লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মামলা সচলে আবেদন দুদকের

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের করা মামলার ওপর হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এ বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল বেঞ্চে দুদকের আবেদন কার্যতালিকায় রয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই মামলার ওপর হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে। যেটি বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় রয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীর আবেদনের শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী ছিলেন জেয়াদ আল মালুম। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, এ মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় তারা অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে। আদালত ছয় মাসের জন্য মামলাটি স্থগিত করেছেন। এরপর হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল বিভাগে আবেদন করে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ সরকারের সময় ২ একর ৩৮ শতাংশের জমিটি সুরুজ মল আগরওয়ালা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হুকুম দখল করা হয়েছিল।

বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন। এর জন্য বছরে লিজ মানি ধার্য ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

জাহানারা রশিদ প্রথম বছরের লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়। তিনি তাঁর পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

লতিফ সিদ্দিকীর একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা দামের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয় বলে এজাহারে বলা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই জমিটি কম দামে বিক্রি করায় নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করলে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর আদমদিঘী থানায় লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে সরকারি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্ত করেন বাদী আমিনুল ইসলাম নিজেই।

(বিশেষ প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-