রাণীনগরে জালিয়াতির মাধ্যমে রেমিটেন্স যোদ্ধা নারীর সংসার ভাঙ্গার অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগরে রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসী নারীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এক কথিত ভুয়া কাজীর বিরুদ্ধে স্বামী তালাকের এফিডেভিট তৈরি ও তালাকের নোটিশ দিয়ে সাজানো ঘড়-সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বেশ কিছুদিন পর স্বামী তালাকের বিষয়টি প্রকাশ পেলে দায়ভার এড়াতে চতুর কাজী গত ৯ আগষ্ট ওই তালাক ভুয়া ও জাল বলে রাহিমার মায়ের নিকট নাটকীয় ভাবে সিল-স্বাক্ষর যুক্ত প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার কাচারী বেলঘড়িয়া গ্রামের দিনমজুর আজিজুল কাজীর মেয়ে মোছা: রাহিমা বিবির সাথে প্রায় ১৪ বছর আগে একই এলাকার রঞ্জনিয়া (পূর্বে কাশিমপুর গ্রাম) গ্রামের মোঃ আব্দুল জব্বার মন্ডলের ছেলে মোঃ মোতালেব মন্ডলের বিয়ে হয়। তাদের ঘড়ে ঘড়ে ৯ বছরের এক ছেলে সন্তান আছে।

সংসারের অভাব অনাটন থেকে মুক্তির আশায় রাহিমা বিবি প্রায় ৬ বছর আগে বিদেশ (জর্ডান) পাড়ি জমান । তারপর থেকে সংসার ভালোই চলছিলো।

রহিমার পাঠানো অর্থ দিয়ে স্বামী মোতালেব জমিজমা কেনাসহ সংসারের ঋণগুলো পরিশোধ করেন।

এদিকে কথিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) পরিচয় দানকারী কাজী বেলাল হোসেন প্রবাসী রাহিমা বিবির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গত বছরের ১৯ এপ্রিল নওগাঁ নোটারি পাবলিক কার্যালয় থেকে স্বামী তালাকের জন্য এফিডেভিট সৃষ্টি করে।

পরে একইদিন মুসলিম পারিবারিক আইনের ৭(১) ধারা মোতাবেক স্বামী তালাকের নোটিশ স্বামী মোতালেবকে ও এক কপি রাহিমার বাবার বাড়ী দিয়ে আসে।

রাহিমার মা আফরোজা বিবি বলেন, রাহিমা আমাকে বলেছে সে স্বামী তালাক দেয়নি। কাজীর কারণেই জামাই আরেকটি বিয়ে করেছে। মেয়ের সংসার ভেঙ্গে গেছে। কাজীসহ জড়িত অন্যদের কঠোর শাস্তি চাই।

ইতিমধ্যে জমিজমা ভাগাভাগির জন্য থানায় একটি অভিযোগ করেছি। স্বামী তালাকের খবর পেয়ে মেয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছে। ফিরলেই পরামর্শ আরো আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

রাহিমার সাবেক স্বামী ভটভটি চালক মোতালেব হোসেন বলেন, রাহিমার সঙ্গে আমার একটু মনমালিন্য চলছিলো। কিছুদিন পর আমার পাশের বাড়িতে বেলাল কাজী নিজে তালাকের কাগজপত্র দিয়ে যায়।

রাহিমা স্বামী তালাক করার পর কাজীর পরামর্শে নতুন সংসারের জন্য ৩ মাস পর আবার বিয়ে করেছি।

কথিত কাজী পরিচয়ধারী মো: বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

তালাকের নোটিশ ফরম ও প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর ও সিল দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি।

রাণীনগর উপজেলার মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রার কাজী সমিতির সভাপতি এটিএম রেজাউল করিম বলেন, কেউ বিদেশে অবস্থান করে তালাক দেওয়ার সরকারি কোন বৈধতা নেই। আমাদের কাছে থাকা সরকারি বইয়েও মোঃ বেলাল হোসেন নামে তালিকভূক্ত কোন কাজীর নাম নেই। এই লোকের ফাঁদে পড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে সংসার সর্বশান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ ও পরিবার।

নওগাঁ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক হয় না। বাংলাদেশ সরকার বিদেশে অবস্থান করে তালাক দেওয়ার কোন বৈধতা দেয়নি। যদি কেউ বিদেশে অবস্থান করে তালাক দেয় তাহলে সেটা সম্পন্ন ভুয়া ও মিথ্যে। এই সব ভুয়া কাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।

উল্লেখ্য যে, বাল্যবিবাহ ও দেনমোহর জালিয়াতির ঘটনায় গত বছর একটি মামলার তদন্ত শেষে নওগাঁ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরির্দশক শফিকুল ইসলাম এই ভূয়া কাজীর বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন (মামলা নং সি.আর মামলা নং-০১/১৯ (রাণীনগর), ধারা- ৪৬৪/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড)।

(রাজেকুল ইসলাম, রাণীনগর, নওগাঁ/ ঘাটাইল ডট কম)/-