‘রূপপুর ও রামপাল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে আমাদের প্রকৃতি ভারসাম্য হারাবে’

‘বাংলাদেশে রূপপুর ও রামপাল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্টসহ প্রকৃতি ভারসাম্য হারাবে’, তেল খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সোমবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চীন ও ভারত দুই দেশেই কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হওয়ার ফলে তারা দুই দেশই কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। সেই দুই দেশই আবার বাংলাদেশে কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো অন্য দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণ করে উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। আর বাংলাদেশ নিজেদের সম্পদ অন্যদের শোষণ করতে দিয়ে বাইরের দেশ থেকে ঋণ এনে উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর সকল শক্তির মূল উৎস হচ্ছে সূর্য। সেই সৌর শক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বাহিরের দেশগুলো থেকে ঋণ এনে নয় সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশে দুই লক্ষ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সৌর শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে না। বর্তমানে আমাদের দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আমাদের নিয়ম মেনে কাজ করলে বাংলাদেশে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

তিনি বাংলাদেশের উন্নত শহর ঢাকাকে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ঢাকার শহর ময়লা, আবর্জনা ও দূর্গন্ধে ভরা। সেই ময়লা আবর্জনাকে কাজে লাগিয়েও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে।

ওই কমিটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক নাজির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সাবেক ছাত্র নেতা আবু আসলাম, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মতি, চন্দন কুমার চন্দ, মাহমুদুল হাসান, অধ্যক্ষ শামছুন্নাহার, ফজলে রাব্বী খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল.কম)/-