যে লেখাটায় আত্মতৃপ্তি পাবো সেটি এখনো লেখা হয়নি: কবি আবদুল হালীম খাঁ

১৯শ ৮৪ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ও জীবন ও সুখ’ প্রকাশিত হয়। সে গ্রন্থে সাহসী উচ্চারণ শুনা যায় যে কবি কণ্ঠে সে কবি আবদুল হালীম খাঁ। কবি রাগিব হোসেন চৌধুরীর লেখা সে গ্রন্থের ভূমিকা পড়লে বুঝা যায় যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই প্রবেশ করেছেন বাংলা কবিতার জগতে আবদুল হালীম খাঁ। তাঁকে বুঝতে হলে তাঁর কবিতা পাঠ করতে হবে। তাঁর কবিতায় সামাজিক চিন্তা পাঠককে নাড়া দেয়। মূলত সু-শাসন প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় হিসেবে যত কিছু তাঁর সামনে আসে, তিনি যুক্তির ধারালো চাবুকের তীব্র আঘাতে তা হটিয়ে দেন। গল্ল, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের অন্য শাখাতেও কলম ধরেছেন। কবিতায় তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল স্বাক্ষর। তাই কবি হিসেবে পাঠক মহলে বেশি পরিচিত। তাঁর খ্যাতির শিখা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যদেশেও বিকিরণ করেছে। ভারতের পশ্চিম বঙ্গেও তাঁর লেখার পাঠক আছে।

গ্রামে বসবাস করার কারণে জাতীয় ভাবে অনুষ্ঠিত সব সাহিত্য আড্ডা- আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কে আবদুল হালীম খাঁর সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে না। আবার ইচ্ছে করেও অনেকে দূরে রাখতে চায় এই মহীরূহ কে। অনেক গৌণ লেখককে খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রচার করা হয় এদেশে। অথচ নানা কৌশলে আবদুল হালীম খাঁ কে সাহিত্য অঙ্গণে অনালোচিত রাখা হয়। কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় কোন পতিভা কে, কোন মনীষীকে কোন সত্য দ্রষ্টাকে সাময়িক সময়ের জন্য আড়াল করে রাখা যায় হয়তো, কিন্তু তাকে বিস্মৃতির অতলে ডুবিয়ে দেওয়া যায় না।

আবদুল হালীম খাঁর জন্ম ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ জুলাই বুধবার টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার বামনহাটা গ্রামে। পিতা মুহাম্মদ বাহাদুর আলী খাঁ, মাতা মরিয়ম বেগম। বিএ বিএড ডিগ্রী অর্জন করে ধীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে এখন অবসর নিয়েছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন।

গত ১২ জুলাই তাঁর নিজ বাসভবনে নেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় এবং ব্যাক্তিগত অনেক কথা উঠে আসে।

স্বাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন বকুল। গত ১৭ জুলাই ছিল কবির ৭৫ তম জন্ম বার্ষিকী। জন্ম বার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে সাক্ষাৎকারটি পত্রস্থ করা হলো-

প্রশ্ন: সাহিত্য জীবনের প্রথম দিকে কোন কোন লেখক আপনার আদর্শ ছিলেন ? কারা প্রভাবিত করেছেন আপনার সাহিত্য জীবনকে?
উত্তর: আমার সাহিত্য জীবনে কোন ব্যাক্তির সরাসরি প্রেরণা নেই। তবে নজরুল, গোলাম মোস্তফা, ইব্রাহীম খাঁ সহ অনেক লেখক পরক্ষ ভাবে প্রেরণা জুগিয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র থাকা কালীন গোলাম মোস্তফার লেখা মোদের বাংলাদেশ কবিতা পড়ে আমার ইচ্ছে জাগে কবিতা লেখার। আমার প্রথম লেখা কবিতা ‘বর্ষার আনন্দ’ টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত হিতকর পত্রিকায় ছাপা হয়।

প্রশ্ন: আপনার পূর্ববর্তী বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য বিস্তার করেছেন টাঙ্গাইলে এমন অনেকেই ছিলেন। আপনার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল ?
উত্তর: টাঙ্গইলের অগ্রজ কবিদের সাথে আমার মধুর সম্পর্ক ছিল। যাদের ¯েœহ আমাকে লেখায় অনুপ্রাণীত করেছে। এদের মধ্যে ইব্রাহীম খাঁ, আশরাফ সিদ্দিকি, মুফাখখারুল ইসলাম ও সৈয়দ আসাদুজ্জামান সিরাজীর কবিতা আমাকে লেখক বানাতে বেশি টানত।

প্রশ্ন: আপনার কোন লেখা বোর্ড বইয়ে স্থান পেয়েছে ?
উত্তর: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘আমার বড়ই ইচ্ছে করে’ শিরোনামে একটি কবিতা স্থান পেয়েছে। যেটি আগে উক্ত বোর্ডের তৃতীয় শ্রেণিতে পাঠ্য ছিল। এছাড়া ইক্রা নূরানী তালিমুল কোরআন বোর্ডের দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য ‘সবার জন্য ঈদ’ কবিতাটি পাঠ্যভুক্ত রয়েছে। আগামীতে এ শিক্ষা বোর্ডের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি শ্রেণিতে আমার লেখা পাঠ্য ভূক্ত করার কথা রয়েছে। পাকিস্তান আমলেও বিএনআর আমার দু’টি পান্ডুলিপি মনোনিত করেছিল।

প্রশ্ন: আপনার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। নজরুলের কোন বিষয় গুলো আপনাকে বেশি প্রাণিত করে ?
উত্তর: আমি নজরুলের প্রচুর লেখা পড়েছি। আমি তাঁকে অনেক বড় সাধক মনে করি। অসাধারণ ছন্দ, মিল, উপমা তাঁর কবিতায়। তাঁর গানও আমার হৃদয়ে নাড়া দেয়। বাংলা সাহিত্যের জন্য রবিন্দ্রনাথও অপরিহার্য। রবিন্দ্রনাথের লেখা পড়তে এবং তাঁকে ভালোবাসতে আমার কোন আপত্তি নেই।

প্রশ্ন: আপনার জ্ঞান চর্চার এলাকা নিজ গ্রাম, আপনার কর্মরত শিক্ষা অঙ্গণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কয়েকটি স্বল্পায়ু সাহিত্য সংগঠন। আপনার ভক্তরা অনেকে মনে করেন আধুনিক চিন্তা, দর্শন চর্চার জন্য রাজধানী ঢাকাতে আপনার অবস্থান করা উচিত ছিল। গবেষণা কর্ম ও লেখা লেখির প্রচুর সুযোগ পেলে অনেক বড় লেখক হিসেবে পরিচিতি পেতেন। তাঁদের এ ধারণা সত্যি কি ?
উত্তর: ঢাকায় অবস্তান করলেই বুদ্ধি চর্চা বেশি হতো এটা আমি মনে করি না। তবে হা অনেক বড় বড় প-িতদের সাথে গুণীদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ হতো। বড় লেখক হতে হলে সৃষ্টিশীল প্রতিভা নিয়ে এগুতে হয়। জ্ঞানের পথ আবিষ্কার হয় পড়ার মাধ্যমে। জ্ঞান পক্ক হলে প্রজ্ঞা হয়। নিজেকে সে ভাবে তৈরি করতে পারলে আমার ছোট গ্রামটিও হতে পারতো মননের পৃথিবী।

প্রশ্ন: ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘ও জীবন ও সুখ’ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় পার করেছেন। কবিতা সম্পর্কে নতুন করে কি ভাবছেন এখন ?
উত্তর: আগের কবিরাতো ছন্দের কবিতা লেখেছেন, এখন গদ্য কবিতা বা আধুনিক কবিতা। এ আধুনিক সারা জীবন থাকবেনা। তাই এর একটা পরিবর্তন আসা প্রয়োজন। কারন কবিতা এখন গতানুগতিক হয়ে গেছে।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা, গল্প, উপন্যাস লিখেছেন কি ?
উত্তর: ‘মুক্তিযোদ্ধার ছেলে’, ‘মুক্তিযোদ্ধার বোন’, শিরোনামে কবিতা ছাড়াও আমার অনেক লেখায় পরক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছি।

প্রশ্ন: দু’বাংলাতেই আপনার লেখার পাঠক আছে। গ্রামে বাস করে এটা কিভাবে সম্ভব হলো ?
উত্তর: ১৯৭০ সালে মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক মিলে আমি ২১টি পত্রিকার গ্রাহক হই। পত্রিকা গুলো পরবর্র্তী সময়ে আমার লেখার উজ্জ্বল ফসল হয়ে ওঠে। সেসব পত্রিকা থেকে পশ্চিম বঙ্গে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার ঠিকানা সংগ্রহ করে লেখা পাঠাতে শুরু করি। এভাবে পশ্চিম বঙ্গের সাহিত্যের সাথে আমার সেতু বন্ধন তৈরী হয়।

প্রশ্ন: এক শ্রেণির লেখক তাদের লেখায় নারীদের চরিত্র হনন করে থাকে। যারা নারী অধিকার নিয়েও গলা ফাটায়। নারীর প্রতি এটা তাদের কেমন পক্ষপাত ?
উত্তর: নারী ছাড়া তো জগৎ শুন্য- জীবন অপরিপূর্ণ। লেখকরাতো নারীর ভেতর দিয়ে প্রকৃতিকে দেখে এবং বর্ণনাও করে। অনেক জায়গাতে নারীদের প্রেরণা দাত্রী হিসেবে খুঁজে পাবে। নারী অধিকারের নামে যে লেখকরা নারীর চরিত্র হনন করে আমি তাদের ঘৃণা করি। ‘নারী নির্যাতন দেশে দেশে’ নামে আমার একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার জীবনের পুরো সময়টা শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা বলবেন কি ?
উত্তর: ছাত্র জীবন থেকেই পড়ালেখা শুরু করেছি। কিন্তু লেখক হিসেবে যখন পরিচিতি পেতে শুরু করলাম তখন মনে হলো আরো বেশি পড়া প্রয়োজন। বসে গেলাম লেখাপড়া শিখতে। শিক্ষকতা করেছি, শিক্ষার্থীদের শিখাতে পারিনি। সু-নাগরিক তৈরির জন্য যে বিষয়গুলো প্রয়োজন পাঠ্য সূচিতে সে বিষয়গুলো সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘ লেখক জীবন পাড়ি দিয়েছেন। অভিজ্ঞতা কেমন ?
উত্তর: অভিজ্ঞতার সীমা রেখা নেই। তবে লেখক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সাহিত্য কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরায় না। পূর্ণতা সবাই পাবে না, তবে শুন্যতা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো লিখতে হলে পড়তে হবে।

প্রশ্ন: কতিপয় লেখক আপনাকে সচেতন ভাবে এড়িয়ে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এর কারন কী ?
উত্তর: স্পষ্টবাদিতা, সত্য উচ্চারণ, অকপট প্রকাশ, অনেকের জন্য বিব্রতকর। যাদের এই দেশের প্রতি, এই মাটির প্রতি ভালোবাসা নেই। যারা স্বদেশি সাহিত্য এদেশের মানুষের চিন্তা চেতনা থেকে মুছে দিতে চায়। ভীনদেশি সাহিত্য আমদানি করতে চায়। তারা আমাকে পতিপক্ষ ভাবতে পারে। তবে এটা আমার জানা নেই যে, কেউ আমাকে ইচ্ছে করে এড়িয়ে যায়।

প্রশ্ন: আপনার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম বলবেন কি ?
উত্তর: আমার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলো হচ্ছে, কবিতা: ও জীবন ও সুখ, দাড়াও বাংলাদেশ, বুকের ভেতর প্রতিদিন, বায়তুশ শরফের চাঁদ, আলোর পথে, প্রতিদিন আমার পৃথিবী ও আমি একটা যুদ্ধ চাই। উপন্যাস: শাহ জালালের জায়নামাজ, খেদাও, স্বপ্ন দিয়ে গড়া, দোলন, কাশমীরের পথে প্রান্তরে ও মোল্লা ওমরের দেশে। কিশোর উপন্যাস: কালো ছেলের অবাক কা-, দোয়েল পাখির বিশ^ ভ্রমণ, পাতাল পুরের রাজকন্যা ও চাষির ছেলে রুমান ও নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন। গল্প: রিয়াদের মা, জীবনী গ্রন্থ: আলকোরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক মৌলবী নঈম উদ্দীন, ছোটদের ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ, জনমানুষের বন্ধু প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, হৃদয়ে যাদের সত্যের আলো, কবি মাসুদা সুরতানা রুমী একটি নাম একটি প্রতিশ্রুতি ও হয়রত আলীর প্রজ্ঞা ও বীরত্ব। প্রবন্ধ: বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার, ভুইয়াপুর নামের ইতিহাস, মোশারফ হোসেন খানের কবিতা, আদর্শ ও ঐতিহ্য চেতনায় কবি মুফাখ্খারুল ইসলাম, কবি মাসুদা সুলতানা রুমী ও তাঁর কবিতা, কবি মুজাম্মেল হক ও তাঁর কবিতা, দিনের দাওয়াত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিনাম, কবি মাসুদা সুলতানা রুমী যে ভাবে আলোর পথে এলেন, আধুনিক বিশে^র একশত নও মুসলিম কিভাবে মুসলমান হলেন, মধ্যযুগ অন্ধকার যুগ নয় আলোকিত যুগ, নাটক: মাজার শরিফ ও আমি একজন চেয়ারম্যান দেখতে চাই।

প্রশ্ন: তরুন লেখকদের উৎসাহ দিতে আপনার অবদান কতটুকু ?
উত্তর: তরুন লেখকদের উৎসাহ দিতে স্থানীয় ভাবে আমি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও সংকলন প্রকাশ করেছি। উল্লেখ যোগ্য সাহিত্য সংগঠন হলো রেনেসা সাহিত্য পরিষদ ও প্রত্যাশা সাহিত্য পরিষদ। এছাড়া মাসিক রেনেসা, মাসিক প্রতিভা, মাসিক বাতায়ণ নামে সংকলন ও পাক্ষিক ভুইয়াপুর বার্তা পত্রিকা প্রকাশ করেছি। যার মাধ্যমে অনেকেই সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেছেন।

প্রশ্ন: বড় কোন প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠ পোষকতা না পেলে লেখার মূল্যায়ণ হয় না। আপনি কি মনে করেন ?
উত্তর: আমারও তাই মনে হয়। তবে পৃষ্ঠপোষকতা তো এমনি এমনি হয় না। যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয় লেখককে।

প্রশ্ন: একজন মহৎ কবির জন্মের জন্য মহৎ পাঠক মন্ডলী দরকার। হুইটম্যানের এ ভাবনার সঙ্গে আপনি কতটা একমত ?
উত্তর: শুধু হুইটম্যান নন এ মত আরো অনেকেরই। এ মতের সাথে আমার একটু ভিন্ন মত আছে। পাঠকরা কাউকে লেখক বানানোর জন্য বসে থাকে না। পাঠক তৈরির জন্য ভালো লেখা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: পাঠক হিসেবে আপনার নিজের লেখার মূল্যায়ন কিভাবে করবেন ?
উত্তর: স্বার্থক লেখা একটাও এখনো লিখতে পারিনি। তবে আমি যে সকল কবি সাহিত্যিকের লেখা পড়ি তাদের চেয়ে আমার লেখা খুব বেশি খারাপ নয়।

প্রশ্ন: খুব আত্মতৃপ্তি পেয়েছেন এমন একটি লেখার নাম বলবেন কি ?
উত্তর: যদি কোন লেখক মনে করে তাঁর লেখা খুব সুন্দর তাহলে সে আর এগুতে পারবে না। তোমার প্রশ্নের উত্তরে বলবো, যে লেখাটায় আত্মতৃপ্তি পাবো সে লেখাটা এখনো লেখা হয় নি। তবে আলিফ স্যার নামে একটি গল্প পাঠক হৃদয়ে নাড়া দিয়ে ছিল।

প্রশ্ন: নতুন করে জীবন সাজানোর সুযোগ পেলে কি পরিকল্পনা নিয়ে এগুতেন ?
উত্তর: অনেক দিন যাবৎ লিখছি। সেই লেখার মান যেমনই হোক। এর মধ্যে অনেক লেখা আছে খুবই দুর্বল। সুযোগ পেলে সেগুলো ছেঁটে ছুঁটে মানুষ করতাম। আর কাব্য সাহিত্যের একটা বিল্পব ঘটিয়ে ছাড়তাম।

প্রশ্ন: কখনো কি আপনার এমন কোন ভাবনা আসে যা লিখতে ভয় পান ?
উত্তর: অনেক সময়ই তো আমি যা লিখতে চাই তা লিখতে পারি না। ভয় হয় মানবতার জয় গান করতে গিয়ে আবার যেন মানবতার ক্ষতি না হয়। এছাড়া আর কোন ভয় নেই।

প্রশ্ন: আপনি কখন লেখালেখি করে থাকেন ?
উত্তর: লেখার সুনিদিষ্ট কোন সময় নেই। যখন ভাব উদয় হয় তখনি লিখি। কখনো কখনো রাতে ঘুম থেকে জেগেও লিখি। তবে সকল লেখার উপাদান পাই জাগরণ ও কাল ঘুমের মাঝে, যা দিয়েই চলে লেখালেখি। আর সব সময় তো হৃদয় ক্যাম্পাসে দেখি- কি সুন্দর সব কিছু, আশপাশ- সব মানুষ চেনা-অচেনা, কাছের দূরের, সব পশু-পাখি, পোকা-মাকড়, গাছ-গাছালি, শস্য ক্ষেত, খাল-বিল, নদী-নালা, ধর্ম-অধর্ম, পাপ-তাপ, শত্রু-মিত্র, বন্ধু-বান্ধব, স্বজন-পরিজন অর্থাৎ গোটা ভূমন্ডলের সব কিছুই।

প্রশ্ন: লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ কোন পুরষ্কার বা সম্মাননা পেয়েছেন কি ?
উত্তর: বড় কোন সম্মাননা বা পুরষ্কার পাইনি। তাতে কোন মনোকষ্ট নেই। তবে ১৯৯১ সালে টাঙ্গাইল মুকুট সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক লাল গোলাপ সংবর্ধনা, ১৯৯২ সালে পাবনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সংবর্ধনা ও কাব্য বিশারদ খেতাব লাভ, ১৯৯৩ সালে প্রতিবাদ বহুমূখী শিল্পী সংসদ কর্তৃক লাল গোলাপ সংবর্ধনা ও ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম বাইতুশ শরফ কর্তৃক সংবর্ধনা ও পুরষ্কার ও সুইজারল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মুজাহিদ পত্রিকা কর্তৃক মুজাহিদ উপাধি ও গোল্ডমেডেল পেয়েছি।

(ঘাটাইলডটকম)/-