‘মুত্রত্যাগের আদব ও শিষ্টাচার, দাড়িয়ে প্রস্রাবের ক্ষতিকর দিক’

বেশিরভাগ পুরুষ হয়ত ভাবনাচিন্তা না করেই মূত্রত্যাগের কাজটি সেরে ফেলেন, কিন্তু তারা কিভাবে প্রস্রাব করেন তা কিসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়? বহু সংস্কৃতিতে বাচ্চাদের শেখানো হয় ছেলেরা দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগ করবে আর মেয়েরা বসে। কিন্তু বহুল প্রচলিত এবং আপাতদৃষ্টিতে নির্বিচার জলবিয়োগের এই ধরণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষের প্রস্রাব করার ধরণ পরিবর্তনের পেছনে সুস্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে কারণ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়, তবে কারো কাছে আবার এটি সমান অধিকারের প্রশ্নও বটে। কিন্তু তাহলে পুরুষের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়টা কী?

কম সময়ে কর্ম-সম্পাদন

বেশিরভাগ পুরুষের জন্য জলবিয়োগের কাজটি দাঁড়িয়ে করাই সবচেয়ে সহজ। ছেলেদের পাবলিক টয়লেটের সামনে দাঁড়ালেই আপনি বুঝতে পারবেন কাজটি সারতে আসলেই কত কম সময় লাগে এবং তা বাস্তবসম্মতও। দেখবেন কোন লম্বা লাইন নেই। ছেলেরা যেন টয়লেটে ঢোকে আর মূহুর্তের মধ্যেই বেরিয়ে আসে। মূলত দুইটি কারণে এটা ঘটে:

১. পুরুষেরা দ্রুত প্রস্রাব করতে পারে, কারণ তাদের কয়েক স্তরের কাপড় সরাতে হয় না, আর

২. যেহেতু ইউরিনাল অর্থাৎ পুরুষদের মূত্রত্যাগের কমোডের জন্য কম জায়গা প্রয়োজন হয়, সে কারণে এক জায়গায় বেশি সংখ্যক ইউরিনাল বসানো যায় এবং বেশি পুরুষ এক সঙ্গে কাজটি সমাধা করতে পারেন।

কিন্তু বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইট বলছে, মূত্রত্যাগের সময় শরীরের পজিশনের কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

মূত্রত্যাগের শারীরিক প্রক্রিয়া

দেখা যাক মানুষ কিভাবে প্রস্রাব করে, মানুষের কিডনিতে উৎপাদন হয় প্রস্রাব, যা আমাদের রক্ত থেকে বর্জ্যকে সরিয়ে দেয়। এরপর সেটি আমাদের ব্লাডারে সংরক্ষিত হয়, যার ফলে যখন-তখন টয়লেটে যাবার বেগ ছাড়াই আমরা দৈনন্দিন কাজকর্ম যথাযথভাবে সমাধা করতে এবং রাতে ঘুমাতে পারি। যদিও ব্লাডারের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার পর্যন্ত হয়, কিন্তু সাধারণত দুই-তৃতীয়াংশ ভর্তি হলেই মানুষ প্রস্রাবের বেগ অনুভব করে।

আর ব্লাডার পুরোপুরি খালি করতে হলে, একজন মানুষের নার্ভাস কন্ট্রোল সিস্টেম হতে হবে একেবারে যথার্থ, অর্থাৎ যা শরীরকে সংকেত দেবে কখন টয়লেটে যেতে হবে, কিংবা যদি তখন তখনি টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকে প্রস্রাব আটকে রাখতে পারবে।

এরপর অবস্থা যখন সুবিধাজনক হবে, তখন মানুষের পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশিসমূহ এবং ব্লাডারের স্ফিংটার মানে টিউবের চারপাশ ঘিরে যে গোলাকৃতি মাংসপেশি থাকে, যাকে মূত্রনালি বলা হয়, তা শিথিল হয়। ব্লাডার তখন সংকুচিত হয় এবং জমা হওয়া তরল মূত্রনালিতে পাঠিয়ে দেয়, এবং এরপরই প্রস্রাব করে একজন মানুষ।

বসে না দাঁড়িয়ে?

একজন সুস্থ মানুষের মূত্রত্যাগে অসুবিধা হবার কথা নয়। কিন্তু হতে পারে একজন পুরুষের হয়ত কোন কারণে প্রস্রাব করতে সাময়িক অথবা স্থায়ী সমস্যা থাকতে পারে। বিজ্ঞান সাময়িকী প্লোস ওয়ানের এক জরিপ অনুযায়ী, যেসব পুরুষের প্রোস্টেটে জ্বালাপোড়ার সমস্যা থাকার কারণে জলবিয়োগে সমস্যা হয়, বসে মূত্রত্যাগ করলে তাদের সুবিধা হবে। এই গবেষণায় সুস্থ পুরুষ এবং প্রোস্টেটে সমস্যা আছে তাদের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, যেসব পুরুষের প্রোস্টেটে সমস্যা মানে লোয়ার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সিম্পটম রয়েছে, তাদের জন্য বসে মূত্রত্যাগ করলে মূত্রনালিতে চাপ কম পড়ে, এবং এর ফলে জল বিয়োগের কাজটি আরামদায়ক এবং দ্রুত সমাধা সম্ভব। কিন্তু স্বাস্থ্যবান পুরুষদের জন্য বসে বা দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগে বিশেষ কোন পার্থক্য দেখা যায়নি।

যাদের মূত্রত্যাগে সমস্যা রয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, তাদের উচিত আরামদায়ক এবং শান্ত পরিবেশে বসে প্রস্রাব করা। হয়ত ইতিমধ্যেই আপনারা শুনেছেন যে বসে মূত্রত্যাগ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার ঠেকানো সম্ভব এবং এর ফলে পুরুষের যৌন জীবন আরো ভালো করতে পারে। তবে এর স্বপক্ষে ঐ গবেষণায় কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সবার জন্য এক টয়লেট কি স্বাস্থ্যকর?

যতদূর জানা যায়, ২০১২ সালে সুইডেনের একটি ঘটনা থেকে এ আলোচনার সূত্রপাত, যখন সেখানকার একজন স্থানীয় রাজনীতিবিদ তার শহরের পাবলিক টয়লেটের অবস্থা দেখে বিরক্ত হয়ে তিনি এর সমাধান খোঁজার ঘোষণা দেন। হাইজিনের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি ঘোষণা দেন যে তিনি চান টয়লেটে গিয়ে মানুষকে সন্দেহজনক ঘোলাটে জলীয় পদার্থের মুখোমুখি হতে হবে না। সেই বিতর্ক পরে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে বিশেষ করে জার্মানিতেও ছড়িয়ে পড়ে। জার্মানিতে পাবলিক টয়লেটে সাধারণ কমোডে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিষেধ।

কোন কোন টয়লেটে এমনকি ট্রাফিক লাইটের মত লাল সংকেত দিয়ে ‘দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিষেধ’ সে বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু আবার যারা বসে মূত্রত্যাগ করেন তাদেরকে ‘সিটজস্পিঙ্কলার’ বলা হয়, এর মানে ওই কাজটি ঠিক পুরুষালী নয়। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে বেসরকারিভাবে পরিচালিত আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও, সেখানে কখনোসখনো টয়লেটের পাশে রাখা সাইনপোস্টে আহ্বান জানানো হয় যেন পুরুষ অতিথিরা বসে কাজটি সারেন।

২০১৫ সালে জার্মানিতে একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে বাড়িমালিক দাবি করেন যে বাড়ির বাথরুমের মেঝে অতিথির প্রস্রাবের কারণে নষ্ট হয়েছে, এবং সেজন্য তিনি ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন। কিন্তু রায়ে বিচারক বলেন, বাড়িমালিকের প্রত্যাশিত পদ্ধতিটি তার সাংস্কৃতিক আচারের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু ‘দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাটাই সাধারণত সবখানে চালু আছে।’

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা ক্ষতিকর কেন ? বিজ্ঞান কি বলে?

চিকিত্‍সা বিজ্ঞানের গবেষনায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যেসব মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পেটের উপর কোনে চাপ পড়ে না। ফলে দূষিত বায়ু বের হতে পারেনা। বরং তা উপর দিকে উঠে যায়। ফলে অস্থিরতা বা্ড়ে, রক্ত চাপ বাড়ে, হৃদযন্ত্রে স্পন্দন বাড়ে, খাদ্যনালী দিয়ে বার বার হিক্কা আসতে থাকে।
  • দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের থলি সরু ও লম্বা হয়ে ঝুলতে থাকে ফলে প্রস্রাবের দূষিত পদার্থগুলো থলির নিচে গিয়ে জমা হয়। অথচ বসে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের থলিতে চাপ লাগে ফলে সহজেই ওসব দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়।
  • দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে কিডনিতে অতি সহজে পাথর সৃ্ষ্টি হয় ।
  • দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের বেগ কমতে থাকে।
  • যারা নিয়মিত দাড়িয়ে প্রস্রাব করেন তাদের অবশ্যই শেষ জীবনে ডায়াবেটিস, জন্ডিস, কিডনী রোগ হবেই।
  • দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যৌন শক্তি কমতে থাকে এবং পুরুষাঙ্গ নরম হয়ে যায় এবং সহজে সোজা ও শক্ত হতে চায় না। উত্তেজনার সময় যদিও শক্ত হয় কিছুক্ষন পর কিছু বের না হতেই তা আবার ছোট ও নরম হয়ে যায়।
  • দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পরিবেশ দূষিত হয়। সেই দূষিত বায়ু আমাদের দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করে ।
  • দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে তার ছিটা দেহে ও কাপড়ে লাগে ফলে তা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে ।
  • স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বলে উপরোক্ত দৈহিক সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের অতি অবশ্যই বসে প্রস্রাব করা উচিত।

এ বিষয়ে ইসলাম কি বলে?

ইসলামের প্রতিটি হুকুমই মানুষের জীবনে উপকার বয়ে আনে। অনেক সময় কল্যাণকর অনেক কাজ আমরা অবহেলায় করে গুরুত্ব দেই না। মানবজীবনে শান্তি ও সুস্থতায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। ইসলাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে। কারণ শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য সুন্নতের অনুসরণ ও অনুকরণের বিকল্প নেই।

নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চৌদ্দশত বছর আগেই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বসে প্রস্রাব করার আদেশ দিয়েছেন। ফিকহের পরিভাষায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাকে মাকরূহে তাহরিমি বলে অভিহিত করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে- ওমর (রা.) বলেন- হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোন একদিন আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখে বললেন, হে ওমর তুমি কখনই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করবে না। এরপর আমি আর কখনই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। (তিরমীযি হাদীস/১২)

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু (রা.) বলেন, তোমাদের মাঝে যারা বলে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন, তাদের কথা বিশ্বাস করো না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসেই প্রস্রাব করতেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১২, মুজামে ইবনে আসাকীর, হাদীস নং-৩৬৬।

অন্য হাদিসে এসেছে, প্রস্রাবের কারণে মানুষের কবরে আজাব হয়। তাই প্রিয়নবী প্রস্রাবের অপবিত্রতা থেকে নিজেদেরকে হেফাজতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

দাড়িয়ে প্রস্রাব করা সম্পর্কে ইসলামের নিষেধকে চিকিৎসা বিজ্ঞান বিশেষভাবে সমর্থন করছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে।

প্রস্রাব-পায়খানার আদব ও শিষ্টাচার

ইসলামের বিধি-বিধান মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। এর থেকে বাদ যায়নি প্রস্রাব-পায়খানার মতো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ও।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের জন্য পিতার মতো। আমি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে কেবলাকে সামনে বা পেছনে দিয়ে বসবে না। ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করবে না।’ তিনি তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা ঢিলা করা থেকে বারণ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭)

প্রস্রাব-পায়খানার নির্দিষ্ট আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে। সেগুলো হলো—

  • এমন স্থানে প্রস্রাব-পায়খানা করবে, যেখানে বসলে মানুষ দেখে না। আওয়াজ শোনে না এবং দুর্গন্ধ মানুষের নাকে আসে না। (তিরমিজি, হাদিস : ২০, আবু দাউদ, হাদিস : ২)
  • প্রস্রাব-পায়খানার জন্য নরম বা উঁচু স্থান বেছে নেওয়া উচিত, যাতে এর ছিটা শরীরে না লাগে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩)
  • পায়খানায় প্রবেশের সময় এই দোয়া পাঠ করা : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমি নর ও নারী শয়তান থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। (বুখারি, হাদিস : ১৩৯) এই দোয়া পাঠের তাৎপর্য হলো, জিন ও শয়তান বেশির ভাগ নাপাক স্থানে অবস্থান করে।
  • প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় নিজের বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসা। এটি কষ্টদায়ক বস্তু দ্রুত নিঃসরণে সহায়ক। (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি, হাদিস : ৪৬৬)
  • বাঁম পা দিয়ে প্রবেশ করা ও ডান পা দিয়ে বের হওয়া। (নাসায়ি শরিফ, হাদিস : ১১১)
  • প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় মাথা ডেকে রাখা। (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি, হাদিস : ৪৬৪)
  • মাটির গর্তে প্রস্রাব না করা। কেননা ভেতরে সাপ-বিচ্ছু থাকলে ক্ষতি হতে পারে অথবা ক্ষতি করতে পারে। (আবু দাউদ : ২৭)
  • রাস্তা বা কবরস্থানে প্রস্রাব-পায়খানা না করা। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৩৯৭)
  • ছায়াময় স্থানে প্রস্রাব না করা, যেখানে মানুষ বিশ্রাম নেয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪)
  • ফলবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব-পায়খানা না করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪)
  • প্রস্রাব-পায়খানার সময় বিনা প্রয়োজনে কথা বলা মাকরুহ (ইসলামের দৃষ্টিতে অপছন্দীয় কাজ)। (আবু দাউদ : ১৪)
  • প্রস্রাব-পায়খানার সময় শব্দ করে কোরআন পাঠ ও জিকির করা মাকরুহ। (মুসলিম, হাদিস : ৫৫৫)
  • আবদ্ধ কম পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করা মাকরুহ। (মুসলিম, হাদিস : ৪২৩)
  • আবদ্ধ বেশি পানি বা প্রবহমান পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করা অনুচিত। (মুসলিম, হাদিস : ৪২৫)
  • কোনো অপারগতা ছাড়া প্রস্রাব-পায়খানা থেকে ডান হাতে পবিত্রতা অর্জন করা মাকরুহ। (মুসনাদে আহমাদ : ২৬৩২৬)
  • অক্ষমতা, অসুস্থতা ও সীমাবদ্ধতা না থাকলে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরুহ। (তিরমিজি, হাদিস : ১২)। তবে সীমাবদ্ধতা থাকলে তা বৈধ। কেননা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার মাধ্যমে প্রস্রাবের ছিটা গায়ে লাগার সম্ভাবনা থাকে। আর এটি দৃষ্টিকটু। পাশাপাশি তা রোগের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।
  • প্রস্রাব-পায়খানা সেরে ডান পা দিয়ে বের হয়ে এই দোয়া পাঠ করা : ‘আল হামদু লিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নির আজা ওয়া আফানি।’ অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কাছ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু বের করে দিয়েছেন এবং আমাকে নিরাপদ করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৯৭) তবে কোনো কোনো হাদিসে ‘গুফরানাকা’ শব্দও এসেছে। তাই উভয় দোয়া একসঙ্গে পাঠ করা যায়।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-