রাস্তা ভেঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের সাথে চরাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ

টাঙ্গাইল শহর থেকে চরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের প্রধান রাস্তার চারাবাড়ি এলাকায় দ্বিতীয় বারের মতো ভাঙ্গনের কবলে পরেছে। টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কের চারাবাড়ী ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার অর্ধেকের বেশি ধসে পড়েছে। এতে গত তিন দিন যাবৎ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে শহরের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদ নগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষ চলাচল করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে নদীতে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন এবং সেই বালু নেওয়ার জন্য নদীর পার দিয়েই ট্রাক আসা যাওয়ার কারণে ওই স্থানটি বার বার ধসে পড়ছে। তাই অবৈধ ড্রেজার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে রাস্তা সচল করার জন্য এলজিইডির পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্ষার শুরু থেকে ব্রিজের ৫০০ গজ দক্ষিণে কয়েকটি অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা হয়। সেই বালু নেওয়ার জন্য ট্রাক ব্রিজের পশ্চিম পাশের লিংক রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়ার সময় ভাঙনের স্থানে প্রচুর চাপ পড়ে।

ফলে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ওই রাস্তার মাটি ধসে গিয়ে টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অবৈধ ড্রেজিং এর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা ধসে যাওয়ার ফলে ব্রিজের উপর দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা উভয় পাড়ে যানবাহন পার্কিং করে রেখেছেন।

অটোরিকশাচালক আব্দুল মজিদ জানান, তিন দিন ধরে রাস্তাটি ধসে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও ব্রিজের নিচের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। যেকোনো সময় ব্রিজটিই ভেঙে যেতে পারে। এখন ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার তা না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কাতুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নায়েব আলী জানান, নদী থেকে অবৈধ ড্রেজিং এবং ভারি ট্রাক চলাচল করায় একই স্থানে বার বার ধসে যাচ্ছে। তাই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধের দাবি জানান তারা।

কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল আলী জানান, ট্রাক মোড় নেওয়ার সময় অধিক চাপে বার বার রাস্তাটি ধসে পড়ছে। ফলে পশ্চিম টাঙ্গাইলের মানুষ খুব কষ্টে শহরে যাতায়াত করছে। অবৈধ ড্রেজিং এর বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও অবৈধ ড্রেজার বন্ধ হয়নি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনছারী জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক হাজার জিও ব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা শেষ হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম আজম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-