রাস্তায় যান চলাচল বন্ধে কালিহাতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যমুনা পার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি কাটাতে উত্তরবঙ্গগামি শত শত লোককে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যমুনা নদী পারি দিতে দেখা গেছে।

বিগত ১৭ এপ্রিল যমুনা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় পরের দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়ার চর এলাকায় আলিফা (২২) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। করোনার ঝুঁকি এড়াতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উপায়ে যমুনা সেতু পর্যন্ত এসে পুলিশী বাধাঁর সম্মুখীন হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় নদী পার হতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সরেজমিনে কালীহাতী উপজেলার যমুনা নদীর গড়িলাবাড়ি ঘাটে ও নিউ ধলেশ্বরী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্বপরিবারে ছোট ছোট শিশু, নারী-পুরুষ মোটর সাইকেল সহ করোনা, মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও সুপার সাইক্লোন আম্পানের সতর্কতার কোন তোয়াক্কা না করে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া অনুমোদিত ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী পরিবহন করছে স্থানীয় নৌযান চালকরা।

আবার এসকল চালকরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে এ অনুমোদিত যাত্রী পরিবহন করছে বলে জানান।

শিশু বাচ্চা সহ বি.বাড়িয়া থেকে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় যাচ্ছেন রোকসানা আক্তার নামের এক নারী। বাচ্চাসহ জীবনের নানা রকম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় কেন পার হচ্ছেন (?) জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঈদেও ছুটিতে কর্মস্থলে থাকাটা অসহায়ের মতো লাগবে চিন্তা করে অনেক কষ্টে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এ পর্যন্ত আসলে পুলিশ যাত্রীসহ আমাদের গাড়িকে সেতু পার হতে বাধাঁ প্রয়োগ করে। তাই বিকল্প এ ব্যবস্থায় ঝুঁকি নিইে পার হতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌকা চালক জানান, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বেকার থাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার করোনার ঝুঁকি কমাতে বহিরাগত লোকদের দ্রুত নৌকাযোগে পার করে দিতে বলেছেন। এতে আমাদেরও কিছু আয় হলো।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি কাজী আয়ুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না, অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(হেলাল, ঘাটাইল ডট কম)/-