রানা প্লাজার মানবিক বিপর্যয়ের পঞ্চম বছর

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে ‘রানাপ্লাজা’ নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন নিহত ও দুই হাজারেরও বেশি জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৯১টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়, অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হতাহতদের প্রায় সবাই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। এ দুর্ঘটনাটি বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ইতিহাসে এক ভয়াবহ দিন। আজ এই মানবিক বিপর্যয়ের পঞ্চম বার্ষিকী।

সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এই মানবিক বিপর্যয়ে কয়েকদিন ধরে উদ্ধারকাজ চালায়।

রানাপ্লাজা নামক নয়তলা ভবনের নিচ তলায় বিভিন্ন দোকান, দ্বিতীয় তলায় ব্যাংক ছিল। তৃতীয় তলায় ছিল নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড নামের কারখানা। চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ছিল নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড ও ফ্যানটম ট্যাক লিমিটেড। আর ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ইথারটেক্স লিমিটেড গার্মেন্টস। সবগুলো আস্তে আস্তে দেবে যায়। ২৮শে এপ্রিল ভবন মালিক সোহেল রানাকে বেনাপোল সীমান্ত থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় র‍্যাব গ্রেপ্তার করে এবং তিনি এখনও বিচারাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনা কবলিত রানাপ্লাজার জমি বর্তমানে সরকার দখলে রেখেছে। সেখানে এখন জংলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর নিহতদের স্বজনরা আসেন প্রিয়জনের স্মৃতিচারণায়। নিহত-আহতদের স্বজনরা এখনও দাবি, তাদের ক্ষতিপূরণ দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হোক। কাউকেই এখনও প্রতিশ্রুত অর্থের পুরোটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দাতব্য সংস্থা অ্যাকশন এইউ এবং সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আহত শ্রমিকদের ৪৮ দশমিক সাত শতাংশ এখনও কোনো কাজ করতে পারছেন না। ২৬ শতাংশ জীবিকার জন্য কোনো পরিকল্পনা করতে পারছেন না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইচ্ছেমতো কিছু থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঠিকমতো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। অনেকেই এখনো কাজ পাননি। অনেকে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের সঠিকভাবে কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

২০০৭ সালে রানা প্লাজা নির্মাণ করার আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত ডোবা। ভবন নির্মাণ করার আগে বালু ফেলে এটি ভরাট করা হয়। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর প্রধান আলী আহমেদ খান (তৎকালীন), জানান যে ভবনের উপরের চার তলা অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল.কম)/-