মির্জাপুর পৌরর উপনির্বাচনে বিএনপি, জাপা’র একক হলেও আ’লীগের প্রার্থী ৬

 

আগামী ১০ অক্টোবর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র পদে উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে। উপনির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোয়ন পেতে প্রার্থীরা জোর প্রচারনাসহ দলের হাইকমান্ডের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। মেয়র পদে এক গ্রামেই ৮ জন প্রার্থী হওয়ায় পুরো নির্বাচন জমে উঠেছে। ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের ৬ জন, বিএনপির একজন এবং জাতীয় পার্টির একজন রয়েছেন।

গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেছেন। মির্জাপুর পৌরসভায় মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।

৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পৌরসভার উপনির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা উন্নয়ন মুলক নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। প্রার্থীরা বলেছেন দলীয় মনোয়ন নিশ্চিত এবং নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে অবহেলিত মির্জাপুর পৌরবাসিকে একটি আদর্শ ও মডেল পৌরসভা উপহার দেওয়া হবে। তবে সাধারন ভোটারদের আগ্রহ প্রবীনদের চেয়ে নবীন প্রার্থীদের দিকেই বেশি।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি মির্জাপুর পৌরসভার তরুন নেতা ও অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাহাদত হোসেন সুমন অসুস্থ্য হয়ে মারা যাওয়ায় মেয়র পদ শুন্য হয়।

পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন প্রয়াত মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমনের সহধর্মীনি মিসেস সালমা আক্তার শিমু, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি মো. মাজাহরুল ইসলাম শিপলু, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ্যাডভোকেট মো. মোশারফ হোসেন মনি, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুর রহমান শহিদ, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী মো. আবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা এবং পৌর জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক ও প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মো. আশরাফ আহমেদ।

সাধারন ভোটার ও এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রয়াত মেয়র ও আওয়ামী লীগের নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত প্রানপ্রিয় একজন নেতা মো. সাহাদত হোসেন সুমনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখিয়ে মেয়র পদে তার সহধর্মীনি মিসেস সালমা আক্তার শিমুকে মনোয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। জনগনের দাবী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সহানুভুতিতে প্রচারনায় মিসেস সালমা আক্তার শিমু প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সুত্র জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌর সভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীদের ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার দলীয় সভা ডাকা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সকল দিক বিবেচনা করেই একজন দলীয় প্রার্থীকে মনোয়ন দেওয়া হবে। দলের সিন্ধান্ত উপেক্ষা করে কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, উপনির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীগন ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মনোয়নপত্র ক্রয় করে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন। ১৪ সেপ্টেম্বর মনোয়নপত্র যাচাই বাচাই শেষে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হবে। ১০ অক্টোবর শনিবার ভোট গ্রহন হবে। নির্বাচনের জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

মির্জাপুর পৌর সভার উপনির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ২১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ১০১ জন এবং মহিলা ভোটার ১২ হাজার ১১৬ জন। ৯ ওয়ার্ডের ১০ ভোট কেন্দ্রে ৬৬টি কক্ষে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন হবে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email