নয়। কারণ, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-আদালত আজ্ঞাবহ হিসেবে তাদের পরিচয় দিয়েছে। তাই ট্রাইব্যুনালও হয়তো তাদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য বসে আছে যে, মামলা যথাযথভাবে উপস্থাপন হয়নি।’

এ ছাড়া শপথ নেওয়ার বিষয়ে শাসক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন কি নেবেন না এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অবৈধ সরকারের এত মাথা ব্যথা কেন?

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, কুঁড়ি সিদ্দিকী প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস, ঘাটাইলডটকম)/-

231total visits,1visits today