মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গোপালপুরের তাজউদ্দিনকে ফেরত আনার চেষ্টা

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে থাকা মাওলানা তাজউদ্দিনকে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

এ তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হন।

পরবর্তীতে মামলা হলে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের মধ্যে একজন হলো মাওলানা তাজউদ্দিন। বর্তমানে সে দক্ষিণ আফ্রিকায় পলাতক রয়েছে।

আদালতের রায় বাস্তবায়ন করার জন্য তাজউদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এজন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তিও করা হয়েছে। গত অক্টোবরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বাংলাদেশের কেবিনেট অনুসমর্থন দিলেও দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এখনও এ কাজটি করেনি।

এ কারণে মাওলানা তাজউদ্দিনকে ফেরত আনার বিষয়টি আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চুক্তিটির অনুসমর্থন দিয়েছি। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও সেটি করেনি। তবে আমাকে জানানো হয়েছে তারা দ্রুতই এটি করে ফেলবে।’

মাওলানা তাজউদ্দিনকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে গতি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যুদণ্ড নেই এবং সে কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাদের অনীহা আছে এবং এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

কে এই তাজউদ্দিন

এই গ্রেনেড হামলা মামলার আরেক আসামি ও তাজউদ্দিনের বড় ভাই তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোটের উপমন্ত্রী বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনিও দীর্ঘদিন এই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই বিএনপি নেতা।

বলা হয়, গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাও হয় ধানমন্ডিতে পিন্টুর সরকারি বাসায়। আর এতে মূল ভূমিকা পালন করে তারই ছোট ভাই তাজউদ্দিন।

তাদের আরেক ভাই বাবু ওরফে রাতুল বাবুও গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি।

তাদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার গুলিপেচা গ্রামে।

এ হামলা পুরোপুরি সফল না হওয়ায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে আলোচনা করে ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স-ডিজিএফআই’র তৎকালীন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার ২০০৬ সালে মাওলানা তাজউদ্দিনকে পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আরেক আসামি তাজউদ্দিনের আরেক ভাই রাতুল বাবুও আফ্রিকায় অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাওলানা তাজউদ্দিনের অবস্থান

‘দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া সহজ’, জানিয়ে রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এর সুযোগ নিয়ে তাজউদ্দিন এখানে আবেদন করেছে। ২০০৮ সাল থেকে এখানে এশিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা বেড়ে যায়।’

এরপর তাজউদ্দিন এখানে আবেদন করে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মাওলানা তাজউদ্দিন এখানে পাসপোর্ট পেয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। তবে সে এই দেশে অবস্থান করছে।’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বর্বরোচিত ও ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ মামলায় গতি আসে। নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মামলার রায় হয়। আদালত এ মামলায় ৪৯ জন আসামির মধ্যে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপর ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল আবেদন উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-